ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:১৭:৩৮, বুধবার

‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিন আজ

‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিন আজ

ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা পুজনীয় খেলোয়াড় তাকে অনায়াসে বলা যায়। তার উচ্চতায় আধুনিক যুগের ক্রিকেটে আর কোনো খেলোয়াড় উঠতে পারেন নি। সেই কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিন আজ। ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ে জন্ম টেন্ডুলকারের। ছেলেবেলা থেকেই টেন্ডুলকারের ধ্যান জ্ঞান হলো ক্রিকেট। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার খর্বকায় মানুষটি এমন সব ক্রিকেট কীর্তি রেখে গেছেন যে, তার উচ্চতায় ভবিষ্যতেও কেউ হয়তো পৌঁছাতে পারবে না। ক্রিকেট খেলা ছাড়ালেও আইপিএল এ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে দেখা গেছে তাকে। ক্রিকেট ছাড়া তার জীবন কল্পনাই করা যায় না।  ক্রিকেটের লিটল মাস্টার, মাস্টার ব্লাস্টার হিসেবে আখ্যা দেয়া হয় তাকে। ভক্ত-অনুসারী শচীনকে ভালোবেসে ডাকেন ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলে ছিলেন শচীন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মোট ৬টি বিশ্বকাপে খেলেছেন। শেষ ম্যাচটি খেলেছেন ২০১৩ সালের ১৬ নভেম্বর। শচীন টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের খাতা প্রাপ্তি-অর্জনে ভরা। শেষ ম্যাচ খেলার পরই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ভারত রত্ন পাওয়ার ঘোষণা শুনেছিলেন। এছাড়াও পেয়েছেন ভারতে ক্রীড়াঙ্গনে সর্বোচ্চ পুরস্কার রাজীব গান্ধী খেল রত্ন অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৭), পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ অ্যাওয়ার্ড। সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস এসএ/
মুখরক্ষা করতে মরিয়া ম্যানইউ

এভারটনের কাছে ০-৪ হারের প্রতিক্রিয়া! অনুতপ্ত পল পোগবা বললেন, ম্যাচটা আমরা যেভাবে খেলেছি সেটা ক্লাব আর সমর্থকদের কার্যত অসম্মান করা। এখন যা অবস্থা, তাতে সবার আগে মাঠে নেমে আমাদের মানসিকতাটা বদলে ফেলতে হবে। বুধবার ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে ফরাসি তারকার এ হেন মন্তব্যে হইচই ব্রিটিশ ফুটবল মহলে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পরিস্থিতি অবশ্য তার আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উলে গুনার সুলশারের বিবৃতিতে। এভারটনের কাছে লজ্জার হারের পরে তিনি পরিষ্কার বলে দেন, প্রিয় ক্লাবে কোচ হিসেবে অবশ্যই একদিন আমি সফল হব। কিন্তু তখন এখনকার দলের অনেকেই হয়তো থাকবে না। ব্রিটিশ প্রচারমাধ্যমে লেখা হচ্ছে, ম্যানইউ কোচ কার্যত হুমকি দিয়েছেন পোগবাদের। এবং এখন যা ছবি তাতে ম্যানইউ মুখরক্ষা করতে পারে একমাত্র বুধবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে হারাতে পারলে। ইপিএল টেবলে ম্যানইউ এখন ছ’নম্বরে। পয়েন্ট ৩৪ ম্যাচে ৬৪। পাঁচ নম্বরে থাকা আর্সেনাল ৬৬ পয়েন্টে। সোমবার রাতে বার্নলির সঙ্গে ২-২ ড্র করা টেবলে চার নম্বর দল চেলসির পয়েন্ট ৬৭। এই অবস্থাতেই  লিগ শেষ হলে রেড ডেভিলসকে পরের বার আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দেখা যাবে না। ২০২১ সালে ইউরোপ-সেরার প্রতিযোগিতায় তাদের খেলতে হলে অন্তত চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসতে হবে ইউরোপা লিগে। এমন করুণ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পোগবা স্বয়ং বললেন, ভক্তেরা চায় এবার অন্তত আমরা জেগে উঠি। মাঠে সেরাটা দিয়ে দারুণ কিছু ফল করতে পারলেই একমাত্র আমরা ক্লাবের অসংখ্য ভক্তের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। বলতে পারেন, সেটাই হবে আমাদের তরফ থেকে দুঃখ প্রকাশের একমাত্র রাস্তা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন কিংবদন্তি কোচ স্যর অ্যালেক্স ফার্গুসন এক বার বিদ্রুপ করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটিকে নিয়ে। বলেছিলেন, ওরা অকারণে হইচই করে এমন প্রতিবেশী। কিন্তু সব দিন সমান যায় না। বিশেষ করে পেপ গার্দিওলা দায়িত্ব নেওয়ার পরে এবং আরব দুনিয়ার পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে ম্যানসিটি এখন বদলে যাওয়া ক্লাব। গত বারের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন। এ বারও রীতিমতো খেতাবের দৌড়ে। সের্খিয়ো আগুয়েরোদের লড়াই এবার ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের সঙ্গে। ৩৫ ম্যাচে লিভারপুলের পয়েন্ট ৮৮। একটা ম্যাচ কম খেলে ম্যানসিটি সেখানে ৮৬ পয়েন্টে। লিভারপুলের হাতে আর তিনটি ম্যাচ। তবে তাদের বাকি প্রতিপক্ষরা বেশ দুর্বল। ইতিমধ্যেই অবনমন হয়ে যাওয়া হাডার্সফিল্ড ও লিগ টেবলে তেরো নম্বরে থাকা নিউক্যাসল যেমন। ম্যানসিটির হাতে একটা ম্যাচ বেশি থাকলেও বুধবারের ডার্বি তাদের কাছে এই মুহুর্তে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যে ম্যাচ নিয়ে লিভারপুল কোচ যা বললেন তার সারকথা, ম্যানইউ যে অবস্থাতেই থাকুক ওরাই নাকি পারে এই মুহূর্তে ম্যানসিটিকে রুখে দিতে। এমন কথা বলায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে ম্যানসিটির সমর্থকেরা যথেচ্ছ খারাপ ভাষায় আক্রমণ করলেন লিভারপুলের জার্মান কোচকে। একজন যেমন লিখলেন, যারা এভারটনকে হারাতে পারে না তারা আবার কীভাবে আমাদের পয়েন্ট কাড়বে? ক্লপ দিবাস্বপ্ন দেখছেন! ডার্বিতে টটেনহ্যাম ম্যাচে চোট পাওয়া কেভিন দ্য ব্রুইনকে পাচ্ছেন না পেপ গার্দিওলা। তবু তিনি বলে রাখলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানইউ অপরাজেয় ছিল। কিন্তু সে সব অতীত। এখনকার ম্যানইউ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেও ভীতিকর ক্লাব নয়,’ লিয়োনেল মেসির প্রাক্তন গুরুর মন্তব্য যেন ফার্গুসনের সেই কটাক্ষের জবাব। পেপ অবশ্য এটাও বললেন, ‘সব ম্যাচ আলাদা। ফুটবলে ভবিষ্যদ্বাণী করার মানে হয় না।’ উদ্বেগে থাকারই কথা পেপের। চ্যাম্পিয়ন হতে লিগের শেষ চারটি ম্যাচেই তাদের জিততে হবে যে। বুধবার ইপিএলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম ম্যানচেস্টার সিটি (রাত ১২-৩০)। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

২৪ এপ্রিল: টিভিতে আজকের খেলা

বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে সন্ধ্যায় মুখোমুখি আরব আমিরাত-কিরগিজস্তান। এছাড়াও আজ রয়েছে প্রিমিয়ার লিগ ও লা লিগার খেলা। চলুন এক নজরে জেনে নিই টিভি পর্দায় রয়েছে আজ যে সব খেলা- ফুটবল বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ আরব আমিরাত-কিরগিজস্তান সরাসরি, সন্ধ্যা ৬টা, বিটিভি ও আরটিভি প্রিমিয়ার লিগ ম্যানইউ-ম্যানসিটি সরাসরি, রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি ওয়ান উলভারহ্যাম্পটন-আর্সেনাল সরাসরি, রাত ১২-৪৫ মিনিট, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট টু লা লিগা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ-ভ্যালেন্সিয়া রাত ১১-৩০ মিনিট, ফেসবুক লাইভ এস্পানিয়ল-সেল্তা ভিগো সরাসরি, রাত ১২-৩০ মিনিট ফেসবুক লাইভ ক্রিকেট আইপিএল বেঙ্গালুরু-পাঞ্জাব সরাসরি, রাত ৮-৩০ মিনিট, চ্যানেল নাইন স্টার স্পোর্টস ওয়ান ও টু টেনিস এটিপি বার্সেলোনা মাস্টার্স সরাসরি, বিকেল ৩টা, সনি ইএসপিএন একে//

সৌম্যের ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড

অনেকদিন ধরে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন বাংলাদেশ দলের ওপেনার সৌম্য সরকার। ফর্মটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না তার। তারপরও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ফলে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার বৃষ্টি ঝরেছিলো তাকে নিয়ে। সবকিছুর জবাব সৌম্য দিচ্ছেন ব্যাট হাতে। মঙ্গলবার প্রিমিয়ার লিগের শেষ রাউন্ডে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে চার-ছক্কার বৃষ্টি বইয়ে দিয়ে ৭৮ বলে তুলে নিলেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ১২১ বলে ১১টি চার ও ১৬টি ছয়ে সৌম্য অপরাজিত থাকেন ১৬৯ রানে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে (লিস্ট ‘এ’ ও আন্তর্জাতিক ওডিআই মিলে), এই প্রথম কোনো ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখালেন সৌম্য সরকার। গত রোববার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ১১ ছক্কায় ১৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশের পক্ষে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড করেছিলেন প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের ডানহাতি তরুণ সাইফ হাসান।তবে একদিনের মধেই সে রেকর্ড ভেঙে এককভাবে ছক্কার রেকর্ড গড়েন আবাহনী লিমিটেডের ড্যাশিং ওপেনার সৌম্য সরকার।এর আগে গত ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ১০৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে শিরোপা জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন নিজ দল আবাহনী লিমিটেডের। সময়টা বড্ড বাজে কাটছিল সৌম্যর। দুঃসময় পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের আগেই বিধ্বংসী হয়ে উঠেছেন তিনি। টানা শতকের আগের ১১ ম্যাচে করেছিলেন ১৯৭ রান। সেখানে শেষ দুটি ইনিংসেই তা ছাড়িয়ে গেলেন টাইগার বাঁহাতি ওপেনার। এসএইচ/

বিশ্বকাপের ৯ হ্যাট্টিক

ক্রিকেটে একজন বোলারের জন্য সবচেয়ে কঠিন অর্জন সম্ভবত হ্যাট্টিক করা। অনেকেই বলে থাকেন একজন বোলারের পাঁচ উইকেট সমান একজন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি। তবে একজন বোলারের হ্যাট্টিকের সমান কিছুই হতে পারে না। পর পর তিন বলে তিন উইকেট পেতে হলে একজন বোলারের একিউরিসি, ধারাবাহিকতা, দক্ষতা এবং ভাগ্যেরও সহায়তা পেতে হবে। যেহেতু হ্যাট্টিক পাওয়া একটি বড় অর্জন এবং সেটা যদি হয় বিশ্ব আসরে তবে একজন বোলার গর্বের সহিত সেটা তার পরবর্তী প্রজন্মকে বলতে পারে। আগামী ৩০মে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। ১৯৭৫-২০১৫ আসর পর্যন্ত ১১টি বিশ্বকাপে ৯টি হ্যাট্টিক দেখেছে ক্রিকেট ভক্তরা। দেখে নিন বিশ্বকাপের ৯ হ্যাট্টিক- চেতন শর্মা ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড (নাগপুর ১৯৮৭)সারা জীবন কপিল দেবের ছায়া হয়ে থাকা ভারতীয় পেসার চেতন শর্মা বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাট্টিকের কৃতিত্ব অর্জন করেন। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পর পর তিন বলে তিন ব্যাটসম্যান কেন রাদারফোর্ড, ইয়ান স্মিথ এবং এউয়েন চ্যাটফিল্ডকে বোল্ড আউট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম হ্যাট্টিকের কৃতিত্ব অর্জন করেন। ক্রিকেটের সব ফর্মেটেই ভারতের প্রথম হ্যাট্টিক ম্যান চেতন শর্মা। সাকলাইন মুশতাক পাকিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে (লন্ডন ১৯৯৯)এটা হতে পারে কঠিন। তবে টেল এন্ড বিধ্বস্ত করা মূলত একটা শিল্প। সাকলাইন মুশতাক সেটা বলতে পারেন। কেননা হ্যাট্টিকের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের টেল এন্ড ধ্বসিয়ে দিয়েছেন তিনি। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হেনরি ওলোঙ্গা, এ্যাডাম হাকল এবং পমি এমবাঙ্গোয়াকে পরপর তিন বলে আউট করে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন। প্রথম দুই ব্যাটসম্যাকে উইকেটরক্ষক মঈন খানের দক্ষতায় স্টাম্পড করলেও তৃতীয় জনকে এলবিডব্লু’র ফাঁদে ফেলেন সাকলাইন। আউট হওয়া তিন জনের ব্যাটিং সক্ষমতা বিবেচনা করলে এ হ্যাট্টিক এখনো তার কাছে বিশেষ অনুভূতি। চামিন্দা ভাস শ্রীলংকা বনাম বাংলাদেশ (পিটারমারিজবার্গ ২০০৩)২০০৩ বিশ্বকাপের দশম ম্যাচ। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলংকা। বল হাতে আক্রমণে এসে প্রথম তিন বলেই তিন ব্যাটসম্যান হান্নান সরকার, মোহাম্মদ আশরাফুল এবং এহসানুল হক সিজানকে আউট করে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখান চামিন্দা ভাস। ইনিংসের প্রথম তিন বলেই হ্যাট্টিক করা প্রথম খেলোয়াড় ভাস। শেষ পর্যন্ত সহজেই ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলংকা। ব্রেট লী অস্ট্রেলিয়া বনাম কেনিয়া (ডারবান ২০০৩) কেনেডি ওটিয়েনো স্টাম্পড, ব্রিজাল প্যাটেল সেকেন্ড স্লিপে পন্টিংয়ের হাতে ক্যাচ এবং এরপর ডেভিড ওবুয়াকে ইয়র্কারে ঘায়েল করেন ব্রেট লী। সুপার সিক্স পর্বের ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের এ আসরে দ্বিতীয় হ্যাট্টিক করেন লী। কেনিয়ার ১৭৪ রানের জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে সহজ জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। লাসিথ মালিঙ্গা শ্রীলংকা বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (প্রোভিডেন্স ২০০৭)সুপার এইট পর্বের ম্যাচে শ্রীলংকার করা ২১০ রানের জবাবে ৫ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০৬ রান তুলে সহজ জয়ের পথে ছিল। এমন অবস্থায় বল হাতে লাসিথ মালিঙ্গা রিভার্স স্যুয়িং কাজে লাগিয়ে চার বলে পর পর চার উইকেট শিকার করেন। মালিঙ্গার ইয়র্কার ও স্লো বলে একে একে ঘায়েল হন শন পোলক, এন্ড্রু হল, জক ক্যালিস এবং মাখায়া এনটিনি। হঠাৎ করেই প্রোটিয়ারা আরেকটি চোকিং মুহূর্তে চলে আসে। কিন্তু রবিন পিটারসন সে অবস্থা থেকে টেনে তুলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তবে মালিঙ্গার দুর্দান্ত স্পেলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের একটি হিসেবে থেকে যাবে। কেমার রোচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম নেদারল্যান্ডস (দিল্লি ২০১১) বি’ গ্রুপের ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে এক পর্যায়ে ১১৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে নেদারল্যান্ড। এমন অবস্থায় পুনরায় আক্রমনে এসে মুল সর্বনাশটা করে দেন কেমার রোচ। আক্রমনে এসে পর পর তিন বলে পিটার সিলার, বার্নার্ড লুটস এবং বেরেন্ড ওয়েস্টডিককে আউট করেন। ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ছিল ৮.৩-০-২৭-৬। প্রথম দুই ব্যাটসম্যান এলবিডব্লুর শিকার হন। শেষ বলটি ইয়র্কার মারলে বুঝতেই পারেননি ব্যাটসম্যান। লাসিথ মালিঙ্গা শ্রীলংকা বনাম কেনিয়া (কলম্বো- ২০১১) বিশ্বকাপ ইতিহাসে দু’টি হ্যাট্টিক করা একমাত্র বোলার শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা। ২০১১ বিশ্বকাপে এ’ গ্রুপে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পিটার অনগোন্ডো, শেন এনগোচে এবং এলিনা ওটেইনোকে আউট করে হ্যাট্টিক পূর্ণ করেন মালিঙ্গা। মূলত মালিঙ্গার ইয়র্কার বুঝতেই পারেননি কেনিয়ান ব্যাটসম্যানরা। অনগোন্ডো এলবিডব্লু এবং এনগোচে ও ওটেয়েনো সরাসরি বোল্ড আউট হওয়া ম্যাচে লংকানরা ১৪২ রানে জয় পায়। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া মালিঙ্গার বোলিং ফিগার ছিল ৭.৪-০-৩৮-৬। স্টিভেন ফিন ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া (মেলবোর্ন, ২০১৫) ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচে স্টিভেন ফিনের বোলিং পারফরমেন্স হয়তোবা খুব আহামরি ছিলনা। তবে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাট্টিক করেছেন। টস জিতে ইংল্যান্ড আগে বোলিং বেছে নিলে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৪২ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। খুব সাদামাটা বোলিং করে প্রথমে ৭১ রানে ২ উইকেট শিকার ফিনের। অসি ব্যাটিংয়ের সামনে হ্যাট্টিক করবেন এটা হয়তোবা স্বপ্নেও ভাবেননি ফিন। কিন্তু নিজের শেষ ওভারে ব্র্যাড হাডিন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং মিচেল জনসনকে আউট করে হ্যাট্টিক পুর্ন করেন। জেপি ডুমিনি দ:আফ্রিকা বনাম শ্রীলংকা (সিডনি- ২০১৫) বিশ্বকাপে নক আউট পর্বে হ্যাট্টিক করা একমাত্র বোলার দক্ষিণ আফ্রিকার জেপি ডুমিনি। ২০১৫ বিশ্বকাপ কোয়ার্টারফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে হ্যাট্টিক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এ অলাউন্ডার। ১১৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ ভাল অবস্থানে ছিল শ্রীলংকা। এ সময় এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও কুমার সাঙ্গাকারা বেশ ধৈর্য্যশীলভাবে ব্যাটিং করছিলেন। এমন অবস্থায় তিন বলে একে একে ম্যাথুজ, নুয়ান কুলাসেকারা এবং থারিন্ডু কৌশলকে হারিয়ে হ্যাট্টিক পূর্ণ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের মত নক আউট পর্বে জয় এনে দেন ডুমিনি। এসএ/  

সন্ধ্যায় পর্দা উঠছে বঙ্গমাতা গোল্ড কাপের

প্রথমবারের মতো আয়োজিত বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপের পর্দা উঠতে যাচ্ছে আজ সোমবার। সন্ধ্যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে ১২ দিন ব্যাপি এই ফুটবল উৎসব।বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে এই টুর্নামেন্টটি বাফুফের ব্যবস্থাপনায় মেয়েদের প্রথম কোনো বৈশিক আসর। এর আগে ৫ বার আয়োজিত হয়েছে ছেলেদের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। গেল ক’বছরে নারী ফুটবলে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্য বিচারে সেই আদলেই একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা করেছে বাফুফে। যার নাম করণ হয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে। গেল ক’বছরে বাংলাদেশের সাফল্যগুলো এসেছে বয়সভিত্তিক আসরে। জাতীয় দল তেমন সুবিধা করতে পারেনি কোথাও। বলতে গেলে বাংলাদেশের মেয়েদের শক্তিশালী মূল জাতীয় দল গঠন এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ কারণে এই টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা হাতে নেয় আয়োজকরা। বাংলাদেশ ছাড়াও পাঁচ দল অংশ নিচ্ছে আসরে। যারা খেলবে মোট দুটি গ্রুপে ভাগ কবে। ‘এ’ গ্রুপের তিন দল- মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান ও লাওস। স্বাগতিক বাংলাদেশ আছে ‘বি’ গ্রুপে। তাদের সঙ্গী- সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কিরগিজস্তান। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মেয়েদের সাফল্য বিবেচনায় আসরের অন্য দলগুলো শক্তি সামর্থ্যে খুব একটা এগিয়ে নেই স্বাগতিকদের চেয়ে। বরং কিছু দলকে নিয়মিতই বড় ব্যবধানে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। অবশ্য ‘এ’ গ্রুপের দুই দল লাওস ও মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে আগে কখনো খেলেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে অন্য গ্রুপে বলে দলগুলোর খেলা দেখার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের। সেখান থেকেই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণা পেতে চায় বাংলাদেশ। তবে আপাতত বাংলাদেশের সব ভাবনা আরব আমিরাতকে নিয়ে। যাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সন্ধ্যায় শুরু হবে মিশন। এই দলটাকে বয়স ভিত্তিকে একাধিকবার গোল উৎসব করে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাই পর্বে ঢাকাতেই বাংলাদেশ তাদের হারিয়েছিল ৭-০ গোলে। বলতে গেলে সেই দলটিই অনূর্ধ্ব-১৯ এর ব্যানারে খেলতে এসেছে। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে অতীতে হারলেও আরব আমিরাত নিজেদের টুর্নামেন্টে ফেরারিট ভাবতে চাইছে। দলটির কোচ জানিয়েছেন এমনই। বাংলাদেশ অবশ্য প্রতিপক্ষ কোনো দলকেই খাটো করে দেখছে না। তবে বঙ্গমাতার নামে এই আসরকে স্মরণীয় করে রাখাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই স্মরণীয় করে রাখা মানে ট্রফিটা ঘরেই রেখে দেওয়া। ৩ মের ফাইনালের মঞ্চে শিরোপা উৎসব করা। গ্রুপে বাংলাদেশ কিরগিজস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি খেলবে ২৬ এপ্রিল। দুই গ্রুপ থেকে সেরা দু’টি দল নাম লিখাবে সেমিফাইনালে, এরপর ফাইনাল। টিআর

ফের শীর্ষে লিভারপুল, হেরেই চলেছে ম্যানইউ

প্রিমিয়ার লিগ জেতার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল লিভারপুল। টটেনহ্যামকে হারিয়ে শনিবার টেবলে শীর্ষে উঠে এসেছিল ম্যাচেস্টার সিটি। আর চব্বিশ ঘণ্টা না যেতে আবার এক নম্বরে ফিরল ‘দ্য রেডস’। কার্ডিফ সিটিকে অ্যাওয়ে ম্যাচে ২-০ হারিয়ে। লিভারপুলকে রোববার প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৫৭ মিনিট। ১-০ করেন ডাচ ফুটবলার জর্জিনিয়ো ওয়েইনল। দ্বিতীয় গোল পেনাল্টি থেকে করেন জেমস মিলনার ৮১ মিনিটে। ৩৫ ম্যাচে লিভারপুলের পয়েন্ট ৮৮। এক ম্যাচ কম খেলে পেপ গার্দিওলার ম্যানসিটি সেখানে ৮৬।  অবশ্য লিভারপুলের শীর্ষে ফেরা নয়, রোববার যাবতীয় চর্চা ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হার ঘিরে। শেষ আট ম্যাচের ছ’টিতেই তারা হারল। বলা যায়, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এখন আবার দুঃসময়। নতুন ম্যানেজার ওলে গানার সুলশার দায়িত্ব নেওয়ার পরে রোববার সব চেয়ে খারাপভাবে হারল রেড ডেভিলরা। সেইসঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম চারে থেকে পরের বার সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার আশাও ক্ষীণ হয়ে গেল। অথচ ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা আগে পল পোগবাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন সুলশার। পরিষ্কার বলেছিলেন, ফুটবলাররা যতই চেষ্টা করুন নিজেদের ব্যর্থতা লুকিয়ে রাখতে পারবেন না। এবং তাদের তার ফলও ভুগতে হতে পারে। এমন ইঙ্গিতও দেন যে, এভাবে খারাপ খেললে পরের মৌসুমে তাদের দলে নাও রাখা হতে পারে। কিন্তু এতটা কড়া বিবৃতির পরেও দেখা গেল রোববার গুডিসন পার্কে পোগবাদের খেলায় তার কোনও ছাপ পড়ল না। সব চেয়ে হতাশাজনক বোধহয় ম্যানইউয়ের ডিফেন্ডারদের ভূমিকা। এই মৌসুমে এবার তাদের জঘন্য পারফরম্যান্সের সৌজন্যে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত এই ক্লাব মোট ৪৭টি গোল হজম করেছে। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে আগে কখনও যা হয়নি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এখনও অবশ্য লিগে চারটি ম্যাচ হাতে আছে। এখন দেখার অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে পারেন কি না সুলশারের ফুটবলাররা। রোববার তাদের খেলা দেখে অবশ্য আশাবাদী হওয়ার কারণ দেখছেন ম্যানইউয়ের ভক্তেরা। এই হারের পরে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে তারা ফুটবলারদের কার্যত বিশ্রী ভাষায় আক্রমণ করলেন। বুঝিয়ে দিলেন, এভারটনের মতো দলের কাছে এই হার তারা কিছুতেই মানতে পারছেন না। এবারের প্রিমিয়ার লিগে পর্তুগিজ ম্যানেজার মার্কো সিলভার কোচিংয়ে থাকা এভারটন খুবই ভাল খেলছে। যে কারণে লিগ টেবলে এখন তারা ম্যানইউয়ের ঠিক পরেই সাত নম্বরে রয়েছে। ৩৫ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪৯। প্রথমার্ধেই তারা ২-০ এগিয়ে যায় রোববার। ব্রাজিলীয় প্রতিভা একুশ বছরের রিচার্লিসন গোল করে ১-০ এগিয়ে দেন দলকে। মিনিট পনেরো পরে ২-০ করেন গিলভি সিউরসন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ ও ৬৪ মিনিটে অন্য দু’টি গোল করেন লিকা দিউনিয়া ও থিয়ো ওয়ালকট। ম্যাচের পরে হতাশ সোলসার বলেন, ‘খেলা শুরুর বাঁশি বাজর পর থেকেই সব কিছু আমরা ভুল করেছি। এত খারাপ খেলার জন্য আমাদের ক্লাবকে যারা ভালবাসে তাদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। একমাত্র ওরাই বোধহয় সত্যিকারের ম্যানইউপ্রেমী। আমরা বোধহয় ক্লাবকে ওদের মতো ভালবাসি না। এতটা খারাপ খেলার পরে বলতেই হচ্ছে, এই ফুটবল ম্যানইউয়ের মতো ক্লাবের কাছে বেমানান।’ প্রিমিয়ার লিগে রোববার অবশ্য অঘটন ঘটিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেসও। এমিরেটস স্টেডিয়ামে খেলেও আর্সেনালকে নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলে হারিয়ে। গানারদের পয়েন্ট এখন ৩৮ ম্যাচে ৬৬।  সূত্র: আনন্দবাজার

লিলের ড্রয়ে চ্যাম্পিয়ন পিএসজি, এমবাপের হ্যাটট্রিক

লিগ ওয়ানে গত তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়ায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষণ বারবার পিছিয়েছে পিএসজির। অবশেষে শিরোপা উৎসবের অপেক্ষা ফুরালো প্যারিসের দলটির। তুলুজের বিপক্ষে লিল পয়েন্ট হারানোয় মাঠে নামার আগেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। আর কিলিয়ান এমবাপের হ্যাটট্রিকে মোনাকোকে হারিয়ে উপলক্ষ্যটা দারুণভাবে রাঙিয়েছে টমাস টুখেলের দল। রোববার রাতে লিগ ওয়ানে ঘরের মাঠে মোনাকোর বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে পিএসজি। গত নভেম্বরে দলটির মাঠে ৪-০ ব্যবধানে জিতেছিল প্যারিসের ক্লাবটি। চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে পার্ক দে প্রিন্সেসে খেলতে নামা পিএসজি প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ম্যাচের পঞ্চদশ মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে মুসা দিয়াবির পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান এমবাপে। আর ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে দানি আলভেসের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। ২-০ স্কোরলাইনে শেষ হয় প্রথমার্ধ। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পেয়ে যান এমবাপে। আলভেসের কাটব্যাক পেয়ে কাছ থেকে টোকায় বল জালে জড়ান ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। তবে ম্যাচের ৮০তম মিনিটে অতিথিদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রুশ মিডফিল্ডার আলেকসান্দার গোলোভিন। এ জয়ে ৩৩ ম্যাচে ২৭ জয় ও তিন ড্রয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া পিএসজির পয়েন্ট ৮৪। আর ৩৩ ম্যাচে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে লিল। সূত্র: লাইভস্কোর ডটকম একে//

চতুর্থ বিশ্বকাপের অপেক্ষায় বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার

৩০ মে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে প্রত্যেক দলগুলো নিয়ে চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ। বড় বড় দলের পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিয়ে কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা আলোচনা করছেন। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলগুলোও এখন বাংলাদেশকে ব্যাপক সমীহ করে। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে সাকিব-তামিম-মুশফিক-মোস্তাফিজদের নৈপুণ্য দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরে বাংলাদেশের স্কোয়াডে আছেন অধিনায়ক হিসেবেব মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশের এই চার ক্রিকেটার। ঘরের মাঠে ২০১১ সালে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। নয়তো পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলা হয়ে যেত নড়াইল এক্সপ্রেসের। ২০০৩ সালের পর ২০০৭, ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলেছেন মাশরাফী। ২০১৫ বিশ্বকাপে ছিলেন দলের অধিনায়ক। এবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের অধিনায়ক তিনি। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে প্রথম যাত্র শুরু মুশফিক, সাকিব ও তামিমের । ওই বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপে মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছে। প্রতিটিতেই ছিলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। এবারের বিশ্বকাপেও দেখা যাবে তাদেরকে। পঞ্চপাণ্ডবের চারজনই এবার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায়। অন্য জন মাহমুদউল্লাহ নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপের অপেক্ষায়। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তাদের সাফল্য-ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন দুজন- মোহাম্মদ রফিক ও মোহাম্মদ আশরাফুল। ১৯৯৯ সালের পর ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন রফিক। আশরাফুল ২০০৩ সালের পর ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। ফিক্সিংয়ে না জড়ালে এখনো খেলা চালিয়ে যাওয়া আশরাফুল হয়তো খেলতে পারবেন ২০১৫ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপ। রফিক ও আশরাফুলের পাশে নাম লেখানোর অপেক্ষায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেন। ২০১১ বিশ্বকাপ ছিল দুজনের প্রথম। ২০১৫ বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। দুটি সেঞ্চুরি করে গড়েছিলেন ইতিহাস। রুবেলও পিছিয়ে ছিলেন না। ইংল্যান্ড-বধের আনসাং হিরো তো রুবেলই। এবারের বিশ্বকাপ দুজনেরই তৃতীয়। বিশ্বকাপে চারজনের পারফরমেন্স :বিশ্বকাপে ২১টি করে ম্যাচ খেলা মুশফিক, সাকিব ও তামিমের পারফরম্যান্স বেশ কাছাকাছি। মুশফিক ব্যাটিংয়ে ৫১০ রান করেছেন। সাকিব ২৩ উইকেটের সঙ্গে রান করেছেন সর্বোচ্চ ৫৪০। তামিমের রান ৪৮৩। মাশরাফি ১৬ ম্যাচে রান ১৬৫, উইকেট ১৮টি। নির্দিষ্ট দিনে তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বেশ নজরকাড়া। ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে তামিমের ৫১ রানের ইনিংস এখনো বাংলাদেশের সেরা ইনিংসের একটি। ওই ম্যাচেই মুশফিকের অপরাজিত ৫৬ রান তো মহামূল্যবান। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া মাশরাfI বোলিং ছিল এরকম ৯.৩-২-৩৮-৪। সাকিব বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও ব্যাটিংয়ে করেছিলন ৫৩ রান। ২০১৫ বিশ্বকাপে নেলসনে তামিমের ৯৫ রানে ভর করেই তো বাংলাদেশ স্কটল্যান্ডের দেয়া ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল। ২০১৫ বিশ্বকাপে মুশফিক ছিলেন সবচেয়ে ধারাবাহিক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭১ রানের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৬, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রান করেছিলেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাকিব সব সময়ই মূল্যবান। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান ও উইকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের দখলে। টিআর/

শিরোপা জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে বার্সা

স্প্যানিশ ফুটবল লিগে জয় পেয়েছে বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। রিয়াল সোসিয়েদাদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে কাতালানরা। এই জয়ের ফলে লিগ শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে গেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ঘরে মাঠ ন্যু ক্যাম্পে অবশ্য বার্সা শুরু থেকেই অধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করে। তবে কাতালানদের সাথে সমান তালেই লড়তে থাকে রিয়াল সোসিয়েদাদ। প্রথম গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় প্রধমার্ধের শেষ মিনিট পর্যন্ত। ৪৫ মিনিটে কর্নার থেকে হেড দিয়ে গোল করে বার্সাকে ১-০ গোলে লিড এনে দেন ক্লেমেন্ট লেংলেট। বিরতির পর নিজেদের গুছিয়ে নেয় সোসিয়েদাদ। ৬২ মিনিটে মেরিনোর পাস থেকে অসাধারণ ফিনিশিংয়ে গোল করে সোসিয়েদাদকে ১-১ গোলে সমতায় ফেরান জুয়ানমি। তবে এই সমতা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সোসিয়েদাদ। ৬৪ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে পেনাল্টি ডিবক্সের বাম পাশে বল পেয়ে যান জর্ডি আলবা। তাতে ডান পায়ের দারুণ এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তিনি। তবে শটের সময় ডেম্বেলে ছিলেন অফসাইডে দাঁড়ানো। তবে বল ডেম্বেলের পায়ে লেগেছিলো কিনা তা নিশ্চিত হতে রেফারি সহায়তা নেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান রেফারির (ভিএআর)। সেই গোলের পর বেশ কয়েকটি সুযোগ পায় বার্সেলোনা। তবে সোসিয়েদাদের শক্ত ডিফেন্স আর ভাঙ্গতে পারেনি মেসি-সুয়ারেজরা। ফলে ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভালভার্দের শিষ্যরা। এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। সমান সংখ্যাক ম্যাচ খেলে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ।   টিআর/

আজ জিতলেই রূপগঞ্জ চ্যাম্পিয়ন

পয়েন্ট তালিকায় ১৪ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে রূপগঞ্জ, ২২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আবাহনী। শীর্ষ দুই দলের এই লড়াইয়ের সুবাদে লীগ শিরোপার নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে আজই। আবাহনীকে আজ হারিয়ে দিতে পারলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলবে রূপগঞ্জ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর সামনেও অবশ্য শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা টিকে আছে বেশ ভালোভাবেই। তবে তার জন্য আজকের ম্যাচটা জিততেই হবে তাদের। আবাহনী জিতলে দু’দলের পয়েন্টই হবে ২৪। সেক্ষেত্রে নিজেদের শেষ ম্যাচে যদি দু’দলই জেতে তবে বিবেচনায় আসবে নেট রানরেটের হিসাব, যেখানে আবাহনী অনেকটাই এগিয়ে। সমীকরণ যখন এমন, তখন দু’দলের কাছেই লড়াইটা ‘মাস্ট উইন’। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ের প্রথম ম্যাচ বড় ব্যবধানে জেতায় এই ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে আছে রূপগঞ্জই। গত ৭ এপ্রিল মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আবাহনীকে মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৬ উইকেট ও ১৩৯ বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল রূপগঞ্জ। দলের কোচ আফতাব আহমেদ জানালেন, সেই ম্যাচকে মাথায় রেখেই শিরোপা লড়াইয়ে নামার আগে নতুন কোনো চাপ নিচ্ছে না তার দল, ‘আবাহনীর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা আমরা বেশ ভালোভাবেই জিতেছিলাম। আমরা কোনো ম্যাচকেই ম্যাচ হিসেবে নিচ্ছি না, বা প্রতিপক্ষের ব্যাপারেও খুব বেশি ভাবছি না। আমাদের লক্ষ্য একটাই, আমরা দুই পয়েন্ট নিয়ে এগোবো। টেবিলে যে দুই পয়েন্ট আছে, সেটাকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আশা করছি আমাদের জন্য ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে।’ মাশরাফি বিন মুর্তজা, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুনসহ জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার খেলছেন আবাহনীতে। সেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তাকে ছোট করে দেখতে একদমই নারাজ আফতাব। এদিকে আবাহনীর মিঠুন জানালেন, সামর্থ্যের পুরোটা দিতে পারলে আজকের লড়াইয়ে জয় পাবেন তারাই, ‘কাগজে-কলমে আমরা অনেকটাই এগিয়ে। তবে দিনশেষে পারফরম্যান্সটাই আসল কথা। আমাদের দলের সবাই এখন ফর্মে আছে। এতদিন আমরা যেভাবে খেলেছি, তার চেয়েও ভালো খেলার সামর্থ্য আছে আমাদের।’ এসএ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি