ঢাকা, রবিবার   ২৬ জুলাই ২০২৬

আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর উচ্চ ঝুঁকি: আইসিডিডিআর,বি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:৩৫, ২৫ জুলাই ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সহজে চিকিৎসা করা যায় না এমন ওষুধ-প্রতিরোধী বা ‘ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট’ ব্যাকটেরিয়া। 

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-র সাম্প্রতিক দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অর্ধেকেরও বেশি রোগী এই প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হচ্ছেন এবং আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশেরও বেশি।

গবেষকদের মতে, হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে এ ধরনের সংক্রমণ ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড ইনফেকশন কন্ট্রোলে প্রকাশিত গবেষণা দুটিতে ঢাকার একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ৩৭৩ জন গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক এবং একই হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) ৩৬৩ জন নবজাতকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।

গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউর প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর শরীরে ডিফিকাল্ট-টু-ট্রিট রেজিস্ট্যান্ট গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছিল। শুরুতে এসব জীবাণুমুক্ত থাকা ১৯৮ জন রোগীর মধ্যে ১০৫ জন, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশ, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ ধরনের জীবাণুতে আক্রান্ত হন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যাঁদের সংক্রমণ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, তাঁদের ৯০ শতাংশেরও বেশি মারা গেছেন।

গবেষণার প্রধান লেখক ও আইসিডিডিআর,বির সহকারী বিজ্ঞানী ড. গাজী মো. সালাহউদ্দীন মামুন বলেন, ‘রোগীদের আইসিইউতে অবস্থানকালীন ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার এবং শরীরে নীরবে থাকা জীবাণু কীভাবে পরবর্তীতে প্রাণঘাতী সংক্রমণে রূপ নেয়, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’

তবে একই গবেষণা দলের আরেকটি গবেষণায় ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে। ঢাকার একটি এনআইসিইউতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী হাতের পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালুর পর রক্তপ্রবাহের সংক্রমণ ৮৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে প্রতি ১০০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে মৃত্যুর হার ২৬ জন থেকে কমে ৪ জনে নেমে এসেছে।

আইসিডিডিআর,বির এএমআর রিসার্চ ইউনিটের প্রধান ড. ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, ‘হাসপাতাল হওয়া উচিত রোগমুক্তির জায়গা, নতুন প্রাণঘাতী সংক্রমণের নয়। রোগীদের সুরক্ষায় সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত নজরদারি এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।’

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করেছে, মৌলিক সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের রোগীর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি