ঢাকা, রবিবার   ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে বহুতল ভবনে অভিযান, ১৭০ ডিভাইসসহ ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:১০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সক্রিয় ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করে ১৭০টি ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে অনলাইন ক্যাসিনো, এটিএম জালিয়াতি, স্বর্ণ চোরাচালান, মানবপাচার ও ডিজিটাল প্রতারণাসহ (স্ক্যামিং) নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খুলশীর জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি ভবনের অষ্টম তলায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

শুক্রবার (১১সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন্স) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ। তবে এই চক্রটির মূল হোতা এখনো পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ১৭০টি ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে—১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, ১টি অ্যাপল ট্যাব, ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর ও ১টি প্রিন্টার। 

এ ছাড়া ৫টি পেনড্রাইভ, ৪টি সিমকার্ড, ৩টি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ১টি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ আরও জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী এলাকার ওই দুবাই প্রবাসীর বাড়িটি ভাড়া নেয় এই বিদেশি চক্রটি। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নিচ্ছিল। চাকরির লোভনীয় অফার বা বিনিয়োগে অতিরিক্ত লাভের আশ্বাস দিয়ে তারা এই ‘স্ক্যামিং’ বা প্রতারণার ফাঁদ পাতত। বাংলাদেশে নিরাপদে এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশীয় ও বিদেশি কিছু সহযোগী তাদের লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, গত এক মাস ধরে আটতলা ওই ভবনে এই বিদেশি নাগরিকদের আনাগোনা ছিল। তারা নিজেদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিলেও সেখানে মূলত বড় অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও ক্যাসিনোসদৃশ কার্যক্রম চলছিল। 

সিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বৈধভাবে দেশে প্রবেশ করার পর অনেক বিদেশি নাগরিক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলে, যাতে প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় কিছু সহযোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে অর্থ পাচার ও মাদক কারবারের মতো অপরাধ চক্র গড়ে তোলে। 

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জব্দকৃত ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এই চক্রের পেছনে দেশীয় যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি