ঢাকা, শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬

আঞ্চলিক উত্তেজনায় বদলাচ্ছে সৌদির কৌশল, সংযম নিয়ে বার্তা প্রিন্স তুর্কির

সৌদি আরব প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৯:৩০, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৯, ৩ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ‘সংযমের নীতি’ নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল। তাঁর মতে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে আগের মতো শুধু সংযম ও কূটনীতির ওপর নির্ভর করে চলা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি। 

প্রিন্স তুর্কি বলেন, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি ভূখণ্ড ও স্বার্থকে ঘিরে বিভিন্ন হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের ফলে নিরাপত্তা বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বিশেষভাবে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সৌদি আরবের প্রচলিত সংযমের নীতি কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সৌদি-ইরান সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন প্রিন্স তুর্কি। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে উভয় পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। 

তাঁর মতে, আস্থা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই তৈরি হয়।

হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে আসে। প্রিন্স তুর্কির মতে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক বাস্তবতা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। এ কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন।

ইসরায়েল ও ইরানের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রিন্স তুর্কি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উভয় দেশের কর্মকাণ্ড নিয়েই উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল ১৯৭৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা অভিজ্ঞতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি