ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

উভয় সংকটে মোদী সরকার, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:১৫, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ক্ষমতায় থাকার এক দশকেরও বেশি সময় পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর সরকারের সামনে এখন তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে দেশের ভেতরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ, অন্যদিকে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দূরত্ব এবং সেই সঙ্গে ভারতের জাতীয় মুদ্রা রুপির দরপতন। এই তিন জোরালো ধাক্কায় ভারতের নীতিনির্ধারকেরা বেশ কঠিন পরিস্থিতি পার করছেন।

মোদী সরকারের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) নামের একটি যুব সংগঠন। শুরুতে এটিকে সাধারণ মনে করা হলেও, সরকারি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তারা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে সংগঠনটি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।

ভোটার তালিকা থেকে জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি—অর্থাৎ প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ ও ধরপাকড় করেও এই অসন্তোষ পুরোপুরি দমানো যাচ্ছে না।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও চাপের মুখে রয়েছে নয়াদিল্লি। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শুল্কনীতি ভারতকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এর পাশাপাশি ভারতীয় আইটি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী শ্রম সনদ বা গ্রিন কার্ডের সুবিধা সীমিত করার মার্কিন পরিকল্পনা এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মানুষের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে মোদী সরকারও এখন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নরম না হয়ে বেশ কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছে।

বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির কারণে ভারতীয় মুদ্রা রুপি ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে। যদিও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনও ৭ শতাংশের ওপরে রয়েছে, তবুও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কায় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা রেকর্ড পরিমাণে অর্থ ও শেয়ার বাজার থেকে পুঁজি তুলে নিচ্ছেন।

একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো নতুন ও আকর্ষণীয় সুযোগের অভাবও বিদেশি তহবিল কমার অন্যতম কারণ। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে এবং ডলারের বাজারে হস্তক্ষেপ করেও রুপির এই পতন পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না।

এই বহুমুখী সংকটের মাঝে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও খাদ্যপণ্যের দাম নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে সরকারকে। সাম্প্রতিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি প্রায় পৌনে আট শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এভাবে বাড়তে থাকায় সাধারণ পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী দিনে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে অর্থনীতিবিদেরা ধারণা করছেন, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিকে কিছুটা শ্লথ করে দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি