ঢাবি শিক্ষকের ছেলের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে
প্রকাশিত : ১৭:৩৯, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষকের ছেলের বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে বিপদের মুখে পড়েছেন মার্কেটিং বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) মূল ফটকের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীরা সবাই মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের ছাত্র। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব কোনো ধরনের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, সাদমান সাকিব দক্ষ কোনো চালক নন, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জনবহুল ও ব্যস্ত ক্যাম্পাসের ভেতরেই তিনি গাড়ি চালানো শিখছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি প্রথমবারের মতো গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেন।
দুর্ঘটনার পরপরই আহত ছয় শিক্ষার্থীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁদের হাত, পা ও হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ও ছিলে গেছে। আকস্মিক এই ঘটনার ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের এক্স-রে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তাঁদের শরীরের কোনো হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ড এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা দেখানোর জায়গা কিংবা ড্রাইভিং শেখার মাঠ নয়। তাঁরা আহত সহপাঠীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পারিবারিক পরিচয় বা প্রভাব যেন বিচার প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত সাদমান সাকিবের বাবা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ছেলের এমন কাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে, তিনি তা পুরোপুরি মেনে নেবেন।
এমএইচ
আরও পড়ুন










