ঢাকা, শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬

কতদিন দিল্লি এরকম স্তব্ধ রাখা সম্ভব?

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:০১, ১০ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

যখনই কেউ কোনো প্ল্যাকার্ড হাতে আসছেন, তখনই তাকে দিল্লি পুলিশ সেখান থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। কারো সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হচ্ছে। আবার কাউকে বাহিনী কোলে তুলে বা টেনে হিঁচড়ে বাসে তুলছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রতি সকাল থেকে দিল্লি পুলিশের যে আচরণ দেখা গেল, তা জুলাই মাসে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। কিছু জায়গায় পুলিশ সংবাদমাধ্যম ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে।

বিক্ষোভকারীরা যারা আসছিলেন, তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন কৌতুকপূর্ণ মিমের প্ল্যাকার্ড। তবে তাদেরও পুলিশ দেখামাত্রই আটক করে। শুরু থেকেই পুলিশের মনোভাব ছিল, যে কোনো প্রকারে জমায়েত সৃষ্টি হওয়া আটকানো, যে প্রচেষ্টায় তারা আজ সফল।

যন্তর মন্তরে আজ কোনো জমায়েত হয়নি, বা বলা ভাল, হতে দেওয়া হয়নি।

ওই বিক্ষোভে উপস্থিত এক তরুণ বললেন, "দিল্লি একটা প্রাণবন্ত শহর। একদিন তাকে স্তব্ধ করে রাখা যায়, কিন্তু তরুণদের কণ্ঠ কতদিন এভাবে দমিয়ে রাখা সম্ভব?"

দিল্লির অন্যদিকে যা ঘটছিল

শুরুতেই সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে নাটকীয়ভাবে বিমান থেকেই আটক করেছে পুলিশ। পরিচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করে পুলিশ।

চার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জী, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকার — শনিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে এরা সকাল থেকেই পুলিশের হাতে আটক হন।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনো মাত্রই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে। আটক হয়েছেন বামপন্থী ছাত্র নেত্রী নেহা বোরাও। পরে ছাড়া পেয়ে দিল্লির অপর প্রান্ত, যন্তর মন্তর থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার দূরে দিল্লি হাট অঞ্চলে অবস্থান করতে শুরু করেন তিনি।

বিকেল চারটে নাগাদ জানা যায়, মমতা ব্যানার্জীসহ তার দলীয় সতীর্থদের হরিয়ানার কাছে উত্তর দ্বারকা থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ আগে, বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ পুলিশের হাতে আটক হন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

চারটি স্তরে দিল্লিতে মোতায়েন পুলিশ

ব্যারিকেড করে সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ আটকানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের এই ব্যারিকেড টপকাতে বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। কনট প্লেস অবধি বাধার মুখে পড়তে হয়নি। এই কনট প্লেস থেকে যন্তর মন্তরের দূরত্ব মাত্র ৪০০ মিটার।

ফলে এই এলাকাতেই সবথেকে বেশি পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন ছিল।

শুধু তাই নয়, এখানে দাঁড় করানো ছিল দাঙ্গারোধী যান, জলকামান, প্রিজন ভ্যান ও ৩০টিরও বেশি বাস। দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ এই বাসগুলিকে দিল্লি পুলিশ আজ বিক্ষোভকারীদের আটক করতে ব্যবহার করেছে।

সূত্র: বিবিসি

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি