ঢাকা, সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক: হুমায়ুন কবির

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:৫৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

হুমায়ুন কবির জানান, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। চার দিনের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা হন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে দেশে ফেরেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় এবারের অধিবেশন দেশের জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করেছে।

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ, সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১০টি বৈঠক ছিল।

২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং দেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’—রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন—কৌশলের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান। এ জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগের ওপর জোর দেন তিনি। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংলাপ এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন।

শান্তি ও নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অঙ্গীকারও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

একই দিনে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, মিয়ানমারে সহিংসতার অবসান এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির উদ্যোগে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও সুইডেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ক বৈঠকেও অংশ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সফরকালে জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইন্সটিটিউট, গেটস ফাউন্ডেশন, বোয়িং গ্লোবাল এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়।

হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির পাশাপাশি তিনিও ব্রাজিল এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২, পররাষ্ট্র সচিব এবং সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরাও বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ অনুবিভাগ) এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি