জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে সিঁড়ি থেকে পড়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু
প্রকাশিত : ১০:৫৩, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:১২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে সৌরভ ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।
নিহত সৌরভ ইসলাম নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম ও রেনু বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি জেদ্দায় আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে টি-বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্বজনরা জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে সৌরভ জেদ্দায় চাকরি করছিলেন। এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে ফিরে যান তিনি।
মঙ্গলবার ভোরে তিনি যে বাসায় থাকতেন, সেটির ছাদে যান। এ সময় ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জেদ্দার দিকে আসার খবর এবং মোবাইলে সতর্কতামূলক অ্যালার্মের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি।
একপর্যায়ে সিঁড়িতে পড়ে যান সৌরভ। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সকালে তার সঙ্গে থাকা লোকজন ঘুম থেকে উঠে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সৌদি পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
নিহতের স্বজন তৌহিদুল ও কামাল মিয়া জানান, সৌরভ অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্র আসার খবরে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
সৌরভের বাবা আমিরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার বিকালে সৌদি আরবে ছেলের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানান। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ হাতে দাফন করার সুযোগ চান। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে সৌরভের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










