ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩১ মার্চ ২০২৬

তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি পাম্প মালিকদের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:১২, ৩১ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দেশজুড়ে জ্বালানি আতঙ্ককে কেন্দ্র করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এ পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের প্রধান কর্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

অ্যাসোসিয়েশনের আরও দাবি হচ্ছে— বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবতার আলোকে ক্রেতা সাধারণকে সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে; পেট্রোল পাম্পে ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে ক্রেতাদের হুমড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে; পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে; উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে; ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরির চেম্বারের ধারণ ক্ষমতা (যেমন ৪,৫০০ লিটার) অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে হবে। 

লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, গত কয়েকদিনে দেশের প্রায় সব পেট্রোল পাম্পেই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গুজব ও ‘তেল ফুরিয়ে যাওয়ার’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

পাম্প মালিকদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত নিয়মিতভাবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদাই পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

তারা জানান, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে একদিকে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।

তারা আরো জানান, দেশে বিদ্যমান তেলের মজুত দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব এবং এটি কোনো স্থায়ী সংকট নয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকেও একই আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। তবে গুজব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পাম্প মালিকরা বলেন, অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নির্ধারিত রেশনিং মেনে চলতে হবে এবং পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত তেল মজুদ না করার পাশাপাশি পাম্পে দায়িত্বরত কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ থেকেও বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে বেশি নাজুক বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানানো হয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোল পাম্পে নিরাপত্তা জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তবসম্মত সমন্বয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তেল বিক্রি এবং সরকারি মনিটরিং বাড়ানোর মতো বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের ট্যাগ অফিসার নিয়োগের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শেষ পর্যন্ত বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক এবং এটি মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি হলো ধৈর্য ও সচেতনতা। সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আতঙ্ক নয়, বরং দায়িত্বশীল আচরণই হতে পারে এ সময়ের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি