ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬

পাইপ লাইনে পানি পাচ্ছে শার্শার ১০ হাজার মানুষ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৫:০১, ১৬ নভেম্বর ২০২০

Ekushey Television Ltd.

টেকসই উন্নয়নের লক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ‘আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ সাপ্লাই পানির’ সুফলতা পেতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। গ্রামীণ জনপদের শার্শা ইউনিয়নের নাভারন বাজারের দুই হাজার পরিবারের বাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে এই পানি।

শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, পানি নিরাপদ না হলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে না। স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে উন্নয়ন টেকসই হয় না। তাই নিরাপদ পানি পানের সুযোগ তৈরি করা, গুণগতমান, সবার জন্য সহজলভ্য ও টেকসই ব্যবস্থা হিসেবে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে বহুমুখী পদক্ষেপ হিসেবে গ্রামাঞ্চলের পাড়া-মহল্লার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানি সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারে ইউনিসেফ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ইউনিসেফের সহযোগিতায় শার্শা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। এক লাখ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাংকটিতে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তোলা হয়। এই পানি আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত। সদর ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় বাড়িতে বাড়িতে আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ সাপ্লাই পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

শার্শা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেন বলেন, এটা আর্সেনিক দূষিত এলাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি পেতে পারে সেজন্যই সরকারিভাবে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। সাপ্লাই পানি সম্পর্কে মফস্বল এলাকায় ধারণা না থাকায় প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে কিছুটা অসুবিধা হলেও এখন মানুষ সচেতন হয়েছে। সুফল পেতে শুরু করেছে, চাহিদাও বেড়েছে।

মাসিক ১৫০ অথবা ১৯০ টাকার বিনিময়ে প্রতিটি পরিবারকে এই পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এই টাকা দিয়েই প্রকল্পের সকল ব্যয় মেটানো ও তদারককারীদের বেতনভাতা দেওয়া হয় বলে জানান চেয়ারম্যান সোহারব হোসেন।

সাপ্লাই পানি বাদেও অন্যান্য এলাকায় বিশুদ্ধ আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানির ব্যবস্থা করতে ২শ’টি আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এর বাইরে ইউনিয়নের ৫৫টি মসজিদ ও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বিশুদ্ধ পানির জন্য আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে।

গ্রামের সেলিম রেজা বলেন, প্রতিদিন দুই বার লাইনে পানি আসে। সকাল ৭টায় একবার, দুপুর ২টায় আসে দ্বিতীয়বার। এতেই আমাদের চাহিদা মিটে যায়। অধিকাংশ গ্রাহক পানি আসার সাথে সাথে তাদের চাহিদা মোতাবেক ট্যাঙ্কি, বালতি বা পাতিলে পানি ভরে রাখেন।

নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের অধ্যাপক বখতিয়ার খলজি মন্টু বলেন, বিশুদ্ধ পানি সব ধরনের মানবাধিকারের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। সবার জন্য উন্নত উৎসের পানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এই ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি মানুষের উন্নত উৎসের নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এএইচ/এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি