ঢাকা, সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ-সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে রিট

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:০০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:২৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেবলমাত্র প্রেম ও রোমান্স নির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এই রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট পিটিশনে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে অভিযোগ করা হয়েছে যে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবলমাত্র প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মূলধারার এসব গণমাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার এবং ধর্ষণের মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

এর ফলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে মারাত্মকভাবে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে চরম সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে।

রিট পিটিশনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের (যেমন: হিন্দুস্তান টাইমস, ডেইলি সাবাহ এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস) বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের লাগামহীন রোমান্টিক এবং উসকানিমূলক সিনেমা যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে এবং সমাজে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও অপরাধ বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

এডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান মামুন রিট পিটিশনে জোরালো আইনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও, তা শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে। জননৈতিকতা ধ্বংসকারী এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া কোনো কনটেন্ট অবাধে সম্প্রচার করা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা পেতে পারে না। 

এছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ রাষ্ট্রের পরম সাংবিধানিক দায়িত্ব।

রিট পিটিশনে আরও বলা হয়েছে যে, 'বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩'-এর ৫(২) এবং ৮(১) ধারা অনুযায়ী পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং এর পরিপন্থী কনটেন্টের অনুমোদন বাতিল করা কর্তৃপক্ষের বিধিবদ্ধ দায়িত্ব। অন্যদিকে, 'কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬'-এর ১৯ ও ২০ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি করে এমন যেকোনো সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিবাদীরা তাদের এই আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত ও ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, যা চরম প্রশাসনিক অবহেলার শামিল।

রিট আবেদনে কেবলমাত্র প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি যুবসমাজের সৃজনশীল মেধা বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষা ভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে। 

গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিবাদীদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের পর কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় জনস্বার্থে ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষায় মহামান্য হাইকোর্টে এই রিট পিটিশন দায়ের করা হলো।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি