ঢাকা, শুক্রবার   ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেমের টানে ভারতের ভূপাল থেকে খুলনায় ফারিন

আশরাফুল ইসলাম নূর, খুলনা

প্রকাশিত : ২৩:০৭, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.


"হে বিরাট নদী 
অদৃশ্য নিস্তব্ধ তব জল 
অবিচ্ছিন্ন অবিরল 
চলে নিরবধি।"

কবির সেই নদীর গতিপথ আর প্রাকৃতিক অবিরত ধারাকে আধুনিক অবকাঠামো থামিয়ে দিতে পারে কিন্তু পারে না মানব-মানবীর প্রেমকে কখনো সীমান্তের কাঁটাতারে অবরুদ্ধ করতে।

সীমান্তের এই কৃত্রিম বাঁধা উপেক্ষা করে অপ্রতিরোধ্য প্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে খুলনায় আগত এক নারী। নাম তার ফারিন আলী। ফারিন অর্থ সৌভাগ্যবতী। কিন্তু হায়! কোথায় তার সুপ্রসন্ন ভাগ্য?

"দুটো মানচিত্র এঁকে, দুটো দেশের মাঝে
বিঁধে আছে অনুভূতিগুলোর ব্যবচ্ছেদ।"

মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভূপালের ব্লু মুন কলোনির ২১ বছরের মেয়ে ফারিন আলী, পিতা- রফিক আলী, মাতা- ফরিদা আলী। ঠিক ছয় বছর আগে খুলনা শহরের দৌলতপুরের মধ্যপাড়ার ছেলে তাসিনের সাথে মুঠোফোনে পরিচয় হয় ফারিনের। ধীরে ধীরে বাড়ে সম্পর্কের গভীরতা। দুজনই চায় এই সম্পর্কের পরিপূর্ণতা। কিন্তু ফারিনের কাছে নেই কোন পাসপোর্ট বা বৈধ কোন ট্রাভেল পাস। অপ্রতিরোধ্য অকুতোভয় ফারিন প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। 

মধ্যপ্রদেশ থেকে আসাম হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সিলেট হয়ে খুলনায় তার অন্তিম গন্তব্যে পৌঁছে সে। অবশেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় ফারিন এবং তাসিন। পূর্ণতা পায় তাদের প্রণয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না তাদের সুসময়। গত ৫ জানুয়ারি ৯৯৯ এর কল পেয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ফারিনকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায় দৌলতপুর থানা পুলিশ। 

ফারিন যখন থানার চার দেয়ালে আবদ্ধ, ঠিক তখনই ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। ফারিনের ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হিন্দি। তার জানা নেই অন্য কোন ভাষা। কমিশনার মহোদয়ের উপস্থিতিতে সে তার অব্যক্ত অনুভূতি প্রকাশের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

ফারিনের অসহায় চাহনি তার স্বামী ও শাশুড়ির মর্মস্পর্শী  আকুতি কমিশনার মহোদয়কে আবেগাপ্লুত করে। তৎক্ষণাৎ তিনি এই অসহায় মেয়েটির প্রতি এক অপ্রতীম দায়িত্বশীলতা অনুভব করেন। বিজ্ঞ আইনজীবী, বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সাথে কমিশনার মহোদয় তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে এই উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রতিকার খুঁজে বের করেন। 
অবশেষে তিনি আদেশ করেন ফারিনকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রেরণের জন্য। ফারিনের চোখের কোণে জড়ো হয় এক বিন্দু জল। এই অশ্রু নিশ্চয়ই আনন্দের। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার হয়ে আদালতের মাধ্যমে এই রোমাঞ্চকর ঘটনার একটি সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘটবে এই প্রত্যাশা সবার।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি