বেনজীরকে ফেরাতে অনুরোধপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
প্রকাশিত : ১০:৩৯, ১৭ জুন ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার একটি অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অনুরোধপত্র তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলার তথ্যপ্রমাণসহ একটি অনুরোধপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। পরে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
গত ১২ জুন দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। দেশটির সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়।
বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে তাঁর একসময়ের সহযোগীরাই ধরিয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি। সূত্রটি বলছে, বেনজীরের সঙ্গে তাঁর সহযোগীদের কারও কারও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। দ্বন্দ্বের কারণ ব্যবসা ও লেনদেন।
দুবাইয়ের ওই সূত্রটি আরও বলছে, একটি বিপণিবিতান বা শপিং মল থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পেছনে সক্রিয় ব্যক্তিরা দুবাই পুলিশকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও বেনজীরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ব্যবহার করেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (২০১০-১৫) এবং র্যাবের মহাপরিচালকের (২০১৫-২০) দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তাঁকে আইজিপি করা হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন।
বেনজীর আহমেদের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।
এএইচ
আরও পড়ুন










