ভবন আছে, ডাক্তার নেই!
প্রকাশিত : ২৩:০২, ১৭ নভেম্বর ২০২০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমূল ইউনিয়নের জয়ধরকান্দি গ্রামে স্থাপিত ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় বন্ধ রয়েছে স্বাস্থ্য সেবা। ফলে সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রায় বন্ধের পথে রয়েছে পাকশিমূল ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রটি।
সরেজমিনে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দেখা যায়, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল গেইটটি তালা লাগানো রয়েছে এবং সবগুলি কক্ষও বন্ধ।
জয়ধরকান্দি গ্রামের স্থানিয় বাসিন্দা হাজী ফয়েজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সাপ্তাহে ৭ দিনের মধ্য ৪/৫ দিনই বন্ধ থাকে হাসপাতালটি। এখানে নেই কোন ডাক্তার বা কম্পাউন্ডার। একজন মাত্র পিয়ন প্রনেশ চক্রবর্ত্তী, সে সাপ্তাহে ২/৩ দিন আসে ঘন্টা দুইয়েক পর তার মনগড়া মতই চলে যায়। অনেকের কাছ থেকে ঔষধের দামও রাখছে বকশিসের নামে, যদিও সরকার এসব ঔষধ বিনামূল্য আমাদের জন্য দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশেই অবস্থিত জয়ধরকান্দি কওমী ইসলামিয়া মাদ্রাসার মোওতামীম মাওলানা লিয়াকত আলী বলেন, এখানে আগে একজন সহকারী ডাক্তার বাবু ছিলেন তিনি এখন আর আসেন না, শুনেছি তিনি অবসরে চলে গেছেন, সেই বাবু যখন আসতেন তখন মোটামুটি কিছু লোকজন চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য আসতেন কিন্তু এখন প্রায় দুই বছর ধরে কোন ডাক্তার না থাকার কারণে বা নিয়মিত না খোলার কারণে মানুষ আর আসে না।
পাকশিমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার জনগণের বসবাস, এর বিপরীতে একটি মাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র এটি, এটাতেই নেই কোন প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা, কেউ অসুস্থ হলে সেই সরাইল সদরে ভাঙ্গা রাস্তা বা নৌযোগে কষ্ট করে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় নতুবা কোন ফার্মেসী ডাক্তারের কাছ থেকে ঔষধ কিনে খেতে হয়। তাই জরুরী ভিত্তিতে এখানে ডাক্তার দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপরে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. নোমান মিয়া এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, করোনা
মহামারি এবং পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে জয়ধরকান্দি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে কোন চিকিৎসক নেই, আগে যিনি ছিলেন অবসরে চলে যাওয়ার কারনে এই সংকট দেখা দিয়েছে, ইতোমধ্যেই মাননীয় সিভিল সার্জনের মাধ্যমে চাহিদা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। আশাবাদি অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে।
পিয়ন প্রায়ই ডিউটিতে না গিয়ে বন্ধ রাখছেন কেন্দ্রটি, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযুক্ত অফিস সহায়ক প্রনেশ কে
ইতোমধ্যেই এর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে, তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কেআই//
আরও পড়ুন










