ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ ইস্যুতে কঠোর ইরান, কূটনীতিতে বাংলাদেশকেও বার্তা

নিসা আলম, একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:৪৮, ১ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সাম্প্রতিক সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ইরানের অবস্থান। ইরান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক, মানবিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন বার্তা উঠে এসেছে ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে।

একদিকে বিপদে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি মানবিক সহায়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তেহরান, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি, যা ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। যুদ্ধের পর এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। ‘ইনোসেন্ট প্যাসেজ’ বা নির্দোষ চলাচলের নিয়ম অনুসারে ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। এ বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্ট ও সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ইরান এই অঞ্চলে নিজের সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।

বর্তমানে ১৯৮২ সালের জাতিসংঘ সমুদ্র আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি একটি ট্রানজিট প্যাসেজ হিসেবে স্বীকৃত। এই নিয়মের অধীনে বাণিজ্যিক জাহাজ, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনসহ সব দেশের নৌযান কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই নিরবচ্ছিন্নভাবে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারে। ইরান এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করলেও তাদের পার্লামেন্ট সেটি এখনো অনুমোদন করেনি।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই যুদ্ধ কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি ইসলামী সভ্যতা ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবকে তিনি ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক ‘চাওয়াপাওয়ার তালিকা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং স্পষ্ট জানান যে, এ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন অস্ত্রের সংকটে পড়ে, তখনই তারা শান্তির কথা বলে। ইরান যুদ্ধের পক্ষে নয়, তবে এমন শান্তি চায়, যা এই অঞ্চলে ইরানের অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

এছাড়াও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইরান সরকার সম্প্রতি সে দেশে আটকে পড়া ১৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের অনেকেরই বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা না থাকলেও এবং অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, ইরান মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে নামমাত্র জরিমানা আরোপ করে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইরানের সহমর্মিতা ও উদারতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশের প্রতি উদারতার পরিচয় দিলেও চলমান যুদ্ধ ইস্যুতে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তেহরানের মনে কিছুটা কষ্টের জন্ম দিয়েছে বলে জানান দেশটির রাষ্ট্রদূত।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি