মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা আল মানসুরি
প্রকাশিত : ১০:২০, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মারাকেশের মেয়র ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরি। গত সপ্তাহের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল জয়ী হওয়ার পর রাজকীয় মন্ত্রিসভা এ ঘোষণা দেয়।
মঙ্গলবার দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
রাজকীয় মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী আল মানসুরিকে ‘নতুন সরকার গঠনের’ দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি এর আগে আবাসনমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
নিয়োগের পরপরই টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আল মানসুরি বলেন, তার নিয়োগ ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয়।’
নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজ আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। আমরা প্রথমে আমাদের দলের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু করব। এরপর সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব।’
রাবাত থেকে এএফপি জানায়, আল মানসুরির মধ্য-ডানপন্থী অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) নির্বাচনে ৩৯৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন লাভ করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে তারা ৩১টি আসন বেশি পেয়েছে। তবে এ নির্বাচন গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পিএএমকে অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করতে হবে। তবে বড় ধরনের নীতিগত বিষয়ে দেশটির রাজা এখনও ব্যাপক ক্ষমতা রাখেন।
২০০৮ সালে পিএএম প্রতিষ্ঠার বছরই আল মানসুরি দলটিতে যোগ দেন। দেশটির ইসলামপন্থী আন্দোলনের মোকাবিলায় ভারসাম্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বর্তমান রাজকীয় উপদেষ্টা ফুয়াদ আলি আল হিম্মা দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
আল মানসুরি ২০০৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন। ছয় বছর পর তিনি ওই পদ হারান এবং ২০২১ সালে আবারও মেয়র নির্বাচিত হন।
আল মানসুরির সরকারকে বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পাশাপাশি বিশেষ করে তরুণদের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলা দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বৈষম্যসহ বেশ কয়েকটি জরুরি সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।
সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় কয়েক সপ্তাহ আগে হাজার হাজার প্রধানত তরুণ মরক্কোর অভিবাসী হঠাৎ প্রবেশের ঘটনার পর। ওই সংকট দেশটির তরুণদের আর্থসামাজিক হতাশার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।
এর এক বছর আগে জেন-জি প্রজন্মের একটি প্রতিবাদ আন্দোলন রাস্তায় নেমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার দাবি জানিয়েছিল।
আল মানসুরি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি সচেতন যে এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং মরক্কোর জনগণ, বিশেষ করে তরুণদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা এমন একটি কর্মসূচি গ্রহণ করব, যা নাগরিকদের উদ্বেগের বিষয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান দেবে।’
পিএএম পাঁচ বছরের মেয়াদে গড়ে বার্ষিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি এবং অন্তত ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










