যুক্তরাষ্ট্র-চীন নতুন বাণিজ্য সমঝোতা, বাড়ছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ
প্রকাশিত : ১৫:৩৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৫৮, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তির আভাস দিয়ে নতুন একটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বিশ্বের দুই শীর্ষ পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ তথ্য জানান চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সমঝোতাকে দুই দেশের ব্যবসায়ী, সাধারণ জনগণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত ‘সুসংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে জানা যায়, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নতুন যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন এই সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ১০ নভেম্বরের পরিবর্তে এই যুদ্ধবিরতি আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের এই প্রক্রিয়াটিকে মূলত ‘বুসান চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক আকস্মিক বৈঠকে এই মেয়াদ বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।চীনের প্রতি মার্কিন সতর্কবার্তা ও নতুন প্রতিশ্রুতিবাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও বেইজিংকে কিছুটা সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।
স্কট বেসেন্ট উল্লেখ করেন, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় চীন এখনো তাদের সব প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বা প্রত্যাশামতো বাস্তবায়ন করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের চাহিদার কথা বেইজিংকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে এবং এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে চীন শর্তগুলো কতটা কার্যকরভাবে মেনে চলে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তবে মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চীনা প্রতিনিধি দল মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে সহযোগিতাসহ নতুন কিছু ইতিবাচক প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিতে পারে।এই সাময়িক সমঝোতার ফলে নতুন বছরের শুরু পর্যন্ত দুই দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের কোনো বাণিজ্য সংঘাত থেকে দূরে থাকবে এবং আগামী বছরও এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রাখার পথ সুগম হলো।
এমএইচ
আরও পড়ুন










