রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিকালে শুরু জ্বালানি লোডিং
প্রকাশিত : ১০:১৯, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৭, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ এক দশকের প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে আজ শুরু হচ্ছে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম ঘিরে প্রকল্প এলাকা ও আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনিক পর্যায়েও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে রূপপুরে পৌঁছেছেন।
ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে এ ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










