ঢাকা, শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬

শ্রমিক অধিকারের প্রতীক মে দিবস আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:৫৪, ১ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বিশ্বব্যাপী আজ পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের স্মরণে প্রতিবছর দিনটি পালন করা হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

১৮৮৬ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই সময়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ঘিরে থাকা পুলিশের ওপর অজ্ঞাতনামা কেউ বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায়। এতে ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হন। ওই দিন তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিশ্বে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয় আরও পরে।

এরপর ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে পহেলা মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শ্রমিকের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এবারের প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী উল্লেখ করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যে কোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটো হাত রাষ্ট্র এবং সমাজের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের চাবিকাঠি। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই শহীদ জিয়া নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার প্রবর্তিত নীতি ও সংস্কার শ্রমিক কল্যাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি করেছিলেন তিনি। সেই প্রবাসী শ্রমিকরা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠন পৃথকভাবে র‌্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো সম্প্রচার করছে।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি