ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ৫:১৬:০৩

চুল পড়ার কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা (ভিডিও)

চুল পড়ার কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা (ভিডিও)

চুল পড়া বর্তমান সময়ের একটি বড় সমস্যা। তরুণ-যুবক-বৃদ্ধ প্রায় সব বয়সী মানুষই বর্তমানে এই সমস্যায় ভোগে। অনেকের অল্পতেই চুল পড়ে মাথা সামনের দিকে খালি হয়ে যায়। আবার অনেকের ‍চুল পড়তে পড়তে একটা সময় মাথায় টাক পড়ে যায়। চুল পড়ার জন্য অনেকে দায়ী করেন দুশ্চিন্তাকে। কেউ কেউ বলেন, বংশগত কারণে চুল পড়ে। আবার অনেকে বলেন, খাদ্যাভাস চুল পড়ার জন্য দায়ী। কী ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে একুশে টিভির কথা হয়  ডা. জাহিদ পারভেজ বড় ভুঁইয়ার সঙ্গে। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিবাগের সহকারী অধ্যাপক।   প্রশ্ন: চুলপড়া সারা বিশ্বে একটি বড় সমস্যা। চুল পড়া কীভাবে রোধ করা যেতে পারে? ডা. জাহিদ পারভেজ: চুল পড়ার জন্য প্রধানত দায়ী লাইফস্টাইল। লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট চুল পড়াটা অনেকটা কমিয়ে ফেলে। পরিমিত ঘুম, পরিমিত খাবারের পাশাপাশি সাধারণ ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য জরুরী। চুল শরীরের বাইরের কোন জিনিস নয়, শরীরেরই অঙ্গ। ফলে খাবার-ঘুম-ব্যায়াম চুলের সঙ্গে জড়িত। একজন মানুষ কী ধরনের তেল ব্যবহার করছেন, কী ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন এ প্রশ্নও এসে যায়। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজকাল ফাস্টফুড কালচার খুব দ্রুত বাড়ছে। এই ফাস্টফুডের ফলাফল কিন্তু চুলের জন্য ক্ষতিকর। দৈনন্দিন জীবনে ১০০- ১৫০টা চুল একজন মানুষের স্বাভাবিক ভাবেই পড়ে। এই ১০০-১৫০ চুল পড়ার পর যদি রি- গ্রোথ না হয় তখনই দেখা যায় একজন মানুষের চুল ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যাচ্ছে। টাক দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন : চুল পড়া কী কোনো বংশগত সমস্যা? ডা. জাহিদ পারভেজ: হ্যাঁ, আমাদের কাছে নিয়মিত যেসব রোগী আসে সেখানে আমরা দেখি টাক রোগীর সংখ্যা বিরাট। আমাদের শরীরে এমন একটা হরমোন আছে ( ডিএসটি হরমোন) যেটা আল্লাহর দেওয়া নিয়মে প্রতিনিয়ত কনভার্টেড হচ্ছে। বংশগত কারণে বা জ্বীনগত কারণে একটা শক্ত পদার্থ চুলের গোড়ায় জমে। ফলে চুল নিউট্রিশন নিতে বাধাগ্রস্ত হয়। এভাবে চুলটা এক সময় ছোট হয়, চিকন হয়। এক পর্যায়ে দেখা যায় সেটা ছোট লোম লোম হয়ে যায়। একপর্যায়ে ডিএসটি হরমোনের প্রভাবে লোমটাও পড়ে যায়। এটাকে বলা যায় বংশগত টাক। বংশগত টাক সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। আমার বাবার মাথায় ভাল চুল আছে, তাই বলে আমার মাথায়ও ভালো চুল থাকবে তা না। বা আমার বাবার মাথায় টাক বলে আমারও টাক হবে তাও না। প্রশ্ন: কী ধরণের খাবার খেলে চুলের বংশবৃদ্ধি হবে? চুল সুস্থ থাকবে? ডা. জাহিদ পারভেজ: আমি আগেই বলেছি চুল পড়ার প্রধান কারণের মধ্যে ডিএসটি হরমোন অন্যতম। এখনকার গবেষণায় দেখা গেছে আমরা যে চীনা বাদাম খাই, সেই বাদাম ভাঙ্গার পর একটা হালকা লেয়ার থাকে। এটা আমরা ফেলে দিই। অথচ এটা ডিএসটি ইনহেবিটর হিসেবে কাজ করে ন্যাচারালি। পাশাপাশি অনেকেরই কাচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস আছে। পরিমিত মাত্রায় ছোলা খেলে খুব উপকার হয়। এর পাশাপাশি সবুজ শাক সবজি, মাছ মাংস, সুস্বাদু খাবার সুস্থ চুলের জন্য কার্যকর। প্রশ্ন : অনেক সময় অনেক রোগী দেখা যায় যাদের চুল জায়গায় জায়গায় খোপ খোপ হয়ে পড়ে গেছে। এটি কেন হয়? ডা. জাহিদ পারভেজ: জায়গায় জায়গায় চুল না থাকা এটা হঠাৎ করেও হতে পারে। এক রাতের মধ্যেও পড়ে যেতে পারে। এটা একটা ডিজিজ। এটা চিকিৎসা ছাড়াও নিজে নিজে সুস্থ হয়ে যেতে পারে। সাধারণ কিছু চিকিৎসা আছে। যেমন উচ্চ মাত্রার স্টেরোয়েড ক্রীম। এটা আমরা দিয়ে থাকি। প্রশ্ন: চুল পড়া সমস্যায় সাধারণত কী ধরনের পরীক্ষা করেন? ডা. জাহিদ পারভেজ: সাধারণত রক্ত পরীক্ষা দিই। হিমোগ্লোবিন টেস্ট। আমাদের দেশে মেয়েদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব কম থাকে। যা চুল পড়ার খুব বড় কারণ। পাশাপাশি আজকাল যেটা পাই ভিটামিন `ডি` ডেফিসিয়েন্সি। চুল ধরে রাখার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন যেসব রোগী আমাদের কাছে আসে পরীক্ষা করলে দেখা যায় শতকরা ৮৫% রোগী ভিটামিন `ডি`- এর অভাবে ভুগছে। পাশাপাশি আমরা থাইরয়েড হরমোন চেকআপ করে থাকি। ব্লাড সুগারটা দেখি। ডায়াবেটিসের ভূমিকাও থাকে। এছাড়া চুলের কন্ডিশন, স্কাল্পের কন্ডিশন দেখি। বয়স অনুযায়ী চুলের অনুপাত ঠিক আছে কিনা, ফাঙ্গাস ঠিক আছে কিনা মূলত এসব পরীক্ষা করা হয়। প্রশ্ন : কীভাবে চুল পড়া রোধ করা যায়? ডা. জাহিদ পারভেজ: চুল পড়া রোধে ডায়েট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রচুর শাক সবজি ও ফলমূলের পাশাপাশি বায়োটিন নামে একটা ওষুধ খেলে চুল পড়া কমে যাবে ও চুলের গ্রোথ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি আয়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আমরা নিতে পারি। প্রশ্ন : বিভিন্ন বিউটি পার্লারে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ভেঙ্গে চুলে মেখে দিতে দেখা যায়। এটা চুলের জন্য কেমন কার্যকর? ডা. জাহিদ পারভেজ: একটা সময় ধারণা ছিল ভিটামিন `ই`- এর একটা বড় রোল আছে। কিন্তু যতোই দিন যাচ্ছে গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন `ই` চুলের চেয়ে স্কিন ও মানুষের শারীরিক কিছু ফিজিক্যাল ফিটনেসের ক্ষেত্রে বেশী কাজে দেয়। চুল পড়া রোধে ভিটামিন ` ই` খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। স্কাল্পে ভিটামিন ` ই` ম্যাসাজ করলে যে চুলের গ্রোথ বাড়বে তা কোনদিন সম্ভব নয়। প্রশ্ন : চুল পড়ার চিকিৎসা কিভাবে দিয়ে থাকেন? ডা. জাহিদ পারভেজ: বয়স একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। একটা তরুণের চিকিৎসা ও একজন বয়স্ক রোগীর চিকিৎসা এক রকম নয়। আলাদা রকমের থেরাপী দেওয়া হয়। পাশিপাশি মেডিকেটেড শ্যাম্পু, পুষ্টিকর খাবার এসবকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়। একবারেই যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে যেটা করে থাকি সেটা হলো ট্রান্সপ্লান্ট। অর্থাৎ চুল প্রতিস্থাপন। প্রশ্ন : চুল পড়ার আধুনিক চিকিৎসা বলতে আমরা কী বুঝব? ডা. জাহিদ পারভেজ: আধুনিক চিকিৎসা বলতে আমরা বুঝব পিআরপি থেরাপীর কথা। এই থেরাপী বেশ কার্যকর। / এআর /
৭ খাবারে মুক্তি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে

কোষ্ঠকাঠিন্য এই সময়ের একটি পরিচিত রোগ। কমবেশি সবাই কোনো না কোনো সময় এই রোগে ভোগেন। মূলত হজম ও পরিপাকে সমস্যা দেখা দিলে এটি দেখা দেয়। কিছু খাবার আছে, যা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে৷ কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে এই ৭ খাবার খান, দেখবেন মুক্তি মিলবে- ১. মৌরি: একথা তো সবাই জানেন যে পেট টান্ডা করতে মৌরির কোনো বিকল্প হয় না। কিন্তু একথা কি জানা ছিল যে বাওয়েল মুভমেন্ট ঠিক রাখতেও এটি সাহায্য করে। আসলে ডায়জেস্টিভ ট্র্যাকের যে পেশি রয়েছে তার সঞ্চালন যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে মৌরি। ফলে বদ-হজম, পেট গোলানো, কনস্টিপেশন এবং ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রমের মতো নানাবিধ রোগ একেবারে সেরে যায়। এক্ষেত্রে এক কাপ মৌরি নিয়ে ভাল করে ভেজে ফেলতে হবে। তারপর ভাজা মৌরিগুলি গুঁড়ো করে নিয়ে একটা শিশিতে স্টোর করে রাখবেন। প্রতিদিন এই গুঁড়ো মৌরি হাফ চামত করে গরম জলে গুলে খেলে নিমেষেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ২. তিসি: এতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ফাইবার এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা পেট পরিষ্কার রাখতে নানাদিক থেকে সাহায্য করে। তাই পটি পরিষ্কার হোক, বা না হোক, প্রতিদিন তিসি বীজ জলে গুলে পান করুন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন। প্রসঙ্গত, এক গ্লাস জলে ১ চামচ তিসি বীজ গুলে কম করে ২-৩ ঘন্টা রেখে দিন। রাতে শুতে য়াওয়ার আগে পান করুন সেই জল। দেখবেন সকালে উঠে পেট পরিষ্কার করে পটি হয়ে যাবে। ৩. মধু: প্রতিদিন মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। তাহলেই দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পটি পরিষ্কার না হাওয়ার মতো সমস্যা একেবারে কমে যাবে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে এমন কিছু রয়েছে, যা জোলাপের মতো কাজ করে। ফলে মধু খাওয়া মাত্র পটি পরিষ্কার হতে শুরু করে দেয়। এক্ষেত্রে দিনে ৩ বার, এক গ্লাস গরম জলে ১ চামচ করে মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেতে হবে। ৪. ঘি: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধে পরিমাণ মতো ঘি মিশিয়ে যদি খাওয়া যায়, তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটার কারণে নানাবিধ পেটের রোগের প্রকোপ কমে নিমেষে। ৫. পালং শাক: প্রতিদিন এই শাকটি খেলে দারুন উপকার পাওয়া যায়। তাই যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে তাহলে হয় রান্না করে, নয়তো কাঁচা অবস্থাতেই পালং শাক খাওয়া শুরু করে দিন। দেখবেন অল্প দিনেই কষ্ট কমে যাবে। প্রসঙ্গত, আরেক ভাবে পালং শাককে কাজে লাগানো যেতে পারে। এক গ্লাস জলের সঙ্গে ১ গ্লাস পালং শকের রস দিনে দুবার করে খেলে কনিস্টেপেশনের কোনও নাম গন্ধই থাকে না। ৬.আঙুর: এতে উপস্থিত অদ্রবণীয় ফাইবার, পটি পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। তাই বাওয়েল মুভমেন্ট ঠিক না হলেই দিনে হাফ বাটি কাঁচা আঙুর অথবা আঙুরের রস খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এমনটা করলেই দেখবেন সকালগুলো সুন্দর হয়ে উঠবে। ৭.লেবু: এতে উপস্থিত লেমোনাস, হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি পেট পরিষ্কার রাখতে দারুন কাজে আসে। তাই কখনও যদি দেখেন ১-২ দিন ধরে পটি ঠিক মতো হচ্ছে না তাহলে ঝটপট কয়েক গ্লাস লেবুর রস খেয়ে নেবেন। দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে ফল পাবেন। প্রসঙ্গত, গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে বেশি উপকার পাবেন। সূত্র : বোল্ডস্কাই / এআর /

দাঁতের সমস্যা ও প্রতিকার

সুন্দর হাসি ও আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্বের জন্য উজ্জ্বল, রোগমুক্ত দাঁতের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক সময়ে যত্নের অভাবে দাঁতে আক্রমণ করে রোগ-জীবানু ও বিভিন্ন রকমের অসুখ। তখন অকালে দাঁত ও দাঁতের মাড়ি হয়ে ওঠে কালচে, ভঙ্গুর ও হলদে রংয়ের। যা খুবই বিশ্রী দেখায়। একটু বাড়তি সচেতনতা ও যত্ন নিলে মুক্তি মেলে দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা থেকে এমনটাই জানিয়েছে স্মাইল স্পেশালাইজড ডেন্টাল সার্ভিসেসের চীফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক, ডা. মোঃ শফি উল্লাহ। সম্প্রতি একুশে টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দি ডক্টর স অনুষ্ঠানে এসে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন  অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। শ্রুতি লেখক একুশে টেলিভিশনের অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান দ্যা ডক্টর’স। লাইভ এই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য, রোগ-ব্যাধি, সুস্থতা নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান দিয়ে থাকেন। পাঠকদের জন্য সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি লিখিতভাবে তুলে ধরা হলো। একুশে টেলিভিশন : কোরবানি ঈদে লোকজন দাঁতের যত্ন কিভাবে নেবেন? অধ্যাপক ডা. মো. শফি উল্লাহ: করবানীর ঈদের পরে অনেকের দাতেঁর সমস্যা দেখা দেয়। এর একটি মাত্রকারণ করবানীর মাংস খাওয়ার সময় অসচেতন ভাবে খাওয়া। মাংসের আশ আটকে যাওয়ার কারণে অনেক সময় ব্যাথা  দেখা দিতে পারে। এছাড়াও অনেকগুলো কারণে দাঁতে ব্যথা দেখা নিতে পারে। মুলত দুই কারণে হতে পারে। এক মাড়ি ব্যাথার কারণে ২ দাঁতের ব্যাকটেরিয়ার কারণে দাঁতে ব্যাথা হতে পারে। একুশে টেলিভিশন :  পোকা হওয়ার কারণে দাঁতে ব্যাথা করে এটার কোনো ভিত্তি  আছে  কি? অধ্যাপক ডা. মো. শফি উল্লাহ: গ্রামের মানুষের ধারণ দাঁতে পোকায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে দাঁতে ব্যাথা দেখা দেয়।এমন ধারণা ভুল। মুলত ব্যাকটেরিয়ার কারণে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। আর এই ব্যাকটেরিয়ার খালি চোখে দেখা যায় না। বিভিন্ন কারণে দাতেঁ ব্যাথা দেখা দিতে পারে। একুশে টেলিভিশন : হাড় খেতে গিয়ে যদি দাঁত ভেঙ্গে যায় তাহলে কি করণীয়? অধ্যাপক ডা. মোঃ শফি উল্লাহ: অনেক ভাল একটা কথা বলছেন। হাড় খেতে গিয়ে অবশ্যই আমাদের সর্তক হয়  উচিত।আমারা আমাদের নিজেদের দাতেঁর সর্ম্পকে ভাল জানি। তার হাড় খাওয়ার সময় অনেক সবাইকে অনেক সর্তক হতে হবে। তিনভাবে দাঁত ভাঙ্গতে পারে ।অধিকাংশ সময় দাঁতের প্রথম অংশ ভেঙ্গে।এতে বেশি সমস্যা দেখা যায় না। অনেক সময় দাঁতের মূল শিখড় ভেঙ্গে যায়। অনেক সময় মাঝখান থেকে ভেঙ্গে যেতে পারে। এসময় বেশি সমস্যা দেথা দিতে পারে। তার কিছু খাওয়ার আগে অবশ্যই সর্তক থাকতে হবে। তাহলে এর সমস্যা সমাধান হবে। এসব সমস্যা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে সর্তক হতে হবে এবং মুখের যত্ন নিতে হবে। সুস্থ্য থাকার জন্য অবশ্যই মুখটা ভালভাবে পরিস্কার করতে হবে। একুশে টেলিভিশন :  গ্রামের মানুষ অনেকেই পান খায় তাদের দাঁত পরিস্কার রাখার জন্য আপনার পরামর্শ কি ? অধ্যাপক, ডা. মোঃ শফি উল্লাহ:  পান খাওয়াটা দোষের কিছু না কিন্তু পান খাওয়া পরে মুখ পরিস্কার না করলে অনেক সমস্যা দেখা দেয়।  গ্রামের মানুষ অনেকেই পা খাওয়ার পর বিভিন্ন পাউডার নিয়ে দাঁত পরিস্কার করে। কিন্তু এমন পরিস্কারে আসলে ভালভাবে পরিস্কার হয়না। দীর্ঘদিন ধরে পাউডার দিয়ে দাঁত পরিস্কার করার কারণে দাঁতে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। একুশে টেলিভিশন : ব্যাথার কারণে অনেক সময় দাঁত তুলে ফেলা হয়। এটা স্বাস্থের জন্য কি ভাল ? অধ্যাপক ডা. মোঃ শফি উল্লাহ: অনেকেই দাঁতের সমস্যার কারণে  দাঁত তুলতে হয়। আমার মনে হয়। দাঁত না তুলে চিকিৎসা বা ওষুদের মাধ্যমে ব্যাথা দূর করার ভাল। কারণ দাঁত তুলতে ৬ ধরনের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় দাঁত তুলে নির্ধারিত স্থান দাঁত বসে না। দাতঁ পরবর্তীতে ব্যাথা হতে পারে। একুশে টেলিভিশন : ঈদের মধ্যে হঠাৎ করে যদি দাঁতে ব্যাথা হয় তাহলে কি করবে ?    অধ্যাপক, ডা. মোঃ শফি উল্লাহ: ঈদের আগে দাঁত ঠিক আছে কি না। এবিষয় এখনি সর্তক থাকা ভাল। আর যদি। একান্ত ব্যাথা দেখা যায়। তাদের রাজধানীর ডেন্টার কেয়ার রয়েছে। এছাড়া এখনতো বড় বড় ডাক্তার অনলাইনেই মিলছে। বেশি সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে ফোন দিয়ে নিতে পারেন। একুশে টেলিভিশন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। অধ্যাপক ডা. মোঃ শফি উল্লাহ: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ।  ভিডিও    

শোক দিবসে বিএসএমএমইউতে বিনামূল্যে রোগ পরীক্ষা

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কাল ১৫ আগস্ট বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার পাশাপাশি কিছু পরীক্ষা বিনামূল্যে এবং কিছু পরীক্ষা অর্ধেক মূল্যে করা যাবে বলে বিএসএমএমইউ-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। একইসঙ্গে এই প্রথমবারের মতো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে দেওয়া হবে, কিছু পরীক্ষা করা হবে অর্ধেক মূল্যে। বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে এবং অর্ধেকমূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া পরিচালক (হাসপাতাল) ও প্রত্যেক বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন। এসএইচ/

তামাকের ব্যবহার কমেছে ৮ বছরে ৮ শতাংশ: গ্যাটস

আট বছরে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার আট শতাংশ কমেছে। ২০১৭ সাল শেষে দেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০০৯ সালে যার পরিমাণ ছিলো ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। হিসাব অনুযায়ী আট বছরে দেশে তামাকের ব্যবহার কমেছে ৮ শতাংশ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের (গ্যাটস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সচিব সিরাজুল হক প্রমুখ। এতে বলা হয়, দেশে তামাক ব্যবহারকারীদের ৪৬ শতাংশ পুরুষ, ২৫ দশমিক ২ শতাংশ নারী। বাড়িতে ৩৯ শতাংশ, কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭শতাংশ এবং গণপরিবহনে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ পরোক্ষ ধুমপানের শিকার। ট্যোবাকো অ্যাটলাস ২০১৮ প্রতিবেদন বলা হয়েছে, তামাক ব্যবহারজনিত রোগ বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার ২শ’ মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে পঙ্গুত্ব বরণ করে ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে গ্যাটস এ জরিপ করে আসছে। আরকে//

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

ডেঙ্গু বর্তমান সময়ের সবচেয়ে পীড়াদায়ক রোগের একটি। এই জ্বরে আক্রান্ত একদিকে যেমন দূর্বল হয়ে পড়ে অন্যদিকে এর রেশ শরীরে থেকে যায় দীর্ঘদিন। তবে ডেঙ্গু প্রাণঘাতি কোনো রোগ নয়। বিশ্রাম ও নিয়মমাফিক চললে এ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ডেঙ্গু জ্বর কী ও কিভাবে ছড়ায় ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা এবং এই ভাইরাস বাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোন ব্যক্তিকে কামড়ালে, সেই ব্যক্তি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোন জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে, সেই মশাটিও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে। ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার এবং ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার। ডেঙ্গু জ্বর কখন ও কাদের বেশি হয় মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম এবং বর্ষার সময়টাতেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। শীতকালে এই জ্বর হয় না বললেই চলে। শীতে লার্ভা অবস্থায় ডেঙ্গু মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতেই সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে। সাধারণত শহর অঞ্চলে অভিজাত এলাকায়, বড় বড় দালান কোঠায় এই মশার প্রাদুর্ভাব বেশি, তাই ডেঙ্গু জ্বরও এই এলাকার বাসিন্দাদের বেশি হয়। বস্তিতে বা গ্রামে বসবাসরত লোকজনের ডেঙ্গু কম হয় বা একেবারেই হয় না বললেই চলে। ডেঙ্গু ভাইরাস ৪ ধরনের হয়ে থাকে। তাই ডেঙ্গু জ্বরও ৪ বার হতে পারে। যারা আগেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গু হলে তা মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণসমূহ ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে থাকে। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমড়, পিঠসহ অস্থি সন্ধি এবং মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা হয়। এছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পিছনে ব্যথা হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয় যে মনে হয় বুঝি হাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। তাই এই জ্বরের আরেক নাম “ব্রেক বোন ফিভার”। জ্বর হওয়ার ৪ বা ৫ দিনের সময় সারা শরীরজুড়ে লালচে দানা দেখা যায়, যাকে বলা হয় স্কিন র‌্যাশ, অনেকটা এলার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়। সাধারণত ৪ বা ৫ দিন জ্বর থাকার পর তা এমনিতেই চলে যায় এবং কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে এর ২ বা ৩ দিন পর আবার জ্বর আসে। একে “বাই ফেজিক ফিভার”বলে। ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর এই অবস্থাটাই সবচেয়ে জটিল। এই জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরো যে সমস্যাগুলো হয়, তা হল-  শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়, যেমন চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত হতে, কফের সঙ্গে, রক্তবমি, পায়খানার সাথে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাহিরে, মহিলাদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে থাকা ইত্যাদি।     এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনীতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ রূপ হল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সাথে সার্কুলেটরী ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণ হল-  রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া।     নাড়ীর স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।     শরীরের হাত পা ও অন্যান্য অংশ ঠাণ্ডা হয়ে যায়।     প্রস্রাব কমে যায়।     হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কখন ডাক্তার দেখাবেন   ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসাই যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াই ভালো-       শরীরের যে কোন অংশ থেকে রক্তপাত হলে।     প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে।     শ্বাসকষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি আসলে।     প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে।     জন্ডিস দেখা দিলে।     অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে।     প্রচণ্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে।   কী কী পরীক্ষা করা উচিত   আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বর হলে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দরকার নাই, এতে অযথা অর্থের অপচয় হয়।     জ্বরের ৪-৫ দিন পরে সিবিসি এবং প্লাটিলেট করাই যথেষ্ট। এর আগে করলে রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকে এবং অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। প্লাটিলেট কাউন্ট ১ লক্ষের কম হলে, ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া উচিত।     ডেঙ্গু এন্টিবডির পরীক্ষা ৫ বা ৬ দিনের পর করা যেতে পারে। এই পরীক্ষা রোগ সনাক্তকরণে সাহায্য করলেও রোগের চিকিৎসায় এর কোন ভূমিকা নেই। এই পরীক্ষা না করলেও কোন সমস্যা নাই, এতে শুধু শুধু অর্থের অপচয় হয়।     প্রয়োজনে ব্লাড সুগার, লিভারের পরীক্ষাসমূহ যেমন এসজিপিটি, এসজিওটি, এলকালাইন ফসফাটেজ ইত্যাদি করা যাবে।     এছাড়াও প্রয়োজনে পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম, বুকের এক্সরে ইত্যাদি করা যাবে।     চিকিৎসক যদি মনে করেন যে রোগী ডিআইসি জাতীয় জটিলতায় আক্রান্ত, সেক্ষেত্রে প্রোথ্রোম্বিন টাইম, এপিটিটি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি পরীক্ষা করতে পারেন।   ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা কী করতে হবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়, এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে, যাতে ডেঙ্গু জনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা না হয়। ডেঙ্গু জ্বরটা আসলে একটা গোলমেলে রোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়।  সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।  যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।  খেতে না পারলে দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথার ঔষধ কোনক্রমেই খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়বে।     জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছাতে হবে।   ডেঙ্গু জ্বর কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়   ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে, এডিস একটি ভদ্র মশা, অভিজাত এলাকায় বড় বড় সুন্দর সুন্দর দালান কোঠায় এরা বাস করে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এই মশা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সাথে মশক নিধনের জন্য প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।       বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।     যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহৃত জিনিস যেমন মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।     ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি ৫ দিনের বেশি যেন না থাকে। একুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।     এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীর ভালোভাবে কাপড়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে।     দিনে ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।     বাচ্চাদের যারা স্কুলে যায়, তাদের হাফপ্যান্ট না পরিয়ে ফুল প্যান্ট বা পায়জামা পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে।     ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে রোগীকে কোন মশা কামড়াতে না পারে। মশক নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সাথে সাথে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারী ব্যবহার করতে হবে।  ডেঙ্গু জ্বর হয়ত বা নির্মূল করা যাবে না। এর কোন ভ্যাক্সিনও বের হয় নাই, কোন কার্যকরী ঔষধও আবিস্কৃত হয় নাই। ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি আমাদের দেশে আগেও ছিল, এখনও আছে, মশা প্রজননের এবং বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই ডেঙ্গু জ্বর ভবিষ্যতেও থাকবে। একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।  লেখক : ডীন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।  

শিশুর স্থূলতা থেকে লিভারের সমস্যা: গবেষণা

সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তার যেন শেষ নেই বাবা-মায়ের। কিন্তু জানেন কী অতিরিক্ত স্থূলতা থেকে শিশু নানামুখী রোগে আক্রান্ত হতে পারে? এমনকি লিভারের জটিল রোগেও আক্রান্ত হতে পারে। সম্প্রতি ৬৩৫ জন শিশুর ওপর গবেষণা চালিয়ে এর প্রমাণ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। তারা লিভার বা যকৃতের এএলটি নামক এনজাইমের ব্লাড লেভেল পরীক্ষা করেন। এএলটির মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে লিভারের ক্ষতির কারণ হিসেবে ধরা হয়, নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারসহ লিভারের অন্য রোগের জন্যও এটি দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক ওজনের শিশুদের চেয়ে ৮ বছর বয়সী স্থূল শিশুদের ৩৫ শতাংশেরই এএলটির মাত্রা বেশি ছিল। কলম্বিয়ায়ার ভাগেলস কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জনসের সহকারী অধ্যাপক জেনিফার উবাইডাল বলেন, শিশুদের চিকিৎসা করতে গিয়ে দেখেছি, স্থূলতার জন্য অনেক শিশুই নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক বাবা-মাই জানেন যে, স্থূলতার জন্য টাইপ টু ডায়াবেটিসসহ আরও নানা ধরনের রোগ হতে পারে। কিন্তু স্থূলতার জন্য যে শিশুদেরও লিভারের সমস্যা হতে পারে, তা অনেকেরই অজানা। লিভারে প্রচুর চর্বি জমে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি এসিড তৈরি হয়, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। শিশু ও কিশোররা দীর্ঘমেয়াদী যেসব রোগে বেশি আক্রান্ত হয় তার মধ্যে এটি অন্যতম। সাধারণত এ রোগের কোনো লক্ষণ না থাকলেও এটা থেকে লিভার সিরোসিস, এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। তবে তা এড়ানো কঠিন নয়। গবেষক অধ্যাপক উবাইডাল বলেন, এ রোগ এড়ানোর উপায় হল ওজন কমানো, প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমানো ও নিয়মিত শরীরচর্চা করা। সূত্র : এনডিটিভি। / এআর /

আলসারের কারণ ও প্রতিকার

পেপটিক আলসার খুব প্রচলিত রোগ। বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা হতে পারে। খাদ্যগুলো পাকস্থলীতে জমা হয়। সেখান থেকে এসিড নিঃসরণ হয়। এই এসিড নিঃসরণ যেন চারদিকে না ছড়িয়ে যায়, তার জন্য কিছু ব্যবস্থা আছে মানুষের শরীরে। সব সময় এটি একটি ভারসাম্যের মধ্যে থাকে। এই ভারসাম্য যদি কোনো কারণে এসিডের দিকে বেশি চলে যায় এবং উপাদানের ক্ষমতা যদি কমে আসে, তাহলে পেপটিক আলসার হতে পারে। আলসার মানে সহজ বাংলায় হলো ঘা। ঘায়ে যদি দীর্ঘসময় সুরক্ষা ক্ষমতা না থাকলে আলসার হতে থাকবে। সহজ ভাষায় বললে পেপটিক হলো খাদ্যভার পাকস্থলীর ঘা। অনেক কারণে এটি হতে পারে। অনেকে ভাবে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য খেলে কি গ্যাসট্রিক হয়। অথবা শুধু ঝাল খেলে হয়। শুধু ঝাল খেলে যে গ্যাসট্রিক আলসার হবে এমন কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু দেখা গেছে যারা অনেক বেশি টিনজাত খাবার খায় বা খাবার সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদার্থ আছে, এর ব্যবহার করলে তার গ্যাসট্রিক আলসার হওয়ার প্রবণতা বেশি। আবার শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অনেক বেড়ে গেলে গ্যাসট্রিক বা পেপটিক আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হ্যালিকোবেকটার পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া আছে। এটি ক্ষুদ্রান্ত্রে থাকে। এসিডের মাত্রা অথবা সুরক্ষার ক্ষমতা বেড়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া চলে আসে। তখন এই আলসার অথবা ঘাকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সমস্যার শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, ভালো থাকুন। লেখক: অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় / এআর /

জন্মনিয়ন্ত্রক পিল স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়: গবেষণা

নারীরা সাধারণত জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবনে অভ্যস্ত। অতিরিক্ত এই পিল গ্রহণের ফলে অনেক নারীই সন্তান ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। নতুন খবর হচ্ছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। মার্কিন গবেষণালব্ধ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে এই ওষুধ সেবনের ফলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।   মার্কিন গবেষক দল ১,১০০ জন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, যাঁরা অতীতে বা বর্তমান সময়ে বার্থ কন্ট্রোল পিল নিয়েছিলেন বা সেবন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি নারীদের মধ্যে  স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বার্থ কন্ট্রোল পিল বন্ধ করার পর ১০ বছর পর্যন্ত স্তন ক্যানসারের কোনও লক্ষণই পরিলক্ষিত হয় না বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তবে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কম পরিমাণে সেবন করলে এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম থাকে বলে গবেষণায় প্রমাণ পেয়েছেন। আমেরিকার ফ্রেড হোচিনসন ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের গবেষকরা আরও জানতে পেরেছেন, স্তন ক্যানসার সাধারণত খুব কম লোকের হয়ে থাকে, তবে যেহেতু নারীরা বিভিন্ন ধরণের জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবন করে থাকেন, বিশেষ করে যে সব তরুণীরা বার্থ কন্ট্রোল পিল বেশি ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। সে জন্য জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবনের মাত্রা ও বিভিন্ন  ধরণের জন্মনিয়ন্ত্রণের ফর্মুলেশন নিয়ে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী। ব্রেক থ্রো ক্যানসারের ড. ক্যারোলাইন ডাল্টন বলেন, বার্থ কন্ট্রোলের পিল নেওয়ার আগে পেশেন্টদের চিকিত্সকের সঙ্গে বার্থ কন্ট্রোলের বিভিন্ন দিক ও অন্যান্য বিকল্প উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত। জানা যায়, গত ৩০ বছরে ইস্ট্রোজেনের কম্বাইন্ড পিল-এর মাত্রা আরও কমানো হয়েছে। তারপরেও গবেষকরা বলছেন, তাঁরা এখনও জানেন না এর মাত্রা কম হলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায় বা সম্ভাবনা একই থাকে কিনা! তাঁদের মতে, এ বিষয়ে আরও বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিত্সকদের মতে, সাধারণত ৪০ বছরের নিচের মেয়েদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তেমন থাকে না। তা তিনি পিল সেবন করেন বা না করেন। অথচ, নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ইস্ট্রোজেন বার্থ কন্ট্রোল কম্বাইন্ড পিল সেবনের ফলে ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। ২১,৯৫২ জন রোগী যাঁরা বিধি নিষেধ মেনে চলেন, তাঁদের মধ্যে ১,১০২ জনের উপর টানা ১০ বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে (১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত) মার্কিন গবেষকরা এই তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সূত্রঃ জি২৪  কেআই/  

যে সব মশলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে

সাধারণত বর্ষার সময়ে ঠাণ্ডা গরম, সর্দি-কাশি এবং পেটের সমস্যা লেগেই থাকে। আর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলেই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামণ বেড়ে যায়। এ সময়ে, সুস্থ থাকার জন্য,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজে আসতে পারে বিভিন্ন মশলা। কিছু মশলা আছে যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সংক্রামণ এড়াতে বিভিন্ন মশলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১. হিং হিং অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টি-ভাইরাল। হিং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেটে ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যায় হিং অব্যর্থ। তরকারি, ডাল এবং অন্যান্য রান্নতেও হিং যোগ করুন। ২. হলুদ এক চিমটি হলুদ আপনার পেটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। রান্নায়, ডালে, এমনকী এক গ্লাস দুধে এক চিমটি হলুদ দিয়ে খেয়ে দেখুন। বেড়ে যাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ৩. গোল মরিচ গোটা হোক বা গুঁড়ো, গোল মরিচ গ্যাস এবং পেটে অন্যান্য সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। প্রদাহের সমস্যা কমানো ছাড়াও, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবেও মরিচ খুবই উপকারি। ডিমে, স্যান্ডউইচে, স্যুপে, স্যালাডে, গোল মরিচ ব্যবহার করতে পারেন। ৪. লবঙ্গ লবঙ্গ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। লবঙ্গে আছে ইউগেনল যা রক্তে সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং শরীরে ব্যাক্টেরিয়া জনিত রোগব্যাধি থেকে লড়ার ক্ষমতা জোগায়। ৫. মেথি মেথি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বর্ষাকালে জ্বর ও বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকেও আমাদের রক্ষা করে। ৬. দারুচিনি দারুচিনি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং শরীরে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, ফাইবার এবং আয়রন সরবরাহ করে। দারুচিনির মধ্যকার সুগন্ধী নির্যাস যেমন, সিনামাইলাসিটেট এবং সিনামাইলডিহাইড অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে। দারুচিনি চায়ে মিশিয়ে খেতে পারেন,ভাতে দিতে পারেন, রান্নাতেও দিতে পারেন রোজ। বর্ষায় শরীরকে সুস্থ রাখতে রান্নায় এই প্রয়োজনীয় মশলাগুলো ব্যবহার করুন। সুত্রঃএনডিটিভি কেআই/একে/

ভায়াগ্রায় দূর হবে অন্ধত্ব: গবেষণা

যৌন রোগের মহৌষধ হিসেবে কেউ কেউ ভায়াগ্রা ব্যবহার করে থাকেন। এটি যৌনক্ষমতা হারানো পুরুষদের কামোদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এটি মোটামুটি সবারই জানা। তবে নতুন তথ্য হচ্ছে অন্ধত্ব দূর হয় ভায়াগ্রায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে ভায়াগ্রা দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়া প্রতিরোধ করে এবং যে ক্ষতি হয়েছে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে। নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে দুই বছর পরীক্ষা চালিয়েছেন। তারা জানান, নীল রঙের এ ওষুধটি বয়সজনিত ম্যাকুলার অবক্ষয় বা এএমডি প্রতিরোধ করে। এই এএমডির কারণে অন্ধত্বের মতো সমস্যা দেখা দেয়। ম্যাকুলার হলো চোখের কালো অংশে ডিম্বাকৃতির এলাকা যেটার ফলে যে কোনো দৃশ্য খুব পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। সাধারণত এএমডি দেখা দেয় ৫০ বছর বয়সের পরে।  ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুষ্ক এএমডি দেখা দেয়। এটা রোগের এমন একটা ধারা যেটা কয়েক বছর যাবৎ ধীরে ধীরে হয়ে থাকে। ম্যাকুলার উপরে নতুন রক্তনালী তৈরি হলে এমনটা ঘটে থাকে। এসব রক্তনালী থেকে তরল বের হতে থাকে ফলে স্কার টিস্যু আর গড়ে উঠে না এবং একসময় চোখের দৃষ্টি হারিয়ে যায়। সূত্র: ডেইলি মেইল / এআর /

শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য হলে যা করবেন…

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হলে খুব কান্নাকাটি করে, পেট মোচড়ায় এবং খাওয়া-দাওয়াও কমিয়ে ফেলে। অস্বস্তিবোধ হয় বলেই এমনটা করে তারা। শিশুর এই অস্বস্তিবোধ পরিবারকেও অস্বস্তি করে তোলে। বাচ্চার যে শুধুমাত্র অনিয়মিত মলত্যাগ না করলেই কোষ্ঠকাঠিন্য হবে তা নয়। বরং অনেক বাচ্চা রোজই মলত্যাগ করছে অথচ তা স্বাভাবিক নয়, প্রকৃতপক্ষে একেই কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। তাই অনেক অভিভাবকই সন্তানের কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ বুঝতে দেরি করে ফেলেন। কিন্তু তাতে শিশুর কষ্ট বাড়তেই থাকে। তাই আপনার সন্তানের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নজরে এলেই দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যে বয়স থেকে শুরু হয় সাধারণত দেড়-দু বছরের মধ্যে শিশুরা স্বাভাবিক খাবারে অভ্যস্ত হতে শুরু করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তখন থেকেই শুরু হয় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা এই সমস্যায় বেশি ভোগে। তবে সময়মতো চিকিৎসা না করলে দশ বছর পর্যন্ত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা চলতে থাকে। বাচ্চারা মাতৃদুগ্ধ খাওয়া যখন থেকে কমিয়ে দেয়, তখনই কোষ্ঠকাঠিন্য হতে বেশি দেখা যায়। অনেক বাচ্চা মাতৃদুগ্ধ পানের সময়ও নিয়মিত মলত্যাগ করে না, কিন্তু তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয় না। কারণ সেই সময় বাচ্চা নিয়মিত মলত্যাগ না করলেও যখনই মলত্যাগ করে তা স্বাভাবিকই হয়। আর ডাক্তারি পরিভাষায় কোষ্ঠকাঠিন্য হল শক্ত মল নির্গত হওয়া, কতদিন বাদে বাদে শিশু মলত্যাগ করছে তা নয়। অর্থাৎ যদি কেউ রোজই দু-তিনবার মলত্যাগ করে কিন্তু তা স্বাভাবিকের থেকে শক্ত হয় তাহলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্যের আওতায় ফেলা হয়। বেশিরভাগ কেন হয় যত দিন যাচ্ছে, বাচ্চাদের রিফাইন্ড ফুড বা পরিশোধিত খাবার বেশি খাওয়ানোর জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়েই চলেছে। ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার ও পানি কম খেলে কিংবা প্যাকেটের দুধ বেশি খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। এছাড়াও কোনও কারণে একবার কোষ্ঠকাঠিন্যে মল ত্যাগ করতে কষ্ট হলে বাচ্চারা অনেক সময় পরে মল ত্যাগের বেগ এলে মলদ্বারে যন্ত্রণা হওয়ার ভয়ে চেপে দেয়। আর তারা যত মল নির্গত হওয়া চাপতে থাকে ততই কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে থাকে। অন্যদিকে, বাচ্চাদের যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা কম থাকে এবং পেটের পেশীর জোর কম থাকে বলে কোষ্ঠকাঠিন্যে শিশুদের অনেক বেশি কষ্ট হয়। চিকিৎসা অবশ্যই ডায়েটের দিকে নজর দিতে হবে। বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার অর্থাৎ শাক-সবজি, ফল রোজকার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে। কারণ আঁশ হল খাবারের সেই অংশ, যা পরিপাক হয় না এবং খাদ্যগ্রহণের পর অবশেষ হিসাবে মল তৈরি করে। খাদ্যের আঁশ অংশটুকু হজম না হওয়ার কারণে এগুলো পরিপাকতন্ত্রের বেশ কিছু জলীয় অংশ শোষণ করে ধরে রাখে এবং এই জলীয় অংশসহ ফাইবার মলের সঙ্গে বের হয়ে আসে। এই কারণেই ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে মল নরম হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়। তবে প্রাণীজ প্রোটিন একেবারে বন্ধ করে দিলে চলবে না। বাজার চলতি প্যাকেটের দুধ কম খাওয়াতে হবে। ঘরে পাতা দই খেলেও তাও অল্প পরিমাণে খেতে হবে। বাবা-মায়েদের জন্য টিপস ১) বাচ্চাদের বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার অর্থাৎ শাক-সবজি বেশি খাওয়ান। সবজির মধ্যে ঢেঁড়শ, যে কোনও শাক, ডাঁটা, গাজর, পটল, বেগুন, শিম, কুমড়ো, লাউ ইত্যাদি অবশ্যই খাওয়ান। ফলের মধ্যে বেল, পেয়ারা, কালো জাম, কলা, অল্প পরিমাণে পাকা আম, খাওয়াতে পারেন। মটর, মুগ ও ছোলার ডালে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। শিশু একই সবজি রোজ রোজ খেতে না চাইলে পুষ্টির মান বজায় রেখে ভিন্ন স্বাদের রান্না করে খাওয়ান। যদি বাচ্চা একেবারে খেতে না চায় তাহলে ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি ঘড়ি ধরে বার বার জল খাওয়াতে হবে। বেশি জল খেতে না চাইলে শরবত, ফ্রেশ ফলের রস কিংবা সবজির স্যুপ করে খাওয়ান। ২) সন্তানের যাতে রোজ মলত্যাগ করার অভ্যাস তৈরি হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাচ্চাকে বুঝিয়ে প্রাথমিক অবস্থাতেই গুরুত্ব দিয়ে সতর্ক হতে হবে। আজকাল বাচ্চারা অল্প বয়সেই প্লে স্কুলে ভর্তি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে যদি সকালে স্কুলে যাওয়ার তাড়ায় বাচ্চার অভ্যাস তৈরি না হয়, তাহলে স্কুল থেকে ফিরে অর্থাৎ বিকেলেই অভ্যাস তৈরি করুন। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন। কেএনইউ/ এআর  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি