ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪৭:২২

নাকের পলিপের উপসর্গ ও চিকিৎসা

নাকের পলিপের উপসর্গ ও চিকিৎসা

সাধারণত নাকের এক ধরনের বোটা থাকে। এটা দেখে অনেকে নাকে পলিপ হয়েছে বলে ধরে নেয়। এই ধারনাপি একেবারেই ভুল। পলিপ নাকের গভীরে হয়ে থাকে। নাকের মধ্যে এক ধরনের মাংস পিণ্ডকে পলিপ বোঝানো হয়। এটি অনেকটা স্বচ্ছ। পলিপ দুই ধরনের হতে পারে। নাকের এ রোগ ও তার চিকিৎসা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ  ‍মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক কান ও গলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার। সাক্ষাতকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।  একুশে টিভি অনলাইন: পলিপ কি, এটি কত ধরনের হয়ে থাকে? ডা. কামরুল হাসান :  ন্যাসাল পলিপ নাম দেখেই বোঝা যায় যে, এটা নাকে হয়। পলিপ জিনিসটা আসলে একটা মাংসপিণ্ড। এটাকে মাংসপিণ্ড বলা হলেও আসলে এটা মাংসপিণ্ড নয়। ইংরেজিতে এটাকে বলা হয় ম্যাস। আসলে এটা নাকের ভেতরে হয় এবং দেখতে স্বচ্ছ, দেখতে অনেকটা সাদা রংয়ের আঙুরের থোকার মতো নাকের ভেতরে হয়ে থাকে। পলিপ দুই নাকেই হতে পারে। সাধারনত পলিপ দুই ধরনের হয়ে থাকে ১. ইথময়েডাল পলিপ, যা উভয় নাসারন্ধ্রেই হয়ে থাকে। এই ধরনের পলিপ শিশুদের কম হয়। ২. এন্ট্রোকোয়োনাল পলিপ, এটি শিশুদের বেলায় বেশি দেখা দেয়। দুই ধরনের পলিপ হওয়ার পেছনের কারণও ভিন্ন। একুশে টিভি অনলাইন: পলিপ হওয়ার প্রধান কারণগুলো কি কি? ডা.কামরুল হাসান: সাধারনত পলিপ অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে। যাদের হাঁচি থাকে, সর্দি থাকে, তাদের মূলত পলিপ বেশি দেখা দেয়। হাপানি, চোখ চুলকানো নাক চুলকানোর কারণেও পলিপ দেখা দিতে পারে। তবে মূলত অ্যালার্জির কারণে দেখা দেয় পলিপ। এছাড়া বিভিন্ন ইশফেকশনের কারণে পলিপ হতে পারে। একুশে টিভি অনলাইন : অপারেশন ছাড়া পলিপ চিকিৎসা সম্ভব কি না? ডা. কামরুল হাসান : অপারেশন ছাড়া অবশ্যই পলিপের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে আগে পলিপ কোন অবস্থায় আছে সেটা দেখতে হবে। ধুলা-বালি,গরম এবং অ্যালার্জির কারণের পলিপ হতে পারে। সেজন্য আগে পলিপ হওয়ার কারণ নির্মাণ করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। চিকিৎসকরা যে খাবারগুলো খেতে নিষেধ করেছেন তা খাওয়া যাবে না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলে পলিপ ভালো হয়ে যেতে পারে। একুশে টিভি অনলাইন: দীর্ঘদিন পলিপ বহন করলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে কি না? ডা.কামরুল হাসান: অবশ্যই, দীর্ঘমেয়াদী পলিপ হলে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি মৃত্যু পর‌্যন্ত হতে পারে। বেশি আকার ধারণ করলে মেডিক্যাল চিকিৎসা সম্ভব নয়। তখন সেটাকে সার্জারি করতে হবে। মাঝে মাঝে নাক বন্ধ হয়ে যায়। রাতের বেলা দম বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলায় বেশি ঘুমায়। দাঁতগুলো উচু হয়ে যায়। সারা সময় সর্দিভাব থাকে। কানে কম শোনে। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। পড়াশুনা মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। দিনে দিনে দুর্বল স্বাস্থ্য হয়ে যায়। এমনকি এক সময় শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। একুশে টিভি অনলাইন: পলিপের চিকিৎসা কি? ডা. কামরুল হাসান : যদি পলিপ হয়ে গিয়ে থাকে। তাহলে দেখতে হবে এটি প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে নাকি অনেক পরে মানে দেরি করে রোগী ডাক্তারের কাছে এসেছেন। প্রাথমিক অবস্থায় যদি খুব ছোট থাকে তাহলে আমরা অ্যান্টি অ্যালার্জিক ড্রাগ দেই এবং একই সঙ্গে লোকাল অ্যাস্টেরয়েড স্প্রে হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকি। তাতে অনেকসময় দেখা যায় ওই পলিপ ছোট হয়ে মিশে যায়। আবার কখনও কখনও পলিপ চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ার জন্য দিয়ে থাকি। আর সেটা ব্যবহারেও অনেক সময় পলিপ ছোট হয়ে যায়। আর যদি পলিপ বেশি বড় হয়ে গিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তা নাক থেকে দূর হয় না। সেসব ক্ষেত্রে পলিপের অপারেশন জরুরি হয়ে পড়ে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পলিপ সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা সম্ভব।     একুশে টিভি অনলাইন: এ রোগ এড়াতে  আপনার পরামর্শ কি ? ডা.কামরুল হাসান : মূলত পলিপ থেকে মুক্ত থাকতে হলে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। যেহেতু এটার কারণ অ্যালার্জি সেহেতু অ্যালার্জির সৃষ্টির জিনিসগুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ডা. কামরুল হাসান: একুশে পরিবারকেও ধন্যবাদ। / এআর /    
নিউমোনিয়া-টাইফয়েডের উপশম করে সিনকোনা

সিনকোনার ঔষুধী ব্যবহার অনন্য। এটি বেশ কয়েকটি জটিল রোগের মহৌষধ। সিনকোনার ঔষুধী ব্যবহার সম্পর্কে নিচে দেওয়া হলো- ১) সিনকোনার ছাল থেকে প্রধানত Quinine, Sulphate of Cinchonidine এবং C. Febrifuge তেরি হয়; ২) কুইনাইন অবিরাম জ্বরে ও ম্যালেরিয়া জ্বরে অব্যর্থ মহৌষধ; ৩) এটি Typhoid,Typhus বসন্ত, প্রবল ও বক্ষ প্রদাহ রোগের প্রতিষেধক ও নিবারক; ৪) এটি ঘুংড়ি , সর্দি, নিউমোনিয়া প্রভৃতি রোগের জন্য উপকারী। কুইনাইন ‍Sulphuric Acid যোগে সেবন করলে শিগগিরই ফল পাওয়া যায় এবং কলম্বা প্রভৃতি তিক্ত ঔষধের সঙ্গে ব্যবহার্য; ৫) কোন কোন কুইনাইন সেবন অপেক্ষা ইহার Injection নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়; পরিচিতি : সিনকোনা গাছ সাধারণত ৭-১০ মিটার উচু হয়। গাছের কান্ড গোলাকার ও লম্বা , গাছের অগ্রভাগ পত্রময়। ছাল ধূসরবর্ণ,শ্বেত ও কৃষ্ঞবর্ণ,ফল লম্বাকৃতি, লাল ও ধূসরবর্ণ। ফল পাতলা ও চ্যাপ্টা আকারের বীজ বাতাসে উড়ে যায়। সূত্র : বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়া লেখক : ড. তপন কুমার দে / এআর /  

স্মার্টফোনের কারণেও হতে পারে গর্ভপাত!

গর্ভবস্থায় নারীদের অনেক সাবধানে থাকতে হয়। একটা শিশুকে পৃথিবীর আলো দেখানোর মত কঠিন কাজের দায়িত্ব তাদের ওপরে পরে। গর্ভবতী নারী যখন একটা শিশুকে সুস্থভাবে জন্ম দিতে পারে তখনই সে সার্থক মা হয়ে উঠে। সুতরাং এই সময়টা তাদের কাছে খুবই মূল্যবান। সাবধানে চলাফেরা তাদের কাম্য। না হলে যে কোন দুর্ঘটনায় গর্ভপাত হতে পারে। তবে শুধু লেগে গিয়ে বা পড়ে গিয়ে গর্ভপাত ঘটে তাই নয়, গর্ভপাত বিভিন্ন কারণেও হতে পারে। এমন একটা কারণ হতে পারেস্মার্টফোন। কেননা স্মার্টফোন থেকে ক্ষতিকর রেডিয়েশন নির্গত হয়। যা গর্ভপাতের অন্যতম কারণ। গর্ভকালীন সময় তারা এক প্রকার গৃহবন্দী হয়ে পড়ে। ঘরের বাইরে তাদের বের হতে দেওয়া হয় না। তারা একাকি সময় কেটে পার করে। তখন তারা মোবাইল ফোনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে তাদের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই তথ্য। সেখানে বলা আছে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ব্লু-টুথ ডিভাইজ় থেকে একটি রেডিয়েশন বের হয়। যা গর্ভবতীদের খুবই ক্ষতি করে। ইলেকট্রনিক্স এই ডিভাইজের কারণে ঘটে যায় গর্ভপাত।     যে স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন তার থেকে সব সময় তড়িৎ চুম্বকীয় বল বিকিরিত হয়। মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন নন-আয়নাইজ়িং রেডিয়েশন, যা এক ধরনের শক্তি উৎপাদন করে। সেই শক্তি জীবের ক্ষেত্রে খুবই ক্ষতিকারক।   তবে শুধুমাত্র স্মার্টফোনই নয়। ল্যাপটপ, ব্লু-টুথ ডিভাইজ়, ট্রান্সফরমার, ফোনের টাওয়ার, অন্য ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট, ওয়্যারলেস ডিভাইজ় থেকেও এই রেডিয়েশন বের হয়। যার ফলে গর্ভপাত, মস্তিষ্কে টিউমার, ক্যানসারের মতো শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা যায়।  যে সব মহিলারা দিনে বেশিক্ষণ ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেট ও স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তাদের গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফলে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে চাইলে মায়েদের একটু বেশি সতর্ক হওয়া দরকার।  তেমন হলে এই সময় ফোন খুব বেশি ব্যবহার করবেন না। যে কোন ইলেক্ট্রনিক্স থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘুমানোর সময় পাশে ফোন নিয়ে একেবারেই শোওয়া যাবে না। ফোনে কথা বলার সময় ইয়ারফোনে কথা বলাই বেশি ভালো হয়। তবে ফোনে কম সিগনাল থাকলে কথা বলা যাবে না। সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া। /কেএনইউ/ এআর          

দিনে না ঘুমানোয় মুটিয়ে যাচ্ছে শিশুরা

বিশ্বজুড়েই শিশুদের স্থুলতা সমস্যা একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ঘুমের তারতম্যের কারণেই শিশুরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশিমাত্রায় মুটিয়ে যাচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। শিশুদের ঘুম নিয়ে প্রায়ই বাবা-মায়েরা চিন্তিত থাকে। তাদের ঘুম একটু কম-বেশি হলেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে, অধিক সময় ধরে কান্না করতে থাকে এমনকি নিয়মিত খাবারের রুচি থাকে না। তবে নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, শিশুরা দিনে কম ঘুমালে এবং বেশি রাত পর্যন্ত জেগে থাকলে তাদের খাবারের রুচি বেড়ে যায়। তারা খেতে চায় বেশি। এতে তারা দিনকে দিন স্থুল হয়ে ওঠে।  যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভারসিটি অব কলোরাডোর পুষ্ঠি বিশেষজ্ঞ এলসা মুলিনস বলেন, ‘যেসব শিশু এখনো স্কুল জীবন শুরু করেনি তাদের ঘুমের তারতম্যের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সম্পর্ক নিয়ে একটা প্রথম গবেষণা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব শিশু দুপুরে ঘুমায় না তারা বেশি ক্যালোরির খাবার খায়। এতে অনিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়ার ফলে তারা ক্রমশ মোটা হয়ে যায়। সদ্য প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে প্রায় তিন ঘণ্টার মতো ঘুমের ঘাটতি রয়েছে প্রাক-স্কুলের শিশুদের। তারা দুপুরে ঘুমোয় না এবং সকাল বেলা ঘুম থেকে স্বাভাবিকভাবে ওঠার দুই ঘণ্টা আগেই ওঠে যায়। দিনে ঘুমের ঘটাতির কারণে তিন থেকে চার বছরের শিশুরা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ক্যালোরি, ২৫ শতাংশ সুগার ও ২৬ শতাংশ কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করে। স্বাভাবিকের চেয়ে শিশু ১৪ শতাংশ বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করছে। ফলে তারা মুটিয়ে স্থুল হয়ে যাচ্ছে। এজন্য শিশুদের দিনে ঘুমানো অভ্যাস করতে হবে। তথ্যসূত্র : বোল্ডস্কাই। কেএনইউ/     

ত্বকেই ফুটবে সুখ-অসুখের বার্তা

চিকিৎসকেরা হাত দেখে বা নাড়ি টিপে বুঝে নিতে পারেন রোগীর সুস্থতা-অসুস্থতার অনেক ইঙ্গিত। পাঁচজন সাধারণ মানুষের যদি হাতের ত্বকেই ফুটে ওঠে এসব তথ্য, তবে তো আরও অসাধারণ।   তেমন কাজই করেছেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। তাঁরা উদ্ধাবন করেছেন হাতে স্থাপনযোগ্য বার্তাবাহী বিশেষ ত্বক। অত্যন্ত পাতলা এই ত্বকে যেমন ভেসে উঠবে প্রিয়জনের পাঠানো বার্তা, একই ভাবে তা স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবরও রাখবে। আরও মজার বিষয় হলো, ত্বকটি স্থাপনের পর মনেই হবে না যে অতিরিক্ত কিছু লেগে আছে হাতে। জাপানের দাই নিপ্পন প্রিন্টিংয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ত্বকটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাকাও সোমেয়া। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের বার্ষিক সম্মেলনে ত্বকটি দেখানো হবে। সম্প্রচার ও সংকোচনযোগ্য এই ত্বক কাটা-ছেড়ায় লাগানো ব্যান্ড এইডের মতো করেই হাতে স্থাপন করা যায়। এক মিলিমিটার প্রশস্ত ত্বকটিতে লেড ডিসপ্লে, হালকা ওজনের সেনসর আর তারহীন মডিউল রয়েছে। বার্তা আদান-প্রদান আর স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর এগুলোর মাধ্যমেই সম্পন্ন করে এটি। অধ্যাপক তাকাও সোমেয়া বলেন, তাঁদের উদ্ভাবিত এই গৌণ ত্বক চিকিৎসায় ভালো কাজে আসবে অনেক রোগীই নড়তে-চড়তে পারেন না। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি-অবনতির খবর এই যন্ত্রের মাধ্যমে রাখা সম্ভব। সার্বক্ষনিক কাছাকাছি না থেকেও চিকিৎসক ঠিকই রোগীর সব খোঁজ রাখতে পারবেন। প্রয়োজনে দ্রুত ছুটে আসতে পারবেন রোগীর কাছে। ঘরে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ থাকলে দূর থেকে তাঁর খোঁজ রাখা সম্ভব এই ত্বকের মাধ্যমে। এ ছাড়া ত্বকের ব্যবহারকারী প্রত্যন্ত এলাকায় থাকলে এর মাধ্যমে তিনি তাঁর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এটি। হাতের তালু বা উল্টো পিঠে এই ত্বক স্থাপন করা যায়। তাকাও সোমেয়া বলেন, ‘ধরুন, আপনি দূরে আছেন। দাদা-দাদি, নানা-নানির মতো বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ ঘরে রয়েছেন। তাঁর হাতে থাকা গৌণ ত্বকটিতে যখন ‘‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’’ এর মতো বার্তা ভেসে উঠবে , তখন ওই বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির মনে হবে, আপনি যেন তাঁর কাছেই আছেন। তাঁর স্বাস্থ্যেরও খোঁজ রাখা সম্ভব এর মাধ্যমে। তাকাও সোমেয়া বলেন, ডিভাইসটি সম্প্রসারণ করা যায়। কাজেই ত্বকের মতো জটিল অবকাঠামোর ওপর এটি সহজেই স্থাপন করা সম্ভব। এক সপ্তাহ ধরে এটি দেহে লাগানো থাকলেও ত্বকে কোন প্রদাহের সৃষ্টি হবে না বলে জানান তিনি। শুধু তাই-ই নয়, এই ত্বক এতটাই হালকা যে, স্থাপনের পর ব্যবহারকারী এর কথা ভুলেই যাবেন। এই বিজ্ঞানী আরও বলেন, প্রাতর্ভ্রমনের সময় পরা থাকলে স্পন্দনের গতি প্রদর্শণ করবে এটি। কতখানি দৌড়ানো হলো, সেটাও জানিয়ে দেবে এই ত্বক। এ ছাড়া শ্রমজীবীদেরও কাজে আসবে যন্ত্রটি। এসি/   

পেটের মেদ কমায় আনারস-কলার জুস

আনারস এবং কলা দুটোই প্রোটিনযুক্ত খাবার। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত সুস্বাদু ফল এই ফল খেতেও খুব মজা। এই দুটি ফল ওজন কমাতে যেমন সাহায্য করে তেমনি অলৌকিকভাবে অতিরিক্ত চর্বি দূর করে দিয়ে পেটের মেদ কমিয়ে দেয়। আমাদের শরীরকে সুস্থ ও স্বাভাবিক ওজন রাখতে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তাই নিয়মিত খাবারের তালিকায় আনারস ও কলা রাখা প্রয়োজন। এছাড়া নিয়মিত শারীরিক কর্যকলাপের পর এই জুস খাওয়া অপরিহার্য। আনারস এবং কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, এনজাইম এবং খনিজ পদার্থ যা দেহের মধ্যে যেসব ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করে দেয়। আনারস এবং কলার তৈরি এই প্রাকৃতিক জুস পানির বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। তাই সকালের নাস্তা খাওয়ার পর কিংবা দুপুরের খাবার খাওয়ার পর খেতে পারেন। তবে যদি আপনি এটি রাতে খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে পেটের মেদ ঝরাতে বেশি সাহায্য করবে। তবে বেশিরভাগ চিকিৎকরা পরামর্শ দেন, শারীরিক ব্যায়াম করার পর এই জুস খাওয়া উচিত। কেননা এতে আপনার সর্বাধিক চর্বি পুড়িয়ে ফেলতে সাহায্য করবে। এছাড়া চর্বি দূর করার সঙ্গে সঙ্গে পেশিতে শক্তি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। তবে চলুন আনারস ও কলার জুস বানানোর প্রক্রিয়া জেনে নেই। একুশে টিভি অনলাইনে এর রেসিপি দেওয়া হলো- উপকরন : ১) একটি কলা। ২) আধা কাপ আনারসের টুকরা। ৩) এক চামচ তিসির বীজ (তিসির বীজ দিলে ভালো হয়)। ৪) এক চামচ পিষানো আদা। ৫) কিছু বাদাম। ৬) স্বাদমতো চিনি ও লবণ। ৭) সামান্য পানি। প্রণালি : প্রথমে ব্লেন্ডার পরিষ্কার করে নিন। এরপর সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে নিন। যতক্ষণ মিশিয়ে না যাচ্ছে ততক্ষণ ব্লেন্ডার করতে থাকুন। একটু পানিও দিতে পারেন। তথ্যসূত্র : ন্যাচারাল কেয়ার বক্স। কেএনইউ/ এআর        

শিশুর চোখের সমস্যায় চশমার ব্যবহার

চোখ একটি স্পর্শকাতর সংবেদনশীল অঙ্গ। যার সাহায্য আমার এই সুন্দর পৃথিবী দেখতে পাই। পৃথিবীর প্রকৃতি ও রূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করি। এই চোখে দেখতে না পাওয়া মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ১৮ লক্ষ লোক অন্ধ। যার প্রধান কারণ ছানিপড়া, দৃষ্টি শক্তি সমস্যা, নেত্রনালী প্রদাহ, কর্ণিয়ার আলসার বা চোখের ঘা, গ্লুকোমা, ইউভিয়াইটিস, চোখ টেরা, চক্ষুগোলকের বাইরের রোগ ইত্যাদি। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয়- ‘শিশুর চোখের সমস্যায় চশমার ব্যবহার’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ (চক্ষু বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা আই কেয়ার হাসপাতালের চীফ কনসালট্যান্ট, বিশিষ্ট ল্যাসিক, ফ্যাকো ও গ্লোকমা বিশেষজ্ঞ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি শুনে লিখিত রুপে সাজিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : শিশুদের দৃষ্টিস্বল্পতার কারণ কী? উত্তর : শিশুদের দৃষ্টিস্বল্পতার কারণগুলোর মধ্যে খুব বেশি যে বিষয়টা আমরা লক্ষ করি তাতে দেখা যায়, আমাদের দেশে পুষ্টিহীনতার অভাব অন্যতম একটি কারণ। যারা বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বেশি দেখা যায়। আর যারা শহর এলাকায় থাকে আমরা লক্ষ্য করেছি, ইতিহাস নিয়ে, অত্যন্ত বেশি তারা টিভি দেখে। পুষ্টিসম্পন্ন খাবার থাকার পরও, বাবা-মা বলার পরও তারা খায় না। প্রয়োজনীয় সেই খাবারটি না খেয়ে তারা বাইরের কম প্রয়োজনীয় খাবার খায়। টিভি দেখা, অত্যধিক কম্পিউটার ব্যবহার করা, মোবাইলে গেম খেলা-এগুলো একটা কারণ হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। প্রশ্ন : চোখের সমস্যা হলে চশমার একটি প্রসঙ্গ আসে। চশমা ব্যাবহারের ক্ষেত্রে কি কোন পরামর্শ আছে? উত্তর : অবশ্যই। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ডক্টরদের কন্সালটেশন রুমে এক ধরণের চার্ট থাকে। শিশুদেরকে সেটা পড়তে দেওয়া হয়। এক চোখ বন্ধকরে একটা ট্রাইল ফ্রেম দিয়ে পড়তে বলা হয়। এছাড়াও কিছু পরীক্ষা রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আমরা রোগীর অবস্থাটা পরিমাপ করি। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আমরা বড়দের মত সরাসরি চশমা দেই না। কিছু বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে এটি দেওয়া হয়। প্রশ্ন : বাচ্চাদের অনেকে চশমা পরতে অনীহা দেখায়। সে ক্ষেত্রে যদি চশমা না পরে তাহলে এই ক্ষীণ দৃষ্টি কী আরও সমস্যায় পড়তে পারে? উত্তর : পাঁচ বছর থেকে ১২ বছর পর্যন্ত, এই সময়ের মধ্যে যদি তার চশমার প্রয়োজন হয় এবং চশমা দেওয়া না হয়, তাহলে রেটিনার ওপর ঝাপসা ভাব পড়ছে। এতে শিশু দেখতে পাবে না। শিশু দেখতে না পেলে চোখটা অলস হয়ে যায়। যদি এক চোখে চশমা লাগে আর আরেক চোখে না লাগে তবে যেই চোখে লাগে সেটা অলস হয়ে যাবে। আর যেটা না লাগে সেটা অলস হবে না। তার কারণে একটা চোখ তার অলস হয়ে থাকবে। এটা যদি আমরা চিকিৎসা না করি ১২ বছর পার হয়ে গেলে ওই যে এক চোখে দৃষ্টিশক্তি কম রয়েছে সেটা আর বাড়বে না। আর যদি চশমা দিয়ে দেই তাহলে ভালো হবে। আর এই অলস চোখটির জন্য কিছু ব্যায়াম আছে— সেগুলো যদি করাই বাচ্চাকে তাহলে এই দৃষ্টিশক্তিগুলো তৈরি হয়ে যাবে। ১২ বছর পার হয়ে গেলে দৃষ্টি শক্তি একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। প্রশ্ন : অনেকেই মনে করেন যে চশমা মানেই খারাপ। আবার কেউ চশমা পড়লে তাকে চোখ কানাও বলা হয়। এটা কি ঠিক? উত্তর : এটা একটা কুসংস্কার। এক একটা মানুষের গায়ের রঙ, চেহারা, উচ্চতা এক এক রকম। সেই ভাবে এক এক মানুষের দৃষ্টিও আলাদা। আবার অনেক সময় আমরা ভালো চোখেও চশমা পরি। চশমা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে চোখের অসুখের বা ভালো-মন্দের কোন সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে নিজের ভিডিওটি ক্লিক করুন : এসএ/  

হৃদরোগ-জন্ডিস ও আমাশয় নিরাময় করে হরিতকি

ভেষজ চিকৎসকরা হরিতকি গাছকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। তারা বলেন, মানুষের কাছে এ বৃক্ষ মায়ের মতোই আপন। মানুষের শরীরে সংক্রমিত প্রায় সব রোগ-ব্যাধির ওষুধ হিসেবে হরিতকির ব্যবহার রয়েছে। সব রোগ হরণ করে বলেই প্রাচীন শাস্ত্রকাররা এর নাম দিয়েছেন হরিতকি। ড. তপন কুমার দে তার ‘বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়া’ বইয়ে হরিতকির ঔষধের গুণাগুণ তুলে ধরেছেন- ঔষধি ব্যবহার ১) অর্শ রোগে হরিতকি চূর্ণ তিন থেকে পাঁচ গ্রাম পরিমাণ ঘোলের সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে খেলে সেরে যাবে। ২) রক্তার্শে আখের গুড়ের সঙ্গে হরিতকি গুঁড়া মিশিয়ে খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই সুফল পাওয়া যায়। ৩) চোখের রোগের ক্ষেত্রে হরিতকি ছেঁচে পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে। ৪) পিত্ত বেদনায় সামান্য গাওয়া ঘিয়ের সঙ্গে হরিতকি গুঁড়া সেবন করতে হয়। ৫) গলার স্বর বসে গেলে মুথা ও হরিতকি চূর্ণ মধুর সঙ্গে বেটে অথবা যোয়ানের সঙ্গে পান করলে স্বর স্বাভাবিক হয়। ৬) হরিতকি ফল হৃদরোগ, বদহজম, আমাশয়, জন্ডিস এবং ঋতুস্রাবের ব্যথায় খাওয়ানো হয়। ৭) ফলের রস জ্বর, কাশি, হাঁপানি, পেট ফাঁপা, ঢেকুর উঠা, বর্ধিত যকৃত ও প্লীহা, বাতরোগ ও মূত্রনালীর অসুখেও বিশেষ উপকারী। ৮) কাঁচা ফল রেচক হিসেবে কাজ করে। ৯) আধুনিক ভেষজ চিকৎসকরা ফুঁসফুঁস ও শ্বাসনালীঘটিত রোগে হরিতকি বহুল ব্যবহার করে থাকেন। কাশি ও শ্বাসকষ্টে হরিতকি খুবই কর্যকর। ১০) এছাড়া, ঘন ঘন পানির তৃষ্ণা কিংবা বমি বমি ভাব কাটাতেও হরিতকি ব্যবহৃত হয়। ১১) ত্রিফলা অর্থাৎ আমলকি, হরিতকি ও বহেরা এর প্রতিটির সমপরিমাণ গুঁড়ার শরবত কোলেস্টেরল কমাবার অর্থাৎ প্রেসার বা রক্তচাপ কমাবার মহৌষধ। এক ওষুধ গবেষক দলের মতে, আধুনিক যে কোন এ্যালোপ্যাথিক ঔষধের তুলনায় ত্রিফলা কোলেস্টেরল কমাবার ক্ষেত্রে অনেক বেশি ফলপ্রসূ। পরিচিতি : মধ্যম থেকে বৃহদাকারের পত্রমোচী বৃক্ষ। উচ্চতায় ২০-৩০ মিটার হয়। বাকল গাঢ় বাদামী। বাকলে লম্বা ফাটল থাকে। পাতা লম্বাকৃতির, ৭-২০ সে.মি. হয়। ফুল সাদা বা হলুদ হয় এবং স্পইকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। ফল ড্রপ, ঝুলন্ত, চার সে.মি লম্বা সবুজাভ হয়। কাঠের রং ঘন বেগুনি, খুব শক্ত, ভারী ও মাঝারি আকারের টেকসই। কেএনইউ/ এআর

শিশুদের চোখের পাওয়ারের সমস্যা ও চিকিৎসা

চোখ একটি স্পর্শকাতর সংবেদনশীল অঙ্গ। যার সাহায্য আমার এই সুন্দর পৃথিবী দেখতে পাই। পৃথিবীর প্রকৃতি ও রূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করি। এই চোখে দেখতে না পাওয়া মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ১৮ লক্ষ লোক অন্ধ। যার প্রধান কারণ ছানিপড়া, দৃষ্টি শক্তি সমস্যা, নেত্রনালী প্রদাহ, কর্ণিয়ার আলসার বা চোখের ঘা, গ্লুকোমা, ইউভিয়াইটিস, চোখ টেরা, চক্ষুগোলকের বাইরের রোগ ইত্যাদি। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয়- ‘শিশুদের চোখের পাওয়ারের সমস্যা ও প্রতিকার’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ (চক্ষু বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা আই কেয়ার হাসপাতালের চীফ কনসালট্যান্ট, বিশিষ্ট ল্যাসিক, ফ্যাকো ও গ্লোকমা বিশেষজ্ঞ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি শুনে লিখিত রুপে সাজিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : বাংলাদেশে প্রচুর শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে। যার মধ্যে একটি সমস্যা খুব বেশি দেখা যায়। আর তা হচ্ছে- শিশুর চোখের পাওয়ার কমে যাওয়া। এই পাওয়ারের সমস্যাটা কেনো হয়? উত্তর : আগে জানা দরকার- আমরা সাধারণত কিভাবে দেখি এবং কখন পাওয়ারে সমস্যা হয়? আমরা যখনই কোন জিনিসের দিকে তাকাই সেই জিনিস থেকে আলো এসে আমাদের চোখের কর্ণিয়া ভেদ করে ভিতরে অবস্থিত স্বচ্ছ প্রাকৃতিক লেন্সটি ভেদ করে চোখের সবচেয়ে পেছনের সংবেদনশীল যে স্তরটি রয়েছে যাকে আমরা রেটিনা বলে থাকি, এই রেটিনার একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হয়। আর তখনই আমরা কোন বস্তুর ছবি স্পষ্ট দেখতে পাই। কোন কারণে আলো যদি রেটিনাতে আপতিত না হয়ে রেটিনার সামনে বা পেছনে আপতিত হয় তখনই আমরা ঝাপসা দেখি। সাধারণ মানুষ এটাকে বলে চোখের পাওয়ারের সমস্যা। এটি আবার তিন ধরণের। ১। হ্রস্ব বা ক্ষীণদ্রৃষ্টি (Myopia or short sight) ২। দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hypermetropia or long sight) ৩। বার্ধক্য দৃষ্টি বা চালশে (Presbyopia) ৪। বিষম দৃষ্টি বা নকুলান্ধতা (Astigmatism) এ সমস্ত কারণেই শিশুরা সাধারণত ঝাপসা দেখে। প্রশ্ন : অভিভাবক কিভাবে বুঝবে যে তার শিশু দৃষ্টি ত্রুটিতে ভুগছে? উত্তর : এটি খুবই প্রাসঙ্গীক প্রশ্ন। আসলে চোখ তো মনের কথা বলে। চোখেরও কিন্তু একটা আলাদা ভাষা রয়েছে। যাকে আমরা বলি- চোখের ভাষা। বলতে পারেন এটি একটি শক্তিশালি মাধ্যম। যার মাধ্যমে আমরা নিজেকে প্রকাশ করতে পারি। আসলে একটি শিশু যখন কথা বলতে শেখে সে কিন্তু তার চোখের ভাষাতেই তার অনুভুতি, তার ক্ষুধা, তার তৃষ্ণা, তার আবেগ এসব কিছুই সে প্রকাশ করে। বাবা-মায়েরা কিন্তু এসবই বুঝতে পারেন। বিশেষ করে মায়েরা। যেমন ধরুণ লাল জিনিসের প্রতি শিশুরা খুব বেশি আকর্ষিত হয়। তেমন একটি খেলনা শিশুটির সামনে ধরা হলো, কিন্তু শিশুটি তার উপর আকর্ষিত হচ্ছে না বা ধরতে যাচ্ছে না। এলোমেলো ভাবে তাকাচ্ছে। তখনই বুঝতে হবে শিশুটি দৃষ্টি শক্তিতে ত্রুটি আছে। এছাড়া ধরুণ অন্ধকারে আলো জ্বালানো হলো কিন্তু বাচ্চা যদি নিরলিপ্ত থাকে তবে বুঝতে হবে সে চোখের সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় সরাসরি কর্ণিয়ায় দেখা যায় সাদা স্পট পড়ে আছে। এমন কি শিশু বড় হচ্ছে, হাঁটছে কিন্তু যেখানে সেখানে ধাক্কা খাচ্ছে বা পড়ে যাচ্ছে। আবার দেখা যায় শিশুটি টেলিভিশন দেখার সময় সামনে গিয়ে দেখছে। তাকে যতবার পেছনে নিয়ে আসা হচ্ছে সে আবারও সামনে গিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। শিশুটি যখন আরও বড় হলো তখন স্কুলে গিয়ে ক্লাবে বোর্ডের লেখা দেখতে পারছে না। অথবা খাতায় লিখতে গিয়ে ভুল লিখছে। শুধু তাই নয়; চোখ পিটপিট করে দেখছে, মাথা বাকা করে দেখছে। এমনকি ঘনঘন মাথা ব্যথারও কথা বলে। এসব দেখলেই বাবা-মায়েরা বুঝবেন যে তার শিশুর দৃষ্টি সমস্যা রয়েছে। এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন : এসএ/

অস্ত্রোপচারের প্রভাব পরে শ্রবণ-বাকশক্তিতে : গবেষণা

যে সব শিশুদের হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার (হার্ট সার্জারি) হয়েছে- পরে তাদের শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। এ ছাড়াও কমে যেতে পারে তাদের কথা বলার ক্ষমতা। সম্প্রতি ‘জার্নাল অব পেডিয়াট্রিকস’ নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। গবেষকরা জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩৮৪টি শিশুর ওপর গবেষণাটি করেছেন তারা। এদের সবারই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর চার বছর বয়সে গিয়ে ২১ শতাংশ শিশুর শ্রবণশক্তি কমে গেছে। হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর শিশুর মধ্যে কী কী প্রভাব পড়ে—তা পর্যবেক্ষণ করতেই মূলত এ গবেষণা করা হয়। গবেষকরা বলছেন, ওই ৩৮৪ শিশুর মধ্যে ৭৫ জনেরই শ্রবণশক্তি কমে গিয়েছিল। এর বাইরেও তাদের মধ্যে আরও কয়েকটি বিষয় লক্ষ করা গেছে। যেমন, সাধারণ শিশুদের চেয়ে তাদের কথা বলার দক্ষতাও কম। এ ছাড়া কোনো বিষয়ে তারা অন্যদের সমান মনোযোগও দিতে পারে না। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষকদলের প্রধান ন্যান্সি বি. বার্নহাম বলেন, হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুদের অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে খুবই যত্নশীল হতে হবে। না হয় দীর্ঘস্থায়ী অনেক সমস্যা তৈরি হতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া। একে// এআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি