ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:০৩:৫৪

যুক্তরাষ্ট্রে হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসে ১৯ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসে ১৯ জনের মৃত্যু

মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পয়ঃনিষ্কাশনের সুযোগ না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে গৃহহীনদের মধ্যে হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর নভেম্বর থেকে চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় ভাইরাল এই রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই গৃহহীনরা। গত সপ্তাহে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা জারি করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হেপাটাইটিস-এ এর প্রাদুর্ভাব ছড়াল। মানবদেহের যকৃতে আক্রমণকারী এ ভাইরাস সাধারণত মলজাতীয় জিনিসের মাধ্যমে ছড়ায়। আবার যৌন সংসর্গ কিংবা জীবাণুবাহী খাবার ও বস্তু স্পর্শের মাধ্যমেও এটি এক দেঞ থেকে অন্য দেহে বিস্তৃত হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়োগে শহরেই ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। শহরটির কর্মকর্তারা ব্লিচিন ছিটিয়ে বিভিন্ন রাস্তাকে জীবাণুমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাস্তার পাশে বসানো হচ্ছে হাত ধোয়ার স্থানও। বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পয়ঃনিষ্কাশনের সুযোগ না পাওয়ায় শহরের গৃহহীনদের মধ্যে হেপাটাইটিস-এ ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। তাদের মতে, সান ডিয়েগোতে পাঁচ হাজারেরও বেশি আশ্রয়হীন ব্যক্তি রাস্তায় ঘুমায়। শহরটিতে গৃহহীনদের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যটির অন্যান্য শহরেরও হেপাটাইটিস-এ ছড়িয়ে পড়ছে। সান্তা ক্রুজ, লস এঞ্জেলসের পাশাপাশি উত্তর ক্যালেফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতেও হাজারো গৃহহীনকে এই ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু সাধারণ ব্যাপার হলেও গৃহহীনদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় মৃত্যুর হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ভাইরাসটির উপসর্গ হলো- জ্বর, ক্লান্তি, পেট ব্যাথা, গা গুলানো ও বমি। আবার আক্রান্তের শরীরে জন্ডিস হতে পারে, চামড়া ও চোখ হলুদ হয়ে যেতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউন, অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে গৃহহীনদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এমন ক্লিনিকগুলোতে পর্যাপ্ত টিকা ও প্রতিষেধক পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ভাইরাসটির তীব্রতা কমতে কয়েক মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে।  সূত্র: বিবিসি।     আর / এআর
জ্বর ঠোসা সারানোর প্রাকৃতিক দাওয়াই

জ্বর ঠোসা যন্ত্রণাদায়ক বিরক্তির মুখের ঘা। কারো কারো মুখে এ ঘা সারা বছরই দেখা যায়। আবার  অনেকে মনে হয় জ্বর হলেই শুধু জ্বরঠোসা হয়, যা একেবারেই ভুল ধরণা। বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, হরমোনের সমস্যা, অম্বল, ভিটামিন বি এবং সি-এর অভাব, আইরনের অভাব ইত্যাদি। প্রাকৃতিকভাবেও জ্বর ঠোসা সারানো যায়। সেটি নিয়েই এবারের ফিচার। ১. মধু: মধুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুনাশক উপাদান রয়েছে, যা আমাদের মুখের ভেতরের অংশকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং নতুন কোষ গঠনে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো মধু এবং আমলকী গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে জ্বর ঠোসার ওপর লাগালে দারুন উপকার মেলে। প্রসঙ্গত, হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে মধু মিশিয়ে লাগালেও একই উপকার মেলে। ২. মুলেঠি গুঁড়ো: মুখে ঘা বা জ্বরঠোসা হলে অনেক সময়ই তা পেটের রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে ম্যাজিকের মতো কাজ করে মুলেঠি বা জোষ্ঠীমধু। জ্বরঠোসা হলে জোষ্ঠীমধু জল বা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যেমন পেট পরিষ্কার হয়, তেমনি ঘা উৎপাদনকারী উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ৩. ত্রিফলা: ত্রিফলা আয়ুর্বেদ চিকিৎসাশাস্ত্রেখুবই পরিচিত একটি নাম। অর্ধেক চা চামচ ত্রিফলা, এক কাপ জলে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই মিশ্রন দিয়ে ভাল করে মুখের ভিতর ধুয়ে নিতে হবে। চেষ্টা করবেন, যাতে এই মিশ্রণটি মুখের ভিতর ১ থেকে ২ মিনিট অবধি থাকে। এরপর জলটা ফেলে দেবেন। এমনটা করলে জ্বরঠোসা সেরে যাবে। ৪. মিশ্রি এবং কর্পূর: ৮ গ্রাম মিশ্রি গুঁড়ো করে নিতে হবে। তার সঙ্গে ১ গ্রাম কর্পূর মেশাতে হবে। দুটি একত্রে মিশিয়ে জ্বরঠোসার ওপর লাগাতে হবে। এতে ঘা এবং ফোলাভাব দুই-ই কমে যাবে। ৫. নারকেল তেল এবং ঘি: নারকেল তেলে প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই কিছু পরিমাণে নারকেল তেল মুখের ভিতর নিয়ে ভাল করে মুখ ধুয়ে ফেলে দিতে হবে। একদিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার এটি করা যায়। এছাড়াও এক্ষেত্রে দেশি ঘি দারুণ কাজ করে। দেশি ঘি সরাসরি জ্বর ঠোসার ওপর লাগিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। ৬ অ্যালোভেরা: জ্বর ঠোসার ওপর কিছুটা পরিমাণ অ্যালো ভেরার রস লাগিয়ে রেখে দিন। এমনটা করলে তাড়াতাড়ি উপকার পাওয়া যায়। কারণ অ্যালো ভেরার মধ্যে প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করার ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়াও পেটের ঘা দূর করতেও এটি দারুণ কাজ দেয়। এমনকি গ্যাস অম্বলের সমস্যাও দূর করে। ৭.তুলসি পাতা: তুলসি পাতা কতটা উপকারি, তা তো আমরা সবাই জানি। এছাড়াও তুলসি পাতা ম্যাজিকের মতো কাজ করে জ্বর ঠোসা সারিয়ে তুলতে। জ্বর ঠোসা হলে সতেজ নিমপাতা চিবিয়ে তারপর জল খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও মেথি পাতা ভিজিয়ে সেই জল দিয়ে দিনে দু-তিনবার মুখ ধুলেও সমান উপকার মেলে। সূত্র : বোল্ডস্কাই। আরকে//

টেনশন ও স্ট্রেস হৃদরোগের অন্যতম কারণ

গত কয়েক দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের অসংখ্য গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হৃদরোগের অন্যতম কারণ মানসিক। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা হলো ক্রমাগত টেনশন ও স্ট্রেস। কেননা গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য কিংবা ধূমপানের অভ্যাস না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র স্ট্রেসের কারণেই একজন মানুষ করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। দেখা গেছে, ধমনীতে ৮৫% ব্লকেজ নিয়ে একজন মানুষ ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিয়েছেন। আবার এমনও হয়েছে, ধমনীতে কোনো ব্লকেজ নেই কিন্তু হঠাৎ করেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেল। এর কারণ কি? হৃদরোগীদের কেউ কেউ বলেন, সারাজীবন নিয়ম মেনে চলেছি, স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েছি, কোলেস্টেরলের পরিমাণও ছিল স্বাভাবিক, আমার কেন হার্ট অ্যাটাক হলো? কিন্তু যদি তার পুরো কেস-হিস্ট্রি অর্থাৎ পারিবারিক সামাজিক পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয় তবে হয়তো দেখা যাবে, আজীবন তিনি স্ট্রেস নিয়েই বেঁচে ছিলেন। কিংবা দৈনন্দিন ছোটখাটো সব ব্যাপারেই তিনি ভীষণ টেনশনে ভুগতেন। আসলে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ক্রমাগত স্ট্রেস আমাদের জীবনের স্বাভাবিকতাকে ব্যাহত করে। হৃদয়ের পাশাপাশি তখন আক্রান্ত হয় হৃদযন্ত্রও, যার অন্যতম পরিণতি করোনারি হৃদরোগ এবং অন্যান্য মানোদৈহিক রোগব্যাধি। মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.ক্রিচটন দীর্ঘ গবেষণার পর দেখিয়েছেন যে, হৃদরোগের কারণ প্রধানত মানসিক। অনেকে মনে করেন,এনজিওগ্রাম ব্লক ধরা পড়েছে, এখন স্টেন্ট বা রিং লগিয়ে নিলে কিংবা বাইপাস অপারেশন করে নিলেই হবে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আর নেই। কিন্তু সত্য হলো, স্ট্রেস বা টেনশনের বৃত্ত থেকে যদি একজন মানুষ বেরিয়ে আসতে না পারেন, তবে হৃদরোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকা তার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা তার শেষ পর্যন্ত থেকেই যায়, আর্টারিতে যে কয়টাই স্টেন্ট লাগানো হোক। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. মেয়র ফ্রেডম্যান এবং ডা. রে রোনেম্যান দীর্ঘ গবেষণার পর দেখান যে, হৃদরোগের সাথে অস্থিরচিত্ততা, বিদ্বেষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভুল জীবনাচরণের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। আর এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে জীবন সম্পর্কে আমাদের ভুল দৃষ্টিভঙ্গি অর্থাৎ ভ্রান্ত জীবনদৃষ্টি। ফাইট অর ফ্লাইট রেসপন্স (Fight or flight response) হচ্ছে আমাদের অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেমের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন গুহা বা জঙ্গলে ছিলো তখন হিংস্র বন্যপ্রাণীদের হাত থেকে বাঁচার জন্যে তাদের একটাই পথ ছিলো-হয় প্রাণিটার সাথে লড়তে হবে অথবা এত জোরে দৌড়াতে হবে যাতে সেই প্রাণিটা তাকে ধরতে না পারে। এখন বন্যপাণীর সাথে লড়াই করার প্রয়োজন ফুরিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু এই ফাইট অর ফ্লাইট রেসপন্সটা আমাদের নার্ভাস সিস্টেম থেকে গেছে। ক্রমাগত দুঃশ্চিন্তা ও স্ট্রেস যে করোনারি ধমনীতে ব্লকেজের কারণ, তা বোঝা যায় ডা.আলবা সাবাই পরিচালিত একটি গবেষণায়। তিনি বৈরুতে কিছু মানুষের উপর একটি গবেষণা চালান, একযুগেরও বেশি সময় ধরে যারা বিভিন্ন কারণে স্ট্রেস-আক্রান্ত ছিলেন। তাদের এনজিওগ্রাম করে ডা.সাবাই, প্রত্যেকের করোনারি ধমনীতে ব্লকেজ শনাক্ত করেন। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, নেতিচিন্তা, আবেগের আগ্রাসন আর ভ্রান্ত জীবনদৃষ্টির কারণে চাওয়া এবং পাওয়ার ফারাক অর্থাৎ জীবনের অংক মেলাতে না পারার হাহাকার ও পণ্যদাসত্ব আমাদের মধ্যে সারাক্ষণই এক দুঃসহ স্ট্রেস তৈরি করে চলেছে। সবমিলিয়ে ভেতরে চলছে এক অবিশ্রান্ত ফাইট অর ফ্লাইট রেসপন্স। ফলে প্রায় সারাক্ষণই সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টিম উদ্দীপ্ত থাকছে এবং নিঃসৃত হচ্ছে বিভিন্ন স্ট্রেস-হরমোন: এড্রিনালিন, নর-এড্রিনালিন, কর্টিসল। দিনের পর দিন এ অবস্থা চলতে তাকলে শরীরের স্নায়ু ও পেশিগুলো যে পরিমাণে সংকুচিত হয় সে অনুপাতে শিথিল হতে পারে না। যার ফলাফল নানারকম সাইকোসোমাটিক বা মনোদৈহিক রোগব্যধি। এ অযাচিত সংকোচন হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনীকেও ক্ষতিকরভাবে প্রভাবিত করে (Coronary artery spasm), যা ধমনী-পথে স্বাভাবিক রক্ত চলাচলকে ব্যাহত করে। শুধু তাই নয়, সারাক্ষণই মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেস-হরমোনের প্রভাবে শরীরে সৃষ্টি হয় অস্থিরতা,অনিদ্রা এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা। ফলে বেড়ে যায় করোনারি ধমনীতে ব্লকেজ তৈরির সম্ভাবনা। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রেস-এ থাকাকালে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমান বৃদ্ধি পায়,খাদ্যাভ্যাস যেমনই হোক না কেন। যুক্তরাষ্ট্রে একটি কার রেসিং-এর পূর্বে ৫০০ প্রতিযোগীর রক্ত পরীক্ষা করা হয় এবং প্রতিযোগিতা শেষ হবার পর আরেকবার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। দেখা গেছে, রেসের পূর্বে তাদের প্রত্যেকের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি ছিল। এছাড়াও আমেরিকায় ট্যাক্স-একাউন্টেন্টদের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ট্যাক্স জমা দেয়ার আগে-পরের সময়টাতে তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের এ গবেষণায় মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রফেসর ও প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.হার্বার্ট বেনসন। বোস্টনের ম্যাসাচুসেট্স জেনারেল হাসপাতালে তিনি ‘মাইন্ড বডি ইনস্টিটিউট’প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে টেনশনের মনোদৈহিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর গবেষণা করে। তিনি দেখিয়েছেন, সাধারণভাবে যে রোগগুলোর সাথে আমরা বেশি পরিচিত তার একটা বড় অংশের সাথেই রয়েছে টেনশনের নিবিড় যোগাযোগ। যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস,বিভিন্ন রকম পেটের পীড়া, কোষ্ঠকঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক আলসার, আইবিএস, ঘাড় ও মাথাব্যথা, অবসাদ, অনিদ্রা, হাত-পয়ের তালু ঘামা ইত্যাদি। শারীরিক উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পেলেও এসব রোগের আসল উৎস কিন্তু মন। মনে দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে জমতে থাকা কষ্ট, টেনশন, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ। ‍চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাই এ রোগগুলোকে বলা হয় সাইকোসোমাটিক ডিজিজ বা মনোদৈহিক রোগ। আমরা যদি দেখি, টেনশন সৃষ্টি হলে শরীরে কী হয়? টেনশনের ফলে স্নায়ু এবং পেশি সংকুচিত (Tense) হয়। বিশ্রাম বা ঘুম পেশির এই অযাচিত সংকোচন দূর করতে পারে। কিন্তু স্নায়ুর টেনশন বিশ্রাম বা ঘুমে দূর হয় না। এটি থেকেই যায় এবং ক্রমাগত এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় এই রোগগুলোর সূত্রপাত ঘটে। তাই স্নায়ুর টেনশন দূর করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অভাবনীয় অগ্রগতির যুগেও টেনশনমুক্তির জন্যে কোনো কার্যকরী ওষুধ বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে সক্ষম হননি। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনগুলো সম্পর্কে যারা সচেতন তারা জানেন যে, কার্যকরীভাবে টেনশন দূর করার বিজ্ঞানসম্মত উপায় হচ্ছে শিথিলায়ন (Relaxation)। একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ বিষয়টি আজ প্রমাণিত সত্য। শিথিলায়নকালে একজন মানুষ তার মনের গভীর প্রবেশ করে। মন প্রশান্ত হয়। তখন ব্রেন থাকে সবচেয়ে কার্যকরী অবস্থায় অর্থাৎ আলফা লেভেল। শিথিলায়নে ধ্যানাবস্থা সৃষ্টি হয়। নিয়মিত শিথিলায়নে মনে একটা স্থায়ী প্রশান্তি আসে, ফলে বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলো তখন মনকে খুব সামান্যই প্রভাবিত করে। আর দুঃশ্চিন্তা ও শিথিলায়ন একসাথে সম্ভব নয়। কারণ, শরীর শিথিল হলে দেহ-মনে কখনো টেনশন বা দুঃশ্চিন্তা থাকে না। প্রফেসর ডা.হার্বার্ট বেনসন দীর্ঘ গবেষণার পর প্রমাণ করেছেন যে, গভীর শিথিলায়নে হার্টবিট কমে, দেহে ব্যথা বা আঘাতের অনুভূতি হ্রাস পায়, উচ্চ রক্তচাপ কমে, দমের গতি ধীর হয়ে আসে, রক্তে ল্যাকটেট ও এড্রিনালিন-এর পরিমাণ হ্রাস পায়, প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের তৎপরতা বাড়ে, দেহকোষে অক্সিজেন গ্রহণের চাহিদা কমে। সেইসাথে বাড়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শরীর আপনা থেকেই রোগমুক্তির প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে তোলে। সূত্র: কোয়ান্টাম হার্টক্লাব এর হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ গ্রন্থ থেকে সংকলিত (সংক্ষেপিত)।   ডব্লিউএন

হৃদরোগের কারণ

আমাদের দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে হৃৎপিণ্ড । বুকের মাঝখানে দুই ফুসফুসের মাঝে এটি অবস্থিত। এর রয়েছে চারটি প্রকোষ্ঠ। ওপরের দুটিকে বলা হয় অ্যাট্রিয়াম বা অলিন্দ এবং নিচের দুটিকে বলা হয় ভেন্ট্রিকল বা নিলয়। আর হৃৎপিণ্ড তার চারপাশে পেরিকার্ডিয়াম নামক একটি আবরণী দ্বারা পরিবেষ্টিত। হৃৎপিণ্ডকে আমরা বলতে পারি, এটি একটি পাম্প যা একজন মানুষের জীবদ্দশায় প্রায় সাড়ে চার কোটি গ্যালনের চেয়ে বেশি রক্ত পাম্প করে থাকে। প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষবার হৃৎস্পন্দনের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড দেহের প্রতিটি কোষে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে । আর এটি সম্ভব হচ্ছে ধমনী শিরা উপশিরা ও ছোট ছোট রক্তনালী মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মাইল পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে । কেউ কেউ মনে করেন,হৃদয় আর হৃৎপিণ্ড একই জিনিস;কিন্তু আসলে তা নয় । হৃৎপিণ্ড সম্পর্কে বলা যায়,এটি একটি মাংসপিণ্ড আর হৃদয় হচ্ছে একটি চেতনাগিত অস্তিত্ব-যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না; তবে এটি আমাদের অনুভূতিতে সাড়া দেয় ও প্রভাবিত হয় । আমরা জেনেছি,পাম্প করে সারা শরীরে রক্ত পাঠানোই হৃৎপিণ্ডের অন্যতম প্রধান কাজ । কিন্তু মজার ব্যাপার হলো,হৃৎপিণ্ডের নিজের কোষ ও পেশিগুলোর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং কর্মক্ষম থাকার জন্যেও দরকার পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি । এ পুষ্টি পৌঁছে দেয়ার কাজটি সাধিত হয় রক্তের মাধ্যমে । হৃৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে করোনারি ধমনী । হৃৎপিণ্ডের প্রধান দুটি করোনারি ধমনী হলো,যথাক্রামে বাম ও ডান করোনারি ধমনী বা লেফট করোনারি আর্টারি ও রাইট করোনারি আর্টারি ।লেফট করোনারি আর্টারি আবার একটিু নিচের দিকে এসে দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে-লেফট অ্যান্টেরিয়র ডিসেন্ডিং আর্টারি (েএলএডি)ও লেফট সারকামফ্লেক্স আর্টারি (এলসিএক্স)। করোনারি হৃদরোগ হৃৎপিণ্ডের অনেক ধরনের রোগ হয়ে থাকে । এর মধ্যে বর্তমানে সারা পৃথিবীতে যে রোগটি সবচেয়ে ভাবনার কারণ হযে দাঁয়িয়েছে সেটি হলো,করোনারি আর্টারি ডিজিজ (Coronary artery disease)। ভুল জীবনযাপনের ফলে করোনারি ধমনীর ভেতরের দেয়ালে কোলেস্টেরল প্লাক বা হলুদ চর্বির স্তর জমে । এতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় । যার করণে হৃৎপিণ্ডের কোষগুলোতে রক্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না । ফলে রোগী একসময় বুকে ব্যাথা অনুভব করে । রক্ত চলাচল কমে গিয়ে এ সমস্যাটি দেখ দেয় বলে একে ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজও বলা হয়ে থাকে । করোনারি হৃদরোগজনিত এ ব্যথটি চিকিৎসাশাস্ত্রে এনজাইনা (Angina)নামে পরিচিত। অধিকাংশ রোগীই এ সময় বুকের মধ্যে ভার ভার বা এক ধরনের চাপ অনুভব করেন ।মূলত বুকের বাম দিকে বা বুকের মাধ্যখানে এই ব্যাথা অনুভূত হয় । কখনো কখনো শ্বাসকষ্টও অনুভব হতে পারে । বুকের এই ব্যথা সাধারণত ঘাড়,থুতনি,ওপরের পিঠ,বাহু ,বিশেষ করে বাম হাত বা কব্জিতেও ছড়িয়ে যেতে পারে । কখনো কখনো ওপরের পেটেও এ ব্যথা হতে পারে,যা সবচেয়ে বিপজ্জনক । মনে হবে এসিডিটি ।রেনিটিডিন বা ওমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধও হয়তো একটি খেয়ে নিলেন ।  তবু কমছে না , বরং কিছুটা যেন বাড়ছে । একমসয় দেখা গেল,আপনার হার্ট অ্যাটাক এবং ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে । কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের অন্যম চিত্র এটি । অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে আপনি মনে করছেন এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা । আবার এমনও নয় যে,অরোনারি হৃদরোগ হলে সবসময় আপনার ব্যথা হবে। অনেক রোগী আছেন,যাদের করোনরি ধমনীতে হয়তো ৭০/৮০/৯০শতাংশ ব্লকেজ,কিন্তু কখনোই ব্যথা অনুভব করেন নি । তিনি হয়তো প্রথমবারের মতো ব্যথা অনুভব করেন,যেদিন তার হার্ট অ্যাটাক হয় । করোনারি হৃদরোগ মূলত এনজাইনা পেকেটোরিস(Angina Pectoris)ও মায়োকর্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction)এ দু’ধরণের । করোনারি ধমনীতে চর্বি জমে ব্লকেজ সৃষ্টি হতে শুরু করলে এর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল কমে আসে । যার ফলে হৎপিণ্ডের সে নির্দিষ্ট অংশে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ হতে পারে না এবং হৃৎপিণ্ডের কোষগুলো বঞ্চিত হয় প্রয়োজনীয় আক্সিজেন ও পুষ্টি থেকে । তখন বুকে ব্যথা হতে শুরু করে । এটাই এনজাইনা পেকটোরিস । আর এই ব্লকেজের পরিমাণ যদি বাড়তে বাড়তে শতভাগ হয়ে যায় এবং ধমনী-পথে রক্ত চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আসে ,তখনই হার্ট অ্যাটাক । চিকিৎসা পরিভাষায় যা মায়োকর্ডিয়াল ইনফার্কশন নামে পরিচিত । রোগী এ সময় বুকে তীব্র ও অসহনীয় ব্যথা অনুভব করেন । এ ব্যথা কখনো কখনো বুক,গলা,ঘাড়,ওপরের পেট,দুই হাত এবং পিঠেও চলে যেতে পারে । সাথে শ্বাসকষ্ট,বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে । রোগী ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং জরুরি চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে । চিকিৎসাবিজ্ঞানী,মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা করোনারি হৃদরোগের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি কারণকে বিশেষভাবে চিহিৃত করেছেন । বয়স বিজ্ঞানীরা বলছেন,বয়স যত বাড়তে থাকে হৃদরোগের আশঙ্কাও তত বাড়তে থাকে । আমরা যদি দেখি,হৃদরোগ সাধারণত কোন বয়সে হয় ? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি হয় চল্লিশ বছর বয়সে এসে বা তার পরে। লিঙ্গভেদে হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা পুরুষদের তুলনামূরক বেশি । তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজ অর্থাৎ ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়তে থাকে । এছাড়াও মহিলাদের মধ্যে যারা নিয়মিত জন্মবিরতিকরণ ওষুধ সেবন করেন,তাদের করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জেনেটিক বা বংশগত বাবা-মায়ের হৃদরোগ থাকলে তাদের সন্তানদেরও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে । গবেষকদের মতে,এর মূল কারণ হচ্ছে পারিবারিক ভুল খাদ্যাভ্যাস ও ধূমপানের ইতিহাস । এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,কারণ একজন মানুষ শৈশব থেকে প্রায় সব ব্যাপারই পারিবারিক রীতি ও আচার-ঐতিহ্যে অভ্যস্ত হয়ে উঠে । খাদ্যাভ্যাসও চালু থাকে জীবনের শুরু থেকেই মানুষ সাধারণত সেই খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে । তাই মূলত পারিবারিক ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং ধূমপানই বংশগত হৃদরোগের অন্যতম কারণ । ধূমপান যুক্তরাষ্ট্রের নিনেসোটা ইউনিভর্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেল্থ ও সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভর্সিটির এক যৌথ গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে,অল্প বয়সেই হার্টের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং হার্টে অ্যাটাকের জন্যে যেসব কারণকে দায়ী করা হয় তার মধ্যে ধূমপান আবস্থান শীর্ষে । উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ । ধমনীর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় এটি ধমনীর গায়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় চাপ দেয় । আর এই চাপটা যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেড়ে যায়,সেটিই উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন । অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে করোনারি ধমনীর ভেতরের অংশে ক্ষতের সৃষ্টি হয় । রক্তের মধ্যে থাকা অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সেই ক্ষতের জায়গাটিতে আটকে যায় । এভাবে রক্ত চলাচলের পথে পরবর্তীতে আরো কোলেস্টরল একটু একটু করে সেই একই জায়গায় জমতে থাকে । যার ফলাফল করোনারি ব্লকেজ । রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হদরোগের আরেকটি ঝুঁকি হচ্ছে রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য,যার অন্যতম কারণ ভুল খাদ্যাভ্যাস,ধূমপান ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব । ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস একটি নীরক ঘাতক । শরীরের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপরই এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে । হৃৎপিণ্ডও এর ব্যতিক্রম নয় । তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেশি । ডায়াবেটিস একাই হৃদরোগের ঝুঁকিস বাড়ায় প্রায় ৩৩ শতাংশ । আর এর সাথে উচ্চ রক্তচাপ যোগ হলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ শতাংশে । অতিরিক্ত ওজন এবং মেদস্থুলতা অতিরিক্ত ওজন যাদের,তাদরে শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে হৃৎপিণ্ডকে তুলনামূলক বেশি কাজ করতে হয়।এটিও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় । মূলত খাবার থেকে পাওয়া ক্যালরির পরিমাণ ও এই ক্যালরি ব্যবহারে অসামঞ্জস্যতাই অতিরিক্ত ওজনের কারণ । এটিও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় । মাত্রাতিরিক্ত ওজনের ফলে উচ্চ রক্তচাপ,কোলেস্টরলের আধিক্য ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায় অনেকগুণ । শারীরিক পরিশ্রমের অভাব আধুনিক ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাপূর্ণ জীবনে সবাই আমরা কমবেশি গা ভাসিয়ে দিয়েছি । অথচ শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় ও পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত যারা,তাদের অকালমৃত্যু ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার হার কায়িক পরিশ্রমে অভ্যস্তদের চেয়ে তুলনামূলক বেশি । তাই হয়তো বলা হয়ে থাকে‘যত আরাম তত ব্যারাম’। অবশ্য করোনারি হৃদরোগের কারণ আলোচনায় এটাই শেষ কথা নয়;চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও তা-ই বলছে । কারণ,কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায়,অতিরিক্ত ওজন,উচ্চ রক্তচাপ,ডায়াবেটিস কিংবা মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল –এসব কোন সমস্যাই নেই ,অথচ তিনি করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন । আবার দেখা গেল,৮০ বছর বয়সেও বাবার হৃদযন্ত্র দিব্যি সুস্থ,কিন্তু ছেলের ৪০ না পেরোতেই হার্ট অ্যাটাক । এছাড়াও জীবন সম্পর্কে আমাদের ভুল দৃষ্টিভঙ্গি অর্থাৎ ভ্রান্ত জীবনদৃষ্টি এবং এ থেকে সৃষ্টি স্ট্রেস বা মানসিকি চাপ,যাকে আমরা সহজ ভাষায় বলতে পারি টেনশন । পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে এ বিষয়টি আমাদের কাছে ধীরে ধীরে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সূত্র: কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাবের হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ গ্রন্থ থেকে সংকলিত (সংক্ষেপিত)। //এআর  

আপনার শিশু কি অবসাদগ্রস্ত?

আপনার শিশুকে প্রায়শই বিষন্ন ও অন্তর্মুখী মনে হচ্ছে? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে সে হয়তো নির্দিষ্ট কিছু শৈশবকালীন অবসাদের লক্ষণ প্রকাশ করছে, যা একেবারেই উপেক্ষা করা উচিৎ নয়। অনেক সময়, অভিভাবকরা পার্থক্য করে উঠতে পারেন না শিশুদের সাধারণ দুঃখ বা বদমেজাজ এবং শৈশবকালীন অবসাদের মধ্যে। কারণ এগুলোর কিছু লক্ষণ অনেকটা একইরকমই হতে পারে। এ কারণে, কিছু শিশুর মধ্যে শৈশবকালীন অবসাদ বিনা চিকিৎসায় রয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে বিভিন্নরকম মানসিক স্বাস্থ্যের জটিলতা সৃষ্টি করে। তাই, শৈশবকালীন অবসাদের সূক্ষ্ম লক্ষণগুলোর উপরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন, যাতে আপনি আপনার শিশুকে ওর প্রয়োজনীয় সাহায্যটুকু দিতে পারেন! যখন একটি শিশু মানসিক অবসাদের মধ্যে দিয়ে যায়, তখন সে বুঝে উঠতে পারে না তার সাথে কি হচ্ছে, এর কারণ মানসিক আঘাত। যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের একটা ধারনা থাকে এই অবসাদ সম্বন্ধে এবং শৈশবকালীন অবসাদ এখানেই আলাদা। এখানে কিছু শৈশবকালীন অবসাদের লক্ষণ দেওয়া হল, যা অভিভাবকদের অবশ্যই জেনে রাখা প্রয়োজন। খারাপ ফলাফল আপনার শিশু হঠাৎ করেই স্কুলে খারাপ ফল করছে, এটি শৈশবকালীন অবসাদের একটি লক্ষণ হতে পারে। কারণ, অবসাদ শিশুকে অন্যমনস্ক করে দেয়, একগ্রতা ও স্মৃতিশক্তির দক্ষতা বিঘ্নিত করে। একটানা অবসাদ যদি হঠাৎ করেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও আপনার সদা প্রাণচঞ্চল শিশুটির মধ্যে অত্যন্ত ক্লান্তি দেখা দেয়, তাহলে এটি শৈশবকালীন অবসাদের লক্ষণ হতে পারে। মূল্যহীনতা বোধ যদি আপনার শিশু প্রায়শই বলতে থাকে, "আমাকে কেউ ভালবাসে না" বা এমনি কিছু কথা। তবে এটি একটি লক্ষণ হতে পারে মূল্যহীনতা বোধের, যা কিনা শৈশবকালীন অবসাদের লক্ষণ। নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া যদি হঠাৎ-ই আপানার শিশু, বন্ধু-বান্ধবের সাথে বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করা বন্ধ করে দেয় বা যদি লোকেদের সাথে মেলামেশা করতে না চায় তবে এটিও একটি শৈশবকালীন অবসাদের লক্ষণ। আগ্রহের ঘাটতি পরিবার নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাবেন এমন সময় যদি আপনার শিশু তা মানা করে দেয় এবং সারাদিন নিজের ঘরেই কাটাতে চায়, তবে তা শৈশবকালীন অবসাদের লক্ষণ। আক্রমণাত্বক হওয়া যদি আপনার শিশু তার স্বভাবের বাইরে গিয়ে আক্রমণাত্বক ব্যবহার ও অতরিক্ত রাগের বহিপ্রকাশ করে তবে তা শৈশবকালীন অবসাদের লক্ষণ হতে পারে। উদাসীনতা বিষাদগ্রস্ত শিশুরা সাধারণত, আনন্দদায়ক ঘটনাগুলি থেকে বা তার মা-বাবার স্নেহ-ভালবাসার অভিব্যক্তির থেকেও উদাসীন থাকে। ক্ষুধামন্দা এটি হঠাৎ করেও হতে পারে। এটিও শৈশবকালীন অবসাদের লক্ষণ হতে পারে। এবং এটি বলা খুবই মুশকিল কারণ বেশিরভাগ শিশুই ঠিকঠাক ভাবে খাওয়ার ব্যাপারে খুবই খামখেয়ালী হয়ে থাকে। সূত্র : বোল্ডস্কাই ডব্লিউএন  

আপনি কী অবসাদগ্রস্ত?

রাতে ঘুম আসে না? যখনতখন অসময়ে ঘুম ভেঙে যায়? মেজাজ থাকে খুব চড়া? আজেবাজে না খেয়েও দিনে দিনে ফুলছেন? বর্তমান যান্ত্রিক জীবন আর পেশাগত কারণে অবসাদ আপনাকে দখল করছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু আপনি অবসাদগ্রস্ত নন তো? নিচে উল্লিখিত ন’টি লক্ষণ যদি আপনার সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে নিশ্চিত থাকুন আপনিও ভুগছেন অবসাদে। ঘুমের ব্যাঘাত রাতে ঠিকঠাক ঘুম হচ্ছে না? বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতেই ভোর? বা, মাঝরাতে কোনো কারণ ছাড়াই কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে যায়? পরে আর ঘুমই আসছে না? ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের অন্যতম প্রধান লক্ষণই হল অনিদ্রা বা ঘুমে ব্যাঘাত। কারণ ডিপ্রেশনে আক্রান্তদের মাথায় একসঙ্গে অনেক চিন্তা ঘুরপাক খায়। ঘুমের মধ্যেও তা থেকে নিজেকে তারা বিচ্ছিন্ন করতে পারেন না। ক্লান্তি শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিও কিন্তু ডিপ্রেশনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা বা ঘুমে ব্যাঘাত এই ক্লান্তি ডেকে আনে। কাজে মনোনিবেশ করতে সমস্যা হয়। কিছুই ভালো লাগে না। কারও অরুচি, কেউ খায় বেশি ডিপ্রেশনের প্রভাব পড়ে খিদেতেও। কারও খাওয়া কমে যায়। কেউ আবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। অতিরিক্ত খেলে পরিণতি শরীরে মেদবাহুল্য। যা থেকে একাধিক অসুখের সম্ভাবনা তৈরি হয়। উলটো দিকে, কম খাওয়ার কারণে দ্রুত ওজন কমতে থাকে। তা-ও শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া কেউ দীর্ঘ সময় ধরে ডিপ্রেশনে ভুগলে, তার মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে যায়। মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি থেকেই সেক্সে আগ্রহ হারিয়ে যায়। আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে যায়। ব্যথা-যন্ত্রণা ডিপ্রেশনে ভুগলে শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা-যন্ত্রণার উদ্রেক হয়। কখনও মাথাব্যথা, কখনও আবার গাঁটে ব্যথা। কখনও অন্য কোথাও। ওষুধে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, ব্যথা ফিরে ফিরে আসে। সাইকোমোটর রিটার্ডেশন কেউ একটানা ডিপ্রেশনে ভুগলে, তার মধ্যে ক্ষিপ্রতা কমে আসে। আক্ষরিক অর্থেই তার কাজে শ্লথগতি চলে আসে। চলাফেরায় তো বটেই এমনকী কথা বলার সময়েও তাদের মধ্যে আলিস্যি ফুটে ওঠে। এই অবস্থাকে বলা হয় সাইকোমোটর রিটার্ডেশন। অস্থিরতা ডিপ্রেনশন মানুষকে অস্থির করে তোলে। ফলে, এই লক্ষণ দেখেও বোঝা যায় কেউ অবসাদগ্রস্ত কি না। সহজেই এরা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। মনোযোগের অভাব এটাও আসে ডিপ্রেশন থেকে। রাতে ঘুম ঠিক না-হওয়ায়, কাজে ভুলভ্রান্তি বাড়ে। মনোনিবেশ করা যায় না। ঘন ঘন হাই ওঠে। হজমে সমস্যা হজম সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে, ডিপ্রেশনে ভুগছেন কি না, তা-ও দেখতে হবে। শুধু বদহজমই না, গা গোলানো, বমি, ঘন ঘন পেট খারাপ এমন অনেক সমস্যা দেখা যায়। ওষুধে কিছুদিন ঠিক থাকে। তারপরে আবার! উপরের লক্ষণগুলোর সঙ্গে আপনার জীবনাচার মিলে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সূত্র: দ্য হেলথসাইট।   ডব্লিউএন

শিশুদের স্থুলতা বেড়েছে দশগুণ, সর্তকতা বাংলাদেশের জন্যও

শিশু-কিশোরদের শারীরিক স্থুলতা বা ওবেসিটির হার গত চার দশকে দশগুণ বেড়েছে। বিশ্বে ১২ কোটি ৪০ লাখ ছেলে-মেয়ে এখন অতিরিক্ত মোটা। যুক্তরাজ্যের মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট দুইশ’রও বেশি দেশের ওবেসিটির প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ডে বা বিশ্ব শারীরিক স্থুলতা দিবসে এ গবেষণা ফলাফলটি প্রকাশ করে ল্যানসেট। এতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি দশ জনের একজনই ওবিস বা অস্বাভাবিক স্থূল। বাংলাদেশেও বাড়ছে স্থুল শিশুদের সংখ্যা। এতোদিন অপুষ্টির কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনের শিশুর সংখ্যা বিশ্বের যেসব দেশে বেশি, সেই তালিকায় ছিল বাংলাদেশ। তবে এবার গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশকে হয়ত এখন অপুষ্টি ও স্থূলতার ‘দ্বৈত বোঝা’ একসঙ্গে বহন করতে হবে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোয় স্থূলতা বাড়ছে, বিশেষত সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ায় তা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে বলে দেখতে পেয়েছেন গবেষকরা।

‘উন্নত চিকিৎসায় স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার কমবে’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, স্তন ক্যান্সারের সচেতনতা বৃদ্ধি ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে নারীদের স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ব্রিফিং সেন্টারে বিশ্ব স্তন ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে ‘দ্যা ব্লু স্কাই চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত স্তন ক্যান্সারের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের কুসংস্কার আর ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিদেশ গমনেচ্ছু নারী কর্মীদের প্রাক-বহির্গমন ব্রিফিং প্রদানের সময় এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের কোর্স প্রদানকালে স্তন ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনার তাগিদ দেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক এবং বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অনুরোধ জানান। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. নমিতা হালদার, এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দ্য ব্লু স্কাই চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের হেড অব অ্যাডভাইজার কমিটি আয়েশা সিদ্দিকা শেলী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহ্সানিয়া ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ড. প্রফেসর কামরুজ্জামান চৌধুরী। আরকে/টিকে

স্তন ক্যান্সারের ‘ঝুঁকি বেশি’ নি:সন্তানদের

চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের ও নি:সন্তানদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ‘ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮১’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান। এসময় তিনি আরও বলেন, “বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। আমাদের দেশে চল্লিশের পরই এটি হতে দেখা যায়। নিঃসন্তান নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।” সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানোর অভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অনভ্যাস এবং শাক সবজি ও ফলমূল কম খাওয়া, চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার বেশি খেলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানান তিনি। কারও পরিবারের মা, খালা, বড় বোন আক্রান্ত হলেও তার স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলেও সতর্ক করেন এই চিকিৎসক। স্তন ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধে বয়স চল্লিশ পেরোনোর সময়টাতে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন হাবিবুল্লাহ তালুকদার। অনুষ্ঠানে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ‘ডিস্ট্রক্ট ৩২৮১’ এর গভর্নর এফ এইচ আরিফ বলেন, নারী ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ২৪ শতাংশই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এসব রোগীদের অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তাদের স্তন ক্যান্সার হয়েছে। আরিফ আরও বলেন, “আমাদের মা-বোনেরা লজ্জা থেকেও অনেক সময় এ বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকে। আর সে কারণেই দেখা যায়, দেরিতে ধরা পড়ায় এর নিরাময় কঠিন হয়ে পড়ে।” তাই যেসব নারী রোগটি নিজেরা শনাক্ত করতে পারেন না, ২০ বছরের পর থেকে তাদের প্রতি মাসে একবার করে স্তন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি। নারীদের বেশি হলেও স্তন ক্যান্সার পুরুষদেরও হতে পারে বলে সতর্কবার্তা আসে আরিফের কাছ থেকে। অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর ক্যান্সার অ্যান্ড প্রিভেনশন রিসার্চের (সিসিপিআর) নির্বাহী পরিচালক মোসাররত জাহান সৌরভ, ইয়াং ‍উইমেন ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইডব্লিউসিএ) এর সম্পাদক মনিষা সরকার, ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম ফর উইমেন (ক্যাপ) এর সভাপতি মুছা করিম রিপন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে উত্তরা পর্যন্ত ‘গোলাপী সড়ক’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে ১৫টি স্থানে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষকে স্তন ক্যান্সার সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করা হয়।   কেআই/টিকে

মুক্তামনির হাতে চামড়া লাগাতে অস্ত্রোপচার শুরু

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির হাতে আজ আবার অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দ্বিতীয় তলায় তার পা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে হাতে লাগাতে আজ সকাল পৌনে ১০টায় অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। জানা যায়, ৮ অক্টোবর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুক্তামনির হাতে নতুন চামড়া লাগানোর জন্য উপযুক্ত করা হয়েছিল। আজ তার পা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে হাতে লাগানো হবে। চিকিৎসকদের নির্দেশে মুক্তামনির অস্ত্রোপচারের জন্য চার ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছেন তার বাবা। পাশাপাশি মেয়ের সফল অস্ত্রোপচারের জন্য সবার কাছে দোয়াও চেয়েছেন তিনি। গত ১২ আগস্ট মুক্তামনির প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। এর পর ২৯ আগস্ট আবার তার অস্ত্রোপচার হয়। তবে সেদিন শরীরের তাপ বেড়ে যাওয়ায় ২০ ভাগ অস্ত্রোপচারের পর তা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ৫ সেপ্টেম্বর বাকি অস্ত্রোপচার হয়। জানা যায়, মুক্তামনির বয়স যখন দেড় বছর তখন ডান হাতে একটি টিউমারের মতো হয়। পরে তা ফুলে যেতে থাকে। পুরো ডান হাতটি ফুলে বালিশের মতো হয়ে যায়ে এবং ওই হাত থেকে দুর্গন্ধও বের হতে থাকে। রোগটি তার বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগটির নাম ‘হাইপারকেরাটোসিস’। মুক্তামনির কাগজপত্র সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। মুক্তামনির অসুখ আরোগ্যযোগ্য নয় বলে জানিয়েছিল সিঙ্গাপুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা রোগ সারাতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।   এমআর/এআর

কাল থেকে রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকা : নাসিম

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে কলেরার টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোববার উখিয়া উপজেলায় কলেরার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। প্রথম দফায় ১০ অক্টোবর থেকে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে কলেরার টিকা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় দফায় এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। এর দুই সপ্তাহ পর থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে তাদেরকে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ মালেক বলেন, প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্র সকাল ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। উখিয়া উপজেলায় প্রতিদিন দেড়শটি দল কাজ করবে। তারা দৈনিক ৭৫ হাজার জনকে টিকা খাওয়াবে। আর টেকনাফে ৬০টি দল ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দেবে। তিনি বলেন, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২৯ শতাংশ পাঁচ বছর বয়সী। ছয় থেকে ১৭ বছর বয়সী রোহিঙ্গার সংখ্যাও রয়েছে ২৯ শতাংশ। ৩৮ শতাংশ রোহিঙ্গা ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী আর ৬০ বা তার বেশি বয়সের রয়েছে ৪ শতাংশ। এদের মধ্যে তিন শতাংশ (প্রায় ২০ হাজার) নারী গর্ভবর্তী আর শতকরা ৭ শতাংশ নারী তাদের শিশুকে বুকের দুধ পান করান। জাহিদ মালেক বলেন, উখিয়াসহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়া এলাকাগুলোর ১৬টি স্থায়ী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং ১২টি অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ২৮টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র সেবা দিচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, দুটি মেডিকেল কলেজ, দুটি সদর হাসপাতাল, তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, একটি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ১২টি অস্থায়ীভাবে নির্মিত স্বাস্থ্য ক্যাম্প। এছাড়া সেনাবাহিনীর ১০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রও সহযোগিতা করছে। সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।   আর/এআর

গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার  উপকারিতা

ডিম পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। এ জন্য ডিমকে  সুপারফুড হিসেবে অখ্যায়িত করা হয়।ডিমে প্রয়োনীয় পুষ্টি উপাদান প্রোটিন,ফ্যাট,মিনারেল রয়েছে ।  যার ফলে এটা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। এটা যেকোনো গর্ভবতী মহিলার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত। গর্ভাবস্থায় অতি প্রয়োজনীয় সেলেনিয়াম, জিঙ্ক,ভিটামিন এ,ডি ও কিছু বি কমপ্লেকস যা ডিমের মধ্যে রয়েছে। তাই এই অবস্থায় ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী ।তবে  ডিম খাওয়ার আগে তা ভালোভাবে বেছে নিতে হবে ।ডিমগুলো  ঠিক আছে কি না এবং  স্বাস্থ্যের জন্য  নিরাপদ কি না তা আগে থেকেই পরীক্ষা করে নিতে হবে । বাইরের সেলফে না রেখে সবসময় ফ্রীজে রাখুন । খারাপ গন্ধ যুক্ত ডিম খাবেন না ।সেদ্ধ বা রান্না করা ডিম দুঘন্টার মধ্যে খেয়ে নেবেন।কাঁচা বা অর্ধেক সেদ্ধ করা ডিম খাবেন না। এতে সালমোনেল্লা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।যেটা সন্তানের মধ্যেও যেতে পারে। এইসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও,গর্ভাবস্থায় দিনে দুটোর বেশি ডিম না খাওয়াই ভাল।এছাড়াও ডিমের কুসুম খাওয়া এড়ান, কারণ এতে ভরপুর কোলেস্টারল যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, কোলেস্টারল সমৃদ্ধ হলেও ডিমে স্যাটিউরেটেড ফ্যাট কম যার ফলে এটা খুবই স্বাস্থ্যকর। ডিম খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত ।  গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার কিছু উপকারিতা নিম্নে তুলে ধরা হলো । প্রোটিন ডিম প্রোটিন সমৃদ্ধ, যেটা গর্ভাবস্থায় খুব দরকার।বেড়ে ওঠা বাচ্চার প্রতিটা কোষ প্রোটিন দিয়ে তৈরী। তাই এই সময় সীমিত মাত্রায় ডিম খাওয়া বাচ্চার জন্য খুব ভাল। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ডিমে আছে কোলিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড। এগুলো শিশুর সার্বিক গঠন ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্যও খুব জরুরী। কোলেস্টরাল  যেসব মহিলার ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক তারা দিনে একটা বা দুটো ডিম থেতে পারেন।যদি কোলেসটারল মাত্রা এমনিতেই বেশি থাকে,তাহলে ডিমের কুসুমটা এড়িয়ে চলাই ভাল। ক্যালরি গর্ভবতী মহিলারা নিজেদের শরীর ও বাড়ন্ত বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য প্রতি দিন বাড়তি ২০০-৩০০ ক্যালোরি  খাওয়া উচিত ।ডিমে আনুমানিক ৭০ ক্যালোরি থাকে যেটা স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন । কিভাবে  খাবেন আপনি যখন সন্তানসম্ভবা,কখনই কাঁচা বা অর্ধেক সেদ্ধ করা ডিম খাবেন না। এতে সালমোনেল্লা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। এই সংক্রমণের ফলে সময়ের আগে প্রসব,ইউটেরাসের সঙ্কোচন, ডায়েরিয়া ও বমি হতে পারে।পুরো সেদ্ধ বা রান্না করা ডিম খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। যত্ন আপনি যদি ডায়েরিয়া,বমি বা ফুড পয়জনিং-এ ভোগেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান।কিছু কিছু গর্ভবতী মহিলার হজম শক্তি দুর্বল থাকে। যার ফলে ডিম হজম করা কষ্টকর হয় । সূত্র:বোল্ড স্কাই এম/এআর

হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস

সাধকদের হাজার বছরের সাধনালব্ধ জ্ঞান এবং আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞানের সমন্বিত প্রয়াসই হচ্ছে কোয়ান্টাম খাদ্যাভ্যাস। অনেক Anthropologist বা নৃ-বিজ্ঞানী মনে করেন যে, আমাদের পূর্ব-পুরুষরা ছিলেন মূলত: Vegetarian বা নিরামিষভোজী। এর পক্ষে তারা প্রমান হাজির করেছেন যে, মানুষের দাঁতের গঠন মূলত: শাক-সবজী, তরি-তরকারি-শস্যদানা খাওয়ার উপযোগী। এছাড়া মানুষের দীর্ঘ পরিপাকতন্ত্র আঁশ সম্বলিত উদ্ভিদজাত খাবারের ধীরে ধীরে হজম প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। খাদ্যাভ্যাস  পরিবর্তন ১৯০০ সালের দিকেও আমেরিকানরা মূলত নিরামিষভোজী ছিলেন, তাদের খাদ্য তালিকার দুই-তৃতীয়াংশ প্রোটিন বা আমিষ আসতো উদ্ভিদজাত খাবার থেকে। আর বর্তমানে আমেরিকানদের খাদ্য তালিকার দুই-তৃতীয়াংশ প্রোটিন আসে মাছ, মাংস, ডিম বা দুধ থেকে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং রেফ্রিজারেটরের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে প্রাণিজ প্রোটিনের ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্যাভ্যাসে এই পরিবর্তনের ফলে আমেরিকানদের মধ্যে মেদ-স্থূলতা, করোনারি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যান্সারসহ অন্যান্য অসুখ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণের ফলে আমাদের খ্যাদ্যাভাসেও পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড, মাংস ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার গ্রহণের ফলে আমাদের দেশেও  করোনারি হৃদরোগ,  উচ্চ রক্তচাপ ও  ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। ফ্যাটের ধরন/প্রকারভেদ করোনারি ধমনীতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমে জমে ব্লকেজ তৈরির পেছনে চর্বি জাতীয় ও তৈলাক্ত খাবারের ভূমিকা এখন বিভিন্নভাবে প্রমানিত। প্রত্যেক চর্বিজাতীয় খাবারে ৩ ধরনের চর্বি বা ফ্যাট থাকে - স্যাচুরেটেড ফ্যাট, পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। স্যাচুরেটেড ফ্যাট অত্যন্ত ক্ষতিকর কারণ এই ফ্যাট রক্তের কোলেস্টেরল লেভেল বাড়ায়। পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট উপকারি কেননা এগুলো রক্তের কোলেস্টেরল লেভেল বাড়ায় না বরং কখনো কখনো কমায়। কোলেস্টেরল প্রধানত ২ ধরনের - এইচডিএল কোলেস্টেরল ও  এলডিএল কোলেস্টেরল। এইচডিএল কোলেস্টেরলকে বলা হয় ভালো কোলেস্টেরল আর এলডিএল কোলেস্টেরলকে বলা হয় খারাপ কোলেস্টেরল । এই এলডিএল কোলেস্টেরলই করোনারি ধমনীতে জমে জমে ব্লকেজ তৈরি করে। কোন কোন খাবার বর্জন করবেন যে সকল খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে সেগুলো বর্জন করতে হবে যেমন, গরুর মাংস, খাসির মাংস, হাঁসের মাংস, ডিমের কুসুম, কলিজা, মগজ (ব্রেন), হাঁস ও মুরগির চামড়া, হাড়ের মজ্জা, মাখন, ঘি, ডালডা, মার্জারিন, চিংড়ি, নারিকেল, দুধের সর, বড় মাছের মাথা। হৃদরোগীরা এই সকল খাবার অবশ্যই বর্জন করবেন। আর যারা হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে চান তারা যত কম খাবেন তত ভালো। কোন কোন খাবার খাবেন সব ধরণের ডাল, সব ধরণের শাক ও সবজি, ফল, সালাদ বেশি বেশি খাবেন। এছাড়া প্রতিদিন এক কাপ টকদই, ৫০ গ্রাম যেকোনো ধরণের বাদাম, ১ গ্লাস সয়াদুধ, রসুনের ১টি কোষ, স্পিরুলিনা ও লেবু খাবেন। ভাত বা রুটি খাবেন পরিমিত। কতটুকু খাবেন সবসময় পরিমিত খাবার খাবেন। এ ব্যাপারে নবীজীর (স.) একটি হাদিস আমরা অনুসরণ করতে পারি। তিনি বলেছেন, তুমি তোমার পাকস্থলির এক-তৃতীয়াংশ খাবার ও এক-তৃতীয়াংশ পানীয় দ্বারা পূণর্ করো। আর বাকী এক-তৃতীয়াংশ ফাঁকা রাখো। দীর্ঘ নিরীক্ষায় দেখা গেছে যে, এভাবে খাবার গ্রহণ করলে শরীরের ওজন সব সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে। কখন খাবেন সকাল বেলা তুলনামূলক বেশি নাশতা করুন, দুপুরে তৃপ্তির সাথে খান এবং রাতে খুব হালকা খাবার গ্রহণ করুন। কীভাবে খাবেন ♦        সপ্তাহে ২ দিন : ভাত/ রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাদ, ফল, ছোট মাছ। ♦        সপ্তাহে ২ দিন : ভাত/ রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাদ,  ফল, বড় মাছ বা সামুদ্রিক মাছ। ♦        সপ্তাহে ১ দিন : ভাত/ রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাদ,ফল, সালাদ, মুরগীর মাংস। ♦        সপ্তাহে ২ দিন : ভাত/ রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাদ, ফল, ভর্তা।       প্রতিদিন ২/৩ ধরনের মৌসুমি ফল খাওয়া উচিত। লেখক : কোঅর্ডিনেটর, কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব। ডব্লিউএন  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি