ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ ১৭:৩১:৪৬

গরমে ভাইরাস জ্বর : লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

গরমে ভাইরাস জ্বর : লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

খানিক বিরতি দিয়ে বৃষ্টি হলেও গরম কমেনি। বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশে তাপমাত্রা বেড়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাইরাস জ্বর, হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগ। রোজ হাজার-হাজার মানুষ গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভিড় করছেন। আক্রান্তদের কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তন ও প্রচন্ড গরমের কারণে ভাইরাসজড়িত জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন বাড়তি সর্তকতা আর আক্রান্তদের জন্য দরকার সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা। ভাইরাস জ্বরে এন্টেবায়োটিক ওষুধ গ্রহণ করার দরকার নেই। এমনটিই জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ভাইরাস জ্বর নিয়ে দেওয়া টিপসে এসব কথা বলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন : ভাইরাস জ্বর কি ? ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : ভাইরাস জ্বর একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। ডেঙ্গু, জন্ডিসসহ নানা কারণে ভাইরাস জ্বর হতে পারে। ভাইরাসজড়িত কারণে মানুষ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তন ও প্রচন্ড গরমে এর প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।  একুশে টিভি অনলাইন : ভাইরাস জ্বরের লক্ষণগুলো কি কি ? ডা.এবিএম আব্দুল্লাহ : সাধারণত ভাইরাস আক্রমণের দুই থেকে সাত দিন পর এই জ্বর হয়। এই জ্বর হলে শীত শীত ভাব, মাথা ব্যথা, শরীরে ও গিরায় ব্যথা, খাওয়ার অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, সারা শরীরে চুলকানি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হওয়ার মতো লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। একুশে টিভি অনলাইন : ভাইরাস জ্বর প্রতিকারে করণীয় কি ? ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : ভাইরাস জ্বর সাধারণত তেমন কোনো ভয়াবহ রোগ নয়। তাই ভাইরাস জ্বর হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এ জ্বরের জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক জরুরি নয়। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খেলেই হয়। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম প্রয়োজন। ভাইরাস জ্বর হলে খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। খাবারের মধ্যে ভিটামিন সি ও জিঙ্কযুক্ত খাবার প্রাধান্য দিতে হবে। সাবধানে চলাফেলা করতে হবে। গরম এড়িয়ে চলতে হবে। পরিশ্রমের কারণে শরীরে ঘাম দেখা দিলে অবশ্যই পরিস্কার করতে হবে। যারা কর্মসংস্থানের কারণে অধিকাংশ সময় অফিসের বাহিরে থাকতে হয় তারা অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করবে। পোষাক হতে হবে অবশ্যই আরামদায়ক ও ঢিলেঢলা। যাতে খুব সহজে শরীরের ঘাম বের হয়ে যায়। বিশেষ করে যারা শ্রমিক, বাচ্চা এবং বয়স্কদের বাড়তি সর্তক থাকতে হবে। এছাড়া রাস্তার খোলা খাবার পরিত্যাগ করে হবে সঙ্গে সঙ্গে সম্ভব হলে বাড়িতে তৈরি খাবার গ্রহণ করতে হবে। তবে যারা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হবে তাদের অবশ্যই কিছুক্ষণ পর পর শরীর পাতলা গামছা বা কাপড় দিয়ে স্পঞ্জ করতে হবে ও মাথায় পানি দিতে হবে। শরীর গরম হলেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে ওষুধ খেতে হবে। জ্বর আক্রান্ত স্থায়িত্বকাল ৪-৫ দিন। তবে জ্বরের তীব্রতা বাড়লে অবশ্যই ডাক্তারের পরার্মশ নিতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন : সম্প্রতি ভাইরাস জ্বরের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কেন এমনটি হচ্ছে ? ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : মূলত ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে আবহাওয়ারও বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। এ পরিবর্তনে রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও মানবদেহে রোগ সৃষ্টিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। অতিরিক্ত গরম, বাতাসের আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও পরিবেশ শরীরের জন্য অনুকূল নয়। যে কারণে আমাদের দেহ বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস জন্ম  নেয়। শরীরে ভাইরাস দেখা দেওয়ার এক সপ্তহের মধ্য ভাইরাস জ্বর দেখা দেয়। একুশে টিভি অনলাইন : ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির খাবারের তালিকায় কি কি খাবার রাখা ভালো ? ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : খাবারের তালিকায় অবশ্যই মৌসুমী ফল রাখতে হবে। যেমন- আনরস, আম কলা, খোসাযুক্ত ফলা খাদ্য তালিকায় রাখা ভাল। তরল জাতীয় খাবার যেমন, স্যুপ, ফলের শরবত, স্যালাইন, লেবুর শরবত, ডাবের পানি খেতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে। রোগীকে সব সময় মশারির নিচে রাখতে হবে। গলা ব্যথা থাকলে কুসুম গরম পানি খেতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : একুশে পরিবারকেও ধন্যবাদ। / এআর /
ভাইরাসজনিত জ্বর প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

রাইসা আরিয়ান(৭) ও রাহিন(১৩ মাস) ভাই বোন। তিন দিন ধরে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। ২ ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বাড়ে। জ্বর না কমায় বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিংসাধীন রয়েছে। রাইসা আরিয়ান ও রাহিন এর বাবা সাংবাদিক এস এম রাশিদুল ইসলাম জানান, তিন দিন ধরে তার মেয়ে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। দু’ঘণ্টা পর পর জ্বরের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। মাঝে মাঝে ১০২ থেকে ১০৩ জ্বর উঠে যায়। শুরুতে রাইসা আরিয়ান দিয়ে জ্বর শুরু হয়। পরে একের পর এক পরিবার সদস্যরা জ্বরে আক্রান্ত হয়। শুধু রাইসা আরিয়ান ও রাহিনের পরিবার নয়, রাজধানীসহ সারাদেশে ভাইরাস জ্বরসহ আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভিড় করছেন। আক্রান্তদের কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আবার কাউকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা গ্রীষ্মকালীন রোগব্যাধি থেকে বাঁচতে বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার বেশি খাওয়ার পাশাপাশি ঘরের বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এব্যাপারে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে আবহাওয়ারও বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। এ পরিবর্তনে রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও মানবদেহে রোগ সৃষ্টিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। অতিরিক্ত গরম, বাতাসের আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও পরিবেশ শরীরের জন্য অনুকূল নয়। এ কারণে গরমে নতুন কিছু রোগ-ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটে। বিশেষ করে ভাইরাস জ্বর। এছাড়া অতি গরমে হিটস্ট্রোক বা খিঁচুনি থেকে অজ্ঞান হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তিনি জানান, এছাড়াও ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, হাম, বসন্ত, টাইফয়েড, মাথাব্যথা, ঘামজনিত পানিস্বল্পতা, রক্তে লবণের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতি দুর্বলতা, হাত-পা কামড়ানো, মাথা ঘোরানো ও বমি-বমি ভাব ও বমি হওয়া ইত্যাদি রোগ দেখা দিচ্ছে। ভাইরাস জ্বর থেকে লক্ষ পেতে কোন ধরনের খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৌসুমি ফল খাওয়া যেতে পারে। যেমন আনারস, কলা, আম। তবে লক্ষ রাখতে হবে ফল যেনো ভেজা ও ফরমালিন মুক্ত হয়। পরিস্কার ও বিশুদ্ধ পানি এবং বাসায় তৈরি খাবার গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও জানান, গ্রীষ্মকালীন রোগ প্রতিরোধে বাইরের শরবত, পঁচাবাসি খাবার বর্জন করতে হবে। ছায়াযুক্ত স্থান অথবা ঘরের মধ্যে অবস্থান করতে হবে। এব্যাপারে জানতে জানতে চাইলে ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্চিতা বর্মন একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, বর্তমানে ভাইরাস জ্বর একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জীবনে কখনো ভাইরাসজনিত জ্বর হয়নি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ডেঙ্গু, জন্ডিসসহ যে কোনো ভাইরাসজনিত জ্বরকে ‘ভাইরাস জ্বর’ বলা হয়। ভাইরাস জ্বর সাধারণত তেমন কোনো ভয়াবহ রোগ নয়। তাই ভাইরাস জ্বর হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এ জ্বরের জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক জরুরি নয়। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খেলেই হয়। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম প্রয়োজন। ভাইরাস জ্বর হলে খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। খাবারের মধ্যে ভিটামিন সি ও জিঙ্কযুক্ত খাবার প্রাধান্য দিতে হবে। তরল জাতীয় খাবার যেমন, স্যুপ, ফলের শরবত, স্যালাইন, লেবুর শরবত, ডাবের পানি খেতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে। রোগীকে সব সময় মশারির নিচে রাখতে হবে। গলা ব্যথা থাকলে কুসুম গরম পানি খেতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর শরীর পাতলা গামছা বা কাপড় দিয়ে স্পঞ্জ করতে হবে ও মাথায় পানি দিতে হবে। শরীর গরম হলেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে ওষুধ খেতে হবে। টিআর/

রাগ স্বাস্থ্যের জন্য ভাল : গবেষণা

জেদ-ক্ষোভের বহি:প্রকাশ হচ্ছে উচ্চ বাক্য বিনিময়। এটি কারো কাছেই কাম্য নয়। তবুও অনেক সময় আমরা নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমনটা করে ফেলি। তবে গবেষণা বলছে ক্ষোভ থেকে উচ্চ বাক্য বিনিময় বা গালাগাল স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। একাধিক মার্কিন গবেষণা প্রমাণ মিলেছে মানসিক চাপ, অবসাদ, মাত্রাতিরিক্ত উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গালিগালাজ খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এই ধারণার সঙ্গে একমত ব্রিটিশ গবেষক এবং মনোবিজ্ঞানীরাও। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক ও ফলিত ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কিরিকুস অ্যান্টনিও জানান, গালিগালাজ আসলে মন থেকে রাগ, ক্ষোভ বের করে মানসিক চাপ কাটানোর সহজ উপায়। অ্যান্টনিওর মতে, যেসব মানুষ উত্তেজিত হলেও গালিগালাজ দিতে পারেন না বা দেন না তাঁদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ, নানা স্নায়বিক সমস্যা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, কখনও এসব ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বৈত ব্যক্তিত্বের (split personality)সমস্যাও দেখা যায়। তুলনায় যাঁরা সহজে গালাগাল দিয়ে চাপমুক্ত হন তাঁরা অনেক বেশি সুস্থ থাকেন।তাই মার্কিন গবেষক এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ, ক্ষোভ কাটাতে প্রয়োজনে একান্তে গালিগালাজ দেওয়া ভাল। তবে স্থান-কাল-পাত্র সম্পর্কে অবশ্যই খেয়াল রাখা দরকার!সূত্র : জিনিউজ।/ এআর /

যে খাবার স্তন ক্যানসার রোধ করে   

নারীদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকলে তাঁদের মেনোপজের পর স্তন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত হওয়া একটা গবেষণায় এমনটা জানা গেছে। পরীক্ষায় জানা যায়, মহিলাদের রক্তে সিরামে ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি (ওএইচ)- রক্তে উপস্থিত ভিটামিন ডি এর আসল রূপ- ৬০ এনজি/ এমএল (ন্যানোগ্রাম পার মিলিলিটার) এর ওপর থাকলে, যাদের রক্তে ২০ এনজি/ এমএল এর কম উপস্থিত থাকে, তাদের তুলনায় স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা অনেক কম থাকে। তাই সান দিয়েগো- ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, রক্তে ২৫ ওএইচ প্লাজমার উপস্থিতি পূর্বে উল্লেখিত ২০ এনজি/ এমএল এর পরিবর্তে ৬০ এনজি/ এমএল কে স্বাভাবিক বলে গণ্য করা প্রয়োজন।   গ্র্যাসরুটসহেলথ- এক নন-প্রফিট পাবলিক হেলথ রিসার্চ অর্গানাইজেশনের প্রধান প্রবক্তা শ্যারন ম্যাকডোনেল জানান, “স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য রক্তে উপস্থিত ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ ২০ এনজি/ এমএল এর বেশি হওয়া প্রয়োজন।“ গড়ে ৬৩ বছর বয়সী ৩,৩২৫ এবং ১,৭১৩ জন মহিলাকে নিয়ে পরপর দুটো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলে প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর করা সমীক্ষার ভিত্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ ৫টা খাদ্যের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলঃ ১. মাশরুম সপ্তাহে চারদিন আপনার খাদ্য তালিকায় মাশরুম যোগ করুন এবং রক্তে উপস্থিত ভিটামিন ডি এর পরিমাণের তারতম্য দেখুন। যেভাবে খুশি রান্না করে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মাশরুম খান। আরও বেশি পরিমাণে পুষ্টি পেতে হলে মাশরুম রোদে শুকিয়ে নিয়ে তারপর খান। সূর্যের আলোয় মাশরুম নিজের দেহেই ভিটামিন ডি উৎপাদন করতে পারে। ২. চীজ চীজ ভিটামিন ডি এর অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস। সকালের জলখাবারের টোস্টে চীজ যোগ করে উপভোগ করুন আর রক্তে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বৃদ্ধি করুন। ৩. মাছ সব প্রকার মাছই ভিটামিন ডি এর উৎকৃষ্ট উৎস। তেল যুক্ত মাছে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বেশি থাকে। এমন তেলযুক্ত মাছের উদাহরণ হল স্যামন। এছাড়াও ট্রউট, ম্যাকারেল, টুনা মাছেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। ৪. ডিম ডিমের কুসুমের আবার খাদ্য তালিকায় ফিরে আসার সময় হয়েছে। কুসুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকায়, এবার থেকে কুসুম বাদ দিয়ে শুধু ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার পরিবর্তে আবারও গোটা ডিম খাওয়া শুরু করুন। সুতরাং ডিমের শুধু মাত্র সাদা অংশ খাবেন- এই চিন্তা বাদ দিয়ে কুসুমকে আপন করে নিন। ৫. সোয়া দুধ   সোয়া দুধ একটা উদ্ভিজ্জ দুগ্ধ উপাদান, যা সোয়াবিন শুকিয়ে গুঁড়ো করে জলের সঙ্গে মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয়। এতে সাধারণ গরুর দুধের সমান প্রোটিন থাকার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি, সি এবং আয়রন উপস্থিত। এসি  

গোপন শক্তি কতটা, জানাবে আপনার ব্লাড গ্রুপ : গবেষণা

আপনার যৌনক্ষমতা কতটা সেটি অনেকটাই নির্ভর করবে ব্লাড গ্রুপের উপর। অর্থাৎ কামশক্তি কতটা সেটি জানা যেতে পারে রক্তের গ্রুপের সাহায্যে। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গবেষণায় পাওয়া তথ্যানুযায়ী যাঁদের রক্তের গ্রুপ A, B বা AB তাঁদের মধ্যে যৌন অক্ষমতা বা অনিচ্ছার সমস্যা প্রকট। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাঁদের রক্তের গ্রুপ O, তাঁদের মধ্যে এ ধরণের সমস্যা অনেক কম। প্রায় ১০ হাজার মানুষের রক্ত পরীক্ষার মধ্যে দিয়েই এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে অনুযায়ী, A, B, AB রক্ত গ্রুপের মানুষের মধ্যে খুব অল্প বয়সেই যৌনতায় অনিচ্ছা বা অক্ষমতা চলে আসে। অন্যদিকে O গ্রুপের রক্তের যাঁদের, তাঁদের মধ্যে যৌন ইচ্ছা বা যৌন ক্ষমতা অনেকাংশেই বেশি থাকে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের সেক্সুয়াল মেডিসিন এক্সপার্ট ড. ডেভিড গোল্ডমায়ারের মতে, যাঁদের রক্তের গ্রুপ A, B বা AB তাঁদের নিজেদের যৌনজীবন সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া উচিত। এই সব রক্তের গ্রুপ যাঁদের, তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে নিয়মিত শরীরচর্চা এবং নিয়ন্ত্রিত ডায়েটের প্রয়োজন। তুরস্কের অর্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও ব্রিটিশ গবেষণার এই রিপোর্টের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তুরস্কের এই গবেষকদের মতে, যৌন অক্ষমতার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই দায়ী অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ধূমপানের অভ্যাস, মাত্রাতিরিক্ত ওজন এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। তবে অকালে শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং যৌনতায় অনিচ্ছার জন্য রক্ত গ্রুপের প্রভাবও অনেকখানি। ইতালির ইউরোলজি এবং অ্যান্ড্রোলজির আর্কাইভ থেকে পাওয়া তথ্যেও যার প্রমাণ মিলেছে। সূত্র : জিনিউজ। / এআর /

নিয়মিত লেবুর শরবত খেলে মিলবে  ১৪ উপকার

এক গ্লাস পানি এবং একটা অর্ধেক লেবু। এই দুটি উপাদানের সহযোগে বানানো শরবত রাত দিন খেলেই দেখবেন ডাক্তারের চেম্বারের ঠিকানা আপনি একেবারে ভুল গেছেন। কেননা একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে, নিয়মিত লেবু পানি খাওয়া শুরু করলে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন- লিভারের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লেবু পানি খেলে লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে লিভারের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। পুষ্টির ঘাটতি দূর হয় লেবু পানির ভেতরে যে কেবল ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মজুত থাকে, তা নয়, সেই সঙ্গে উপস্থিত থাকে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং আরও কত কী, যা দেহের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে শরীরকে শক্তপোক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেহের ভেতরে পি এইচ লেভেল ঠিক থাকে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু পানি খেলে দেহের ভেতরে পি এইচ লেভেলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। ফলে ভেতর এবং বাইরে থেকে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। টিবি রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে, টিবি রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের সঙ্গে লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যদি খাওয়া যায়, তাহলে ওষুধের কর্মক্ষমতা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। ফলে রোগের প্রকোপ কমতে সময়ই লাগে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন লেবু পানি খাওয়া শুরু করলে দেহের বেতরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এত মাত্রায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে হাজারো বিউটি প্রডাক্ট যা করে উঠতে পারেনি, তা লেবু পানি নিমেষে করে ফেলতে পারে। আসলে এই পানীয়তে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান ত্বকের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে। সেইসঙ্গে ত্বকের বয়স কমানোর পাশাপাশি ব্ল্যাক হেডস এবং বলিরেখা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, গরমকালে ত্বককে ঠাণ্ডা এবং ঘামমুক্ত রাখতে লেবুর পানি দিয়ে বারে বারে মুখটা ধুতে পারেন, দেখবেন উপকার পাবেন। ওজন হ্রাস পায় নিয়মিত লেবু পানি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্তি মেদ ঝরে যেতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ লেবুর বেতরে উপস্থিত পেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে, কম মাত্রায় খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কম মাত্রায় ক্যালরির প্রবেশ ঘটে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগই পায় না। এনার্জির ঘাটতি দূর হয় ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি না খেয়ে প্রতিদিন এক গ্লাস করে লেবুর পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এমনটা করলে দেখবেন শরীর চনমনে হয়ে উটতে সময়ই লাগবে না। আসলে লেবুর ভেতরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে সকাল সকাল শরীর এবং মস্তিষ্ক চাঙ্গা হয়ে উঠতে একেবারেই সময় লাগে না। শ্বাস কষ্টের মতো সমস্যা কমে যারা অ্যাস্থেমা বা কোনও ধরনের রেসপিরেটরি প্রবলেমে ভুগছেন তারা যত শীঘ্র সম্ভব রোজের ডায়েটে লেবুর পানিকে অন্তর্ভুক্ত করুন। দেখবেন কেমন ফল পান! আসলে এই পানীয়টি শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত একাধির জটিলতাকে কমিয়ে ফেলতে দারুন কাজে আসে। স্ট্রেস এবং অবসাদের থেকে মুক্তি মেলে একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে, নিয়মিত লেবুর পানি খেলে স্ট্রেস একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে অবসাদের প্রকোপও কমে। আসলে লেবু পানিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে এমন সব সমস্যা নিমেষে কমে যেতে শুরু করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে লেবু পানিতে থাকে প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এমন রোগে যারা বহু দিন ধরে ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকাল-বিকাল লেবু পানি খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন। তবে এমনটা করার আগে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না যেন। পেটের স্বাস্থ্যের প্রকোপ কমে যারা বদ হজম, কনস্টিপেশন, বারংবার পেট খারাপসহ নানাবিধ পেটের রোগে ভুগে থাকেন তারা প্রতিদিন সকালে গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা করলে স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ ঠিক মতো হতে শুরু করবে। ফলে রোগের প্রকোপ তো কমবেই, সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিনও বেরিয়ে যাবে। মুখ গহ্বরের নানা রোগ নিমেষে সেরে যায় মুখ থেকে খুব দুর্গন্ধ বেরয়? এদিকে নানা কিছু করেও সুরাহা মিলছে না? তাহলে আজ থেকেই লেবু পানি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন বদ গন্ধ একেবারে কমে যাবে। শুধু তাই নয়, মাড়ি থেকে রক্ত পাত এবং দাঁতে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যা হলেও এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাতে পারেন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন। সংক্রমণের প্রকোপ কমে লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ। তাই তো লেবু পানি যে কোনও ধরনের সংক্রমণ, বিশেষত গলার সংক্রমণ কমাতে দারুনভাবে সাহায্য় করে থাকে। এক্ষেত্রে লেবু পানি দিয়ে গার্গেল করলেই উপকার পাওয়া যায়। সূত্র: বোল্ডস্কাই আরকে//একে//

ঈদের দিন ডায়াবেটিস রোগীর খাবার

রমজানে দীর্ঘ এক মাস দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে অামাদের পরিপাকতন্ত্র দিনের বেলায় বিশ্রামরত অবস্থায় থাকে। কিন্তু ঈদের দিনে যখন অামরা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করি বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও গুরুপাক খাবার তখন অামাদের পরিপাক তন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় যার ফলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি, পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া সহ বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।এই উপসর্গগুলি ছাড়াও একজন ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে বাড়তি যে উপসর্গটি দেখা দিতে পারে তা হলো রক্তের শর্করা বা চিনি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া। অার এই কারণে ডায়াবেটিক রোগীদের ঈদের দিন খাবারের ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার বিশেষ করে সেমাই, ফিরনী, জর্দা, পুডিং এই জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। সকালের নাস্তায় রুটি পরোটা নুডুলস এই জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। দুপুরে ও রাতে যদি গুরুপাক খাবার বিশেষ করে পোলাও,  বিরিয়ানী, রোস্ট, রেজালা খেতে চায় তবে সেটা অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে হতে হবে। সাথে অবশ্যই সালাদ খেতে হবে। এছাড়াও পুদিনা পাতার ভর্তা, টক দই, টক দই দিয়ে বানানো বোরহানি হজমে সহায়তা করে।কোল্ড ড্রিংকস, বিশেষ করে কোকা কোলা, স্প্রাইট, সেভেন অাপ, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি খাওয়া যাবেনা। বিকল্প চিনি দিয়ে বানানো লেবুর শরবত বা রং চা খাওয়া যেতে পারে।  সারাদিনে অবশ্যই প্রচুর পানি খেতে হবে।  ঈদের দিন সকালে খালি পেটে এবং সকালের নাস্তার বা দুপুরের খাবারের দুই ঘন্টা পর গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তের শর্করা পরিমাপ করা যেতে পারে।[লেখক : ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ। বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা।]অনু লেখক : অালী অাদনানএসএ/

ঈদের দিনের খাবার-দাবার

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি।বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে বড় বয়স পর্যন্ত ঈদের খুশি সবার মনে এক অন্যরকমের অনুভূতি দেয়।মানুষ যখন ছোট থাকে তখন ঈদের আনন্দটা যেনো অনেক বেশি থাকে, কারণ দায়িত্বটা থাকে বাবা মায়ের উপর।আর বড় হলে দায়িত্ব চলে আসে নিজের উপর।সেটা যে কোনো কিছুর দায়িত্বই হতে পারে।এই ধরুন খাবার দাবারের ব্যাপারটা।আপনি ছোট বেলাই কিন্তু চিন্তা কম করতেন যে, আপনি কি খাবেন কি খাবেন না।কিন্তু বড় হওয়ার পর আপনার নিজেরসহ পরিবারের সবার চিন্তা করতে হচ্ছে। আমরা সবাই জানি, পুষ্টি চাহিদা বয়স, ওজন, উচ্চতা, লিংগ এবং রোগ ভেদে পরিবর্তন হয়।আনন্দ ভাগাভাগির ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকলেও খাবার গ্রহণ এর ব্যাপার এ প্রত্যেকের সতর্ক থাকা উচিৎ। ঈদের দিনে আমরা কম বেশি সবাই একটু নিয়মের বাইরে যেতে চায়, কিন্তু তাই বলে খেয়াল রাখতে হবে যেনো খুব বেশি যেনো অনিয়ম না হয়ে যায়। ঈদের দিনের খাবার আমাদের শারীরিক পুষ্টি চাহিদা অন্যান্য দিনের মত এই দিনও একি থাকবে।তবে দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর হঠাত করে বেশি খাওয়াটা সবার জন্য সহনীয় হয় না।তাই যার যার ডাইজেশন পাওয়ার অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ ভিন্ন হওয়া জরুরি। আর একটি জিনিস এবারের ঈদে সবাই কে মাথায় রাখতে হবে, সেটা হল ঈদ টা পরেছে গরমে।তাই খাবার গ্রহনের সময় এই জিনিস টিও মাথায় রাখতে হবে। ঈদের সকালের নাশতা সকালের নাশতা খুব সাধারন এবং সহজপাচ্য হতে হবে। প্লেইন রুটি, সঙ্গে সবজি অথবা পরিমিত পরিমাণে সেমাই বা পায়েশ নেওয়া যেতে পারে।সে ক্ষেত্রে যাদের ওজন অতিরিক্ত বেশি এবং ডায়েট কন্ট্রোল এ আছেন তারা সেমাই বা পায়েশ খেলে রুটি টা বাদ দিবেন।কারণ সেমাই বা পায়েশ দুইটার মধ্যেই শর্করা আছে। সঙ্গে আধা ঘন্টা পর যে কোনো একটি ফল বা ফলের সালাদ খেতে পারেন।যারা ডায়াবেটিক রোগী তারা অতিরিক্ত শর্করা গ্রহনেও সচেতন থাকবেন। ঈদের দুপুরের খাবার ঈদের দিন দুপুরে সময়মত খাবার খাওয়া হয়ে ওঠে না। ঘোরাঘুরি আর বন্ধু দের সঙ্গে আড্ডায় খাওয়ার কথা অনেকেই ভূলে যান বা দেড়ি করে ফেলেন।এই ব্যাপারে সবারই সচেতন হওয়া উচিৎ। যারা ডায়াবেটিক রোগী তাদেরকে অবশ্যই খাবার সময়মত খেতে হবে।আর অন্যদেরো ও সমান।কেনোনা খাবার সময় মত না খেলে অনেক রকমের শারীরিক সমস্যা হতে পারে, যেমন গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা, মাথা ব্যাথা, খাবার হজমে সমস্যা ইত্যাদি।  এবার খাবারের মেনুতে আসি।দুপুরের খাবার আবার ঈদের দিন, সেক্ষেত্র তো একটু স্পেশাল হওয়ারই কথা।কিন্তু খুব বেশি অয়েলি খাবার খাওয়ার চিন্তা করা থেকে বিরত থাকায় বুদ্ধিমানের কাজ হবে।ভাত, পোলাও, বিরিয়ানি যেটাই খাবেন আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সেটার প্রসেস কিভাবে করবেন।তারপর গ্রহণ করার সময় অবশ্যই আপনাকে পরিমাণটাও ঠিক করে নিতে হবে।মাংস খেলে যে কোনো এক ধরনের খেতে হবে।যেমন, মুরগি, গরু,খাসীর মাংস যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। সঙ্গে যে কোনো সবজি বা সালাদ অবশ্যই রাখতে হবে। সালাদ এ টক দই ব্যবহার করলে খুবই ভালো হবে। ঈদের রাতের খাবার: রাতের খাবার ও হালকা হলে পরের দিনের অনুভূতি ও ভালো হবে। সারাদিন ঘোরাঘুরি করার পর স্বাভাবিক ভাবেই সবাই ক্লান্ত হয়ে যায়।তাই রাতের খাবার এর মেনু এমন রাখতে হবে যেনো পেট ভরার সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তিভাবটাও চলে যায়। ভাত অথবা রুটি এর সঙ্গে যে কোনো একটা তরকারি নিতে হবে।সেটা হতে পারে মাংস অথবা ডালের সবজি।সঙ্গে একটি টক ফল। মনে রাখতে হবে যে বিষয়টি: মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা এক নয়।অনেকেই অনেক রোগে আক্রান্ত। তাই অনেকেরই খাবার আলাদা হবে।তাই যার যেই খাবার এ রেস্ট্রিকশন আছে তাকে সেটা মেনে খেতে হবে।খাবার গ্রহণে পরিমাণ আর খাবারের টাইপ বুঝে খেতে হবে।গরমের কারণে ঘোরাঘুরিতে শরীর থেকে অনেক পানি আর লবণ বের হয়ে যেতে পারে তাই এই ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হবে।প্রচুর পানি বা ফলের পিওর জুস বা ডাবের পানি খেতে পারেন।সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে খাবেন। রোজা রাখার পর অনেকেরই হজমে সমস্যা হতে পারে তাই এই ব্যাপার টিও খেয়াল রাখতে হবে। ঈদের আনন্দ যেনো বাদ না পরে যায়: খাবারের চিন্তা করতে গিয়ে, ঈদের আনন্দ যেনো কম না হয়ে যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। বছরে একবার ঈদ উল ফিতর পায় সবাই।তাই ঈদের এই দিনটিকে স্পেশাল করতে অন্যান্য আনন্দ বহাল রাখা উচিৎ। পরিবারের সবার সাথে বসে খাওয়া, ঘুরতে যাওয়া, গল্প করা ইত্যাদি যেনো ঠিক থাকে... সবাইকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন।ঈদ মোবারক।  লেখক# পুষ্টিবিদ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চার খাবার

ডায়াবেটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এটি একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ব্যাধি। ডায়াবেটিসের ফলে দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হল, ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু তা কোনোভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস ধরা পড়লে প্রথমেই মিষ্টি জাতীয় খাবার বন্ধ করার কথা বলেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে একেবারে বদলে যায় রোজকার রুটিন। চিকিৎসকের পরামর্শে ইনসুলিন ইনজেকশনই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। তবে রোজ রোজ ইনসুলিন ইনজেকশন না নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়ে, একেবারে সামান্য খরচে। এমন চারটি খাবার রয়েছে যা খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা থাকবে একেবারে নিয়ন্ত্রণে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী? করলা গবেষণায় দেখা গেছে, করলার মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা অ্যান্টি-ডায়েবেটিক এবং ইনসুলিন ইনজেকশনের থেকেও বেশি কার্যকর। চিকিৎসকেরা বলছেন, কাঁচা করলা বা করলার রস নিয়মিত খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকবে নিয়ন্ত্রণে। গম যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য গম খুবই উপকারী। আটার রুটি খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সবুজ শাক-সবজি চিকিৎসকদের মতে, যে কোনও সবুজ শাক, তা সর্ষে শাক-সবজি যেমন, পালং শাক, মুলো শাক ইত্যাদি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তারা নিয়মিত সবুজ শাক-সবজি খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকবে নিয়ন্ত্রণে। কুমরোর বীজ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ কুমরোর বীজ রোদে শুকিয়ে নিয়ে নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। যখনই মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করবে, তখনই দু’-একটা কুমরোর বীজ মুখে রাখলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমবে এবং একই সঙ্গে রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সূত্র: জিনিউজ একে//

সন্তানকে থ্যালাসিমিয়া থেকে বাঁচাতে ব্যবস্থা নিন বিয়ের আগে

থ্যালাসিমিয়া রক্তস্বল্পতাজনিত একটি রোগ। মরণব্যাধি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর আমাদের দেশে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শিশু জন্ম গ্রহণ করছে। একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর যে প্রাণ চাঞ্চল্য দেখা যায়, থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত শিশুর মধ্যে সেটা দেখা যায় না। বিষন্নতার চাদরে ঢাকা যেন এক প্রাণ। এমন শিশুকে নিয়ে মা বাবার স্বপ্ন ভালবাসা আবেগ যেন মুহুর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। একটু সচেতন হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব। থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সারাজীবনই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে ‘ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন’ ও জীন থ্যারাপি। এমন চিকিৎসা সবার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই একটু সচেতন হলেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।     থ্যালাসিমিয়া কি? থ্যালাসিমিয়া রক্তস্বল্পতাজনিত একটি বংশগত রোগ। থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রক্তের লৌহিত কণিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয় না। ফলে এদের মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। থ্যালাসিমিয়া রোগীদের প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করতে হয়। এই রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে তারা বেঁচে থাকে। আবার এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসা করা না হলে রক্তশুন্যতার কারণে মারা যায়।   বাংলাদেশে থ্যালাসিমিয়া রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান এই রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে। তন্মধ্যে থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অন্যতম। রাজধানীর চামেলিবাগে অবস্থিত হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেক রোগী এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হৃদয়কাড়া, ফুটফুটে অনেকগুলো শিশু শুয়ে আছে হাসপাতালের বেড়ে। তাদের দিকে তাকালে যে কারো মায়া হবে।  কুমিল্লা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা আক্তার নিপা নামে এক মা শুকনো মুখে বসে আছেন তার ফুটফুটে সন্তান আরাফাতের পাশে। কবে থেকে বুঝতে পারলেন আপনার শিশু এই রোগে আক্রান্ত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওর বয়স যখন ৫ মাস তখন বুঝতে পারি যে তার থ্যালাসিমিয়া হয়েছে। প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। ওর সব সময় ঠান্ডা লেগে থাকতো। হাত পা হলুদ হয়ে যায়। ফলে কুমিল্লায় কয়েকজন ডাক্তার দেখাই। তারা আমাদেরকে পরে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। পরিক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারি তার মধ্যে এই রোগ আছে।’          ‘এখন তার বয়স চলছে ২ বছর ৮ মাস। প্রতি দুই মাস পর পর এখানে এসে তাকে রক্ত দিতে হয়। যখন রক্ত কমে যায় তখন ওর খাওয়া, খেলা-ধুলা, হাঁটা-চলা সবকিছু কমে যায়।’ বললেন আসমা আক্তার নিপা। এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মো. আবদুর রহিম এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই হাসপাতালে প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। সারা দেশ থেকেই রোগীরা আসে। থ্যালাসিমিয়াকে নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই রোগকে প্রতিরোধ করা যায়। এ জন্য আমরা বলে থাকি বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার কথা। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসিমিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সবাই এ ব্যাপারে সচেতন হলে খুব সহজে থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধ করা যাবে।’        ‘বাংলাদেশে ১ কোটি ১০ লাখ লোক অজ্ঞাতসারে থ্যালাসিমিয়া রোগের বাহক। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শিশু থ্যালাসিমিয়া নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। বাংলাদেশে থ্যালাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০,০০০।’ বললেন তিনি।     থ্যালাসিমিয়া কিভাবে হয়?   মানব কোষে রক্ত তৈরি করার জন্য ২টি জিন থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্ত তৈরির একটি জিনে ত্রুটি থাকলে তাকে থ্যালাসিমিয়া বাহক বলে। আর যদি দুইটি জিনেই ত্রুটি থাকে তাহলে তাকে থ্যালাসিমিয়া রোগী বলে।  একজন থ্যালাসিমিয়া বাহক যদি অপর একজন বাহককে বিয়ে করে তাহলে তাদের প্রতিটি সন্তানের থ্যালাসিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। এ ধরনের পরিবারে একাধিক সন্তান থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত হওয়ার নজির রয়েছে। তবে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে থ্যালাসিমিয়া রোগ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করালে এ সমস্যা বহুলাংশে কমে যায়।     থ্যালাসিমিয়া রোগের লক্ষণ  এ রোগের লক্ষণ সাধারণত তিন মাস বয়স থেকে দেখা দেয়। শিশু জন্মের ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে থ্যালাসিমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এই রোগের কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন-ফ্যাকাশে হয়ে পড়া, ক্ষুদামন্দা দেখা দেওয়া, খাবার পরে বমি হওয়া, ঘন ঘন ইনফেকশন, জন্ডিস, খিটখিটে মেজাজ, রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৩-৫ গ্রাম বা ডেসিলিটারে নেমে আসা। এদের প্রায়ই জীবাণু সংক্রমনের জন্য সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভোগেন। এক কথায় বলা যায়, রোগী যদি ফ্যাকাশে বা হলদে হয়ে যায়, বয়সের তুলনায় তাকে কৃষ বা ছোট দেখায়, পেট বড় দেখায় তাহলে এ রোগ আছে বলে সন্দেহ করা হয়।  থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা কি নেই?        থ্যালাসিমিয়া রোগের চিকিৎসা রয়েছে। তবে এর চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল। রক্তশূন্যতা পূরণের জন্য রোগীদের প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। এছাড়া এদের শরীর থেকে ক্ষতিকর লৌহ বের করার জন্য নানা ধরনের ঔষধ খেতে হয়। একটি শিশুর চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়।           এ প্রসঙ্গে ডা. আবদুর রহিম বলেন, ‘থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা রয়েছে। তবে এটি ব্যয়বহুল। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে ভাই-বোনের মধ্যে ম্যাচিং থাকতে হবে। এর চিকিৎসা খরচ প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা লাগে। তবে আমাদের দেশে প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা এখনো শুরু হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ চালু করার চেষ্টা করছে।’    থ্যালাসিমিয়া থেকে বাঁচার কি কোনো উপায় আছে?   ডা. রহিম বলেন, ‘‘থ্যালাসিমিয়া নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শরীরে রক্ত কম হওয়া ছাড়া এদের আর কোনো সমস্যা নেই। তারা সব কিছু করতে পারবে। খেলা-ধুলা পড়ালেখা থেকে সবকিছু। আমাদের এখানকার অনেক রোগী আছে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। ব্যাংকে চাকরি করছে।’’   ‘‘ যদি কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয় তারা সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় না। তারা আস্তে আস্তে প্যারালাইজড রোগীদের মতো হয়ে যায়। এভাবে দশ বছর পর্যন্ত বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। অন্য দিকে চিকিৎসা নিলে ৫০ থেকে ৬০ বছর বাঁচতে পারে।’’ বললেন ডা. রহিম         তার ভাষ্য ‘‘এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে,নাকি আমাদের সহযোগিতায় সমাজের সক্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকবে। অন্যথায় তারা বোঝা বা প্রতিবন্ধিদের মতো হয়ে থাকবে। তাই আমরা চেষ্টা করছি তারা যেন সমাজের জন্য বোঝা না হয়।’’ বললেন তিনি।    থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্তদের অনেক পরিবার আছে যাদের পক্ষে সন্তানের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না। পারিবারিক আয় কম হওয়ায় সন্তান নিয়ে অনেকে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এই রোগে আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে কি করবেন তা ভেবে কোনো কূল পাচ্ছেন না। অসহায় এসব রোগীদের বাঁচাতে, সমাজের জন্য যাতে তারা বোঝা হয়ে না যায় সে জন্য থ্যালাসিমিয়া ফাইন্ডেশন যাকাত সংগ্রহ করে তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে।       এ সম্পর্কে ডা. রহিম বলেন, ‘আমাদের এখানে ডে কেয়ার পদ্ধতিতে চিকিৎসা চলছে। দৈনিক ২০ থেকে ৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। দিনে দিনে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। যেটা অন্য হাসপাতালের পক্ষে সম্ভব হয় না। ঢাকার বাহিরে থেকে সকালে এসে বিকালে চিকিৎসা নিয়ে চলে যেতে পারে। তবে অনেক রোগীর আর্থিক অবস্থা ভালো না। কারো মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার চেয়েও কম। ফলে তারা সন্তানের চিকিৎসা করাবে নাকি পরিবার চালাবে। তাদের এমন অসহায় করুণ অবস্থা দেখে আমরা রোগীর চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য যাকাত সংগ্রহ করছি।’   তার মতে ‘‘থ্যালাসিমিয়া আক্রান্তদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দিলে তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। কিন্তু আর্থিক সংকটে অনেকে চিকিৎসা করাতে পারছেনা। চিকিৎসা না করালে সেটা দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। দেশে অক্ষম লোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে। হয়ে ওঠবে বোঝা হিসেবে। তাই কোমলমতি এসব শিশুদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসা দরকার।’’          এসি           

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি