ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:১৩:১০

জন্ডিস দূর করতে ৮ খাবার

জন্ডিস দূর করতে ৮ খাবার

জন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। জন্ডিসে ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং অন্যান্য মিউকাস ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়। এছাড়া এই রোগে লিভারে কিংবা যকৃতে সমস্যা দেখা দেয়। এর সঠিক চিকিৎসা না নিলে রোগী মারাও যেতে পারে। তবে জন্ডিসের শুধু ওষুধই এর একমাত্র চিকিৎসা নয়, খাবারের মধ্যেই জন্ডিসের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা রয়েছে।   তাই জন্ডিস দ্রুত সারাতে চাইলে কিছু খাবার খাওয়া জরুরী। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো- ১) পরিমিত পানি জন্ডিস হলে প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস করে পানি খেতে হবে। কেননা জন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। তাই এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পরিমিত পানি খেলে অতিরিক্ত টক্সিন বের হয়ে যায়। ফলে লিভার ফাংশক ঠিক থাকে। ২) হার্বাল টি জন্ডিস রোগ হলে কখনই কফি বা চা কিংবা কোকো খাবেন না। এতে মারত্মক ক্ষতি হতে পারে। এইসব খাবারের পরিবর্তে হার্বাল টি খান। এমনকি দুগ্ধজাত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩) হজমে সাহায্যকারী খাবার জন্ডিস হলে খাবার হজম হতে সমস্যা হয়। তাই যেসব খাবার দ্রুত হজম হয় সেরকমই উৎসেচক সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখুন। যেমন- মধু, কমলালেবু, আনারস, পেঁপে, পাকা আম ইত্যাদি খান। ৪) ফাইবারযুক্ত খাবার জন্ডিস রোগে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই খাবেন। ফাইবার জাতীয় ফল, সবজি তো অবশ্যই। এছাড়াও বাদাম, শস্যদানা যেমন- ওটমিল, আমন্ড, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি বেশি করে খাবেন। ৫) সুগার জাতীয় খাবার জন্ডিস হলে সুগার জাতীয় খাবার খেতে হবে তবে তা পরিমিত হতে হবে। যেমন- আখের রস জন্ডিসের জন্য খুবই উপকারী। তবে হ্যা, রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া আখের রস খাবেন না। বাড়িতে আখ কিনে এনে কেটে খান কিংবা রস করে খেতে পারেন। এছাড়া সামান্য চিনি দিয়ে ইয়োগার্ট খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি লিভারের জন্য ক্ষতিকর।  ৬) পুদিনার পাতা লিভার ফাংশনের জন্য খুবই উপকারী পাতা হচ্ছে পুদিনা। এর পাতা প্রতিদিন সকালে চার-পাঁচটি খেলে জন্ডিসের জন্য ভালো উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া পুদিনার জুস করে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। ৭) লেবুর রস পাকস্থলির জন্য সহায়ক লেবুর রস। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানির মধ্যে করে লেবুর রস খেলে আপনার পরিপাকতন্ত্রে ভালো কাজ করবে। ৮) আনারস জন্ডিসে আখের রস যেমন ভালো কাজ করে তেমনি আনারসও সেই ভূমিকা পালন করে। এছাড়া লিভার পরিশোধনে আনারস খুবই উপকারী। তথ্যসূত্র : এই সময়। কেএনইউ/
ঘুম বেশি প্রয়োজন নিারীদের : সমীক্ষা

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের লবরো ইউনিভারসিটি-র ‘স্লিপ রিসার্চ সেন্টার’-এর সমীক্ষায় এমনই তথ্য সামনে এসেছে। নারী ও পুরুষের শারীরিক চাহিদা যে আলাদা হয়। তা সবারই জানা। যেমন, পুরুষের তুলনায় নারীদের ঠাণ্ডা বেশি লাগে। তেমনই, ঘুম ব্যাপারটি পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি প্রয়োজন হয়। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের লবরো ইউনিভারসিটি-র ‘স্লিপ রিসার্চ সেন্টার’-এর সমীক্ষায় এমনই তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, নারীদের ঘুমের প্রয়োজন বেশি হওয়ার মূল দুটি কারণ— • সারা দিনের কাজের রেশ কাটাতে নারীদের মস্তিষ্ক বেশি সময় নেয়।• জেগে থাকা অবস্থায়, পুরুষের তুলনায় নারীদের মস্তিষ্ক বেশি কাজ করে। বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক নারীদের বেশি সময় ঘুমানোর প্রয়োজন। আর তা না হলে কী ক্ষতি হতে পারে— ১। ৩০ থেকে ৬০ বছরের মহিলাদের, গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। এমনই কথা বলছে ‘ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন’। ২। শুধু বয়ঃসন্ধির সময়েই নয়, নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে অনেক কারণেই। যেমন, মাসিক ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের সময়েও। এই হরমোনাল চেঞ্জ-এর সময় মহিলাদের শরীর রেস্টে থাকলে ভালো হয়। ৩। যে কোনও পুরুষের তুলনায়, মহিলারা বেশি কাজ করে। বাড়ির কাজের পাশাপাশি চাকরিও সামলাতে হয় তাদের। ‘মাল্টিটাসকিং’ করে বলে মহিলাদের ব্রেনও বেশি কাজ করে। ফলে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে মহিলাদের ঘুমানোটা খুবই দরকার। ৪। নারীদের ঘুম কম হলে ওজন বৃদ্ধি পায় খুব তাড়াতাড়ি। কারণ, ঘুম কম হলে, স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের নিঃসরণ বেশি পরিমাণে হয়। এর ফলে খিদে বেড়ে যায়। এবং সঙ্গে সঙ্গে ওজনও। ৫। সারা দিনের নানা কাজের ফাঁকে অনেক সময়েই নিজের কথা ভুলে যান মহিলারা। সংসার সামলে, চাকরি সামলে প্রয়োজনীয় ঘুমের সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমে যায়। এর ফলে, মহিলারা অনেক সময়েই বেশ খিটখিটে হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, এই পাঁচটি কারণই শুধু নয়, নারীদের যে বেশি ঘুমের প্রয়োজন তার জন্য রয়েছে আরও অনেক কারণ। তবে এই ‘বেশি সময়’টা মাত্র ২০ মিনিট, বলছেন গবেষকরা। অর্থাৎ, আপনার পুরুষ সঙ্গীটির তুলনায় একস্ট্রা ২০ মিনিট ঘুমোতে পারলেই নারীদের জীবন হবে সুখের। তথ্যসূত্র: এবেলা। এসএইচ/

দেশে প্রথমবারের মতো সফল বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট

চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমইউ)। হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের চিকিৎসকেরা জটিল বোনম্যারো ট্রান্সপ্লাটে সফলতা দেখেছিয়েন। এর ফলে এখন থেকে মাত্র ৩ থেকে ৫ লাখ টাকায় দেশেই জটিল এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব। পাশের দেশ ভারতেও এই রোগের চিকিৎসা ব্যয় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল  ইফতে আরা (৪৮) নামে এক রোগীর দেহে বোনম্যারো  ট্রান্সপ্লান্ট (অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন) করা হয় বিএসএমইউতে। বুধবার তিনি চিকিৎসকদের ছাড়পত্র নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে গেছেন। রংপুর জেলার চিলমারি উপজেলার বাসিন্দা ইফতে আরা মাল্টিপল মায়োলামা নামক রক্তের বিশেষ এই প্লাজমা ক্যান্সারে ভুগছিলেন। প্রথমবারের মতো নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে পারা এবং এরপর রোগীর শারীরিক সুস্থতায় চিকিৎসকরা সন্তুষ্ট। তারা বলছেন, এর আগে আমরা আমাদের বিভাগ থেকে রোগীদের শুধু কেমোথেরাপি দিতে পারতাম। এখন এর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আমাদের দেশের বেশিরভাগ রোগীই বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিদেশে চলে যায়। তাদের বিদেশে যাওয়ার কারণে ২৫-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। পাশের দেশ ভারতে ১৫-২০ লাখের কমে এই চিকিৎসা সম্ভব হয় না। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যয় প্রায় ৩/৪ ভাগ কমে আসবে। ৩- ৫ লাখ টাকার মধ্যেই করা সম্ভব হবে। চিকিৎসকরা আরও বলেন, আমরা এই কাজের জন্য কোনো ফান্ড পাইনি। আমরা সেলফ জেনারেটেড মানি দিয়েই এই চিকিৎসা শুরু করলাম। আমাদের কাছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ট্রিটমেন্ট শুরু করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। ইফতে আরার চিকিৎসা প্রসঙ্গে হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, এটা আসলে একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ১ এপ্রিল আমরা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করি। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো করা হলো। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি কম খরচে  বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টটি করার। তিনি আমাদের প্রথম রোগী হওয়ার কারণে আমরা রোগীর কাছ থেকে সরাসরি কোনো অর্থ নিইনি। যতদূর পেরেছি বলেছি  এই জিনিসগুলো লাগবে, রোগীর জন্য নিয়ে আসুন। তিনি বলেন, ‘রোগী বুধবার বাড়ি ফিরে গেছেন। রোগীকে আমাদের কাছে ১৫ দিন, ১ মাস পর পর কিছুদিন ফলোয়াপে আসতে হবে। আমরা তাকে সেভাবেই নির্দেশনা দিয়েছি। এরপর আর ঘন ঘন আসা লাগবে না।   / এআর /

মাইগ্রেন চিকিৎসায় আসছে নতুন ওষুধ

মাইগ্রেন চিকিৎসায় নতুন এক ওষুধ আবিষ্কার করে সেটিকে ভিন্ন মাত্রা হিসেবে বর্ণনা করছেন গবেষকরা। গবেষকরা বলছেন, মাইগ্রেন বা অস্বস্তিকর মাথা ব্যাথায় আগের সব ওষুধ ব্যার্থ হলেও নতুন এ ঔষধ কাজ করবে। কয়েক দশকে এই প্রথম কার্যকরী ওষুধ আসছে বলে জানা গেছে। গবেষকরা বলছেন, মাইগ্রেন বা দীর্ঘ সময়ের মাথা ব্যথা সারাতে অন্য সব ওষুধ বা চিকিৎসা যখন ব্যর্থ হবে, তখন এই নতুন ওষুধ কাজ করবে। নতুন এই ওষুধটি হচ্ছে ইনজেকশন। মাসে একবার এই ইনজেকশন নেওয়া যাবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে এরেনুম্যাব। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস অল্প সময়ের মধ্যে মাইগ্রেন রোগীদের কাছে এই ঔষধ নিয়ে যাবে। যদি এর দাম সামর্থের মধ্যে বা একটা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে। নতুন এই ওষুধের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে এক চিকিৎসা বিষয়ক সম্মেলনে। গবেষকরা বলেছেন, এই ওষুধ গুরুতর মাইগ্রেন আক্রান্ত এক তৃতীয়াংশ মানুষকে সাহায্য করবে। এতদিন চার ধরনের যে চিকিৎসা রয়েছে, তাতে অস্বস্তিকর মাথা ব্যথার নিরসন হচ্ছে। সেখানে নতুন এই ঔষধ কাজ করবে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন। একজন মাইগ্রেন রোগী মাসে যতবার এই রোগে আক্রান্ত হন, নতুন ঔষধ ব্যবহারে আক্রান্তের সেই হার অর্ধেকে নেমে আসবে। এরেনুম্যাব নামের এই ইনজেকশন মাইগ্র্রেনের অন্যান্য ঔষধ থেকে ভিন্নভাবে কাজ করবে। এটি উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও মাইগ্রেনের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এটি মাইগ্রেন প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করবে। মাইগ্রেন বা দীর্ঘ সময় ধরে অস্বস্তিকর মাথা ব্যাথ্যা ভুগছেন, এমন মানুষ আমাদের চারপাশেই রয়েছে। বৃটেনে সাতজনে একজন ভুগছেন এই মাইগ্রেন সমস্যায়। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা যখন ঘন্টার ঘন্টা বা দিন পেরিয়ে শেষ হয় না, তখন তার জন্য কাজ করা, বিশ্রাম নেওয়া বা ঘুমানো, কোনটাই সম্ভব হয় না। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের ৩৭ বছরের র‍্যাচেল ওয়ালস ১৭ বছর বয়সে মাইগ্রেনে আক্রান্ত হন। দুই দশকে তিনি অনেক ঔষধ খেয়েছেন এবং বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু কোনও ফল পাননি। তিনি বলছিলেন, ব্যাথা যখন ওঠে, তখন একেবারে সহ্য করা যায় না। অনেক ঔষধ খেয়েছি। পেইন কিলার আমার আরও ক্ষতি করছে। আমার চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এখন নতুন ঔষধ একটা বড় পরিবর্তন আনবে। মানুষকে স্বস্তি দেবে। সূত্র: বিবিসি একে// এআর

হৃদরোগের ৯ কারণ: মূলে টেনশান

মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে হার্ট বা হৃৎপিণ্ড। এ হৃদপিণ্ড বা হার্টের অনেক ধরনের রোগ হয়ে থাকে। বিশ্বে প্রতিবছর দেড় কোটিরও বেশি মানুষ করোনারি হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। আর পাশ্চাত্যে মোট মৃত্যুর শতকরা ৪৫ ভাগই ঘটে হৃদরোগে। পাশ্চাত্যের অন্ধ-অনুকরণ আর ভ্রান্ত জীবনাচরণের কারণে বাংলাদেশসহ প্রাচ্যের দেশগুলোতেও এ রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। তবে এই রোগ একদিনে হুট করে হয় না। দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে ধমনীতে কোলেস্টেরল জমেই এ রোগের সূত্রপাত ঘটে। মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিচটন দীর্ঘ গবেষণার পর দেখিয়েছেন, হৃদরোগের কারণ প্রধানত মানসিক। ভ্রান্ত-জীবনদৃষ্টির কারণে যে জিনিসটি প্রথম তৈরি হয় তা হলো টেনশন বা স্ট্রেস। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, আবেগের আগ্রাসন, কাজের বাড়তি চাপ প্রভৃতি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। জীবনে ক্রমাগত আশঙ্কা বেড়ে যাওয়া, কাজ-কর্মে তাড়াহুড়ো, আধুনিক জীবনযাত্রায় নিত্য দিনের দুর্ভাবনা এককথায় স্ট্রেস সরাসরি আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ও হৃৎপিণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত টেনশন বা স্ট্রেসের ফলে শরীর থেকে এড্রেনালিন, নর-এড্রেনালিন ও কর্টিসোল নামক স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। ফলশ্রুতিতে দেহের অধিকাংশ পেশী যে পরিমাণ সংকুচিত হয় সেই পরিমাণ শিথিল হতে পারে না। এর মধ্যে যেমন বড় বড় পেশী রয়েছে তেমনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পেশীও রয়েছে। ফলে তৈরি হচ্ছে ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে ব্যথা, পিঠে ব্যথা। আবার করোনারি ধমনীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাংসপেশীর সংকোচনের ফলে তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা যে সব কারণকে হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে থাকেন তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো- ১. বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। ২. লিঙ্গ: মহিলাদের চেয়ে পুরুষেরা হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে মেনোপজের পরে মহিলাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ৩. বংশগত: বাবা-মায়ের হৃদরোগ থাকলে তাদের সন্তানদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধিক থাকে। এর মূল কারণ পরিবারের একই খাদ্যাভ্যাস ও ধূমপানের অভ্যাস। ৪. ধূমপান: হৃদরোগ হওয়ার পেছনে ধূমপানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি নিয়মিত ধূমপান করে থাকেন তার হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঝুঁকি থাকে। ৫. উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের একটি মারাত্মক রিস্ক ফ্যাক্টর। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদপিন্ডের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ৬. রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রার আধিক্য: রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার আধিক্য হৃদরোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রিস্ক ফ্যাক্টর। ৭. ডায়াবেটিস: হৃদরোগ হওয়ার পেছনে ডায়াবেটিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ৮. অতিরিক্ত ওজন এবং মেদস্থূলতা: অধিক ওজন হলে শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে হৃদপিণ্ডের অধিক কাজ করতে হয়। যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ৯. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: শারীরিকভবে নিস্ক্রিয় লোকদের হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অলস জীবন-যাপন করোনারি হৃদরোগের জন্য আরেকটি রিস্ক ফ্যাক্টর। কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এ কারণগুলো ছাড়াও যে বিষয়টির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মনোযোগ দিচ্ছেন তা হলো স্ট্রেস বা টেনশন। এমনকি বিজ্ঞানীরা উপরোক্ত সবগুলো কারণের মধ্যে একক গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে স্ট্রেসকে চিন্থিত করছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনও ব্যক্তির রক্তের উচ্চ কোলেস্টেরল লেভেল, উচ্চ রক্তচাপ বা ধূমপানের অভ্যস থাকা সত্ত্বেও স্ট্রেস- ফ্রি থাকার কারণে তিনি হৃদরোগ থেকে মুক্ত রয়েছেন। আবার উপরোক্ত কারণগুলো না থাকা সত্ত্বেও শুধু স্ট্রেসের কারণে কোনও ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। একে// এসএইচ/

হৃদরোগীদের খ্যাদ্যাভাস

অধিকাংশ হৃদরোগীদের ধারণা শুধু অপারেশন করে, হৃদযন্ত্রে রিং বসিয়ে এবং বাইপাস সার্জারি করার মাধ্যমে হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু এসব অপারেশন করলেও পুনরায় হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। অথচ আপনি যদি খাদ্যাভাস এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন করেন তাহলে আপনি সহজেই হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে শতভাগ রক্ষা পেতে পারেন। চর্বিমুক্ত খাবার, ফলমুল ও শাকসবজি এবং নিয়মিত হাঁটাচলা করলে হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আপনাদের সুবিধার্থে প্রতিদিনের খাদ্যাভাস কিভাবে সাজাবেন তা উল্লেখ করা হলো। ঘুম থেকে উঠার পর * ৮-১০ টি তুলসী পাতা এবং এক টুকরো আদা এক সাথে ৫ মিনিট ধরে চিবিয়ে খাবেন। * একমুঠ পরিমাণ ভিজানো ছোলা খবেন। * প্রতিদিন একটি ডাব খাবেন। সকালের নাস্তা প্লেট-০১: ৩-৪ ধরণের ফল খাবেন। এর মধ্যে আমড়া/ জাম্বুরা/ পেঁপে/ আনারস/ পেয়ারা/ আম/ আপেল/ মাল্টা ইত্যাদি ফল খেতে পারেন। প্লেট-২: লাল আটার রুটি+সবজি (মটরশুঁটিসহ)+ডাল+ভেজিটেবল স্যুপ/যেকোনো ভেজিটেবল রেসেপি। হালকা নাস্তা (সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা) যে কোনো ভেজিটেবল রেসিপি/ সয়াদুধ/ফল স্যুপ/ সালাদ/ ছাতু ইত্যাদি। দুপুরের খাবার (১ টা থেকে ২ টা) প্লেট-০১: ৩-৪ ধরনের সালাদ খান। সাথে ১-২ ধরনের সবুজ পাতা খান। (পেঁপে/ শশা/ গাজর/ টমেটো/ ক্যাপসিকাম/ বিট+পুদিনা/ লেটুস পাতা/ ধনে পাতা)। প্লেট-০২: ভাত ১ কাপ/ লাল আটার রুটি ২টি+ সবজি (মটরশুঁটিসহ)+ ডাল+ শাক+ ভর্তা। বিকালের নাস্তা (দুপুর ৪টা থেকে ৫টা) সয়াদুধ/ ভিজানো কিসমিস/ ভিজানো খেজুর/ যে কোনো ফল/ ভেজিটেবল স্যুপ/ যে কোনো ভেজিটেবল রেসিপি। রাতের খাবার (রাত ৮ টার মধ্যে) প্লেট-০১: *৩-৪ ধরনের সালাদ খান। সাথে ১-২ ধরনের সবুজ পাতা খান।(পেঁপে/ শশা/ গাজর/ টমেটো/ ক্যাপসিকাম/ বিট+পুদিনা/ লেটুস পাতা/ ধনে পাতা)। প্লেট-০২; ১ কাপ ভাত/লাল আটার রুটি ২টি +সবজি(মটরশুঁটিসহ)+ডাল+শাক+ভর্তা/ ভেজিটেবল স্যুপ/ যে কোনো ভেজিটেবল রেসিপি/ ফল। সব সময় মসলা চা (হুনজা টি) যাদের চা পানের অভ্যাস আছে তারা চায়ের পরিবর্তে ‘হুনজা টি’ খেতে পারেন। হুনজা টি তৈরির পদ্ধতি: উপাদানসমূহ- *৪ কাপ ফিল্টার পানি *৮টি তুলসী পাতা *১২ টি পুদিনা পাতা *৪ টি সবুজ এলাচি *১/৪ ইঞ্চি দারচিনি *২০ গ্রাম সতেজ আদা *২০ গ্রাম তাল-মিসরী *লেবু প্রস্তুত প্রণালী: *সবগুলো উপাদান একসাথে নিয়ে ৫-৬ মিনিট ফুটান। *স্বাদের জন্যে প্রয়োজনমত লেবুর রস দিয়ে হুনজা টি পান করুন। এমএইচ/টিকে

হৃদরোগীদের জন্য ১০ পরামর্শ

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিবছর দেড় কোটির বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আর এই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার বড় কারণ হচ্ছে জীপন যাপনে শৃংখলা না থাকা। হৃদরোগ থেকে সুস্থ থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মনিরুজ্জামান ১. প্রতিদিন একই খাবার গ্রহণ করুন। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান। রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিন। ২. প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে কমপক্ষে ৩০ মিনিট রোদে কাটান। ৩. প্রদিদিন দুই বেলা মেডিটেশন করুন। প্রতিদিন ৩ দফা প্রাণায়াম করুন। ৪. কাঙ্খিত ওজন বজায় রাখুন। ৫. প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটুন (ঘণ্টায় ৪ মাইল বেগে)। ৬. প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট যোগ ব্যায়াম করুন (উজ্জীবন, ত্রিকোনাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, পার্শ্ব-অর্ধচন্দ্রাসন, বৃক্ষাসন, উৎকটাসন, অর্ধ-শলভাসন, ভূজঙ্গাসন, পবনমুক্তাসন, গোমুখাসন, উষ্ট্রাসন, বজ্রাসন, শবাসন)। ৭. প্রতিদিন বিকল্প আমিষ হিসেবে সয়াদুধ/ সয়া প্রোটিন ড্রিংকস, স্পিরুলিনা, মাশরুম, মটরশাঁটি, শিম বা বরবটি, বিভিন্ন রকম বীজ, ডাল খান। ৮. শাক সবজি অর্ধসিদ্ধ করে খাওয়ার চেষ্টা করুন। ৯. লাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি খান। ভাত ও রুটিন পরিমাণ সীমিত রাখুন। প্রতিদিন চা চামুচের ১ চামুচ মধু খান। ১০. প্রতিদিন ১টি করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেট সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খান। প্রয়োজনে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। একে//এসএইচ/  

ধূমপান ছাড়ার ৭ উপায়

বর্তমান বিশ্বে ধূমপানের আগ্রহ বেড়েই চলেছে। ধূমপান এমনি খারাপ একটি অভ্যাস যা নেশা উঠলে ধূমপান না করা পর্যন্ত শরীরে বা মনে স্বস্তি আসে না। এই বাজে অভ্যাসটিকে অনেকেই ছাড়ি ছাড়ি বলে ছাড়তে পারে না। ধূমপানের নেশা ছাড়ার উদ্দ্যেগকে সফল করার জন্য কয়েকটি উপায় অবলম্বন করতে হবে। তাহলেই সম্ভব- ১. বেশি করে পানি পান করুন যখনই ধূমপান করতে আগ্রহ জাগবে তখনই অন্তত দুই গ্লাস করে পানি খেয়ে নিন। এতে করে আপনার দেহে যে ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল ধূমপান না করার কারণে তা নষ্ট হবে। এছাড়া আপনার ধূমপানের ইচ্ছাও অনেকটা চলে যাবে। তাই পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২. বিভিন্নভাবে শুকনা মরিচ গুঁড়ো খাবেন   একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্নভাবে যদি নিয়মিত মরিচ গুঁড়ো খাওয়া যায়, তাহলে ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ধূমপানের কারণে লাং-এর যে ক্ষতি হয়েছে, তাও ধীরে ধীরে কমতে থাকে। শুধু তাই নয়, ধূমপান করার ইচ্ছাও কমে যায়। ফলে নেশার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। ৩. মুলার রস এক গ্লাস মুলার রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে দিনে দুইবার করে খেলে ধূমপানের ইচ্ছা একেবারে কমে যায়। তাই তো আজও মূলোর উপর ভরসা রাখেন আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞরা। ৪. আঙুরের রস ধূমপানের নেশা ছাড়াতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে আঙুরের রস। কারণ এতে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান এবং স্বাস্থ্যকর অ্যাসিড শরীরে ডিটক্সিফাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এতে একদিকে যেমন ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাও কমতে শুরু করে। ৫. আদা ধূমপান ছাড়তে আদার সাহায্য নিন। আসলে এতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান নানাভাবে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাকে কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ধূমপান ছাডা়র কারণে যেসব উইথড্রল সিম্পটন দেখা দেয়, সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাটাই চলে যায়। এক্ষেত্রে আদা চা বা কাঁচা আদা লবণ দিয়ে খেতে পারেন। ৬. মধু মধুতে উপস্থিত বেশ কিছু ভিটামিন, এনজাইম এবং প্রোটিন শরীর থেকে নিকোটিন বের করে দেওয়ার পাশাপাশি সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ধূমপান ছাড়তে কোনও অসুবিধাই হয় না। ৭. ওটস সিগারেটের নেশা ছাড়াতে ওটসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো বহুকাল আগে থেকেই ধূমপানের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে তাতে সামিল করা হয়েছে এই উপাদানটিকে। দুই কাপ ফোটানো পানির সঙ্গে এক চামচ ওটস মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে পানিটি আবার দশ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে প্রতিটি খাবারের পর অল্প করে খেতে থাকুন। সূত্র : বোল্ডস্কাই কেএনইউ/টিকে

ওষুধ ছাড়া ডায়বেটিসকে দূরে রাখবেন যেভাবে

আগে বলা হতো, একবার ডায়বেটিস হলে তা নাকি সারাজীবন থাকে ৷ তবে এ আর এখন সত্য নয়। বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সমীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে সতর্কভাবে সঠিক খাবার খাওয়া হলে ডায়বেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব৷ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে ওজন কমানো খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে অতিরিক্ত ওজন কমানোর মাধ্যমে ডায়বেটিস শতকরা ৯০ ভাগ কমানো সম্ভব ৷ যদি সে রোগীর ডায়বেটিসে ভোগার সময়কাল চার বছরের কম হয়ে থাকে৷ একথা জানান, জার্মান ডায়বেটিস বিশেষজ্ঞ প্রফেসার স্টেফান মার্টিন৷ নুডলস যখন ‘বিষ’ নুডলস বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের শর্করা রক্তে চিনির মাত্রা মুহূর্তের মধ্যেই বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে শরীরের কোষে ইনসুলিন হরমোন ছড়িয়ে পড়ে৷ দিনে মাত্র ৬০০ ক্যালোরি ২০০ ডায়বেটিস রোগী নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়বেটিস রোগীরা কড়া ডায়েটিং করে, অর্থাৎ দিনে মাত্র ৬০০ ক্যালরি প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ঔষুধ সেবন বন্ধ করতে পেরেছেন৷ তাছাড়া দীর্ঘ তিন মাস শর্করা জাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়ে শুধু প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়েও একই ফল পাওয়া গেছে৷ তিন বেলা প্রোটিন তিন সপ্তাহ ধরে তিন বেলাই প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে অবশ্যই রক্তে চিনির মাত্রা কমে যাবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ স্টেফান মার্টিন৷ মাছ, মুরগি, ডিম, মটরশুটি এবং দুধ জাতীয় খাবারে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন৷ বাদামও খুব উপকারী ডায়বেটিস রোগীকে প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম, আখরোট খাওয়ার কথা পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। কারণ, বাদামের ম্যাগনেশিয়াম ইনসুলিনের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখে৷ সবজি ও বিভিন্ন সালাদ পাতা এ সবে ক্যালরি প্রায় নাই বললেই চলে৷ তবে এতে থাকা পানি পেট ভরায় এবং খুব ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে৷ সালাদের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিলে অনেকক্ষণ খিদেও পায় না৷ তাই প্রচুর সালাদ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা৷ স্ট্রবেরি, আপেল এ সব ফলে অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক কম শর্করা রয়েছে৷ কাজেই ওজন কমাতে এবং ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনও চিন্তা না করে এ ধরনের ফল যত খুশি খাওয়া যায়৷ বাইরের কেনা খাবার একেবারেই বাদ রাখুন ডায়বেটিস রোগীর এক প্লেট খাবারের অর্ধেকটাই হতে হবে সালাদ বা সবজি৷ আর বাকি অর্ধেকে চার ভাগের তিন ভাগ প্রোটিনযুক্ত খাবার আর এক ভাগ থাকতে পারে শর্করা জাতীয় খাবার৷ বাইরের কেনা খাবার একেবারেই বাদ রাখুন৷ এই নিয়মগুলো মেনে চললে ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা মোটেই কষ্টকর নয়৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//টিকে

২১ এপ্রিল রাজধানীতে নিউট্রিশন অলিম্পিয়ার্ড

সম্মিলিতভাবে অপুষ্টি মোকাবেলার লক্ষে অাগামী ২১ এপ্রিল রাজধানীর অাগারগাঁওয়ে বিঅাইসিসি ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নিউট্রিশন অলিম্পিয়ার্ড- ২০১৮। জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সূচনামূলক অনুষ্ঠান হিসেবে এ অলিম্পিয়ার্ড অনুষ্ঠিত হবে। এ অলিম্পিয়ার্ডের প্রতিপাদ্য বিষয় সুস্থ জাতির জন্য যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং পুষ্টি। অলিম্পিয়ার্ডের অার্থিক সহযোগিতায় থাকবে ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। এ উপলক্ষে অাজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে দ্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অাইসিটি ইন ডেভেলপমেন্ট। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অলিম্পিয়ার্ডে পথনাটক, খাদ্য সাজানো প্রতিযোগিতা, রন্ধন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই অলিম্পিয়ার্ড জাতীয় নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নে যুব সমাজের কণ্ঠ তুলে অানার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে দাবি করা হয়। উল্লেখ্য, এর অাগে নিউট্রিশন অলিম্পিয়ার্ড অায়োজিত হয় ২০১৭ সালে। তখন অলিম্পিয়ার্ডে ৩০০ যুবক, সরকারি কর্মকর্তা, অান্তর্জাতিক ও জাতীয় সংগঠন, সুশীল সমাজ, বেসরকারি সেক্টর ও একাডেমি অংশগ্রহণ করে। অা অা/ এসএইচ/

চুন, সুপারী, জর্দা ও খয়ের ব্যবহারে হতে পারে ক্যান্সার[ভিডিও]

চুন, সুপারী, জর্দা ও খয়ের ব্যবহারে মুখের ক্যান্সার হতে পারে। আর পান দাঁতের সৌন্দর্য এবং পরিবেশ নষ্ট করে। ক্যান্সার ও দাঁতের রোগ থেকে বাঁচতে এখনই পান-জর্দা-গুলের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ধুমপানের মত পান খাওয়াটাও অনেকের কাছে সৌখিনতা, কারো কারো কাছে আবার নেশা। আর নাগরিক জীবনে কম হলেও গ্রামীণ সমাজে পানের ব্যবহার বেশি। পান পাতায় ক্ষতিকারক কোন কিছু না থাকলেও পানের সঙ্গে চুন-সুপারি-খয়ের-জর্দা খেলে ক্ষতি হয় দাঁতের, সেইসঙ্গে হতে পারে মুখের ক্যান্সার। তবে পানের সাথে চুনের ব্যবহার ক্ষতিকারক। চুনের ক্যালসিয়াম হাইড্রো- অক্সাইড বা ক্যালসিয়াম অক্সাইডের কারণে মুখে আলসার বা ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া দাঁেতর সৌন্দর্য হানিতো আছেই। চুন ব্যবহারে কিডনীতে পাথরও হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সুপারী ছাড়া তো পান চলেইনা। অথচ দীর্ঘ দিন সুপারী খেলে মুখের ক্যান্সার হওয়ার শংকা রয়েছে। তাছাড়া কাঁচা সুপারী চিবালে অ্যাজমা, রক্তচাপ ও নাড়ির স্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত পান খেলে মুখসহ চোখেরও ক্ষতি হতে পারে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা। পানের সঙ্গে বেশী খয়ের খেলে ফুঁসফুঁসেরও ক্ষতি হতে পারে বলে জানান তারা।

কণ্ঠের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার

আমাদের পারস্পারিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে কণ্ঠ বা কথা বলা। আমরা কণ্ঠস্বর নিয়ে খুব বেশী সচেতন নই। মারাত্মক কণ্ঠনালীর রোগ বা ক্যান্সারে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই না। প্রতি বছর ১৬ এপ্রিল বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালন করা হয়। কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং কণ্ঠকে সুস্থ রাখার উপায় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেক দ্য ভয়েস, টু চেরিশ ইউর ভয়েস’। বিশ্বের অন্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে এই দিবস। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস উদযাপন করে আসছে। সমগ্র বিশ্বে ২০০২ সাল হতে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালিত হচ্ছে। ব্রাজিলে ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম মানুষের কণ্ঠ ও কণ্ঠনালীর সমস্যা এবং নাক কান গলা রোগ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য জাতীয় কণ্ঠ সপ্তাহ পালিত হয়। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয়- ‘কণ্ঠের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু (বিভাগীয় প্রধান, নাক, কান, গলা বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল)। ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। শ্রুতিলিখন করেছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস। কণ্ঠ নিয়ে এতো আলোচনা কেনো? উত্তর : আমরা আমাদের ঘুম নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের কান নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের চোখ নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের হার্ট নিয়ে চিন্তা করি। কিন্তু আমরা কি কখনও আমাদের কণ্ঠ নিয়ে চিন্তা করি? কণ্ঠও যে আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা হয়তো ভাবি না। আপনি জানেন যে- কণ্ঠের মাধ্যমে মানুষ একজন আরেক জনের সঙ্গে কথা বলে। কণ্ঠ শুধু কণ্ঠ না। এটি কিন্তু মানুষের ব্যাক্তিত্বেরও পরিচায়ক। যারা কণ্ঠকে ব্যবহার করেন, যেমন শিক্ষক, অ্যাডভোকেট, রাজনীতিবিদ, সঙ্গীতশিল্পী, আবৃত্তিকার, অভিনয় শিল্পী, উপস্থাপক, এমনকি আমরাও যারা কণ্ঠ ব্যবহার করছি তাদের কিন্তু কণ্ঠের যদি কোন সামান্য ত্রুটিও হয় তখনই বোঝা যায় কণ্ঠের গুরুত্ব কি! এই কণ্ঠ কিন্তু প্রতিটি মানুষের জন্য ইউনিক। এটি কিন্তু বংশগত একটা প্রাপ্তি। আমরা অনুশিলনের মাধ্যমে কিছুটা পরিমার্জিত করতে পারি। প্রশ্ন : এবারের কণ্ঠ দিবসে একটা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, তা হচ্ছে- শিক্ষকদের কণ্ঠ। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষকদের কণ্ঠ খুবই দুর্বল। অর্থাৎ তাদের কথা শিক্ষার্থীরা শুনতে পারেন না যারা ক্লাসে থাকেন। এতে তো শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতিও হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন? উত্তর : কণ্ঠস্বর কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব ও তার কমান্ডকে এনশিওর করে। যারা কণ্ঠ কেন্দ্রীক কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের কিন্তু অবশ্যই ভালো কণ্ঠের অধিকারি হতে হয়। তার কণ্ঠ যারা শুনছেন তাদের কাছে স্পষ্ট পৌঁছাতে হবে। শুধু শিক্ষক নয়, সবার কণ্ঠেরই যত্ন নেওয়া জরুরী। কণ্ঠের যত্ন না নেওয়া ছাড়া আপনি কখনও সমাজে নিজেকে বিকশিত করতে পারবেন না। প্রশ্ন : একজন বয়স্ক লোকের খুব ভালো কণ্ঠস্বর ছিল। হঠাৎ করে কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন আসলো। কি করাণে হতে পারে? উত্তর : আসলে এটি আমি একটু ভিন্ন ভাবে বলতে চাই। সেটা হলো বাচ্চাদের হতে পারে। বয়স্কদের হতে পারে। বিভিন্ন বয়সে আমরা বিভিন্ন ভাবে চিন্তা করি। সাধারণ বিষয় হচ্ছে সকল বয়সের মানুষের কেনো কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়? ভোকাল কর্ড বা ল্যারিংসের নার্ভের দুর্বলতা বা কোন সমস্যার জন্য কণ্ঠনালীর পরিবর্তন হতে পারে। ভাইরাস জনিত প্রদাহের জন্য নার্ভের দুর্বলতা হয়। সাধারণত এক দিকের নার্ভ-ই প্যারালাইসিস হয়, দুই দিকের নার্ভ একই সঙ্গে আক্রান্ত হওয়া খুবই বিরল। এক দিকের নার্ভ প্যারালাইসিসের কারণ হচ্ছে ভাইরাল ইনফেকশন, টিউমার, ক্যান্সার ও থাইরয়েড অপারেশন। কণ্ঠনালীর প্যারালাইসিসের জন্য ফেঁসফেঁসে আওয়াজ হয় এবং এটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন : কণ্ঠনালীর ক্যান্সার বিষয়টি কি? উত্তর : আমাদের দেশে গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের প্রকোপ অনেক বেশি। গলার স্বর পরিবর্তনের পনের দিনের মধ্যে ভালো না হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার। রোগীর ইতিহাস, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে প্রাথমিকপর্যায়ে ক্যান্সার নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারকে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কণ্ঠনালীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করে চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় এবং এ রোগের সব ধরণের চিকিৎসা যেমন- সার্জারী, কেমোথেরাপী ও রেডিওথেরাপী আমাদের দেশে বিদ্যমান। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন : এসএ/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি