ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:৩৭:১৯

মিরপুরে গ্যাস বিস্ফোরণ : তিন জনের কেউই বাঁচলো না

মিরপুরে গ্যাস বিস্ফোরণ : তিন জনের কেউই বাঁচলো না

রাজধানীর মিরপুরে একটি ভবনে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ছেলে তামিম ও স্ত্রী মিনার মৃত্যুর পর দগ্ধ মানিকও (৩৫) মারা গেছেন। তার শরীরের ৯৫ ভাগেরও বেশি দগ্ধ হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মিরপুরে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে শিশুর মৃত্যু, মা-বাবা দগ্ধ

রাজধানীর মিরপুরের এক ভবনে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে তানিম নামে সাত মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন শিশুটির বাবা-মা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের চার নম্বর রোডের পাঁচতলা ওই বাড়ির নিচতলার একটি ঘরে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বাড়ির কেয়ারটেকার মানিক মিয়া (৩৫) তার স্ত্রী মিনা আক্তার (২২) এবং তাদের সাত মাসের ছেলে তামিমকে নিয়ে নিচতলার ওই ঘরে থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে নিচতলায় পানির মোটর চালু করার সময় পাশে থাকা ট্যাংকি থেকে গ্যাস বিস্ফোরিত হয়। এতে দগ্ধ হন তারা। হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশু তানিম মারা গেছে। আর আহত স্বামী-স্ত্রীকে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ওই বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নেভানোর পর তারা তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু তামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, মানিকের শরীরের ৯৫ শতাংশ এবং মিনার ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, গ্যাস লাইনে ত্রুটির কারণে ওই বাসার গ্যাস জমে গিয়েছিল। ওই অবস্থার মধ্যে সিগারেট ধরাতে গেলে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করছেন তারা। একে// এআর  

নীতিমালা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কার চালকরা  

ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর গাড়ি চালাতো মো. ইকবাল। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে মালিকের সন্তানদের নিয়ে সিদ্ধেশ্বরী থেকে ধানমন্ডী যেতো ১২ হাজার টাকা বেতনের ইকবাল। ফিরত বিকেল ৩টায়। মধ্যে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার মালিকের সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে পৌঁছে দিতে হতো। ফিরতে ফিরতে রাত ৮টা। এরই মধ্যে হয়ত মালিকের বৌয়ের কোন পার্টি বা অন্য কোনো কাজ থাকলে তাকে নিয়ে আবার দে ছুট।  কোনো দিন রাত ১১টা আবার কোনো দিন রাত ১টা। বাসায় ফিরে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় গড়াগড়ি। আবার যে আগামীকাল সকাল ৬টায় তাকে উঠতে হবে। সেই ভাবনা ভাবতে ভাবতে সামনে আসে কিছু সুখ দুঃখের স্মৃতি।  এমনি করতে করতে রাত আড়াইটা বা ৩টার দিকে ঘুম।  পরের দিন আবার শুরু।  সপ্তাহে ৭ দিন এমন চলে তার।  হঠাৎ একদিন তার মেরুদণ্ডে সামান্য একটা অস্ত্রপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে তাকে ২০ দিনের মতো বিশ্রামে থাকতে হয়। এতদিন কি আর সাহেব বসে থাকবেন। তাই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেন। সুস্থ হলে আবার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয় ইকবাল।  কয়েক মাস গাড়ি চালানোর পরে একদিন গভীর রাতে গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফেরার পর প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয় ইকবাল। সকালে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ডাক্তার তাকে চিকুনগুনিয়ার কথা জানায়। ব্যাস, চলে যায় এ চাকরিটাও। বর্তমানে চাকরির খোজে হন্নে হয়ে ঘুরছে মা-বাবা হারানো মাদারীপুরের ইকবাল। এত কম সময় ঘুমিয়ে কিভাবে গাড়ি চালায় জানতে চাইলে তিনি জানান, যাত্রী আনা নেওয়ার ফাঁকে যতটুকু সময় পাওয়া যায় তখন একটু ঘুমিয়ে নেন। অনেক সময় ঘুমানোর সুযোগ না পেলে তন্দ্রা আসে। তখন গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হয়।  একবার চালানো অবস্থায় হালকা তন্দ্রা এসে যাওয়ায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আরেকটি গাড়ির পিছনে তার গাড়িটি লেগে যায়।  পুলিশ একটি মামলা দিয়ে ছেড়ে দেয়।  আক্ষেপের সঙ্গে ইকবাল বলেন, এক টাকাও চুরি করি না। সিএনজি গ্যাস সাহেব নিজেই ঢুকায় তার পরেও সাহেবরা সন্দেহের চোখে আমাদের দেখে।  তারা মনে করে ড্রাইভার মানেই চোর, বাটপার। এক ছেলে, এক মেয়ে ও বউ নিয়ে দক্ষিণখানে বাবুলের ছোট্ট সংসার।  ২০০০ সাল থেকে প্রাইভেটকার চালিয়ে আসা বাবুলের বর্তমান বেতন ১৬ হাজার টাকা।  যখন শুরু করেছিল তখন ছিল পাঁচ হাজার।  তিনি জানান, তার বর্তমানে সংসারের খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা।  বেতনের দিগুণ খরচ তিনি কিভাবে বহন করেন জানতে চাইলে বাবুল জনায়, তিনি যে গাড়িটি চালায় সেটি অকটেনে চলে।  তাই সুযোগমতো সেখান থেকে কিছু ইনকাম করে।  আবার গ্রেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করা আছে।  তাদের গ্রেজে গাড়ি মেরামত করলে সেখান থেকে কমিশনতো পাবেই সঙ্গে বাড়তি বিল করার সুযোগতো আছেই। এছাড়া গাড়ি থাকে ভাড়া করা একটি গ্রেজে। তাই সুযোগমত কাছাকাছি কোন ট্রিপ পেলে মালিককে না জানিয়ে রাতে ছোট্ট একটা ট্রিপ মেরে আসে। বাবুলের যুক্তিতে তার সব কাজগুলো বৈধ। তার বক্তব্য, যেহেতু তাদের বেতনের কোন নিয়মকানুন নেই।  এছাড়া সামান্য কারণেও বেতন কাটা হয়। আর বেতন বাড়ার আগেই চাকরি থেকে বরখাস্ত, তাই সংসার চালাতে তিনি এসব করেন। তবে ভিন্ন কিছু পাওয়া গেল, ১৯৯৪ সাল থেকে শিকদার গ্রুপের কর্ণধার নাসির শিকদারের পারিবারিক গাড়িচালক হিসেবে কাজ করে আসছে ইদ্রীস ফরাজি।  বর্তমানে তার বেতন ২৬ হাজার টাকা।  থাকা-খাওয়া মালিকের।  বর্তমানে তিনি অনেকটা নাসির শিকদারের পরিবারের সদস্যের মতই।  ইদ্রীস জানায়, দুই বছর আগে তার হার্টে দুটি রিং বসাতে হয়।  তখন তাকে প্রায় দুই মাস হাসপাতাল ও বিশ্রামে থাকতে হয়েছিল।  মালিক তাকে ছুটি দেন এবং চিকিৎসার প্রায় ৭০ ভাগ খরচ বহন করেন।  যতদিন গাড়ি চালাবেন তিনি নাসির শিকদারের গাড়ি চালাবেন বলে জানায় ইদ্রীস। এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিদ্যমান আইনে গাড়ি চালকদের জন্য কোন নীতিমালা না থাকায় শ্রমিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লক্ষাধিক গাড়ি চালক। অতিরিক্ত দায়িত্বপালন, কাজের তুলনায় স্বল্প পারিশ্রমিক, যখন তখন চাকরি চলে যাওয়ার কারণে অনেকটা অনিরাপদ তাদের জীবন। তাই বাড়তি আয়ের লোভে সুযোগ পেলেই নির্ঘুম থেকে বাড়তি ট্রিপ মারেন তারা। ফলে অনেক সময়ই ঘটে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তবে শ্রম মন্ত্রণালয় বলছে, একজন চালক পর্যাপ্ত বেতন পেয়ে থাকেন। আর সবাইকে শ্রম আইনের আওতায় আনা কষ্টকর। দুর্ঘটনার জন্য চালকদের লোভকেই দায়ি করছেন তারা। দেশের গাড়ি চালকদের একটি নীতিমালার জন্য দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন করে আসছে পেশাজীবী প্রাইভেটকার অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংগঠন। ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হোসেন সরদার জানান, দেশে বেশিরভাগ খাতের শ্রমিকদের জন্য নীতিমালা থাকলেও তাদের জন্য কোনো নীতিমালা নেই। সেই সুযোগে মালিকপক্ষ ইচ্ছামত কাজ করায়। অথচ তাদের বেতন বর্তমান বাজারে খুবই নগণ্য। আবার সামান্য অজুহাতে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। একটি নীতিমালার জন্য তারা অনেকবার শ্রম মন্ত্রণালয়ের দারস্থ হয়েছেন। সর্বশেষ গত বছর তারা শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তখন তাদের শিগগিরই একটা নীতিমালা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। শ্রম মন্ত্রণালয় একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছিল। পরে ভাবা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যায়। তবে পরবর্তি মিটিংয়ে বিষয়টি আবার উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানতে চাইলে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, চালকদের জন্য একটি নীতিমালা করার প্রয়জনীয়তা আছে। কিন্তু বিষয়টি অত্যান্ত দুরুহ। তাই তারা তরিগরি করছে না। এছাড়া তার মতে দেশের কোনো চালকের ১২ হাজার টাকার নিচে কোন বেতন নাই। তাই এটা অন্যান্য খাতের মত এতো গুরুত্বপূর্ণও না। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার ভাবছে। ধীরে ধীরে সব শ্রমিক নীতিমালায় আসবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তবে চালকরা কম বেতনের জন্য বাড়তি ট্রিপ মারে বা তাদের অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ এমন কথা মানতে নারাজ এই প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, অতি লোভের কারণে চালকরা বাড়তি ট্রিপ মারে। দেশের অনেক চালকের বেতন এখন ২০ হাজার টাকার বেশি। আর যারা ব্যক্তিগত গাড়ি চালায় তাদের হয়ত মাঝামাঝে বাড়তি ডিউটি করতে হয়; তর পরেও সেটা নিয়মিত না। এসএইচ/

বেপরোয়া বাইক চালক, উঠিয়ে দিচ্ছেন ফুটপাতেও [ভিডিও]

ফুটপাত দিয়ে মোটর সাইকেল চালালে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৩৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও এর প্রয়োগ নেই। বেপরোয়া চালকরা হরহামেশাই মোটর সাইকেল চালান ফুটপাত দিয়ে। এ’কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন পথচারীরা। রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে যানজট এবং সিগন্যাল নিত্যসঙ্গী। এ’কারণে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে ফুটপাত দিয়ে মোটর সাইকেল চালান অনেকে। মোটর সাইকেল চালকদের অনেকেই একে অপরাধ বলে মনে করেন না। তবে, পথচারীদের ভোগান্তির জন্য অনুতাপ করেছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, ফুটপাত দিয়ে মোটর সাইকেল চালানোর কারণে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন পথচারীরা। এ’ কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে বলেও জানান তারা। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরও, ফুটপাতে বেপরোয়া চালকরা মোটর সাইকেল চালানোর কারণে লোহার পাইপ দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন ট্রাফিক পুলিশ দক্ষিণের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মফিজউদ্দিন আহমেদ। পথচারীরা বলছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হলেই বন্ধ হবে ফুটপাতে মোটর সাইকেল চালানো।

কাঁচামাল সরবরাহের দ্বন্দ্বে বাড্ডায় খুন [ভিডিও]

রাজধানীর বাড্ডায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই নিহতের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আশরাফুল করিম। এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছেন নিহত কামরুজ্জামানের স্ত্রী। গত রোববার রাজধানীর বাড্ডায় স্থানীয় সাংসদ রহমতুল্লাহ ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হন জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই কামরুজ্জামান। একটি কোম্পানীর কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংঘর্ষের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কামরুজ্জামানের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। নিহত কামরুজ্জামানের পরিবার জুড়ে এখন শোকের মাতম। হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি তার স্ত্রীর। এদিকে পুলিশ বলছে, কামরুজ্জামান হত্যাকান্ডে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুজে বের করা হবে। এ ঘটনায় বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় বিরাজ করছে আতংক আর উত্তেজনা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন: তারানা

দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নারী সমাজসহ সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। সোমবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘লেখক সমাবেশ ও পারি সম্মাননা’অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহবান জানান। তিনি বলেন, একজন নারীর উচিত আরেকজন নারীর পথকে মসৃণ করে দেওয়া। প্রতিটি নির্যাতিত নারীর কথা যেমন আমাদের বলতে হবে তেমনি বলতে হবে সংগ্রামে সফল নারীর কথা। জনমত তৈরি করতে হবে দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে। নারী প্রগতির ত্রৈমাসিক ‘পারি’র সপ্তম বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক দিল মনোয়ারা মনু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পারি’র সম্পাদক লাইলা খালেদা। অনুষ্ঠানে সাত জন গুণী নারীকে নারীজাগরণে ও কর্মের মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করায় ‘পারি’-২০১৮ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণ করেন কবি কাজী রোজি, শিশুসাহিত্যিক ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ, প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম, সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক, লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন, কর্পোরেট নারী উদ্যোক্তা হাসনীন মুকতাদির এবং কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের পক্ষে নারী উদ্যোক্তা কনা রেজা। বাসস   এমএইচ/  

মৃত্যু ঘোষিত শিশুটি আশঙ্কামুক্ত নয়, তদন্ত কমিটি [ভিডিও]

কবরস্থান থেকে বেঁচে আসা শিশু মীমের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ওজন কম এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পারায় শিশুটি আশঙ্কামুক্ত নয়। মীম, পৃথিবীর আলোতে চোখ মেলে তাকানোর আগেই চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে তাকে। সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম হয় তার। মৃত ঘোষণার পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের জন্য নিলে গোসলের সময় নড়েচড়ে উঠে মীম। প্রাণের অস্তিত্ব টের পেয়ে শিশুটির মামা শরীফুল ইসলাম প্রথমে তাকে আজিমপুর মাতৃসদনে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নেওয়া হয় ঢাকা শিশু হাসপাতালে। সেখানে আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাকে। এ’ বিষয়ে শিশু হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, মীমের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, বাঁচার আশা ক্ষীণ। তারপরও তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে, মৃত ঘোষিত শিশু জীবিত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। // আর//

মৃত ঘোষিত নবজাতক জেগে উঠলো

অবিশ্বাস্য অনেক কিছুই ঘটে। কিন্তু নবজাতককে মৃত ঘোষণা করার পর গোসল করা সময় জেগে উঠলো। এটি অবিশ্বাস্য হলেও ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। সোমবার আনুমানিক সকাল ১০টায় শরিফুল নামে এক ব্যক্তি মৃত নবজাতককে দাফন করতে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে নিয়ে এলেন। কবরস্থানের মোহরার হাফিজুল ইসলাম নবজাতককে গোসল করাতে গোসলখানায় পাঠান। এসময় তিনি বাহক শরিফুলের কাছ থেকে অভিভাবকের নাম ঠিকানা লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গোসলখানায় জেসমিন আক্তার ঝর্ণা নামে এক নারী নবজাতকের গায়ে পানি ঢালতেই নবজাতকটি মৃদু নড়েচড়ে ওঠে। চোখে ভুল দেখছেন ভেবে আবার পানি ঢালতেই দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস ওঠানামা করছে। এবার তিনি অফিসে দৌড়ে গিয়ে খবর দিলে মোহরারসহ উপস্থিত সকলে ছুটে যান। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেন নবজাতক শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। বেলা পৌনে ১১টায় মোহরার হাফিজুল ইসলাম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সত্যিই অবিশ্বাস্য।’ তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে সকাল ১০টায় মৃত ঘোষিত নবজাতককে দাফনের জন্য আনা হয়। নবজাতককে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঢামেক হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে নবজাতক মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে নবজাতকের পিতার নাম- মিনহাজ। ঠিকানা- ধামরাই, ঢাকা লেখা হয়েছে। নবজাতক নড়াচড়া করছে বললে অভিভাবক দৌড়ে যান। হয়তো তারা নড়াচড়া করতে দেখেছেন বলে হাসপাতালে আবার নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, হায়াত থাকলে নবজাতকটি হয়তো বেঁচে যাবে। এসএইচ/

রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বাসে ধর্ষণের চেষ্টা

উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকে রাজধানীর তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রোববার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক তুরাগ বাস আটক করে। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আসামিকে গ্রেফতার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেয়। জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উত্তরা ৬নং সেক্টরে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আসার জন্য উত্তর বাড্ডা থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। এ সময় বাসে যাত্রী ছিল মাত্র ৭-৮ জন। এ সময় নাটকীয়ভাবে পরবর্তী স্টপেজগুলোতে বাস সামনে যাবে না বলে যাত্রীদেরকে নামাতে থাকে এবং নতুন কোনো যাত্রী উঠানো বন্ধ রাখে। পরে ওই ছাত্রীর সন্দেহ হলে তিনি বাস থেকে নামতে চেষ্টা করলে বাসের হেলপার দরজা বন্ধ করে দেয়। কনট্রাক্টর তার হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। কনট্রাক্টর-হেলপারের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে আসেন ওই ছাত্রী। তিনি অন্য একটি বাসে চড়ে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে কর্তৃপক্ষ আশানুরূপ কোনো সমাধান দিতে পারেনি। পরবর্তীতে সহপাঠী ছাত্রছাত্রীরা বিষয়টি জেনে আইনগত সহযোগিতার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে। কোনোভাবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় রোববার দুপুরে তারা ওই বাসটি ও হেলপার কনট্রাক্টরকে আটকের দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধন করে। উত্তরা পূর্ব থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, গুলশান থানা এলাকায় ছাত্রীর হাত ধরে টানাটানির একটি ঘটনা তিনি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে গুলশান থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি আরও জানান, যেহেতু ইউনিভার্সিটি উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় তাই এ এলাকায় ছাত্রছাত্রীরা মানববন্ধন করেছে। এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি