ঢাকা, শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

আইন ও বিধি মেনে দায়িত্ব পালন করুন: দুদক চেয়ারম্যান

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:৩১ ২১ নভেম্বর ২০১৯

আইন-কানুন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের আহবান জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন’র চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ আহবান জানান তিনি। এসময় দুদকের কর্মপ্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ হবে বলে মন্তব্যও করেন তিনি।

আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দুদকের ব্যর্থতাকে অকপটে স্বীকার করে নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার কারণও উল্লেখ করেন তিনি। এজন্য নিজের কর্মকর্তাদের অসততা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়াকেই সংস্থাটি ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী করেছেন। 

দুদক কেন ব্যর্থ হয় এমন প্রশ্ন রেখে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তারা যখন নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে পারেন না, তারা যখন তথ্য পাচার করেন কিংবা অনুসন্ধান বা তদন্তে নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেন না অথবা অনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়েন তখনইতো আমাদের ব্যর্থ হতে হয়। আর আপনারা যদি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে এ কাজগুলো করেন তাহলে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। এতে জনআস্থাও বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আত্মসমালোচনা করতে হবে। গত বছর আমরা কী করেছি, কী করার ছিল, কী করি নাই কিংবা আগামী বছর কী করবো এসব নিয়ে নিজেদের আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের কর্ম প্রক্রিয়া হবে উন্মুক্ত এবং স্বচ্ছ। আমরা আমাদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাই না, সফলতা না বললে ব্যর্থতা বলতে চাই।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘তারপরও সফলতা যতটুকু সবটাই আপনাদের আর ব্যর্থতাটুকু আমাদের। তবে আগামী বছর আপনাদের সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই বার্ষিক পারফরম্যান্স অ্যাপ্রেইজাল সংযোজন করা হবে এবং তা সকলকে পালন করতে হবে। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের পরিবর্তে বার্ষিক পারফরম্যান্স অ্যাপ্রেইজাল প্রচলন করা হবে।’

জনগণকে দুদকের কর্মপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও স্বচ্ছ করা হবে বলেও জানান তিনি। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণের চাহিদা অনুযায়ী আমরা সেবার জোগান দিতে না পারার কারণেই হয়তো আস্থার ঘাটতি কিছুটা রয়েছে। আর আস্থা তখনই বৃদ্ধি পাবে যদি আমরা আচরণ, নৈতিকমূল্যবোধ, কর্মপদ্ধতি, অঙ্গীকার, বিশ্বাস অর্থাৎ সার্বিক নৈতিক চেতনার অর্ন্তর্নিহিত বিকাশ ঘটাতে পারি।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুদকের গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই। কারণ সমালোচনার মাধ্যমে কেউ যদি আমাদের কর্ম-প্রক্রিয়ায় ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারেন সেটাকে আমরা সাধুবাদ জানাবো। কিন্তু কেউ যদি সমালোচনার জন্যই সমালোচনা করে এটা দুঃখজনক।’

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এমন কোনও কাজ করবেন না, যাতে আপনি নিজে লজ্জিত হন এবং কমিশনকে লজ্জায় ফেলে দেন।’

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত, প্রতিরোধ অনুবিভাগের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, পরিচালক মো. আক্তার হোসেন, নাসিম আনোয়ার ও উপ-পরিচালক মো. তালেবুর রহমান।

এমএস/এসি

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি