আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প
প্রকাশিত : ১৫:৪২, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্বজুড়ে তাঁর নেওয়া আগ্রাসী নীতিগুলো নিয়ন্ত্রণে তাঁর ‘নিজস্ব নৈতিকতাই’ যথেষ্ট।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাইছি না।’
এই হামলাকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ কিংবা বলপ্রয়োগের হুমকি নিষিদ্ধ।
ভেনেজুয়েলায় এই সামরিক পদক্ষেপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যখন গত মাসেই ট্রাম্প উদ্বোধনী ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ লাভ করেছিলেন।
হামলার পরপরই ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিপুল তেল সম্পদ ব্যবহার করবে। যদিও তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতার পথে এগোবে। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত ‘নির্দেশনা’ দেবে এবং মার্কিন দাবি অমান্য করা হলে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এদিকে রোববার দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ডেলসি রদ্রিগেজকে উদ্দেশ করে বলেন, “তিনি যদি সঠিক কাজটি না করেন, তবে তাকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে—সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়।”
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে হামলার ইঙ্গিত দেন এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচারণাও জোরদার করেন। এর আগে গত জুনে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্ত হয়ে দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে পশ্চিম গোলার্ধে নিজের স্বার্থ রক্ষায় ‘নিঃসংকোচে’ সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। সোমবার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলার বলেন, “আমরা একটি পরাশক্তি, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব।”
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এই ধরনের অবজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত বিভিন্ন চুক্তি, জাতিসংঘ কনভেনশন ও বহুপাক্ষিক সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যান করে দেওয়া মার্কিন বক্তব্যগুলো “অত্যন্ত বিপজ্জনক” এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
এমআর//
আরও পড়ুন










