ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২৬

উপদেষ্টা পরিষদে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিসহ ৭ অধ্যাদেশ অনুমোদন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:১২, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

উপদেষ্টা পরিষদে ৭টি অধ্যাদেশ, একটি ট্রিটি এবং একটি নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদনগুলো দেওয়া হয়। তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

বিকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এ তথ্য জানান। 

প্রেস সচিব জানান, উপদেষ্টা পরিষদে বাংলাদেশ বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ ২০২৬- এ খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স ২০২৬- এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটা রিভিউ করার জন্য আবার পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিনান্স করপোরেশন (এমেন্ডমেন্ট) অধ্যাদেশ ২০২৬ -এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে, জুয়া প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্স এমএলএ ট্রিটি বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড মালয়েশিয়ার খসড়া অনুমোদন হয়েছে। 

তিনি জানান, তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বিজিপি সইয়ের প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়াটা নিয়ে আবারও আলোচনা হয়েছে এবং এটাকে আবার রিভিউ করার জন্য আবার পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড অধ্যাদেশ ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট অধ্যাদেশ ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।

অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।

কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে নেতৃত্ব দেবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।

অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়া দেশি-বিদেশি সকল উপযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়-মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত সাতটি কলেজের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সহায়ক হবে এবং রাজধানীতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত, আধুনিক ও গবেষণা-সমৃদ্ধ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিক্ষা, গবেষণা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ইউজিসি নিয়মিতভাবে তদারকি করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

অধ্যাদেশ অনুমোদনের ফলে ঢাকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন ধারা সূচিত হলো, যা ভবিষ্যতে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি