ঢাকা, রবিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬

একাত্তরের পরাজিত শক্তিই ৭২ এর সংবিধানকে অস্বীকার করে: জাহিদ হোসেন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:৫২, ৪ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। যারা সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অস্বীকার করতে চায়, তারা মূলত একাত্তরের পরাজিত শক্তি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত এতিমখানা ও আশ্রমে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট-এর চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যারা ৭২-এর সংবিধানকে ছুড়ে ফেলতে চায়, তারা সেই সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল। তাই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস তাদের কাছে অস্বস্তিকর।’

তিনি বলেন, বিএনপি যেমন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করে, তেমনি ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। স্বৈরাচার বিরোধী বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, বিএনপি সেটিকে গুরুত্ব দেয়। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকারে এসেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। বিএনপির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দল নয়, আমরা জনগণের কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি এবং আগামী দিনে কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পিছু হটেননি; বরং অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনের পর ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন। একই ভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, কোনো আপস করেননি। তিনি দেশে থেকেই জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ রক্ষায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে গেছেন।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদকে একটি জাতীয় দলিল হিসেবে দেখে এবং সেটিকে সম্মান করে।

তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতেও যা বলা হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। 

তবে বিএনপি নিয়ম-নীতির ভিত্তিতে এগোতে চায়। রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগ দিয়ে হয় না; রাষ্ট্র পরিচালনা হয় নিয়ম, নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে।

জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস, দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি মো, আবু বক্কর সিদ্দিকসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দিনাজপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, জেলায় মোট ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার চেক শনিবার বিতরণ করা হয়। চেক পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৪টি এতিমখানা এবং ২টি সনাতন হিন্দু ধর্মীয় আশ্রম রয়েছে। 

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি