ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কর্ণফুলী রক্ষায় বন্দরের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: মনজিল মোরসেদ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০০:০৫, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বন্দর কর্তৃপক্ষ রক্ষকের ভূমিকার বদলে ভক্ষকের ভূমিকায় থাকায় কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপন উচ্ছেদ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ‘কালের ধ্রুবতারা: অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ’ শীর্ষক ডকুমেন্টারি ফিল্মের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, গত ১৬ বছর ধরে কর্ণফুলী নদী রক্ষায় সাতটি মামলা জিতলেও একই বিষয়ে বন্দরের সহায়তায় দখলদাররা বারবার নতুন মামলা করায় উচ্ছেদ কার্যক্রম থমকে যাচ্ছে। এর ফলে কর্ণফুলী নদী ভরাট হচ্ছে এবং দখলদারের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে এসব দখলদারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে একদিন কর্ণফুলী মৃত নদীতে পরিণত হবে।

জনস্বার্থে দায়ের করা সাড়ে তিন শতাধিক মামলার ঘটনাপ্রবাহ ও তাঁর জীবনী নিয়ে ‘কালের ধ্রুবতারা: অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ’ নামের ডকুমেন্টারি ফিল্মটি নির্মাণ করেছে নাগরদোলা ফিল্মস।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডকুমেন্টারি নির্মাতা আলীউর রহমান। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন দিলরুবা খানম ছুটি।

আলীউর রহমান বলেন, একজন মনজিল মোরসেদ নিজ অর্থায়নে দেশের জন্য জনস্বার্থে মামলা করে যে মাইলফলক স্থাপন করেছেন, তা চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। অন্যান্য আইনজীবীদের তাঁর এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা উচিত।

প্রিমিয়ার শো’র উদ্বোধক সাবেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী দখল বাড়ছে এবং প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা একটি নান্দনিক নগরকে বায়ুদূষণের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবুল মোমেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে সমাজে অসৎ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ যেভাবে নিজের অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করে চলেছেন, আমাদের সবারই তাঁর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা উচিত।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি কাজী আবুল মনসুর, চ্যানেল আই চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম ইতিহাস-সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মীর্জা মোহাম্মদ ঈসমাইল, চবি নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক সুবীর মহাজন, মানবাধিকার কর্মী তাপস হোড়, মিঠুল দাশগুপ্ত, প্রীতিলতা ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দেব, মামলার ভিকটিম শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাতিজি মুশফিকা মোস্তফা, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী, সহসভাপতি জাফর আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমাল দয়াল প্রমুখ।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি