ঢাকা, বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, || আশ্বিন ৮ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

ক্রটিপূর্ণ সুইজ গেইট নির্মাণ: জোয়ারের পানিতে শার্শা প্লাবিত

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২২:১২ ১১ আগস্ট ২০২০ | আপডেট: ২২:১৯ ১১ আগস্ট ২০২০

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালীপনায় ক্রটিপূর্ণ সুইজ গেট নির্মাণের কারণে ভারতের সীমান্তবর্তী ইছামতি নদীর জোয়ারের পানিতে যশোরের শার্শার দক্ষিণাঞ্চলের  ৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে পানির নিচে। উত্তর শার্শায়ও ঢুকে পড়েছে ভারতের উজানের পানি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানালেন যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮টি উপজেলার মধ্য ভবদহ নিয়ে ব্যস্ত। অথচ ইছামতির জোয়ারের পানি শার্শার রুদ্রপুর ও পুটখালির খলশী খাল দিয়ে প্রবেশ করে শার্শা ও ঝিকরগাছার বিস্তীর্ন অঞ্চল প্লাবিত করছে। উপজেলায় ৩টি সুইজ গেট থাকলেও তার কোনো খালাসী নেই নজরদারী।

শার্শা উপজেলার পুটখালী, গোগা, উলাশী, বাগআঁচড়া ও কায়বাসহ ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ইছামতির সাথে সংযুক্ত রুদ্রপুর ও খলসী খালে ক্রটিপূর্ণ সুইজগেট নির্মানের ফলে ভারতের ইছামতি নদীর পানিতে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বলে চাষিদের অভিযোগ। ইছামতির পানি ঠেকাতে রুদ্রপুর খালে দু'টি ও খলশী খালে একটি সুইজগেট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ক্রুটিপূর্ণ থাকায় তা কোনো কাজে আসছেনা। ফলে ওই খাল দু'টি দিয়েই ভারতের পানি ঢুকে শার্শার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত করছে।

কয়েকজন চাষি জানান, রুদ্রপুর ও খলশী খালে পাম্পসহ স্বয়ংক্রীয় গেট নির্মাণ করলে এর স্থায়ী সমাধান হবে এবং চাষীরা বারোমাস ঘরে ফসল তুলতে পারবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানান, ৫টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ১৩১ হেক্টর জমিতে ফসল লাগানো হয়েছে।এতে ভারতের উজানের পানিতে ২ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমির ধানপাট তরিতরকারিসহ সবজি ফসল তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেনাপোলের পুটখালী ইউনিয়নে। এখানে ৪০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কায়বায় ৩৫০ হেক্টর, গোগায় ২২৫ হেক্টর, বাগআঁচড়ায় ২৫০ হেক্টর ও উলশীতে ১২৫ হেক্টর জমির ফসল ভারতের উজানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে যার কারণে ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারে। পানি আটকানোর বিষয়টি সম্পূর্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব। এতে কৃষিবিভাগের কোন হাত নেই।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল বলেন, আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানদের মুখে শুনেছি ভারতের পানি রুদ্রপুর ও খলশী খাল দিয়ে ঢুকে ফসলের ক্ষতি করছে। এসিল্যান্ড ও ইঞ্জিনিয়ারকে সাথে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে পুটখালী ও বারোপোতার বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেছি।

এসময় পানির বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে এমন ধরনের ৪টি জালপাটা অপসারণ করা হয়েছে এবং জালপাটা দিয়ে মাছ ধরায় একজনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইছামতি নদীর পানির সমস্যাটা আন্তর্জাতিক ব্যাপার। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইচ্ছা করলে এর সমাধানের পথ  খুঁজে বের করতে পারে। 
কেআই//
 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি