ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০, || কার্তিক ১১ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের দায়ে বহিষ্কৃত শিক্ষককে পুনর্বহাল

চবি সংবাদদাতা:

প্রকাশিত : ২২:২৪ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ে বহিষ্কৃত সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক  ড. সুপ্তিকণা মজুমদারকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২৬তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) সৈয়দ ফজলুল করিম স্বাক্ষরিত সি-১০৬৩/গোপ-শা/৪৩০৯(১৪) নং স্মারকে এ তথ্য জানান হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫২৬তম সভায় ১(ক) নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উক্ত শিক্ষকের শাস্তি পরিবর্তন করে নিম্নোক্ত শাস্তি প্রদান করা হয়েছে:

১) উক্ত শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে;
২) গত ২৫ সেপ্টেম্বর হতে এক বছরের জন্য উক্ত শিক্ষককে পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ থেকে বিরত রাখা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সংস্কৃত বিভাগের ৩য় বর্ষ (সম্মান) ৩০৮ নং কোর্সের পরীক্ষায় পর্যবেক্ষকের স্বাক্ষর ছাড়া পরীক্ষার্থীর মূল খাতায় যুক্ত করা হয় অতিরিক্ত উত্তরপত্র। পরীক্ষার হলের বাহিরেই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় উত্তরপত্র লেখার সুযোগও।

এ ঘটনার সাথে জড়িত সংস্কৃত বিভাগের দুই শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুপ্তিকণা মজুমদার ও সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেব নাথের বিরুদ্ধে পরীক্ষার কাজে অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পরীক্ষার খাতা জালিয়াতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য বরাবর অভিযোগ করেন উক্ত বিভাগের তৎকালীন প্রভাষক (বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক) লিটন মিত্র। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৭ জুন তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য। ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আবদুল গফুরকে। ২০১৮ সালের ২৭ জুন উক্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে এতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২০ তম সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. সুপ্তিকণা মজুমদারকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ৭ মার্চ প্রদত্ত ব্যাখ্যা উপাচার্য বরাবর জমা দেওয়া হলে ব্যাখ্যা বিবেচনা পূর্বক সন্তোষজনক না হওয়ায় তা গৃহীত হয় না। তাই সিন্ডিকেট সভার ৩(ক)(i) নং সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধির ৪(১)(এফ) ধারা অনুসারে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অপরদিকে একই সিন্ডিকেট সভায় একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেব নাথকেও অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ প্রদান করা হলে ৪ মার্চ প্রদত্ত ব্যাখ্যা উপাচার্য বরাবর জমা দেওয়া হয়। ব্যাখ্যায় অভিযোগ স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ সতর্কতার সহিত পালনের অঙ্গিকার করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধির ৪(১)(এ) ধারানুসারে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি আদেশপত্র ইস্যুর তারিখ থেকে আগামী তিন বছরের জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

পরে ২০১৯ সালের ১২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমেদ ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার শামসুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশপত্রে ঐ দুই শিক্ষকের বহিষ্কার ও পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার বিষয়ে জানান৷ আদেশপত্রে চবি কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধির ১৫(বি) ধারা অনুসারে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।  

আরকে//


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি