ঝড়ে নওগাঁয় লণ্ডভণ্ড বাড়িঘর, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
প্রকাশিত : ১৬:২১, ১৭ মে ২০২৬
নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। এছাড়া গাছপালা ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর পড়ায় বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার পত্নীতলা উপজেলা।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই দফায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে এই ঝড়। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১২টার পর থেকেই ব্যাপক মেঘের গর্জন, বিজলী চমকানোর মধ্য দিয়ে দফায় দফায় শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি। এতে জেলার পত্নীডলা উপজেলার ছোট চাঁদপুর, বড় চাঁদপুর, হরিরামপুর, মাহমুদপুর, চকজয়রাম, ঠুকনিপাড়া, নতুনহাট, পালসাসহ বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঝড়ের তীব্রতায় অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লণ্ডভণ্ড হয়েছে। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি। অনেক জায়গায় সড়কে গাছপালা ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
ঝড়ের সময় মেঘের গর্জন ও বিজলী ঝলকানিতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ছোট চাঁদপুর গ্রামের শামসুল আলম বলেন, ‘একসপ্তাহ আগেই টিন দিয়ে ঘর তৈরি করি। রাতের ঝড়ে আমার ঘরের চাল উড়ে গেছে। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’
হরিরামপুর গ্রামে আমিনুল বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার বাড়ি-ঘর ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঘরের সব চাল উড়ে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।’
নজিপুর বাসস্ট্যান্ড বণিক কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাতে দফায় দফায় বয়ে যাওয়া ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নজিপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন মোড়ে প্রায় ৪০০ চালা ঘরের চাল উড়ে গেছে। এছাড়া রাত থেকেই অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’
এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা বলেন, ‘উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।’
এএইচ
আরও পড়ুন










