ঢাকা, রবিবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীতে যাত্রীবাহী বাস ও ইজিবাইক খাদে, নিহত ৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৮:৩৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

পটুয়াখালীতে ইজিবাইক ও যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে যাত্রীবাহী বাস ও ইজিবাইকটি খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজার সংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইউম প্যাদা (৫০), একই উপজেলার চার আনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০) ও বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩)

আহত হয়েছেন বাসে থাকা ১০ যাত্রী। দুর্ঘটনার পর থেকে বাসের ভেতরে কিংবা পানিতে আরো কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।

নিহতদের মরদেহ বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘ইমরান ট্রাভেলস’-এর একটি বাস ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে ধাক্কা দেয়। এসময় দুটি বাহনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। তখন ইজিবাইকটি বাসের নিচে চাপা পড়ে।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত তিনজনই ইজিবাইকের যাত্রী।

পরে পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি উত্তোলনের পরে খাদ থেকে আরেক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটি খাদে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাসের যাত্রীদের মধ্যে নিহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। 

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বাসের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না এবং পানির মধ্যে আরো কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না আর কেউ হতাহত হয়েছেন কি না।’

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি