পবিপ্রবিতে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে হামলার অভিযোগ, আহত ১০
প্রকাশিত : ১৭:২৯, ১১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৩৩, ১১ মে ২০২৬
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষকসহ অন্তত ১০ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে একদল লোক মোটরসাইকেল নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চেয়ার ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শিক্ষকরা জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষককে শোকজ করা হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনিয়ম ও উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ তুলে তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সভাপতি আবু বক্কর বলেন, “শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হঠাৎ করেই রিপন শরীফ ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে হামলা চালায়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. আব্দুল মালেক, অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক আবুল বাশার খান, অধ্যাপক ড. খোকন হোসেন, অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার ফৌজদার, অধ্যাপক ড. এম এইচ কাউসার ও অধ্যাপক ড. তন্বী চন্দ, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন এবং কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।
আহত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প সেন্টার ও আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। কয়েকজন চিকিৎসা শেষে বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের কর্মসূচিতে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রিপন শরীফ বলেন, “কিছু শিক্ষক তাদের পছন্দের ভিসি না হলে মব সৃষ্টি করেন। একটি চক্র এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সক্রিয় রয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “হামলার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে আজ সকাল ৮টায় ক্যাম্পাস থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। বহিরাগতদের হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
দুমকি থানা পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, “বর্তমান ভিসির বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অপসারণ দাবিতে কর্মসূচি চলছিল। এ সময় বিপরীত পক্ষের লোকজন এসে হামলা চালায় এবং চেয়ার ভাঙচুর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে পুলিশ অবস্থান করতে পারে না, তাই বাইরে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন আছে।”
এমআর//
আরও পড়ুন










