রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুতি সম্পন্ন, অধীর অপেক্ষা ঠাকুরগাঁওবাসীর
প্রকাশিত : ১৯:৫১, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনের প্রথম সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপ্রধানের আগমনকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রিয় নেতা ও রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) নাগরিক সংবর্ধনাসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে পুরো শহরকে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনকে ঘিরে নতুন সাজে সেজে উঠছে তার জন্মস্থান ঠাকুরগাঁও। শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে সড়কের ডিভাইডারসহ বিভিন্ন স্থাপনার চেহারা।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার মানুষের প্রত্যাশাও এখন অনেক। রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানাতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
তার এ আগমন উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় দেওয়া হচ্ছে নতুন রঙ। পাশাপাশি চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর থেকেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত তার জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষজন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসছেন তিনি। তাই এই সফর ঘিরে স্থানীয়দের আনন্দ-উচ্ছ্বাসও যেন বেড়েছে কয়েকগুণ। তাঁকে বরণ করে নিতে শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন প্রবেশপথ সাজানো হচ্ছে বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ।
একসময় যিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের আপনজন ছিলেন, সেই ঘরের ছেলেকেই এখন রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে দেখে গর্বিত জেলার মানুষ। প্রিয় নেতা ও রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে এবং সরাসরি সামনে থেকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
তবে উৎসবের এই আবহের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির কাছে রয়েছে জেলাবাসির নানা প্রত্যাশা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ চান তারা। একই সঙ্গে তার সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে বলেও প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
আগামীকাল ৬ সেপ্টেম্বর রোববার সফরের প্রথম দিন বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতসহ বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক বড় মাঠে জেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হবে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা। এছাড়া দ্বিতীয় দিন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করে ঢাকায় ফিরে যাবেন বলে জানান নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহবায়ক ডাক্তার আবু মোহাম্মদ খাইরুল কবির।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে এসেছেন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় যেমন বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র, তেমনি নতুন প্রত্যাশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জেলার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনা।
এএইচ
আরও পড়ুন










