ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন চায় সরকার: গণশিক্ষা সচিব

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:৩২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৪২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সরকার শিক্ষার্থীদের শিখনফল এবং শিক্ষার মান শুধু দেশীয় মূল্যায়নের মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও যাচাই করতে চায়। শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কারিকুলাম তৈরি, গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু পড়তে ও লিখতে পারলেই একজন মানুষকে শিক্ষিত বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ, অন্যের কথা বোঝা এবং নিজের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারার সক্ষমতাই শিক্ষার প্রকৃত মানদণ্ড।

গণশিক্ষা সচিব বলেন, শিক্ষা মানে শুধু একটি শব্দ লিখতে পারা নয়। একজন মানুষ যদি ছোট ছোট বাক্য তৈরি করতে পারেন, নিজের কথা অন্যকে বোঝাতে পারেন এবং অন্যের কথা বুঝতে পারেন, তাহলেই বলা যায় তিনি প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন করেছেন। একজন শ্রমিক, উদ্যোক্তা কিংবা কারিগরি পেশায় থাকা ব্যক্তিকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পড়তে ও বুঝতে পারতে হবে। দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বুঝে কাজ করতে পারার সক্ষমতাও শিক্ষার অংশ।

তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন চলছে। তবে এমন একটি পর্যায়ে যেতে হবে, যখন দেশের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে ঘোষণা করতে হবে না যে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষিত হয়েছে; আন্তর্জাতিক মূল্যায়নই বলে দেবে সে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করেছে কি না।

সচিব বলেন, একটি শ্রেণির শিশুর যে শিক্ষণফল অর্জন করার কথা, সে যদি তা নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারে, পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে পারে এবং প্রয়োজনীয় বিষয় বুঝতে পারে, তখনই শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হয়েছে বলে ধরা যায়। সেই লক্ষ্যেই কারিকুলাম তৈরি, গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড লিটারেসিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়নের দিকেও যেতে চায় সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার মান যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেভাবেই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতাও মূল্যায়িত হবে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার বিষয়ে জেসমিন নাহার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে প্রতিবন্ধীবান্ধব ও সহনশীল করতে হবে। একটি শিশু যেন হুইলচেয়ারে করে স্কুলে পৌঁছাতে পারে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা পেতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যারা হাঁটতে পারে না বা অন্য কোনো কারণে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাইসাইকেল, হুইলচেয়ারসহ সহায়ক ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঝরে পড়া’ শব্দটি রাখতে চাই না। যে শিশু স্কুলে আসতে পারছে না, তাকেও শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যদি ক্ষুধার কারণে স্কুলে আসতে না পারে, তাহলে তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের চালু করা মিল কার্যক্রম প্রায় সর্বত্র হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা চালু হবে।

গণশিক্ষা সচিব বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ ও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা। এমন একটি পর্যায়ে যেতে হবে, যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক দক্ষতা অর্জন করে সারা বিশ্বে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।

এমএইচ
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি