ঢাকা, সোমবার   ০৪ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:২২, ৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৭, ৪ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

হরমুজ প্রণালিতে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' নামে নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের অবরোধের মুখে জলপথটিতে যেসব জাহাজ আটকে পড়েছে, নতুন ওই অভিযানের মাধ্যমে সেগুলোকে বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার থেকে মার্কিন নৌ-সেনারা আটকেপড়া জাহাজগুলোকে পথ দেখাবে বলে জানানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আমরা এসব দেশগুলোকে জানিয়েছি যে, আমরা তাদের জাহাজগুলোকে অবরুদ্ধ জলপথ থেকে নিরাপদে বের করে দেব, যাতে তারা অবাধে ও দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।” 

তবে পোস্টে অবশ্য তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। ফলে “এ দেশগুলোকে” বলতে ঠিক কোন দেশগুলোকে বোঝানো হয়েছে, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেয় ইরান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা নৌ অবরোধ চালিয়ে আসছে।

এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী অনেক জাহাজ আটকে পড়েছে। সেইসঙ্গে, জাহাজগুলোর প্রায় ২০ হাজার নাবিক ও কর্মী সমুদ্রে আটকা পড়েছেন।

গত কয়েক মাসে খাবার, ওষুধসহ তাদের প্রয়োজনীয় রসদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকে থাকার কারণে নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

এর মধ্যেই রোববার গভীর রাতে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক পরিবহন সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকার 'অজ্ঞাত কোনো বস্তুর' আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজটির নাবিক ও কর্মীদের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি, বিশেষত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। যুদ্ধের কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে জলপথটিতে মার্কিন অভিযান শুরুর ঘোষণা এলো।

নতুন অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে নেওয়া একটি “মানবিক পদক্ষেপ” বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “এই জাহাজ চলাচলের উদ্দেশ্য কেবল সেইসব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং দেশগুলোকে মুক্ত করা, যারা মোটেও খারাপ কিছুর জন্য দায়ী নয়।”

সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে “খুবই ইতিবাচক” আলোচনা করছেন। ওই আলোচনা সকলের জন্য খুব ইতিবাচক কিছু বয়ে আনতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে অভিযানটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ এর আওতায় তাদের প্রায় ১৫ হাজার সদস্য, শতাধিক যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ নিয়োজিত থাকবে। অভিযান চলাকালে কেউ কোন ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাঁধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সেটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ট্রাম্প।

এমন একটি সময় এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হলো, যার আগে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে ইরান।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে’ তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে শান্তি পরিকল্পনাটি ট্রাম্পের কাছে পাঠিয়েছেন।

‘এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা সংঘাতের পথ বেছে নেবে না-কি কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করবে’ বলেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

ইরানের কাছ থেকে নতুন করে শান্তি প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবনাগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করলেও সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি