ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯, || কার্তিক ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

২০২০ সালের জুনে শেষ হবে চামড়া শিল্পনগরীর কাজ 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:৫২ ৩১ জুলাই ২০১৯ | আপডেট: ১৮:৫৩ ৩১ জুলাই ২০১৯

আগামী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী শতভাগ চালু হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব মোঃ আবদুল হালিম। তিনি বলেন, চামড়া শিল্পনগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষে হয়েছে। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ডাম্পিং সহ বেশি কিছু কাজ শেষের পর্যায়ে। এগুলো সম্পূর্ন করতে আরো এক বছর সময় প্রয়োজন হবে। তবে প্রকেল্পর সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭৪ শতাংশ। 

বুধবার সাভারের তেতুঁলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরের হরিণধরায় অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীর সর্বশেষ অবস্থা ও লবন মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় শিল্পসচিব এসব কথা বলেন। এর আগে শিল্পসচিব চামড়া শিল্পনগরিতে স্থাপিত কয়েকটি ট্যানারির উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্রনাথ পাল, বিসিকের পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান, বিসিক সচিব মোস্তাক আহমেদ শিল্প মন্ত্রাণালয়, সাভার চামড়া শিল্পনগরী ও বিসিকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
শিল্প সচিব মোঃ আবদুল হালিম বলেন, কোরবানি ঈদের সময় দেশে সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগৃহিত হয়ে থাকে। তবে সে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী প্রস্তুত আছে। মূলত ঈদের পরপরই চামড়া শিল্পনগরীতে চামড়া আসে না। বরং সংগৃহিত চামড়া শিল্পনগরীতে আসতে প্রায় এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যায়। তিনি বলেন, সিইটিপি পুরোদমে চালু না হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। মূলত এ বিষয়ে আমাদের আগের কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথম দিকে বেশি জটিলতা হয়েছে। বর্তমানে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিইটিপি নির্মাণ ও কার্যক্রম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে যে সিইটিপি তৈরি করা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক মানের। ট্যানারীর বর্জ্য ডাম্পিং নিয়ে কিছুটা সমস্যা আছে। এজন্য একটি প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়েছে। ট্যানারীর বর্জ্যগুলোকে পরিবেশ সম্মত করতে যে সব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হবে সেগুলোর আমদানি করা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম পোর্টে আছে। আশা করা যায় শিগগিরই সেগুলো ছাড়িয়ে সাভারে নিয়ে আসা হবে। তখন বর্জ্য ডাম্পিং নিয়েও প্রশ্ন উঠবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে চামড়া রপ্তানি অনেকাংশেই কমে গেছে। আগামীতে সেটি হবে না। আমাদের রপ্তানির বাণিজ্যের তৈরি পোশাকের পরই চামড়া শিল্পের অবস্থান। বাংলাদেশে এর কাঁচামাল থাকায় শতকরা ৬০ ভাগ মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। তাই আগামী ২০২১ সাল নাগাদ এ শিল্প থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হবে বলে আশা করা যায়। বর্তমানে বিশ^ বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পন্যের ২২০ বিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে। আমরা এ খাতের মাত্র ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছি।

শিল্প সচিব তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০০৩ সালে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭৫ কোটি টাকা। তবে বর্তমানে এর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় এসে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এরমধ্যে ট্যানারী স্থানান্তরের অনুদান হিসাবে দেয়া হয়েছে ২৬০ কোটি টাকা, যার ২৩০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ট্যানারী মালিকদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সিইটিপি, ডাম্পিং ইয়ার্ড, এসটিপি ও এসপিজিএস এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৫ কােটি ৬৫ লাখ টাকা। অন্যান্য উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ৭৯২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৪ দশমিক ৪০ একর জায়গার উপর নির্মিত সাভারের চামড়া শিল্পনগরিতে ১৫৫টি শিল্প ইউনিট আছে। এরমধ্যে ১৫৪টি প্লট বরাদ্দ করা হয়েছে। মামলা জনিত কারণে ১টি প্লট বরাদ্দপত্র জারি করা হয়নি। লে-আউট প্লান অনুমোদন করা হয়েছে ১৫৪টির। কারখানার মূল ভবনের কাজ বাস্তবায়ন শুরু করেছে ১৫১টি প্লটে।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, আসন্ন কোরবানির ঈদের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে যে পরিমাণ লবন প্রয়োজন হবে তা মজুদ আছে। লবনের দাম বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা নেই। বছরে লবনের প্রয়োজন হয় ১৮ লাখ টন। এরমধ্যে শুধু কোরবানি চামড়া প্রক্রিয়াকরনে প্রয়োজন হয় প্রায় ৮২ হাজার টন। বর্তমানে লবন মজুদ আছে ৯ লাখ টন। আর দেশে লবনের উৎপাদন ভাল হওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াকরনের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

শিল্পসচিব বলেন, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ বছর ১ লাখ ১৭ হাজার পশু কোরবানি হতে পারে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোরবানির সময় তাৎক্ষণিকভাবে ৮২ হাজার টন লবণ প্রয়োজন হবে এবং বছরের বাকি সময় মোট ১ লাখ টন লবণ প্রয়োজন হবে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ২০১৮-১৯ লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রেকর্ড পরিমাণ মোট ১৮.২৪ লাখ টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চাষি, মিলমালিক ও সরবরাহকারীদের কাছে বর্তমান ৯.২২ লাখ টন লবণ মজুদ আছে যা দিয়ে সহজেই নভেম্বর পর্যন্ত লবণের সকল চাহিদা পূরণ করা যাবে। নভেম্বর থেকে চাষিরা লবণ উৎপাদন শুরু করবেন। তাই লবণের কোনো ঘাটতি হবে না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পসচিব বলেন, ২০০ একর জায়গার ওপর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য সংশ্লিষ্ট লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ডে ১৬০০টি প্যারামিটার রয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি প্যারামিটার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার প্লান্ট সংক্রান্ত। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে অবশিষ্ট ১৫০০ প্যারামিটার অনুযায়ী চামড়া শিল্পনগরীতে স্থাপিত ট্যানারিগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার প্লান্টে ক্রোম সেপারেশন ও সেডিমেন্টেশনের মান ক্রমশ উন্নত হচ্ছে।

চামড়া শিল্পনগরীর কঠিন বর্জ্য ৩টি স্থানে ডাম্পিঙয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে শিল্পসচিব বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় উৎপাদিত সকল বর্জ্যই ক্ষতিকর নয়। ক্রোমিয়াম ব্যবহারের আগ পর্যন্ত উৎপাদিত বর্জ্য নিরাপদ এবং এ সকল বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পণ্য উৎপাদনে ব্যাবহার করা যায়। এ সকল ব্যবহারযোগ্য ট্যানারি বর্জ্যকে কীভাবে উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরকে/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি