p চিন্ময় লাহিড়ীর প্রয়াণ দিবস আজ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১, || অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৮

চিন্ময় লাহিড়ীর প্রয়াণ দিবস আজ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:২৫, ১৭ আগস্ট ২০২১

স্বনামধন্য বাঙালি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী আচার্য চিন্ময় লাহিড়ীর প্রয়াণ দিবস আজ। তিনি ১৯৮৪ সালের আজকের এই দিনে কলকাতায় প্রয়াত হন। বাংলা তথা ভারতের খ্যাতনামা এ সঙ্গীতশিল্পী বিভিন্ন রাগে ঠুমরি, দাদরা, হোলি, ত্রিবট, চতুরঙ্গ, গীত, ভজন, গজল সহ বাংলা রাগপ্রধান সঙ্গীতের স্রষ্টা ছিলেন।

চিন্ময় লাহিড়ীর জন্ম ১৯২০ সালের ২০ মার্চ বৃটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতিবন্ধের জমিদার পরিবারে। পিতা জীবচন্দ্র লাহিড়ী পেশায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মসূত্রে থাকতেন লক্ষৌতে। মাতা সরোজবাসিনী দেবী। 

পড়াশোনা লক্ষৌয়ের বয়েজ অ্যাংলো ইণ্ডিয়ান স্কুলে। শৈশবে চিন্ময়ের আগ্রহ ছিল শরীরচর্চায় ও সঙ্গীতসাধনায়। মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি তাঁর তেরো বৎসর বয়সে সঙ্গীতচর্চা শুরু করেন। ভাইয়ের মনোবাসনা পূরণ করতে তাঁর দাদা নিয়ে গেলেন বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ও সেতার শিল্পী ধ্রুবতারা জোশীর কাছে। তিনি আবার নিয়ে যান ১৯২৬ সালের স্থাপিত মরিস কলেজ অব মিউজিক এর তৎকালীন অধ্যক্ষ পণ্ডিত শ্রীকৃষ্ণ রতন ঝংকারজির কাছে। তিনি জেদি ও আত্মবিশ্বাসী চিন্ময়ের আগ্রহ দেখে শিষ্য হিসাবে গ্রহণ করেন এবং চিন্ময়ও নিজের শ্রমে ও যথাযথ তালিমের গুণে অচিরেই পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

বিখ্যাত ওস্তাদের কাছে সংগীতের তালিম নিলেও নানা পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব ঘরণার অজস্র রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে গিয়েছেন। তাঁর গানে শাস্ত্রীয় আঙ্গিকের সঙ্গে মধুর রস ও আত্মনিবেদনের সংমিশ্রণ ঘটে ছিল। তাঁর রাগ-রাগিনীর মধ্যে কয়েকটি হল শ্যামকোষ, যোগমায়া, প্রভাতী টোড়ি, সন্ত ভৈঁরো, কুসুম কল্যাণ ইত্যাদি। তাঁর অসামান্য সৃষ্টি ‘নন্দকোষ’ ভারতের সংগীতবিদগ্ধ সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। 

তিনি ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে অল ইন্ডিয়া রেডিও বর্তমানে আকাশবাণী কেন্দ্রের সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর ঢাকা বেতার কেন্দ্রে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৪ সালে এইচ.এম.ভি. থেকে ‘না মানে মানা’ ও ‘দুয়ারে এলো কে’ - এই দুটি খেয়াল গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এছাড়া তিনি বিভিন্ন রাগে ঠুমরি, দাদরা, হোলি, ত্রিবট, চতুরঙ্গ, গীত, ভজন, গজল, বাংলা রাগপ্রধান সৃষ্টি করে গিয়েছেন এবং স্বরলিপির আকারে উপস্থাপন করে গেছেন। দীর্ঘদিন তিনি আকাশবাণীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাও করেছেন। সংগীত শিক্ষক হিসাবে তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি ছিল। 
এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি