ঢাকা, ২০১৯-০৫-২৫ ৩:৩৩:৪০, শনিবার

ভাসানচর নিয়ে জাতিসংঘ নেতিবাচক নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভাসানচর নিয়ে জাতিসংঘ নেতিবাচক নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদেরকে ভাসানচরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নেতিবাচক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। রোববার রাজধানীর বিস (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ) মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের কেন নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা জাতিসংঘের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতিসংঘের তিনটি সংস্থার কর্মকর্তারাও ভাসানচর পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট। এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত সফরের পর যে প্রতিবেদন দিয়েছেন সেখানেও ভাসানচর নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য নেই। বরং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং আলজাজিরা সঠিক সংবাদ পরিবেশন না করে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্যকোনো দেশের ক্ষেত্রে তা কল্পনাও করা যায় না-এমন বক্তব্য জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের। অতএব বাংলাদেশের এ সঙ্কট মোকাবেলায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ১১০ নম্বর পাওয়া উচিত। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে বলা বা না বলায় কিছু এসে যায় না। তবে আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী তারা শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত নয়, বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেয়নি। শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো সঙ্কট নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো বেশ কঠিন এবং জটিল। বিশ্বের অন্যান্য শরণার্থী সঙ্কটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতা আছে। কিন্তু বাংলাদেশ বরং অন্যদের চেয়ে সঙ্কট মোকাবেলায় অনেক বেশি মানবিকতা দেখিয়েছে, সাফল্যেরও পরিচয় দিয়েছে। ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টিভেন কর্লিস বলেন, জাতিসংঘ চায় রোহিঙ্গারা দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত যাক। কিন্তু সেখানে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিরাপদ বসবাস এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা নিশ্চিত হতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানের সময় তাদের মানবিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং এ সঙ্কট ব্যবস্থাপন ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে স্টিভেন কর্লিস বলেন, ভাসানচরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে পূর্ণ সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আরকে//
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে: ব্রুনাইয়ের সুলতান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ব্রুনাইয়ের সুলতান রোহিঙ্গা সংকটের ‘সঠিক ও স্থায়ী সমাধান’ এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সুলতান বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য আমাদের সব ধরনের প্রচেষ্টা করা উচিৎ। দুই দেশের সরকার প্রধানের বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এ কথা জানান। আজ সকালে ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নুরুল ইমান এর বাইতুল মেসুয়ারাহ্-এ সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।শহীদুল হক বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটে আশিয়ানের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এ সময় তিনি এ ব্যাপারে ব্রুনাইয়ের সুলতানের সহযোগিতাও চেয়েছেন বলে পররাষ্ট্র সচিব জানান। সচিব বলেন, শেখ হাসিনা ব্রুনাইয়ের সুলতানের কাছে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে ভাসানচরে আশ্রয় দানে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। এ সময় আশিয়ান প্রসঙ্গে সুলতান বাংলাদেশের এবং আঞ্চলিক ফোরামের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ব্রুনাইয়ের সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নুরুল ইমান এর চেরাদি লাইলা কেনচানায় সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার ও রাজ পরিবারের সদস্যদেও সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শেখ হাসিনা ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার আমন্ত্রণে তিনদিনের সরকারি সফরে ব্রুনাইতে রয়েছেন। এসএইচ/

পাচারকালে ১২০ রোহিঙ্গা আটক

সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নারী ও শিশুসহ ১২০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তবে পুলিশ এ সময় কোনো পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি। ওসি প্রদীপ বলেন, গোপনে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। রোহিঙ্গাদের ২৬ জন শিশু, ৩৯ জন নারী ও ৫০ জন পুরুষ রয়েছেন। এই রোহিঙ্গাদের সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য একটি চক্র জড়ো করেছিল। তারা টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা। পুলিশের উপস্থিতির টের পেয়ে পাচারকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এই রোহিঙ্গাদের আবার শরণার্থী শিবিরে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি প্রদীপ। আরকে//

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখতে চায় আসিয়ান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে চায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা দিতে চায় এই জোট। বুধবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুদিনাইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার উভয়ে আসিয়ানের সদস্য। আসিয়ানের সদস্য হিসেবে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আসিয়ান জোট এ বিষয়ে সহায়তা দেবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা দিতে চায় এই জোট। ড. মোমেন বলেন, থাইল্যান্ডের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া তারা পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ দেশ। তাদের কাছে আমাদের পর্যটন শিল্প বিকাশে সহায়তা চেয়েছি। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আসিয়ানের পর্যবেক্ষক। আমরা আসিয়ানের সদস্য হওয়ার জন্য সহায়তা চেয়েছি। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেনের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. এ কে আবদুল মোমেনের আমন্ত্রণে বুধবার দুইদিনের ঢাকা সফরে এসেছেন তিনি। আরকে//

‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বাস্তবসম্মত

রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা শুরু থেকে যা ছিল, এখনও তা-ই আছে। অতএব, যতবারই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব আসবে, ততবারই তা ভেস্তে যাবে। জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা বয়কট করে চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের সরকারের প্রতি তাদের দুর্বলতা আবারও প্রমাণ করেছে। এ কারণেই আমার মনে হয়, বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ নিরাপদ পরিষদ সঠিক জায়গা নয়। বরং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে ভারত, চীন, রাশিয়া ও আসিয়ান দেশগুলোর সমন্বয়ে মিয়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গাদের জন্য `সেফ জোন` বা `নিরাপদ এলাকা` প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। এ প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে গেলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ ভারত, চীন, রাশিয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক বেশ ভালো। আর আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের নিবিড় বাণিজ্যিক ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্নিষ্ট সম্পর্ক আছে। ফলে ভারত, চীন, রাশিয়াসহ আসিয়ান দেশগুলো কোনো উদ্যোগ নিলে তা মিয়ানমারের পক্ষে এড়ানোর সুযোগ কম। আমি ভালোভাবেই জানি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুমাত্রায় কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে অব্যাহতভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে গিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরাসরিই ভারতকে পাশে চান, অধিকতর সহায়তা চান এ কথাগুলো বলেছেন। এটাও কিন্তু চীন ও রাশিয়ার কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়। রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি নিশ্চয় সবাই বুঝতে পারছে। অতএব, বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা খুব ভালোভাবেই চলছে; সরকার এ সংকট সমাধানে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে, সন্দেহ নেই। এখন দেখতে হবে, এই সেফ জোনের প্রস্তাবে চীন-রাশিয়া কতটা সমর্থন দেবে। কারণ, মিয়ানমার চট করেই সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে, এটা ভাবার অবকাশ নেই। এ ক্ষেত্রেও রাশিয়া ও চীনের দৃঢ় ভূমিকার প্রয়োজন হবে। তাদের সেই ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করতেই এখন জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো প্রয়োজন। ভারত আমাদের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ। বাংলাদেশের পাশে ভারত সব সময় ইতিবাচক অবস্থান নিয়েই ছিল। চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা ইতিবাচক থাকলে এ ক্ষেত্রে ভারতের সমর্থন পেতে সমস্যা হবে না। অতএব, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগ যা-ই থাকুক, এর বাইরে আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রতি জোর দিতে হবে বেশি। রোহিঙ্গা সংকট এখন আন্তর্জাতিক সংকট হিসেবে পুরো বিশ্বের সামনেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে পশ্চিমা বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেফ জোন প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে থাকবে না, এটাও জোর দিয়ে বলা যায়। লেখক: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিআর/

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে সম্মত ওআইসি

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি তুলে ধরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস’-এ আইনি প্রক্রিয়া প্রহণের লক্ষ্যে ওআইসি সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার ফলশ্রুতিতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস’-এর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া প্রহণের লক্ষ্যে এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ওআইসির ৪৬তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের শেষদিন শনিবার তা গৃহীত হয়।বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই সম্মেলনে যোগদান করে এবং বিশেষ কমিটির আলোচনায় অংশ নেয়। আজ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। উল্লেখ্য, একটি দশ-সদস্য বিশিষ্ট উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে গাম্বিয়া এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখে গাম্বিয়ার বানজুলে এই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের কারনে সাত (০৭) লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। জাতিসংঘ এই সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ এবং অন্যান্য মানবাধিকার গ্রুপ ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তথ্যসূত্র: বাসস। এসএইচ/

‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতের সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ভারতের কাছে অধিকতর সমর্থন চাইবে।আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল মোমেন তার প্রথম বিদেশ সফরের প্রাক্কালে আজ একথা বলেন। তিনি আজ রাতে তার প্রথম সফরে ভারতের নয়াদিল্লীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা করতে চাই। কারণ, এই সমস্যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেতে পারে।’তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের জোরদার সমর্থন আশা করেন।নির্মম সামরিক অভিযানে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থীকে বাংলাদেশ মানবিক কারণে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঘনিষ্ট প্রতিবেশী বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রতি সম্মান দেখাতে আমি আমার প্রথম বিদেশ যাত্রায় ভারত সফর করছি।’মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিদেশী নেতৃবৃন্দের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বপ্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। আমাদের সব সমস্যায় আমরা তাদেরকে পাশে পেয়েছি।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গেও বিভিন্ন আলোচনার বিষয় রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সমুদ্র এবং স্থল সীমানাসহ এর অনেক ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছি। অন্যান্য বিষয়ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে বলেন আশা করি। পারস্পরিক এই সমঝোতার মাধ্যমে আমাদের মাঝে বর্তমানে সবচেয়ে অধিক ঊষ্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।’ড. মোমেন তার ভারত সফরকালে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ে কিছু জানাননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে, এই সফরে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।সূত্র : বাসসএসএ/

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোলির সাক্ষাৎ সন্ধ্যায়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিনের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হবে।ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তিন দিনের সফরে সোমবার সকালে ঢাকায় আসেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই তিনি কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসা জোলি সোম ও মঙ্গলবার উখিয়া ও কুতুপালংসহ চারটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরে এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের দূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় শুধু বাংলাদেশ নয় উদ্যোগ নিতে হবে মিয়ানমার আর বিশ্ব সম্প্রদায়কেও। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন তিনি।এসএ/

সৌদিতে অবস্থানকারী ১৩ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে

সৌদি আরবে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ১৩ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে রাত ২টায় সৌদি এয়ার (এসভি ৮০২) বিমানযোগে তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। বর্তমানে তারা ঢাকা ইমিগ্রেশন হেফাজতে আছেন। তাদের মিয়ানমারের পরিবর্তে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা দাবি করেন, তারা বাংলাদেশি নয়, তারা মিয়ানমারের। তাদের বেশিরভাগই হজ পালনের ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে দেশে ফিরে না গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে বাস করতে এবং কাজ করতে শুরু করেন। তাদের অধিকাংশই ভুটান, মালদ্বীপ, ভারত ও বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদিতে গেছেন। তারা ছয়-সাত বছর ধরে সৌদির কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি