ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:১০:৪৬

আগামী মাসে ঢাকায় আসবে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল

আগামী মাসে ঢাকায় আসবে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, আগামী মাসে মিয়ানমার থেকে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসবেন। ওই সময় তারা প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তিনি এ কথা জানিয়েছেন। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলামদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। হেগের এ আদালতের কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তাতে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে হাত দিয়েছে তার দফতর। রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত আসার ধারাবাহিকতায় এ তদন্ত শুরু হল। এসএ/
রোহিঙ্গাদের কারণে দূষিত হচ্ছে কক্সবাজারের পরিবেশ

ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) এবং ইউএন ওমেন যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  রোহিঙ্গাদের আগমনে কক্সবাজারের বাতাস, শব্দ, পানি ও জীব বৈচিত্র্য বিঘ্নিত ও দূষিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। ১০৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রতি মাসে বাংলাদেশে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গা বন থেকে ছয় হাজার ৮০০ টন জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে ব্যবহার করছে, প্রতিটি পরিবারের ঘর তৈরিতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ৬০টি বাঁশ। কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখালি ক্যাম্পে হাজারো টিউবওয়েল স্থাপনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির অভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়াও রোহিঙ্গারা টেকনাফ, উখিয়া, হিমছড়ির প্রায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ হেক্টর পাহাড়ি জমির গাছপালা ধ্বংশ করেছে, যা জীব বৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। উখিয়া এবং টেকনাফে চার হাজার ৩০০ একর পাহাড় ও বন কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরি ও রান্নার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কক্সবাজারের প্রধান তিনটি ইকোলজিকাল এলাকা কক্সবাজার-টেকনাফ উপদ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ায় যানবাহন, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ বেড়েছে। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় রোহিঙ্গাদের ফেলে দেওয়া ব্যবহৃত পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল কক্সবাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। যদিও তাদের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণে কাজ করছে। পাশাপাশি ইউএনডিপিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানাছি। এ সময় ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখতে সরকারের এখনই কাজ শুরু করতে হবে। আশা করছি আমাদের এ প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশ ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও আর্থিক সাহায্য চাওয়া যাবে। এসএইচ/

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের আলোক দেখা উচিৎ : ঢাবির উপাচার্য

রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই সংকটকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের আলোকে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন,রোহিঙ্গা সংকট সুরাহায় কাজ করা বাংলাদেশের একার দায়িত্ব নয়। আন্তর্জাতিক মহলেরও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা আজকের নয়। দীর্ঘ দিনের এ সময় স্থায়ীভাবে সমাধান না হলে বাংলাদেশ জন্য বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনি এ সমস্যা সমাধান করা উচিৎ।তিনি বলেন,আজ শনিবার বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দুই দিনব্যাপী রোহিঙ্গা : পলিটিক্স, এথনিক ক্লিনজিং অ্যান্ড আনসার্টেনিটি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগ এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। এতে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সম্মেলনে ২১টি সেশনে ৭২টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অর্ধশত গবেষক, শিক্ষক, আইনজীবী ও শিক্ষার্থী।এসব সেশনে যেসব বিষয় থাকবে তার মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গা সমস্যাকেন্দ্রিক ভূ-রাজনীতি, নৃগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, রোহিঙ্গা জাতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, পরিবেশ-প্রকৃতির ওপর প্রভাব, নারী ও শিশুবিষয়ক সমস্যা, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে গণমাধ্যমের ভূমিকা, অপরাধ ও রোহিঙ্গা সমস্যা।এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, নেপালের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি দেশের একাডেমিশিয়ান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিশিষ্টজনরাও এতে অংশ নেন। টিআর/এসএইচ/

ঢাবিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক সম্মেলন শুরু আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রোহিঙ্গা : রাজনীতি, জাতিগত নিধন ও অনিশ্চয়তা’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের উদ্যোগে আজ দুপুর ২টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলনে ২১টি সেশনে ৭২টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন দেশ-বিদেশের অর্ধশত গবেষক, শিক্ষক, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক জিয়া রহমান। সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যাকেন্দ্রিক ভূ-রাজনীতি, নৃ-গোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, পরিবেশ-প্রকৃতির ওপর প্রভাব, নারী ও শিশুবিষয়ক সমস্যা, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে গণমাধ্যমের ভূমিকা, অপরাধ ও রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের সহযোগী অধ্যাপক মিজ কেলি লপার। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন রোববার বিকেল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন ঢাবির জাপান স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ পাপা কিসমা সিলা। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, নেপাল ও ব্রুনাইয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এসএ/  

‘রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে বাধা যুদ্ধাপরাধের সামিল’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষাত্বে ত্রাণ বিতরণে সরকারের বাধা ‘যুদ্ধাপরাধের সামিল’ বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফর্টিফাই রাইটস। গত বৃহস্পতিবার ইয়াংগুনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এমন মন্তব্য করে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,মিয়ানমারে মানবাধিকারের অপব্যবহারের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখে দাঁড় করাতে আন্তর্জাতিক চাপ জরুরি। ফর্টিফাই রাইটসের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডেভিড বাউলক বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচিত বিষয়টি তদন্তের জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো। এছাড়া, মিয়ানমার সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কাচিন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষদেরকে মানবিক ত্রাণ থেকে বঞ্চিত করে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। আর এই কার্যকলাপও যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হতে পারে। রাখাইনে বর্মি সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে গত ২৭ অগাস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নির্বিচার হত্যা, গণধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া—এসব ঘটনাকে সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা বলে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দেওয়া যাবে না।’ এতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর সুপারিশ করা হয়। এর পর, ফর্টিফাই রাইটস সেখানকার ত্রাণ তৎপরতায় বাধা দেওয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করল। টিআর/

অং সান সূ চির অভিযোগে হতাশ বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অং সান সূ চির বক্তব্যে বিস্মিত বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, নভেম্বরে সই হওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তির ১০ মাস পরেও প্রধান কোনো শর্তই মিয়ানমার বাস্তাবায়ন করেনি। তারা বলছেন, দু`টি অভ্যর্থনা ক্যাম্প এবং একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করা ছাড়া কিছুই করেনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূ চি গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে এক বক্তৃতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আটকে থাকার জন্য কার্যত বাংলাদেশকে দায়ী করেছেন। তার ঐ বক্তব্যে বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তা কাছে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও অনেকে বলেছেন,তারা নিজের দেশে কোনো ক্যাম্পে থাকার জন্য ফিরে যেতে চাননা। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূ চি সিঙ্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মিয়ানমার শরণার্থীদের নিতে প্রস্তুত, তাদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গাও ঠিক হয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠানোর দায়িত্ব মূলত বাংলাদেশের। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার জন্য তিনি কার্যত বাংলাদেশকেই দায়ী করেছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অং সান সূ চি-র এমন বক্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মনে করছেন। বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেছেন, মিয়ানমারের নেত্রীর বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।"যেটা আসলে বাস্তব অবস্থা থেকে শত যোজন দূরে, এধরণের মন্তব্য সত্যিই খুব বিস্ময়কর এবং খুবই হতাশাজনক বটে। গত বছরের নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি হয়। এরপর দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু চুক্তি সইয়ের পর দশ মাসেও সেই চুক্তির প্রধান কোনো শর্তই মিয়ানমার বাস্তবায়ন করেনি বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম। তিনি বলেছেন, "মুল সমঝোতা চুক্তিতে পরিস্কারভাবে বলা আছে, তারা প্রত্যাবাসিত হবে তাদের নিজেদের গ্রামে। সম্ভব হলে স্বগৃহে। এবং কোনো কারণে যদি সেটি সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের এমন স্থানে নিতে হবে, যেটি তাদের গ্রামের নিকটবর্তী। কিন্তু মিয়ানমার মোটাদাগে শুধু দু`টি অভ্যর্থনা ক্যাম্প এবং একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করেছে।" আবুল কালাম আরও জানিয়েছেন, সপ্তাহ দেড়েক আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিনিসহ বাংলাদেশের যে প্রতিনিধি দল মিয়ানমার গিয়েছিল, সে সময় তাদের ঐ তিনটি ক্যাম্প তারা দেখিয়েছেন। কক্সবাজারে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের একজন নেতা মো: নূর বলছেন, জমিজমা বা নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে তারা ফিরে গেলে আবারও নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে বলে তারা মনে করেন। আমাদের ফেরত নেয়ার বিষয় নিয়া কিছুই করে নাই মিয়ানমার সরকার। আমাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনাই তারা করে নাই। এটা হইলো, দুনিয়াতে নাটক বানাইতেছে মিয়ানমার সরকার।" মিয়ানমারে নির্যাতনে স্বামী হারা রোহিঙ্গা হামিদা বলেছেন, মিয়ানমারে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের দুই একজন আত্মীয় আছেন, তাদের কাছ থেকে তারা খবর পাচ্ছেন যে, মিয়ানমার সরকার তাদের ফেরত নিলে কোনো অধিকার না দিয়ে ক্যাম্পে রাখবে। তারা এভাবে কখনই যাবেন না বলে তিনি বলেন। রোহিঙ্গা আরেক নারী বলছিলেন, তারা যেতে চান না। তারা দু`জনই প্রশ্ন করেছেন, "তারা কীভাবে সেখানে যাবেন? যেখানে তাদের ঘরবাড়ি, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাসহ কোনো অধিকারই নেই। তারা বাংলাদেশে ক্যাম্পে আছেন, নিজের দেশ মিয়ানমারে ফেরত গিয়েও তারা ক্যাম্পে থাকতে রাজি নন।" রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কাজ করে, এমন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার শিউলী শর্মা মনে করেন, রোহিঙ্গাদের এখন ফেরত পাঠানো হলে তাদের আবারও আগুনের মুখে ঠেলে দেয়া হবে। "শরণার্থীরাও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার প্রশ্নে নিরাত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরাও যারা তাদের সহায়তায় কাজ করছে, আমরাও এমন একটা পরিবেশে তাদের ফেরত পাঠাতে পারি না। রোহিঙ্গারা যাতে সব অধিকার নিয়ে স্বেচ্ছায় নেজের দেশে ফিরতে পারে, সেটা মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। টিআর/

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির ফ্রিডম অব এডিনবার্গ প্রত্যাহার করা হচ্ছে

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অনবদ্য অবদান রাখায় সুচিকে দেওয়া ফ্রিডম অফ এডিনবার্গ পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানের নিন্দা জানাতে অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলতে বারবার অনুরোধ করা হলেও দেশটির একজন স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত বছরের আগস্টের শেষ দিক থেকে সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। ওই সময় রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়ন চালায়। পাশাপাশি গ্রামের পর গ্রাম আগুণ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। জাতিসংঘ যেটাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছর থেকে শান্তি নোবেলজয়ী সূচিকে দেওয়া এটি নিয়ে মোট সাতটি পুরস্কার বাতিল করা হয়। এর আগে অক্সফোর্ড, গ্লাসগো ও নিউ ক্যাশলের ফ্রিডম অফ সিটি অ্যাওয়ার্ড বাতিল করা হয়। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অনবদ্য অবদান রাখায় ২০০৫ সালে তাকে ফ্রিডম অফ এডিনবার্গ পুরস্কার দেয়া হয়েছিল।   এমএইচ/এসএইচ/    

রোহিঙ্গাদের চোখের জলে ঈদ: দেশে ফেরার আকুতি

‘ঈদের নামাজ শেষে শুধু ইমাম, মৌলভীরা নয়, মসজিদে উপস্থিত কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। রাখাইনে আমরা কেউ বাব-মা ও বোনকে হারিয়েছি, আবার কেউ ভাই ও স্বজনকে হারিয়েছি। এখন আমরা নিরাপদে দেশে ফিরে যেতে চাই।‘ এ কথাগুলো বলছিলেন উখিয়া বালুখালী ক্যাম্পের একজন রোহিঙ্গা সদস্য। এ রকম অনেক রোহিঙ্গা ঈদের নামাজ পড়তে এসে তাদের আকুতি প্রকাশ করেছেন।  এ বছর বাংলাদেশে ঈদ করতে পারলেও গত বছর রোহিঙ্গাদের এ দিনটি কেটেছে আতঙ্ক এবং তাদের ওপর অমামনুষিক নির্যাচতনের মধ্যদিয়ে। দেশটির সেনাবাহিনীর এ নির্যাতন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আজকের ঈদের তাদের অন্যতম আকুতি হচ্ছে নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরে যাওয়া। এ জন্য তারা আল্লাহর দরবারে দো’য়া করেন। এ সময় তারা বলেন,  একবছর হয়ে যাচ্ছে আমরা বাংলাদেশে এসেছি। এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থা আমাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাদের মধ্যে আব্দুর রফিক নামের একজন রোহিঙ্গা বলেন, ‘সেনাবাহিনীর বর্বর হামলার কারণে গত বছর কোরবানির ঈদের নামাজ আদায় করতে পারিনি। তবে বাংলাদেশে এসে অন্তত ভালো করে ঈদের নামাজটি আদায় করতে পেরেছি। তবে আমরা চাই নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে।    এমএইচ/ এসএইচ/

মিয়ানমারে ফেরা রোহিঙ্গারাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে : এইচআরডব্লিউ

নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের খারাইন নিয়ে আসলেও সেখানে অবস্থারত রোহিঙ্গারা আবারও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এইআরডব্লিউ। সংগঠনের পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে ফেরা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন চালাচ্ছে। এতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে দেওয়া মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতির সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছে ওই সংস্থা। নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ বলছে, নির্যাতনের এই আলামত প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্তি ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানের অপরিহার্যতাকে সামনে এনেছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সমস্ত পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। চলমান জাতিগত নিধনে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিপুল পরিমাণ শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। অবশ্য এইচআরডব্লিউ তাদের প্রতিবেদনে ৬ রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে এনেছে যারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর আবারও মিয়ানমারে ঢুকেছিল। রাখাইনে থেকে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না তাদের। টাকা উপার্জন করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসার কথা চিন্তা করেছিল তারা। ওই ৬ রোহিঙ্গা এইচআরডব্লিউ-এর কাছে অভিযোগ করেছে, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে ৪ বছর করে কারাদণ্ডও দেওয়া হয় তাদের। টিআর/  

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে : মাহাথির মোহাম্মদ

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে মিয়ানমারকে। কারণ তারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে কয়েক প্রজন্ম ধরে দেশটিতে বসবাস করে আসছেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেই দেশের সেনাবাহিনী অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা, ধর্ষণ করেন। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। তাদের এবার ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানালেন মালয়েশিয়ার সফল এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে ব্যর্থ দেশটির নেত্রী অং সান সুচির কর্মকাণ্ডে তিনি প্রচণ্ড হতাশ। মার্কিন সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে (এপি) দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মালয়েশিয়ার এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ হত্যা, গণহত্যার মতো যেসব অপরাধ তারা করেছে তা মোটাদাগে অন্যায়, এটা কোনো সভ্য জাতির আচরণ নয়। মাহথির মোহাম্মদ বলেছেন, মালয়েশিয়ায় চীনের ২০ বিলিয়ন ডলারের পূর্ব উপকূলীয় রেলওয়ে সংযোগ ও ২.৩ বিলিয়ন ডলারের দুটি বিদ্যুৎ পাইপলাইন প্রকল্পের দরকার নেই। এই প্রকল্প পুনর্বিবেচনার জন্য বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। মাহাথির বলেন, এসব প্রকল্প স্থায়ী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। সুতরাং আমরা যদি পারি তাহলে এই প্রকল্প বাতিল করবো। দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতির বিরোধীতা করেন মালয়েশিয়ার এই প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে চীন সাগরে যুদ্ধজাহাজ স্থায়ীভাবে নোঙর না করার আহ্বান জানান তিনি। মাহাথির বলেন, এর মাধ্যমে সেখানে অস্ত্রের অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা শুরু হবে। তথ্যসূত্র: এপি। এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি