ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ৯:৫৯:১৮

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গাদের টেকসই পুনর্বাসনে রেজুলেশন গৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গাদের টেকসই পুনর্বাসনে রেজুলেশন গৃহীত

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সদস্য দেশসমূহের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথভাবে আনীত একটি রেজুলেশন গতকাল গৃহীত হয়। ১৪২টি দেশ এই রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ভোট প্রদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ। ওআইসি ও ইউ’র পক্ষে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়া এই রেজুলেশন পেশ করে। ওআইসি ও ইইউ’র সব সদস্য রাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোসহ মোট ১০৩টি দেশ এই রেজুলেশনটি কো-স্পন্সর করে। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।এতে বলা হয়, রেজুলেশনটি ভোটে যাওয়ার আগে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে ওআইসির পক্ষে তুরস্ক ও ইইউ’র পক্ষে অস্ট্রিয়া বক্তব্য রাখে। তুরস্ক ও অস্ট্রিয়ার বক্তব্য সমর্থন করে রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দানের আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ। ভোট গ্রহণের আগে ও পরে দেওয়া বক্তব্যে প্রায় সকল সদস্য দেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অবদানের কথা উল্লেখ করে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তার বক্তব্যে রেজুলেশনটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এই রেজুলেশনকে সমর্থন করতে সদস্য দেশসমূহের প্রতি আহ্বান জানান।গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এবং মিয়ানমারের ছাড়পত্র অনুযায়ী কিছু রোহিঙ্গা পরিবার ও সদস্যদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কাজ গত ১৫ নভেম্বর শুরু করতে সম্মত হয়েছিলাম। কিন্তু তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা সদস্যরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রতি কোনভাবেই আস্থা রাখতে পারেনি এবং একটি পরিবারও মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সম্মত হয়নি। তারা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে নাগরিকত্বের পূর্ণ নিশ্চয়তা, নিজভূমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা ও সহিংসতার বিচার করা এবং ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পূর্ণ নিশ্চয়তা ব্যতীত মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। অতএব রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির নিশ্চয়তা বিধানে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে অবশ্যই মিয়ানমারে বাধাহীন প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে”। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ধরে রাখা বা জোর করে ফেরত পাঠানো এর কোনটিতেই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কোন স্বার্থ নেই। উল্লেখ্য, গত বছর সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ওআইসির আহ্বানে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একই বিষয়ে রেজুলেশন গৃহীত হয় যা পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে পূনরায় পাস হয়। সে সময় তৃতীয় কমিটির এই রেজুলেশনে ১৩৫টি দেশ পক্ষে, ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল এবং ভোট প্রদানে বিরত ছিল ২৬টি দেশ। গত বছর সাধারণ পরিষদ গৃহীত রেজুলেশন অনুযায়ী মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আওতায় মিয়ানমার সংক্রান্ত স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন, কাচিন ও সান প্রদেশে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাবলীর বিবিধ প্রমান ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট প্রকাশ করে। স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারপারসন মারজুকি দারুসমান এ রিপোর্টের উপর সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জোরালো সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন। এ বছরের এই রেজুলেশন মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য বর্ধিত করাসহ তার কাজকে আরও বেগবান করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও এতে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জঘন্যতম কার্যকলাপের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে আনা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং সে উদ্দেশ্যে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের যথাযথভাবে প্রত্যাবাসন বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই রেজুলেশনে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ হতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে রেজুলেশনটিতে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের চেয়েও বেশী ভোটে এবারের রেজুলেশন পাস মিয়ানমারের বিপক্ষে বিশ্ব জনমতের অধিকতর জোরালো অবস্থানেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত এই রেজুলেশন আগামী ডিসেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপিত হবে। এই রেজুলেশন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে চলমান মিয়ানমার সঙ্কটের সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো প্রত্যাশা। তথ্যসূত্র: বাসস।
স্থগিত করতে বলল জাতিসংঘ

১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপে দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ১৫০ জন করে ১৫ দিনে এসব রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হবে।কিন্তু প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা রোহিঙ্গারা ফিরতে চাচ্ছে না। তাদের বেশির ভাগই মিয়ানমারে তাদের স্বজনদের হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া দেখেছে। অনেকে মিয়ানমারে না ফিরে আত্মহত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত করতে বাংলাদেশকে আহ্বান জানালেন খোদ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান মিশেল ব্ল্যাশেলেট। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রাক্কালে জেনেভা থেকে এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।এর আগে গত সোমবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। গত সপ্তাহে মিয়ানমারে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল সপোর্টিয়ার (বিশেষ দূত) ইয়াংহি লিও একই কারণ দেখিয়ে প্রত্যাবাসন উদ্যোগ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ প্রত্যাবাসন উদ্যোগ স্থগিত করার আহ্বানটি এলো জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধানের কাছ থেকে।কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রত্যাবাসন উদ্যোগের প্রতি চীন ও ভারতের সমর্থন রয়েছে। তারা চায় দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু হোক। বাংলাদেশও চাচ্ছে প্রত্যাবাসন শুরু করতে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গতকাল নয়াদিল্লিতে ৬০ জনেরও বেশি বিদেশি কূটনীতিককে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্ল্যাশেলেট বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের জীবন ও স্বাধীনতা চরম ঝুঁকিতে পড়বে। প্রত্যাবাসন উদ্যোগটিই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এসএ/  

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যা অব্যাহত

এখনও অব্যাহত আছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যা। একই সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কোনো আগ্রহ নেই মিয়ানমার সরকারের। এমন বক্তব্য দিয়েছে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান জানান, গত বছরের আগস্ট থেকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে নৃশংস দমন-নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। জীবন বাঁচাতে এখনও বাংলাদেশে ঢুকছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী। তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে এখনও রোহিঙ্গা নিধন করা হচ্ছে। শারীরিক নির্যাতন ও গণহত্যা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশ এখনো চলছে। সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ তদন্তকারী ইয়াংহি লি বলেন, তিনি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই আশা করেছিলেন, মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বে দেশটির পরিস্থিতি অতীতের চেয়ে অনেক আলাদা হবে; কিন্তু বাস্তবে এটি অতীতের চেয়ে বেশি আলাদা হয়নি। সূত্র : ইউএনবি এসএ/

‘রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান চাই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান চেয়েছেন। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু না হওয়া এবং সংকট সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর কিছু করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার ভোরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের চুক্তি আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই। সংকট সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে, সমাধানও হতে হবে মিয়ানমারে।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমরা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা অগ্রাহ্য করতে পারি না, চুপ থাকতেও পারি না।’ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিয়ানমার সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কথা জাতিসংঘে তুলে ধরেন। এক বছরেও প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টার কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসএ/    

আগামী মাসে ঢাকায় আসবে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, আগামী মাসে মিয়ানমার থেকে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসবেন। ওই সময় তারা প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তিনি এ কথা জানিয়েছেন। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলামদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। হেগের এ আদালতের কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তাতে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে হাত দিয়েছে তার দফতর। রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত আসার ধারাবাহিকতায় এ তদন্ত শুরু হল। এসএ/

রোহিঙ্গাদের কারণে দূষিত হচ্ছে কক্সবাজারের পরিবেশ

ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) এবং ইউএন ওমেন যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  রোহিঙ্গাদের আগমনে কক্সবাজারের বাতাস, শব্দ, পানি ও জীব বৈচিত্র্য বিঘ্নিত ও দূষিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। ১০৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রতি মাসে বাংলাদেশে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গা বন থেকে ছয় হাজার ৮০০ টন জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে ব্যবহার করছে, প্রতিটি পরিবারের ঘর তৈরিতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ৬০টি বাঁশ। কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখালি ক্যাম্পে হাজারো টিউবওয়েল স্থাপনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির অভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়াও রোহিঙ্গারা টেকনাফ, উখিয়া, হিমছড়ির প্রায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ হেক্টর পাহাড়ি জমির গাছপালা ধ্বংশ করেছে, যা জীব বৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। উখিয়া এবং টেকনাফে চার হাজার ৩০০ একর পাহাড় ও বন কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরি ও রান্নার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কক্সবাজারের প্রধান তিনটি ইকোলজিকাল এলাকা কক্সবাজার-টেকনাফ উপদ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ায় যানবাহন, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ বেড়েছে। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় রোহিঙ্গাদের ফেলে দেওয়া ব্যবহৃত পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল কক্সবাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। যদিও তাদের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণে কাজ করছে। পাশাপাশি ইউএনডিপিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানাছি। এ সময় ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখতে সরকারের এখনই কাজ শুরু করতে হবে। আশা করছি আমাদের এ প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশ ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও আর্থিক সাহায্য চাওয়া যাবে। এসএইচ/

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের আলোক দেখা উচিৎ : ঢাবির উপাচার্য

রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই সংকটকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের আলোকে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন,রোহিঙ্গা সংকট সুরাহায় কাজ করা বাংলাদেশের একার দায়িত্ব নয়। আন্তর্জাতিক মহলেরও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা আজকের নয়। দীর্ঘ দিনের এ সময় স্থায়ীভাবে সমাধান না হলে বাংলাদেশ জন্য বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনি এ সমস্যা সমাধান করা উচিৎ।তিনি বলেন,আজ শনিবার বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দুই দিনব্যাপী রোহিঙ্গা : পলিটিক্স, এথনিক ক্লিনজিং অ্যান্ড আনসার্টেনিটি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগ এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। এতে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সম্মেলনে ২১টি সেশনে ৭২টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অর্ধশত গবেষক, শিক্ষক, আইনজীবী ও শিক্ষার্থী।এসব সেশনে যেসব বিষয় থাকবে তার মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গা সমস্যাকেন্দ্রিক ভূ-রাজনীতি, নৃগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, রোহিঙ্গা জাতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, পরিবেশ-প্রকৃতির ওপর প্রভাব, নারী ও শিশুবিষয়ক সমস্যা, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে গণমাধ্যমের ভূমিকা, অপরাধ ও রোহিঙ্গা সমস্যা।এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, নেপালের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি দেশের একাডেমিশিয়ান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিশিষ্টজনরাও এতে অংশ নেন। টিআর/এসএইচ/

ঢাবিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক সম্মেলন শুরু আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রোহিঙ্গা : রাজনীতি, জাতিগত নিধন ও অনিশ্চয়তা’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের উদ্যোগে আজ দুপুর ২টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলনে ২১টি সেশনে ৭২টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন দেশ-বিদেশের অর্ধশত গবেষক, শিক্ষক, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক জিয়া রহমান। সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যাকেন্দ্রিক ভূ-রাজনীতি, নৃ-গোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, পরিবেশ-প্রকৃতির ওপর প্রভাব, নারী ও শিশুবিষয়ক সমস্যা, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে গণমাধ্যমের ভূমিকা, অপরাধ ও রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের সহযোগী অধ্যাপক মিজ কেলি লপার। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন রোববার বিকেল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন ঢাবির জাপান স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ পাপা কিসমা সিলা। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, নেপাল ও ব্রুনাইয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এসএ/  

‘রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে বাধা যুদ্ধাপরাধের সামিল’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষাত্বে ত্রাণ বিতরণে সরকারের বাধা ‘যুদ্ধাপরাধের সামিল’ বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফর্টিফাই রাইটস। গত বৃহস্পতিবার ইয়াংগুনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এমন মন্তব্য করে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,মিয়ানমারে মানবাধিকারের অপব্যবহারের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখে দাঁড় করাতে আন্তর্জাতিক চাপ জরুরি। ফর্টিফাই রাইটসের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডেভিড বাউলক বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচিত বিষয়টি তদন্তের জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো। এছাড়া, মিয়ানমার সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কাচিন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষদেরকে মানবিক ত্রাণ থেকে বঞ্চিত করে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। আর এই কার্যকলাপও যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হতে পারে। রাখাইনে বর্মি সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে গত ২৭ অগাস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নির্বিচার হত্যা, গণধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া—এসব ঘটনাকে সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা বলে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দেওয়া যাবে না।’ এতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর সুপারিশ করা হয়। এর পর, ফর্টিফাই রাইটস সেখানকার ত্রাণ তৎপরতায় বাধা দেওয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করল। টিআর/

অং সান সূ চির অভিযোগে হতাশ বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অং সান সূ চির বক্তব্যে বিস্মিত বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, নভেম্বরে সই হওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তির ১০ মাস পরেও প্রধান কোনো শর্তই মিয়ানমার বাস্তাবায়ন করেনি। তারা বলছেন, দু`টি অভ্যর্থনা ক্যাম্প এবং একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করা ছাড়া কিছুই করেনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূ চি গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে এক বক্তৃতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আটকে থাকার জন্য কার্যত বাংলাদেশকে দায়ী করেছেন। তার ঐ বক্তব্যে বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তা কাছে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও অনেকে বলেছেন,তারা নিজের দেশে কোনো ক্যাম্পে থাকার জন্য ফিরে যেতে চাননা। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূ চি সিঙ্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মিয়ানমার শরণার্থীদের নিতে প্রস্তুত, তাদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গাও ঠিক হয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠানোর দায়িত্ব মূলত বাংলাদেশের। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার জন্য তিনি কার্যত বাংলাদেশকেই দায়ী করেছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অং সান সূ চি-র এমন বক্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মনে করছেন। বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেছেন, মিয়ানমারের নেত্রীর বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।"যেটা আসলে বাস্তব অবস্থা থেকে শত যোজন দূরে, এধরণের মন্তব্য সত্যিই খুব বিস্ময়কর এবং খুবই হতাশাজনক বটে। গত বছরের নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি হয়। এরপর দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু চুক্তি সইয়ের পর দশ মাসেও সেই চুক্তির প্রধান কোনো শর্তই মিয়ানমার বাস্তবায়ন করেনি বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম। তিনি বলেছেন, "মুল সমঝোতা চুক্তিতে পরিস্কারভাবে বলা আছে, তারা প্রত্যাবাসিত হবে তাদের নিজেদের গ্রামে। সম্ভব হলে স্বগৃহে। এবং কোনো কারণে যদি সেটি সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের এমন স্থানে নিতে হবে, যেটি তাদের গ্রামের নিকটবর্তী। কিন্তু মিয়ানমার মোটাদাগে শুধু দু`টি অভ্যর্থনা ক্যাম্প এবং একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করেছে।" আবুল কালাম আরও জানিয়েছেন, সপ্তাহ দেড়েক আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিনিসহ বাংলাদেশের যে প্রতিনিধি দল মিয়ানমার গিয়েছিল, সে সময় তাদের ঐ তিনটি ক্যাম্প তারা দেখিয়েছেন। কক্সবাজারে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের একজন নেতা মো: নূর বলছেন, জমিজমা বা নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে তারা ফিরে গেলে আবারও নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে বলে তারা মনে করেন। আমাদের ফেরত নেয়ার বিষয় নিয়া কিছুই করে নাই মিয়ানমার সরকার। আমাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনাই তারা করে নাই। এটা হইলো, দুনিয়াতে নাটক বানাইতেছে মিয়ানমার সরকার।" মিয়ানমারে নির্যাতনে স্বামী হারা রোহিঙ্গা হামিদা বলেছেন, মিয়ানমারে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের দুই একজন আত্মীয় আছেন, তাদের কাছ থেকে তারা খবর পাচ্ছেন যে, মিয়ানমার সরকার তাদের ফেরত নিলে কোনো অধিকার না দিয়ে ক্যাম্পে রাখবে। তারা এভাবে কখনই যাবেন না বলে তিনি বলেন। রোহিঙ্গা আরেক নারী বলছিলেন, তারা যেতে চান না। তারা দু`জনই প্রশ্ন করেছেন, "তারা কীভাবে সেখানে যাবেন? যেখানে তাদের ঘরবাড়ি, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাসহ কোনো অধিকারই নেই। তারা বাংলাদেশে ক্যাম্পে আছেন, নিজের দেশ মিয়ানমারে ফেরত গিয়েও তারা ক্যাম্পে থাকতে রাজি নন।" রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কাজ করে, এমন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার শিউলী শর্মা মনে করেন, রোহিঙ্গাদের এখন ফেরত পাঠানো হলে তাদের আবারও আগুনের মুখে ঠেলে দেয়া হবে। "শরণার্থীরাও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার প্রশ্নে নিরাত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরাও যারা তাদের সহায়তায় কাজ করছে, আমরাও এমন একটা পরিবেশে তাদের ফেরত পাঠাতে পারি না। রোহিঙ্গারা যাতে সব অধিকার নিয়ে স্বেচ্ছায় নেজের দেশে ফিরতে পারে, সেটা মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। টিআর/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি