ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:২৩:০৫, বুধবার

মেলায় বই বিক্রিতে রেকর্ড

মেলায় বই বিক্রিতে রেকর্ড

অমর একুশে বইমেলায় এবারে ৪ হাজার ৮৩৪টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এটি বইমেলার ইতিহাসে রেকর্ড বলে বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে। গত বছর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৪ হাজার ৫৯১টি। অন্যান্য বারের মতো এবারও সর্বোচ্চ কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। মেলার শেষ দিনেও নতুন বইয়ের প্রবাহ ছিল। এদিন মোট ৬৪টি বই এসেছে। বইয়ের এই সংখ্যা মূলত বাংলা আয়োজক কর্তৃপক্ষের হিসেব মতে। তবে এর বাইরেও বেশ কিছু নতুন বই মেলায় আসে বলে আয়োজক এবং প্রকাশক সূত্রে জানা গেছে। এবারে বইমেলার বিষয়ভিত্তিক বই হচ্ছে, গল্প ৭৫৭টি, উপন্যাস ৬৯৮টি, প্রবন্ধ ২৭২টি, কবিতা ১ হাজার ৬০৮টি, গবেষণা ৮০টি, ছড়া ১৪৮টি, শিশুতোষ ১৫০টি, জীবনী ১৬৭টি, রচনাবলী ১৫টি, মুক্তিযুদ্ধ ১১০টি, নাটক ৪৩টি, বিজ্ঞান ৭৭টি, ভ্রমণ ৮৫টি, ইতিহাস ৭৭টি, রাজনীতি ৩৩টি, রম্য/ধাঁধা ৩৭টি, কম্পিউটার ৫টি, ধর্মীয় ২৫টি, অনুবাদ ৩৮টি, অভিধান ৬টি, সায়েন্স ফিকশন ৪৫টি এবং অন্যান্য ৩৩০টি। আজই পর্দা নামলো বইমেলার। ১ ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকাশক সমিতির অনুরোধে এবারে মেলা দু’দিন বর্ধিত করা হয়। এবারের বইমেলায় ৫২৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। এ ছাড়াও ১৮০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। এবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫০টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬২০টি ইউনিটসহ মোট ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ছাড়াও বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটলম্যাগকে ১৫৫টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২৫টি স্টলে দুটি করে লিটল ম্যাগাজিনকে স্থান দেয়া হয়। এ ছাড়া স্টল পেয়েছিল অন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠানও। আরকে//
শেষ হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা

শেষ হয়ে গেল অমর একুশের গ্রন্থমেলা। অত্যন্ত সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণভাবে মেলার সমাপ্তি ঘটলো। আজ রাত নয়টায় বইয়ের জগতের এই মিলন মেলার পর্দা নামে। শেষ দিনে আজ ৬৩টি নতুন বই প্রকাশ পায়। এ নিয়ে এবারের মেলায় ১ মাস ২দিনে সর্বমোট ৪ হাজার ৮৩৪টি নতুন বই প্রকাশ পেলো। গত বছরের মেলায় মোট নতুন বই প্রকাশ পেয়েছিল ৪ হাজার ৫৯০টি। এ বছর নতুন বইয়ের সংখ্যা ২৪৪টি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে মেলায় এবার ১ মাস দুইদিনে ৮০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গত বছরের মেলায় বই বিক্রি হয়েছিল ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার। গত বছরের মেলার চেয়ে এবার সাড়ে ৭ কোটি টাকা বিক্রি বেড়েছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ আজ বিকেলে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মেলা উপলক্ষে গঠিত নীতিমালা বাস্তবায়ন কমিটির সার্ভে টিম মেলার এইসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। গত মাসের পয়লা ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে পুরো ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ দিন মেলা চলে। তবে প্রকাশকদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার সময় দুইদিন বাড়িয়ে ২ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করেন। ফলে এক মাস দুই দিন এবারের মেলা চলে। এবারের মেলায় বাংলা একাডেমির বই বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার। প্যাভিলিয়ন ছিল ২৪টি। একটি বাদে ২৩টি প্যাভিলিয়নে কোটি টাকার উপরে বই বিক্রি হয়েছে বলে ড. জালাল জানান। এ ছাড়া তিনটি প্যাভিলিয়নে দুই কোটি টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে বলে জরিপকর্মীরা তথ্য দিয়েছেন। এবার মেলায় সর্বমোট ৭১৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ৭৭০টি ইউনিট স্টল ছিল। মেলায় প্রকাশিত নতুন বইয়ের ওপর এবার জরিপ করেছে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে। কমিটি পক্ষে একাডেমির কাছে পেশ করা তথ্যে জানা যায়, এবার মেলায় ১১৫০টি মানসম্মত বই প্রকাশ পেয়েছে, যে বইগুলোকে জরিপকর্মীরা উন্নতমানের বলে অভিমত রেখেছেন। ড. জালাল এবারের মেলা সম্পর্কে বলেন, এই মেলা ছিল অসাধারণ। মেলার মূল থিম ‘ বিজয় ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ : নবপর্যায়’কে কেন্দ্র করে মেলা নান্দনিকতায় ছিল ভরপুর। স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মেলার পরিবেশ ছিল অন্যান্য বারের চেয়ে নান্দনিক ও শোভিত। অন্যান্য সব ব্যবস্থা ছিল লক্ষ্যনীয়। নতুন নতুন আয়োজনও ছিল। সব মিলে এবারের মেলা সফলভাবে শেষ হলো বলে তিনি অভিমত রাখেন। তিনি জানান, মেলায় এবার নিরাপত্তা কাজে বিভিন্ন বাহিনীর ১২ শত সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় রেখেছেন। সোহরাওয়াদী উদ্যানে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে এ মাস দুই দিনে ৮২৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে ৩ হাজারেরও বেশি লোক অংশ নেন। ৩০ দিনে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে ৩১০ জন প্রবীণ, নবীন, তরুণ লেখক, প্রকাশক ও সাহিত্যিক তারা তাদের নতুন বই নিয়ে পাঠকের মুখোমুখী হন। সূত্র-বাসস আরকে//

প্রাণের বইমেলা শেষ হচ্ছে আজ

আজই পর্দা নামছে অমর একুশে বইমেলার। মাসব্যাপী চলা প্রাণের মেলা শেষ হবে বৃহস্পতিবার রাতে। এবার মেলা উপলক্ষে রেকর্ড সংখ্যক বই প্রকাশিত হয়েছে। পাঠক ও দর্শকের উপস্থিতিও ছিল অন্যবারের চেয়েও বেশি। গত ১ ফেব্রুয়ারি মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতি বছরের ন্যয় এবারও আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মেলার সার্বিক তথ্য তুলে ধরবেন। এবারের বইমেলা শুরু থেকেই জমে ওঠে। বিশেষ করে উদ্বোধনের দিন থেকে পরপর দু’দিন ছুটির দিন থাকায় প্রথম থেকেই ছন্দ ফেরে মেলায়। বসন্তবরণ আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের পর থেকে পূর্ণতা আসে। একুশে ফেব্রুয়ারির দিনেও এবারে উপচে পড়া ভিড় ছিল বইমেলায়। যদিও সেদিন পুরান ঢাকার চকবাজারে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের কিছুটা প্রভাব পড়েছিল গোটা রাজধানীজুড়েই। তবে শুরু থেকে প্রাণে প্রাণে ভরে উঠলেও শেষের দিকে বৃষ্টিতে খানিক বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয় মেলায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বৃষ্টি হচ্ছে রাজধানীজুড়ে। গতকাল বুধবার ভারি বর্ষণের কারণে সন্ধ্যাতেই মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এবারের বইমেলায় ৫২৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এ ছাড়াও ১৮০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫০টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬২০টি ইউনিটসহ মোট ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটলম্যাগকে ১৫৫টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২৫টি স্টলে দুটি করে লিটল ম্যাগাজিনকে স্থান দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্টল পেয়েছে অন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠানও। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলা উন্মুক্ত থাকে। ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলে। আর ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চালু ছিল। আরকে//

চেরী ব্লোসমস স্কুলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে চেরী ব্লোসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে সকালে শিশুদের নির্মিত শহীদ মিনারে ভাষা শহীদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা একুশের চেতনায় দেশ গড়ার শপথ নেয়। দিনব্যাপী নানান আয়োজনের মধ্যে ছিল বিকেলে চেরী ব্লোসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ ও সোনালি মিডিয়া ফোরামের উদ্যোগে `আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার প্রতি শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।  আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বায়েস খান। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী বাবলু। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী বাবলু বলেন, ‘ বাহান্ন’র ভাষা আন্দোলনের ভিত্তির উপর আমাদের স্বাধীনতা এসেছে। ভাষা আন্দোলনে বাঙালি রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে যেকোনো অপশক্তিকে কীভাবে মোকাবেলা করতে হয়। আর এই ভাষা-সংগ্রামের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাঙালির অস্তিত্বে জাগ্রত করেছিল স্বাধীনতার মহানায়ক ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। ১৯৯৯ সালে বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি আদায় করতে যে দু’জন বাঙালি অবদান রেখেছিলেন (সালাম ও রফিক) এই দু’জনের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের দেরাদুনে এক সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। আমি তাদের তখন থেকেই ছিনি। তাদের রক্তে আদর্শে ঝলকানি দেখেছিলাম। পরবর্তী সময়ে তারা বাহান্ন ও একাত্তরের চেতনা বুকে ধারণ করেই বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব তুলেছিল। তাহলে বুঝতে হবে তারা কতখানি দেশপ্রেম ধারণ করলে এমন অবদান রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভাষা। আমাদের ভাষাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে ভাষার ইতিহাস ঐতিহ্য জানতে হবে। কেননা পৃথিবীতে একটি জাতি আছে যারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। এই ভাষা অনন্য একটি ভাষা,রক্তের দামে কেনা। তাই আগামি প্রজন্মকে বাংলা ভাষার সঠিক ইতিহাস জানতে হবে তাহলেই বায়ান্ন ও একাত্তরের চেতনায় শাণিত হতে পারবে। কোন অপসংস্কৃতি যেন আমাদের ভাষা- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে গ্রাস করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাহলেই সালাম জব্বার রফিক সফিকের রক্ত বৃথা যাবে না।’ চেরী ব্লসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ও চেয়ারম্যান ড. সালেহা কাদের বলেন, অনেক ত্যাগের আর শহীদের রক্তের দামে কেনা আমাদের মায়ের ভাষা। আগামিতে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই শিশুদের ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য আগামি প্রজন্মকে জানাতে হবে। সেই সাথে একুশের চেতনা বুকে ধারণ করেই বাংলাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে হবে। আমি সেই লক্ষে শিশুদেরকে স্কুলে পালাগান, পুঁথিপাঠ শেখাচ্ছি। যাতে করে শিশুর আবেগ অনুভূতির সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতির পরিচয় ঘটে।’   আক্তারুজ্জামান মোহাম্মদ মহসিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য ভাষা দিবসের উপর আলোচনা করেন, কাজী আসজাদ হোসেন সাইমন, কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক, কাজী মঞ্জুরুল আলম, আরিফ আলী,শাহাদাৎ হোসেন আশরাফ, মাসুম বিল্লাহ, ড. সালেহা কাদের, মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এ আর সোহেল, উৎপল মজুমদার, সুমন ইসলাম, তামজিদ হোসেন রাসেল, হুমায়ূন কবির প্রমুখ। কেআই/      

একুশের শ্রেণিচরিত্র একাত্তর পেরিয়ে ভিন্ন চরিত্রে

আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার একুশের সংগ্রাম, পরবর্তীকালে উনসত্তর-একাত্তরের সংগ্রাম— শেষোক্তটিকে মুক্তির সংগ্রাম বা স্বাধীনতার সংগ্রাম যা-ই বলি না কেন, এ গর্ব ও অহংকারের পেছনে কিছুটা বাস্তব সত্য রয়েছে, রয়েছে এর ভিন্ন দিকও—অনেকটা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো। একুশ (ফেব্রুয়ারি) বা একাত্তর (মার্চ বা ডিসেম্বর) এলে আমরা তাই আনন্দে-উল্লাসে মাতি জাতীয় চেতনার সরোবরে দুধেরই নয়, মধুর নহর বয়ে যায়। জাতীয়তাবাদের চরিত্রটিই বোধ হয় এমন যে সে একদিকে আত্মগরিমায় অন্ধ, অন্যদিকে বিপরীত দিকে সত্যকে বুঝে নিতে, দেখে নিতে অনেকটাই উদাসীন। ব্যতিক্রমীরা যেমন অতীব সংখ্যালঘু অথবা শক্তিহীন, দুর্বল। তাঁরা সমাজকে এসব বিষয়ে সচেতন করার জন্য যথেষ্ট মাত্রায় শক্তিমান নন। কাজেই পরিস্থিতি পূর্ববৎ, অটল, অনড়। অথচ সময় ঠিকই বয়ে যাচ্ছে ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে। কথাটি বহু লেখক-বুদ্ধিজীবী কর্তৃক উদ্ধৃত—একুশের সংগ্রাম আমাদের জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের সূতিকাগার। একুশের পথ বেয়ে জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত মুক্তিসংগ্রামে পরিণত হয়েছে, পরিণামে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্র। প্রসঙ্গ একুশের সংগ্রামী চরিত্র, এর শ্রেণিচরিত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবু একুশের সর্বজনীন অহংকারের গায়ে দাগ পড়েনি, সব সত্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসেনি, আংশিক সত্য নিয়ে আমরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছি। বিষয়টি ভিন্ন নয় একাত্তরের ক্ষেত্রে—বরং পরিণত সংগ্রাম বিচারে তা অধিক মাত্রায় সত্য। দুই. একুশের কথা দিয়েই শুরু করি। এই যে আমাদের কোনো কোনো শ্রেণিসচেতন লেখক একুশের শ্রেণিচরিত্র বিচার-ব্যাখ্যায় একে যাচাই করতে যুক্তিতর্ক তথ্যের ধোপাখানায় পাঠান, তারপর সাফাই শেষে এর চারিত্রিক যে বড় দিকটা স্বচ্ছ শুভ্র হয়ে ওঠে তা হলো বাংলা রাষ্ট্রভাষার বিষয়টি। যে দাবি ভাষা আন্দোলনের মূল স্লোগান হিসেবে শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, জেলা-মহকুমা-থানা শহর হয়ে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছিল। সেসব ক্ষেত্রে প্রধান স্লোগান ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। গ্রামের মানুষ, নিরক্ষর মানুষ রাষ্ট্রভাষার তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য বোঝে না। বোঝে লোকসংগীতে বয়ানে—‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’—এটুকুই। এটা তাদের কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাতৃভাষায় কথা বলে ভাব বিনিময়, চিত্তবিনিময়ের প্রয়োজন সারে। এই ভাষিক সংস্কৃতির মধ্যে তাদের বসবাস, জীবনযাপন। এর মাধ্যমেই তারা দিন, তারিখ, মাস, বছরের হিসাব-নিকাশ করে, সংখ্যাগত গোনাগুনতি করে—হোক তা টাকা-পয়সা বা অন্যকিছু। মাতৃভাষা-সংস্কৃতি এভাবে তাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। শিক্ষিত বাঙালি বঙ্গাব্দের দিন-তারিখের কথা জিজ্ঞেস করলে বিব্রত হয়, গ্রামের মানুষ ঠিক দিন-তারিখটি বলে দেয়, শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ। এসব কারণে মাতৃভাষার বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, যা তাদের অস্তিত্বের অংশ বৈ কিছু নয়। শহরের বা শিক্ষিত মানুষের কাছে মাতৃভাষা উল্লিখিত নিরিখে ধৃত নয়। তারা এর গুরুত্ব বোঝে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে। সেখানে রয়েছে ইতি ও নেতি—এই দুইয়েরই প্রভাব। এই পার্থক্যটুকু মনে রেখে ভাষা আন্দোলনে আমাদের শিক্ষিত শ্রেণি বা তাঁদের সন্তানদের ভূমিকা বিচার করতে হবে। এটাই বাস্তবতা। তবে ব্যতিক্রম নেহাত কম নয়, যাঁরা একুশকে রাজনৈতিক শ্রেণিচরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে আন্দোলনের চরিত্র বিশ্লেষণ করেন। করেন আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ভাষাসংগ্রামীদের ভাষিক চরিত্র বিচার। সেখানে যেমন রয়েছে স্ববিরোধিতা, তেমনি ভিন্ন চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। আমরা জানি, একুশের আন্দোলনকে বাস্তবায়িত করেছিল মূলত শিক্ষায়তনের ছাত্র-ছাত্রীরা। ঢাকায় যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধান্য পেয়ে থাকে, তাহলে নিশ্চিত করে বলা যায় বড় শহরে কলেজছাত্রদের প্রাধান্য এবং ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ভাষা আন্দোলনের মূল কারিগর—টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, বাজিতপুর থেকে চাটমোটর বা আক্কেলপুর। এ বিভাজনে রয়েছে শ্রেণি বিভাজনের দিকটি বিশেষ তাৎপর্যে, মধ্য বা উচ্চবর্গীয় পরিবারের সন্তানদের এতে যোগদান মননশীল বিচার-ভাবনার মাধ্যমে। অবশ্য আবেগ যে সেখানে ছিল না, তা নয়। তাদের বিচার-ব্যাখ্যায় প্রাধান্য ছিল দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বৈষম্যের গুরুত্ব। অন্যদিকে নিম্নবর্গীয়দের হিসাবে ভাষিক আবেগটি ছিল প্রধান বিষয়। তা ছাড়া ছিল বড়দের তাৎপর্য ব্যাখ্যা, রাষ্ট্রভাষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা—যা না হলে বাঙালির রাষ্ট্রিক স্বার্থ সব নষ্ট হয়ে যাবে—অবাঙালি স্বার্থ প্রাধান্য পাবে, বাঙালি আবার দাসে পরিণত হবে। ভাব বিনিময়ের ভাষার (মুখের ভাষা) কোনো প্রকার দুর্গতি কে মানতে চায়? প্রতিবাদ তাই অনিবার্য হয়ে ওঠে। তিন. শ্রেণিগত এই ভিন্নতা বিবেচনায় রেখেও আমরা দেখতে পাই, একুশের ভাষা আন্দোলনের বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শহরে এবং গ্রামাঞ্চলে—এবং এর চরিত্র সর্বজনীন শ্রেণি-নির্বিশেষ। তদুপরি এর প্রধান চরিত্র শিক্ষায়তনিক চরিত্রের পাশাপাশি রয়েছে শ্রমজীবীকর্মী মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা। শেষোক্তদের অনেকে মিছিল-সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছে, আবার অনেকে নানাভাবে এতে সমর্থন জুগিয়েছে। সমর্থন দিয়েছে বা অংশ নিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বড়সড় অংশ, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদেরও অংশবিশেষ (যেমন নীলক্ষেত ব্যারাক বা সচিবালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী)। একুশের এই সর্বজনীন শ্রেণি-নির্বিশেষ চরিত্র সত্ত্বেও একটি বাস্তব সত্য মনে রাখতে হবে যে এ আন্দোলনের প্রধান কুশীলব ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়—কলেজকেন্দ্রিক ছাত্র-ছাত্রী, শহরে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং গ্রামাঞ্চলের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী। এককথায় প্রধানত শিক্ষিত শ্রেণির বা মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী শ্রেণির সন্তানরা। তারা স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণায় এ আন্দোলনে তৈরি করেছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রতিষ্ঠায়, সেই সঙ্গে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে। এখানেও রয়েছে ভিন্নতর শ্রেণি বিভাজন। রাজধানী ঢাকা থেকে শহরে উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা এবং ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে নিম্নবর্গীয় পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা। এরা এদের শ্রেণিগত অবস্থানে থেকেই আন্দোলন পরিচালনা করেছে—যেমন চাটমোহরের আবুল হোসেন কিংবা মেহেরপুরের নজির হোসেন। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাবীবুর রহমান শেলী বা গোলাম আরিফ কিংবা আনোয়ারুল হক খান বা কাজী গোলাম মাহবুব প্রমুখ। লক্ষণীয় যে নানা বাধা-বিপত্তি বা জেল বা আত্মগোপন সত্ত্বেও এদের ভবিষ্যৎ জীবন তথা ক্যারিয়ার উজ্জ্বলই থেকেছে। এদের কেউ বিচারপতি, কেউ আইনজীবী, কেউ সিএসপি আমলা। অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন এদের আর্থ-সামাজিক গৌরব কেড়ে নিতে পারেনি। আর রাজনীতিকরা যাঁরা এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা তো ভবিষ্যতে দিব্যি মন্ত্রিত্বের আসনে বসে কীর্তিমান হয়েছেন। অন্যদিকে নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবর্গীয় ভাষাসংগ্রামী অনেকেরই জীবনকাহিনি করুণ। স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ক্যারিয়ার গড়া দূরে থাক, ভবিষ্যৎ জীবনটাই গড়ে তুলতে পারেননি চলনসই মানে। আবুল হোসেন দরিদ্র গ্রামডাক্তার—কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন। গাইবান্ধার কার্জন আলী অর্থের অভাবে যথাযথ চিকিৎসা চালাতে পারেননি, অবশেষে মৃত্যু। এমন একাধিক উদাহরণ একুশের শ্রেণিচরিত্র ও শ্রেণিবৈষম্যের প্রকাশ ঘটিয়ে এর প্রচারিত মহিমা ক্ষুণ্ন করেছে। একাডেমি প্রাঙ্গণের উজ্জ্বল আলোয় এরা আলোচিত, অনুপস্থিত। ব্যতিক্রম নয় টেকনাফ, রামু, উখিয়া বা বাজিতপুর। শুনেছি রফিক উদ্দিন ভুঁইয়ার মতো জাঁদরেল ভাষাসংগ্রামী নেতার শেষ জীবন কেটেছে দারিদ্র্য, দুস্থ ও চিকিৎসাহীন অবস্থায়। বিত্তবান ভাষাসংগ্রামীরা যে অঞ্চলের হোন, এদের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি, সরকার তো নয়ই। শ্রেণিবৈষম্য যে কত বড় সত্য, কী নিদারুণ বাস্তবতা, এসব ঘটনা তার প্রমাণ। এগুলো যেমন ভাষা আন্দোলনের শ্রেণিচরিত্র তুলে ধরে, তুলে ধরে শ্রেণিবৈষম্যের পরিণাম। একই মাত্রায় মুক্তিযুদ্ধও একই ঘটনাচরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছে। এখানে অর্থনীতি-রাজনীতি শ্রেণিগত বিভাজন একভাবে প্রকাশিত, বরং কিছুটা অধিক মাত্রায়। একাত্তর বহুজনকে মন্ত্রিত্বের মহিমায় খ্যাতিমান করেছে, অনেককে আটপৌরে জীবন যাপনে বাধ্য করেছে, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আবার কেউ মুক্তিযোদ্ধা হয়েও চরম অর্থনৈতিক দুর্দশায় জীবন কাটিয়েছেন। যেমন—গাইবান্ধার মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, চালের গুদামের কুলি মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া-আসা তাঁর এবং সহযাত্রীদের জীবনে কোনো প্রকার রং ফোটাতে পারেনি। শ্রেণি বিভাজনের এই পরিণতি যেমন একুশেকে, তেমনি একাত্তরকে বৈষম্যের কালো দাগে চিহ্নিত করেছে। সর্বজনীন ভাষাসংগ্রাম কিংবা একাত্তরের জনযুদ্ধ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘জন’-কে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে পারেনি। পারেনি শক্তিমান মধ্যবিত্ত বা উচ্চ শ্রেণির নিজ নিজ স্বার্থপরতার কারণে। তারা আপন ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় স্বার্থ ও শ্রেণিস্বার্থের সমৃদ্ধি ঘটিয়েছে চেতায় বিন্দুমাত্র গ্লানির রেখা চিহ্নিত না করে। তাঁরা গাড়ি-বাড়ি, প্রাসাদোপম ভবনে জীবনযাপন করে ভুলে থেকেছেন সহযোদ্ধাদের কথা। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট? কী এক পরিহাসজ্ঞাপন শব্দ? আর ভাষা আন্দোলন? সে এমনই অবহেলিত যে দুস্থ ভাষাসংগ্রামীদের জন্য কোনো কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের কথা সরকার বা সুবিধাভোগী শ্রেণির মনে হয়নি। কারণ তারা শ্রেণিগত সুবিধার প্রসাদপুষ্ট পৃথুল দেহাবয়বের মানুষ। চিত্তে একই প্রকার মেদসূ্থলতা। মস্তিষ্ক কোষগুলোতে মেদভার। সহযোদ্ধাদের কথা বিস্তৃতির গভীরে চাপা পড়ে আছে। এটাই আর্থ-সামাজিক দর্শনের নিয়ম। একুশ বা একাত্তরের সংগ্রাম আমাদের শ্রেণিচরিত্রে বিন্দুমাত্র ছাপ ফেলেনি, শ্রেণিচরিত্রের পরিবর্তন তো দূরের কথা। কোনো বন্ধু যখন বিদায়ক্ষণে সহযোদ্ধাকে বলেন, ‘মনে রেখো’, তখন বলতে ইচ্ছা করে—কে কাকে মনে রাখে? একমাত্র শ্রেণিচরিত্রই স্মরণের বিষয়টি নির্ধারণ করে, অন্য কোনো নিরিখে নয়। লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক, ভাষাসংগ্রামী।    

এপেক্স ক্লাবস অব বাংলাদেশের আলোচনা সভা

দি ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব এপেক্স ক্লাবস্ অব বাংলাদেশ এর আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং ভাষা সৈনিক ড. জসীম উদ্দিন আহমেদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এর সেমিনার কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এপেক্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন ডিরেক্টর এম. সায়েম টিপুর সভাপতিতত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ কান্ত বিশ্বাস। ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এপেক্স বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ও পিএনপি ফোরাম এর চেয়ারম্যান প্রফেসর কুদরত-ই-ক্ষুদা এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন একুশে টেলিভিশনের প্ল্যানিং এডিটর ও ইআরএফ সভাপতি এপেঃ সাইফ ইসলাম দিলাল। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ছাড়াও শিশুদের চিত্রাঙ্কন, কবিতা ও ছড়া আবৃতি এবং গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপিস্থিত ছিলেনে এপেক্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট এপেঃ এম.এ কাইয়ুম চৌধুরী, ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট এপেঃ নিজাম উদ্দিন পিন্টু, এপেক্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, এলজি এপেঃ মোশারফ হোসেন মিশু, সাবেক জাতীয় সভাপতি এপেঃ ইঞ্জিঃ শেখ পারভেজ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক জাতীয় সভাপতি এপেঃ ইঞ্জিঃ টি. কে. বাড়ৈ তরুন, সাবেক জাতীয় সভাপতি ও এপেক্স গ্লোবাল এর চেয়ারম্যান এপেঃ আসলাম হোসেন, সাবেক জাতীয় সভাপতি খুরশিদ-উল-আলম অরুণ, এনএডি এপেঃ মাহবুবুল হক সাবু, জেলা গভর্ণর-১ এপেঃ মীর নাসির উদ্দিন উজ্জল, জেলা গভর্ণর-২ এপেঃ মোঃ হারুন উর রশীদ, জাতীয় সচিব এপেঃ ভুবন লাল ভারতী, সিসিএসি জিএম মোরশেদ, জাতীয় প্রোগ্রাম চীফ কো-অর্ডিনেটর এপেঃ আব্দুল মতিন শিকদার, ন্যাশনাল ট্রেজারার এপেঃ মোঃ আলী হোসেন, দি বাংলাদেশ এপেক্সিয়ান পত্রিকার সম্পাদক এপেঃ ফয়সাল শাহেদ সুমনসহ প্রায় ১৫০ জন এপেক্সিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত মাসব্যাপী নাট্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলী লাকী রচিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান, বিশিষ্ট নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ, নাট্যজন লাকী ইনাম, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ, সহসম্পাদক চন্দন রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক তপন হফিজ এবং গ্রন্থের সংকলন সহযোগী সৌম্য সালেক। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে নাটক মঞ্চায়নের সূচনা ঘটে। সে সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংস্কৃতিবান মানুষের অংশগ্রহণ ও অর্থানুকূল্যে মঞ্চ নির্মাণ শুরু হয়। দেশের অনেক নাট্যমঞ্চ গৌরবময় শতবর্ষ অতিক্রম করেছে। নাট্যচর্চার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে এসব মঞ্চ বিরাট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একটি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে ‘বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ’ শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। দেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চগুলোর ইতিহাস –ঐতিহ্য এবং অবদানকে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে। এই গ্রন্থের মধ্যে দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং শতবর্ষ অতিক্রান্ত ৩৩টি মঞ্চের ইতিহাস বস্তনিষ্ঠতা বজায় রেখে তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বইটি রচনা করেছেন একাডেমির মহাপরিচালক ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকী। সংকলন সহযোগী ছিলেন সৌম্য সালেক ও মারুফা মঞ্জুরী খান। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। বইটি মেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অবস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টলে (নং:৪-৫) পাওয়া যাচ্ছে। বইটিতে অন্তর্ভূক্ত শতবর্ষী নাট্যমঞ্চগুলো হল: কুমিল্লা টাউন হল, কুষ্টিয়া পরিমল থিয়েটার, খুলনা নাট্য নিকেতন, গাইবান্ধা নাট্যসংস্থা, গাজীপুর ভাওয়াল রাবজাড়ি নাট্যমন্ডপ, ঝিনাইদহ করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব, টাঙ্গাইল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব, ঠাকুরগাঁও এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হল, ঢাকার শতবর্ষী ও প্রায় শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ, দিনাজপুর নাট্য সমিতি, নীলফামারী ডোমার নাট্য সমিতি মঞ্চ, নওগাঁ করোনেশন হল, পাবনা বনমালী ইনস্টিটিউট, বাগেরহাট টাউন হল , ফরিদপুর টাউন থিয়েটার, বগুড়া এডওয়ার্ড ড্রামাটিক মঞ্চ, অশ্বিনী কুমার টাউন হল, বরিশাল, ময়মনসিংহ আমরাবতী নাট্যমন্দির, ময়মনসিংহ টাউন হল, এল.পি মিশ্র ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ, দূর্গাবাড়ি নাটমন্দির, ময়মনসিংহ, মাগুড়া টাউন হল, যশোর বি. সরকার মেমোরিয়াল হল, রংপুর টাউন হল, রাজবাড়ি সফিউর রহমান মিলনায়তন, ললিত মোহন মিত্র নাট্যমঞ্চ, রাজশাহী, রাজা প্রমদানাথ টাউন হল, রাজশাহী, লালমনিরহাট এম.টি. হোসেন ইনস্টিটিউট, সিলেট ক্ষীরোদ মেমোরিয়াল স্টেজ, নাটমন্দির, ব্রহ্ম মন্দির, বন্দরবাজার, সিলেট, মণিপুরী রাজবাড়ী নাটমন্দির, সিলেট, মালনীছড়া চা বাগান নাটমন্দির, সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ পৌর ভাসানী মিলনায়তন। আরকে//

ছুটির দিনে বই মেলায় উপচে পড়া ভিড়

ছুটির দিন থাকায় শুক্রবার বই মেলায় বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দুপুরের পর সব বয়সী মানুষ দলে দলে বইমেলায় আসতে শুরু করেছে। শুক্রবার মেলার বাংলা একাডেমি ও সোহওরায়ার্দী উদ্যানের শিশু কর্নারের গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। প্রতি শুক্রবার সকালে শিশু প্রহর থাকায় সকাল থেকেই শিশুদের পদচারনায় মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গন। তবে দুপুরে জুম্মা নামাজের পর সব বয়সী পাঠকরা মেলায় আসতে শুরু করে। নিজ নিজ পছন্দের বইগুলি কিনতে প্রকাশনীগুলোতে ভিড় করছেন তারা। বিকাশ কুমার নামে মেলায় আগত দর্শনার্থী বলেন, মেলায় অনেক কবি সাহিত্যিকের দেখা হয়। ভালই লাগে। বই কেনার পাশাপাশি দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দেখতেই মেলায় আসা। মেলায় বন্ধুরা মিলে একটা আড্ডা হলো। মেলায় প্রবেশ পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রত্যেককে তল্লাশি করায় এদিন দুপুরের বাংলা একাডেমী ও সোহরওয়ার্দী উদ্যানের আর্চোয়ে গেটে বইপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে প্রাণের মেলায় ঢুকতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও ক্লান্তি নেই দর্শনার্থীদের। রহমান মিঠু নামের এক দর্শনার্থী বলেন, এতো নিরাপত্তা সব আমাদের জন্যেই। তাই ক্লান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমরা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করলেই বরং নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবো। আর যেখানে লোক সমাগম বেশি সেখানে একটু নিরাপত্তা তো দিতেই হবে। এটা ঝামেলার না, আমাদের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে। আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি