ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৯:৩৭

মেলায় বই বিক্রির রেকর্ড

মেলায় বই বিক্রির রেকর্ড

এবারের বই মেলায় রেকর্ড পরিমাণ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রয় হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫ কোটি টাকার বেশি। বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। যা ছিল তার আগের বছরের চেয়ে ২৩ কোটি টাকা বেশি। নতুন বই বই প্রকাশিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৯১ টি। গত মেলায় নতুন বই প্রকাশ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬৬৬টি। বুধবার বাংলা একাডেমির পরিচালক ও অমর একুশে  বইমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। ড. জালাল আহমেদ জানান,  এবারের মেলায় গত মেলার চেয়েও মোট ৯৩৪টি বেশি বই প্রকাশ পেয়েছে। এই সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ, অনেক প্রকাশনা সংস্থা তাদের নতুন বইয়ের তালিকা বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও একাডেমির তথ্য কেন্দ্রে জমা দেয়নি। ফলে একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে যে সব বইয়ের তালিকা জমা পড়েছে সেই তথ্যই আমরা মিডিয়াকে জানিয়ে দিচ্ছি। নতুন বইয়ে রেকর্ড বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা যায়, এবার বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চার হাজার ৫৯১টি। যা গতবারের চেয়ে ৯৪৫টি বেশি। গতবার বই প্রকাশিত হয়েছিল ৩ হাজার ৬৬৬টি। এবার নতুন বইয়ের মধ্যে কবিতার বইয়ের সংখ্যা বেশি ১ হাজার ৪৭২টি। এরপর রয়েছে গল্প ও উপন্যাসের স্থান। এবার গল্পের বই ৭০১টি এবং ৬৪৩টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।   মননশীল বইয়ের মধ্যে প্রবন্ধ ২৫৭টি, গবেষণা ১২২টি, জীবনীগ্রন্থ ১০৭টি, রচনাবলী ১৫টি, নাটক ২৩টি, ভ্রমণ বিষয়ক ৯১টি, ইতিহাসের ১১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে ৯১টি। এছাড়া নতুন বইয়ের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ক ৭৬টি, রাজনীতি-২২টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য- ৩৩টি, রম্য ও ধাঁধাঁ-২১টি, ধর্মীয়- ২৬টি এবং ৪৮টি অনুবাদ গন্থ প্রকাশিত হয়েছে। শিশুতোষ  বই এসেছে ১২৫টি। তরুণ পাঠকের আগ্রহের তুঙ্গে থাকা সায়েন্স ফিকশন ও গোয়েন্দা বিষয়ক বই এসেছে ৬৫টি। এছাড়া অভিধান বিষয়ক বই এসেছে ৭টি,  অন্যান্য বিষয়ে এসেছে ৪২৪টি বই। বই মেলার শেষ দিনে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের আদিবাসী ’ শীর্ষক সেমিনার। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাহমান নাসির উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন রাশিদ আসকারী। আলোচনায় অংশ নেন ফয়জুল লতিফ চৌধুরী ও রণজিত সিংহ। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান। বক্তব্য রাখেন মেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। কেআই/টিকে
ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি রক্ষার দাবি

মায়ের ভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে আন্দোলনে অংশ নিলেও আজও যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি ভাষা সৈনিকদের বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের দাবি। অনেক ভাষা সৈনিক বেঁচে নেই। যারা আছেন তাদেরকেও চেনে না নতুন প্রজন্ম। তাই ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি রক্ষার যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কালো পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্র ছিলেন পঞ্চগড়ের মোহাম্মদ সুলতান। যে ১১ জন ছাত্রনেতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সুলতান তাদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু পঞ্চগড়ের তরুণ প্রজন্ম আজও জানে না ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতানের বীরত্বের ইতিহাস। তার নামে একটি সড়কের নামকরণ হলেও অনেকেরই অজানা। মোহাম্মদ সুলতানের ম্যুরাল তৈরি ও বীরত্বের ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিবছর শহীদ দিবস উপলক্ষে ভাষা সৈনিক সুলতান বই মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। ৫২` সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা ছিলেন টাঙ্গাইলের ভাষা সৈনিক মওলানা ভাসানী, শামসুল হক, সোফিয়া খান, অধ্যাপক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম, সৈয়দ আব্দুল মতিনসহ অনেকে। এদের সংস্পর্শে টাঙ্গাইলের আরও এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন বুলবুল খান মাহবুব। টাঙ্গাইলের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণে যাদুঘর নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। এসএইচ/

বই মেলায় শাহাজাদা বসুনিয়ার ‘অশরীরী আত্মার ক্ষোভ বিক্ষোভ’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে শাহাজাদা বসুনিয়ার ‘অশরীরী আত্মার ক্ষোভ বিক্ষোভ’ কাব্য গ্রন্থ।  চোখ প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করা হয়। আমাদের চারপাশে অসংখ্য অশরীরী ঘুরে বেড়াচ্ছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হানাহানিতে অগনিত মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। আজ সে সকল মানুষই আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আমাদের ভৎসনা করছে। আমাদের প্রতিনিয়ত অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছে। লেখক তার কাব্য কাহিনীর মাধ্যমে এই ধরণের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন।     শাহাজাদা বসুনিয়া তার বই সম্পর্কে বলেন, ঘুমের মধ্যেই স্বপ্ন দেখি কঙ্কাল এসে আমার পাশে বসে আছে। এই কঙ্কালগুলো আমাদের চারপাশে ঘুরছে। এই কঙ্কাল হলো সেই সব মানুষ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আগমন থেকে  আজ পর্যন্ত এ অঞ্চলে অগনিত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আমি বলি তাদের অপমৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব যুদ্ধ, ৪৭ এ সংঘঠিত ঘটনা, ব্রিটিশদের দখল, ৭১ এর যুদ্ধ এবং বর্তমানে রোহিঙ্গা হত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডে সংঘঠিত নিহত মানুষরাই অশরীরী বা ভূত হয়ে আমাদের চারপাশে ঘুরছে। আমাদেরকে তারা ধিক্কার দিচ্ছে আর অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছে। কেন তাদের হত্যা করা হলো। শাহাজাদা বসুনিয়া তার বইটিতে অত্যন্ত চমৎকারভাবে তার ভাবনাকে তুলে ধরেছেন। মানুষের এই অপমৃত্যু পৃথিবীর সৌন্দর্যকে শেষ করে দিচ্ছে। এই হানাহানি মানুষে মানুষে যে মমত্ব, ভালোবাসা সেটিকে একেবারেই শেষ করে দিচ্ছে। বসুনিয়া বলেন, আমরা হানাহানি চাই না। একটি সুন্দর, সুস্থ পৃথিবী চাই। যে পৃথিবীতে থাকবে শুধু ভালোবাসা। ঘটবে না কোনো অপমৃত্যু। কেউ কাউকে হত্যা করবে না। কারো মধ্যে থাকবে না প্রতিশোধের চিন্তা। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মাঝে থাকবে অনাবিল শান্তি।   শাহাজাদা বসুনিয়ার জীবনের শুরুটা হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি বেছে নেন ব্যাকিং পেশা। ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একযুগ চাকরির পর পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। কবিতার প্রতি রয়েছে তার এক ধরণের মোহ। যখনই সুযোগ পান কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি কবিতা লেখেন। তার কবিতায় ব্যবহৃত শব্দগুচ্ছ এবং বাক্য নির্মাণের খেলা খুবই মুগ্ধকর।  ইতিমধ্যে তার লেখা বই ‘আ সিক্রেট অব আ ওয়ার বেবি’, ‘টপ টেন গোস্টস’ লাভ ইন টিয়ারি আইস’ পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এছাড়া, ‘জাগিয়া উঠিল প্রাণ’ ‘দর্পণে তুমি’ ‘জলতরঙ্গের ছোঁয়া’ ও ‘সাতকাহন’ এই বইগুলোও পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হয়।     এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় শাহাজাদা বসুনিয়ার প্রকাশিত ‘অশরীরী আত্মার ক্ষোভ বিক্ষোভ’ বইটি পাওয়া যাচ্ছে পালক এর ৪৩৫ নাম্বার স্টলে।      এসি/  

২৬ দিনে মেলায় নতুন ৪৩৩৬ বই প্রকাশ

অমর একুশের গ্রন্থমেলা শেষ হতে আর মাত্র দুদিন বাকি। এর মধ্যেই নতুন বই প্রকাশ গত বছরের মেলাকে ছাড়িয়ে গেছে। এবারের মেলার মোট ২৬ দিনে নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে মোট ৪ হাজার ৩৩৬টি। গত বছর নতুন বই এসেছিল মেলায় ৪ হাজার ১২শ’টি। গত মেলায় নতুন বই প্রকাশে শীর্ষে ছিল কবিতা। এবারের মেলার সোমবার পর্যন্ত ২৬ দিনে শীর্ষে রয়েছে কবিতার বই ১২৯২টি। এর পরই রয়েয়ে ছোট গল্পের বই ৬১৩টি। তৃর্তীয় অবস্থানে রয়েছে উপন্যাস ৫৭৮টি। প্রবন্ধ রয়েছে ২৪১, বিজ্ঞান ৯১টি, ছড়ার বই ৯৭টি, ইতিহাস ৯৪, শিশুতোষ ২১৩টি এবং অন্যান্য বিষয়ে ৭০১টি নতুন বই এসেছে এবারের মেলায়। সোমবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৭টি। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে জানান, এই মেলায় প্রতিবছর কয়েকশত নতুন লেখকের প্রথম বই প্রকাশ পায়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এই পর্যন্ত সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০জন লেখকের প্রথম বই মেলায় এসেছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, একুশের গ্রন্থমেলা আমাদের প্রতিবছরই অসংখ্য নতুন লেখকের বই উপহার দিচ্ছে। লিখতে লিখতেই লেখকের সৃষ্টি হয়। কার বই কি রকম, তা বই প্রকাশ না পেলে তো বিচার করা যায় না। একাডেমির মেলা হচ্ছে আমাদের সাহিত্যকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম। গবেষক ও লেখক আবুল আহসান চৌধুরী জানান, এ মেলা শুধুই বই প্রকাশ ও বই বিক্রির জন্য নয়। মহান একুশের পথ ধরে মেলার শুরু হয়েছিল। এবং তা আজ বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত। একই সাথে বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতিকে লালন করে আমাদের নানাবিধ বোধ ও বোধনকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যাচ্ছে। যা পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। সাথে যোগ হয়েছে বাংলা একাডেমির আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। বিশ্বের অসংখ্য লেখকরা আসছেন মেলা ও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। সোমবার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে, খালেদ হোসাইনের ‘কবিতা সমগ্র, অনিন্দ প্রকাশনী, কুমার প্রীতীশ বল’এর ‘মুক্তিযুদ্ধের ১০টি নাটক, ন্যাশনাল পাবলিশার্স, আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘অগ্রন্থিত রচনাবলী, অনিন্দ প্রকাশন, আলী ইমামের ‘নানা প্রসঙ্গ’, কাশবন, উস্তাদ বাবু রহমানের ‘কন্ঠশ্রী স্বাস্থ্যশ্রী’, হাওলাদার প্রকাশনী, বেহুলা প্রকাশনীতে এসেছে বিজয় চাকমার ‘বেহুলা বাংলা।’ মেলার মূল মঞ্চে আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিজয় সরকার’ শীর্ষক আলোচনা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন। সভাপতিত্ব করেন গবেষক ও লেখক আবুল আহসান চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক শফি আহমেদ এবং নারীনেত্রী ও লেখক মালেকা বেগম। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লোক সংগীত পরিবেশন করে বিভিন্ন শিল্পীরা। সূত্র: বাসস //আর//  

শহীদ মিনারগুলোর পরিচর্যার দাবি ভাষা সৈনিকদের

মায়ের ভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ববোধ থেকেই ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন অনেকেই। এদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জের এ এম ফজলুর রহমান ও শেরপুরের অসিত কুমার দেব। সর্বস্তরে বাংলা চালু ও সারা বছরই দেশের শহীদ মিনারগুলোর যথাযথ পরিচর্যার দাবি এসব প্রবীন ভাষা সৈনিকের। ১৯৫২। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে উত্তপ্ত ঢাকার রাজপথ। দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও সেদিন লেগেছিলো উত্তাপের ছোঁয়া। গোপালগঞ্জের বেশ কয়েকজন ছাত্র রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম এ এম ফজলুর রহমান। আন্দোলন করার অপরাধে কারাভোগ করতে হয় এ ভাষা সৈনিককে। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া শেরপুর জেলার অধিকাংশ সৈনিকই আজ বেঁচে নেই। যারা আছেন তাদের মধ্যে একজন নিভৃতচারী বর্ষিয়ান শিক্ষক অসিত কুমার দেব। ১৯৫২-তে ডিসি অফিস ঘেরাও করার অপরাধে আটক করা হয় তাকে।বাংলাকে আরো মর্যাদার আসনে দেখতে চান বর্ষিয়ান এই সৈনিকেরা। চান দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ভাষা সৈনিকদের স্বীকৃতি।শুধু ২১ ফেব্রুয়ারি নয়, সারাবছরই যেন শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়, এমনটাই দাবি ভাষা সৈনিকদের। এসএইচ/  

বইমেলায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন বই ‘নির্বাচিত ১০০ ভাষণ’

অমর একুশের বইমেলায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন বই ‘নির্বাচিত ১০০ ভাষ’। বইটির প্রধান সম্পাদক হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। গ্রন্থনা ও সম্পাদনায় করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্তি প্রেস সচিব মো. নজরুল ইসলাম। ৫৫২ পৃষ্ঠার বইটি ঢাকার জিনিয়াস পাবলিকেশন্স’র পক্ষে প্রকাশক হচ্ছেন মো. হাবিবুর রহমান। বইটি প্রধানমন্ত্রী উৎসর্গ করেছেন তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চার বছরে দেশ-বিদেশে যেসব ভাষণ দিয়েছেন তার মধ্য থেকে বাছাই করে একশ’ ভাষণ এই বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। বইয়ের ইনার পেজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের দুটি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি প্রতিকৃতি ছাড়াও বইয়ের শেষ পর্বে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পনেরটি আলোকচিত্র। প্রচ্ছদের দ্বিতীয় তৃতীয় পাতায় শেখ হাসিনার সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাঁর প্রকাশিত বইয়ের নাম এবং প্রচ্ছদের চতুর্থ পৃষ্ঠায় রয়েছে বইয়ে পত্রস্থ ভাষণ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বিবরণ। বইটির বিষয়ে প্রচ্ছদের পাতায় সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচিত ১০০ ভাষণ’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করা ভাষণের সংকলন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভাষণ নিয়ে সংকলনটি সাজানো হয়েছে। সংকলনে নির্বাচিত ভাষণগুলোতে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন চিন্তা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শন এবং জনকল্যাণকামী কর্মসূচি বা পরিকল্পনার পরিচয় পাবো। ’ প্রধানমন্ত্রীর সমগ্র চিন্তা চেতনায় রয়েছে স্বদেশ ও দেশের মানুষ। সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর সকল বক্তৃতা-বিবৃতিতে দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয়টি স্বতস্ফূর্তভাবে প্রাধান্য পেয়ে থাকে।’ সূত্র: বাসস কেআই/টিকে

জামালপুরে ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি চিহ্ন নেই

জামালপুরে ভাষা সৈনিকদের নামে কোন স্মৃতি চিহ্ন বা নামফলক নেই। তবে, ব্যক্তি উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছে ভাষা সৈনিকের নামে একটি লাইব্রেরি। এখানে এসে নতুন প্রজন্ম ভাষা সৈনিক ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানতে পারছে। নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। শুধু রাজধানী নয়, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়েছিলো সারা পূর্ব বাংলায়। রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল জামালপুর। আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন জামালপুরের সৈয়দ আব্দুস সুবহান, সৈয়দ আব্দুস সাত্তার, দিদারুল আলম খুররম, মুখলেছুর রহমান ফকির এবং মতি মিয়াসহ আরও অনেকে। জামালপুরে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া কেউ এখন বেঁচে নেই। একমাত্র শহীদ মিনার ছাড়া তাদের স্মরণে কোন নামফলক বা স্মৃতি চিহ্ন তৈরি হয়নি আজও। শুধুমাত্র ব্যক্তি উদ্যোগে তিন বছর আগে শহরের দেওয়ানপাড়ায় গড়ে উঠেছে ভাষা সৈনিক মতি মিয়া ফাউন্ডেশন লাইব্রেরি। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধকে জানতে এই লাইব্রেরি রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। লাইব্রেরি থেকে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা সৈনিকদের ওপর নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের জন্য ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামালপুরবাসী। এসএইচ/

বইমেলায় হানিফ সংকেতের ‘কে খোঁজে কে বোঝে’

একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে জনপ্রিয় উপস্থাপক-নির্মাতা ও লেখক হানিফ সংকেতের গ্রন্থ ‘কে খোঁজে কে বোঝে’। বইটি প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী।বইটি প্রসঙ্গে হানিফ সংকেত বলেন, চারদিকে দৃশ্যমান অদ্ভুত সব অসঙ্গতি আমাদের অভিজ্ঞতাকে কখনও হাস্যরসে, কখনও বা তিক্ততায় ভরিয়ে দেয়। আমাদের মনের উপরেই সবকিছু নির্ভর করে। এই মন ভালোতো সব ভালো, মনের গুণেই সব আলো আবার মনের দোষেই সব কালো। আমাদের চলমান জীবনের দৃশ্যমান এমনি কিছু ‘কালো’অসঙ্গতি এবং সমসাময়িক বিষয়কে উপজীব্য করেই লিখতে চেষ্টা করেছি ‘কে খোঁজে কে বোঝে’বইটি। ২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে লেখাগুলি প্রকাশিত হয়েছে।লেখালেখি প্রসঙ্গে হানিফ সংকেত বলেন, মিডিয়ায় পথচলা শুরুই করেছিলাম লেখালেখি দিয়ে এবং সেটা সত্তরের দশকের প্রথম থেকেই। এখনও সময় পেলে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখতে চেষ্টা করি। তবে ব্যস্ততার কারণে বইয়ের জন্য খুব একটা লেখা হয় না। দর্শকদের ভালোবাসার কারণে ইত্যাদি কে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই কাজের ব্যস্ততার উপর নির্ভর করে বইয়ের সংখ্যা। তবে যত ব্যস্তই থাকি না কেন, চেষ্টা করি সংখ্যায় বেশি না হলেও প্রতিটি বই মেলায় যেন অন্তত একটি করে হলেও বই থাকে।/ এআর /

প্রাণের মেলায় বইপ্রেমীদের ঢল

মাত্র একদিন আগে ‘অমর একুশে’র চেতনা উদ্বীপ্ত গণমানুষের বইমেলাই যে ঢেউ লেগেছিলো সেই আবহের জের যেতে না যেতেই  দিন ফুরিয়ে আসছে একুশে গ্রন্থমেলার । আজ ছিলো মেলার ২৩তম দিন, ৬ষ্ঠ শিশু প্রহর এবং শেষ শুক্রবার।  এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো বইমেলায় লোক সমাগম বেশি হয়, তার উপরে এবারের মেলার শেষ শুক্রবার হিসেবে আজ জনস্রোতের ঢল নেমেছে।  বিকিকিনিও  হচ্ছে আশানুরূপ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব শ্রেণীর পাঠকের সমাগম দেখা মিলেছে মেলাতে। সরেজমিনে দেখা যায়, ছুটির দিন  ও সকালে শিশু প্রহর থাকায় বিকেল ৩টার আগে থেকেই প্রাণের মেলা বইমেলায় (দুই প্রাঙ্গণে) প্রবেশের জন্য উম্মুখ হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেক তরুণ-তরুণীকে। আর তিনটায় প্রবেশপথ খুলে দিলে মুহূর্তেই প্রবেশ করে মেলার ভেতরে। প্রবেশ মাত্রই যে যার পছন্দের বই কিনতে চলে যায় পছন্দের স্টলে স্টলে। বিকেল আসতে না আসতেই মেলার উভয় প্রাঙ্গণে ভীড় বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে বেচাকেনাও। এ সময় কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয়কর্মী জানালেন, বইয়ের বিক্রি অন্যান্য দিনের চেয়ে ভালো। বিশেষ দিনগুলোর মতো এখন মেলায় তেমন উপচেপড়া ভিড় না থাকলেও মেলায় ভিড় আছে যথেষ্ট। চলছে প্রকৃত বইপ্রেমীদের হরদম কেনাকাটা, বেড়েছে সব ধরনের বইয়ের বিক্রি। প্রায় সবকটি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে বইয়ের ক্রেতার ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। অধিকাংশের হাতেই নতুন বইয়ের প্যাকেট। বই বিক্রিও হয়েছে অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বেশি। জনপ্রিয় কবি-লেখকদের গল্প-কবিতা-উপন্যাস যেমন বিক্রি হচ্ছে তেমনই ভালো বিক্রি হচ্ছে মননশীল বই, প্রবন্ধের বই। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীদের  এখন কি ধরনের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তারা বলছেন, বিষয়ভিত্তিক বইয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। তেমনি প্রবন্ধ, গবেষণামূলক গ্রন্থের বিক্রিও বেশ ভালো। বিষয়টাকে প্রকাশকরা দেখছেন পাঠকের চিন্তার স্তরের উত্তরণ হিসেবে। তারা আরও বলছেন, প্রকৃত পাঠকরা দেখেশুনে বই কেনার জন্য এই দিনগুলোই বেছে নেয়। এই সময়ে তারা দুই হাতে বই কেনে। মেলাতে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী দ্বীন ইসলামের সাথে। তিনি একুশে  টিভি অনলাইনকে বলেন, চাকরি করার কারণে সব সময় মেলাতে আসতে পারি না। আজ শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় মেলাতে এসেছি। ইতোমধ্যে  দুইটি বই কিনেছি। পছন্দ হলে আরও কিছু বই নিয়ে যাবে। সরকারি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী করিব আহমেদ একুশে টিভি অনলাইনকে জানান,  লেখাপড়ার পাশাপাশি জব করার কারণে  ইচ্ছা থাকলেও  ছিুটির দিন ছাড়া মেলাতে আসতে পারি না। তাই আজ  ছুটির দিন থাকার কারণে তিন বন্ধু মিলে মেলাতে এসেছি। তিনি আরও জানান,  হুমায়ুন আহমেদের হিমু সিরিজের দশ বইটি নিয়েছি। এছাড়া শরৎচন্দ্র লেখা চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত নিয়েছে।  নতুন কিছু লেখকের বই পেলে নিয়ে যাবে। প্রকাশনা সংস্থা ‘কথা’ প্রকাশের বিপণনের দায়িত্ব পালনকারী মো. ইউনুস বলেন একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, মাত্র দুই দিন আগে ’৫২’তে একঝাক তরুণের রক্তে লেখা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণ-স্বাক্ষর ‘অমর একুশে’ স্মরণে জাতি পালন করলো ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। একুশ মানে মাথানত না করা- এমনই শপথ নিয়েই যেন তারা এসেছিল মেলা প্রাঙ্গণে। মেলায় ঢুকেই তাদের কেউ বই কিনছে, কেউ বই দেখছে। দু’প্রাঙ্গণের এই মেলার চারদিকে ঘুরছে-নির্বিঘ্নে। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশের অধিকাংশ প্রকাশকরা বলছে তাদের বিক্রি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। আমরা আশা করছি মেলার বাকি ক’দিন বিক্রি আরও বাড়বে। তাছাড়া এখন মেলাতে যারা আসছে তারা বই কিনতেই আসছে। আজ মেলা শুরু  হয় সকাল ১১টায় এবং শেষ হবে রাত ৯টায়। এই সময়ের মধ্যে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকে শুধুই শিশু-কিশোরদের জন্য। এ আয়োজনের পরেই মেলার মূলমঞ্চে সন্ধ্যায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন আলম দেওয়ান, শফিউল আলম রাজা, আঁখি আলম এবং আমজাদ দেওয়ান। টিকে

শিশুদের কলরবে মুখরিত বইমেলা

শিশুদের কলরবে মুখরিত বইমেলার শেষ ছুটির দিনের শিশুপ্রহর। অমর একুশে গ্রন্থমেলার আজ ছিলো ২৩তম দিন এবং ৬ষ্ঠ শিশুপ্রহর। মাসব্যাপী মেলার প্রতি শুক্র ও শনিবার থাকে শিশু প্রহর। আজ শুক্রবার সকালে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শিশুপ্রহরে বাংলা একাডেমির চত্বরজুড়ে ছোটাছুটি, মা-বাবার হাত ধরে স্টলে স্টলে বই দেখে, বই কিনে, নতুন বই বুকে জড়িয়ে বাড়ি ফিরেছে তারা। মেলাই এই খুদে পাঠকরা খুঁজতে এসেছিল তাদের পছন্দের নতুন বই। বইমেলা পরিণত হয়েছিল শিশুদের আনন্দ মেলায়। সকাল ১১ টা থেকেই শিশুরা ভিড় করে নির্ধারিত শিশু কর্নারে। সকালেই মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের চূড়ান্ত সঙ্গীত প্রতিযোগিতা। কোলের ছোট্ট শিশু আর স্কুল পড়ুয়া সন্তানসহ একুশের চেতনাদীপ্ত বাবা-মা সমবেত হয়েছিল এখানে। বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চলে শিশু প্রহর। সকালের স্নিগ্ধ রোদে নানা বয়সের ছেলে-মেয়ে এসে ভিড় করেছিল বটতলার নজরুল মঞ্চের সামনে। বই কেনার পাশাপাশি তারা ঘুরে বেড়িয়েছে পুরো চত্বর। দল বেঁধে এসেছিল সাদা টি শার্ট পরা বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোর। সঙ্গে ছিলেন তাদের শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমি `স্পর্শ` নামে একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে কাজ করি। এখানে যাদের দেখছেন তারা দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু। আমরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রত্যেককে দু’শ টাকার করে বই কিনে দেব।“ ৮ থেকে ১২ বছরের এই ছেলে-মেয়েদের দলের কাছে মেলায় ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতির কথা জানতে চাইলে সবাইকে খুব উল্লসিত দেখা যায়। অনেক দিন থেকে ঠিক করে রাখা বইগুলো কিনতে পেরে ওদের আনন্দ চোখে-মুখে ঠিকরে পড়ছিল। ওরা এসেছে মিরপুর পল্লবীর কসমস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। তাদের শিক্ষক জানালেন, চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মেলায় আসতে উদ্বুদ্ধ করেছেন তারা। বই কিনে এদের অনেকেই প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, ছুটাছুটি করছিল নির্ভাবনায়। আর ভিড় করছিল আইসক্রিমের দোকানে। মেলার প্রকৃত আকর্ষণই ছিল শিশু-কিশোরদের বাঁধভাঙ্গা আনন্দের হিল্লোল। স্কুলের নানা বয়সী ছেলে-মেয়েরা নানা রঙের ইউনিফর্ম পরে হেঁটে বেড়াচ্ছিল, বই কিনছিল তাদের আপন খেয়ালে। স্টলেই ছিল বাংলা বইয়ের সমাহার। স্টলে স্টলে ছিল শিশুদের বই, কিশোরদের বই। সর্বোপরি চিরায়ত সুকুমার, শিবরাম। তবে দুই-একটি স্টলে বিক্রি হচ্ছিল শিশুদের জন্য ইংরেজি বইও। ওয়ার্ল্ড অব চিলড্রেন`স বুকস ও বেবি টিচার নামের স্টলে গ্রন্থমেলার নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিক্রি হচ্ছে ইংরেজি বই। শিশু কর্নারে শুধু বাংলাভাষার বই বিক্রেতা `আরো প্রকাশনী`র ম্যানেজার জাভেদ শেখ বলেন, “একুশে বই মেলা বাংলা ভাষার মেলা। অনেক বাবা-মা তাদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়া সন্তানদের চাহিদা অনুযায়ী যখন ওইসব বিদেশি ভাষা-সংস্কৃতির বই আমাদের কাছে চান, আমি তাদের বলি এই মেলা আপনার জন্য নয়। আমাদের এখানকার বইগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা প্রয়োজন। পশ্চিমা বিশ্বের বইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের বইয়ের আকার ও রঙ্গে নতুনত্ব আনতে হবে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এই মেলায় নীতিমালা বাহির্ভূত বিদেশি ভাষা-সংস্কৃতির বইয়ের বিক্রি ভালো হলেও, বিষয়টি নিঃসন্দেহে একুশের চেতনাপরিপন্থী।” মেলাতে ঘুরতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনোয়ার বলেন, ঢাকাতে শিশুর মানসিক বিকাশে তেমন জায়গা নেই। যে কারণে যতটুকু সু্যোগ পেয়েছি সেটি হাত ছাড়া করতে চাই না। সে কারণে সন্তানের আনন্দ দিতে মেলাতে নিয়ে আসছি। বিকাল ঠিক চারটায় মূল মঞ্চে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি` অমর একুশের গান বাজতে বাজতে শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। টিকে  

বইমেলায় সুর্বণ আদিত্যের ‘দুধ পুকুরের সিঁড়ি’

ভিন্নচোখ প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পেল কবি সুর্বণ আদিত্যের প্রথম কবিতার বই ‘দুধ পুকুরের সিঁড়ি’। বইটি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ভিন্নচোখের ৫৮৪ ও ২৬ নাম্বার স্টলে পাওয়া যাবে। এছাড়া বইটি অনলাইন বুকশপ রকমারীতেও পাওয়া যাবে। গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে কবিতা লিখেছেন কবি সুবর্ণ আদিত্য। তার বলার ঢং, নিজস্ব ভাবনা, প্রেম-ভালোবাসা, দেশমাতৃকা, যুদ্ধ ও আত্মদ্বন্ধগুলিই সুনিপুণভাবে তুলে এনেছেন পাঠকের জন্য।   সুর্বণ আদিত্যে বলেন, আমি চেষ্টা করেছি কবিতার মাধ্যমে প্রেম ভালোবাসা, ‍যুদ্ধ, জীবনের নানা রুপকে তুলে ধরার। কবিতা পড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে। তাই বই মেলায় এমন একটি কবিতার বই নিয়ে আসলাম। আশা করি সবার কাছে ভালো লাগবে। বইটি ভিন্নচোখের স্টলে পাওয়া যাবে।     এসি/

হাজারো বইয়ের ভীড়ে মান নিয়ে প্রশ্ন

একুশে বইমেলায় প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বই। ইতোমধ্যে তিন হাজার ৪শ’ ৬২টি নতুন বই এসেছে মেলায়। তবে এতো বইয়ের ভীড়ে মানসম্পন্ন বই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পাঠকের মনে। এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি প্রকাশকরাও। তারা বলছেন, জনপ্রিয় লেখকদের বই প্রকাশেই আগ্রহ বেশি তাদের। শেষ সপ্তাহে গড়িয়েছে একুশে বইমেলা। তাই বিকেল থেকেই হাজারো মানুষের পদচারণা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সন্ধ্যায় তা রুপ নেয় মিলনমেলায়। লেখক, পাঠক আর প্রকাশকের এই মিলনমেলায় প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বই। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৪শ’ ৬২টি নতুন বই এসেছে মেলায়। এসব বইয়ের মান নিয়ে সবসময় প্রশ্ন থাকে পাঠকের মনে। বইয়ের মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায়, এই প্রশ্নের উত্তরও মেলে না কারো কাছে। তবে, লেখকরা বলছেন, পাঠকই নির্ধারণ করে বইয়ের মান। এদিকে, বই প্রকাশের আগে মান যাচাই করেন না বলে স্বীকার করলেন প্রকাশকরাও। সময় প্রকাশনীর ফরিদুর রহমান বলেন, লেখকের জনপ্রিয়তা-ব্যক্তিগত সম্পর্ক ধরে রাখা আর ব্যবসায়িক চিন্তা থেকেই বই প্রকাশ করা হয়। এমন মান যাচাইয়ের অপ্রতুলতায় সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি না করা না গেলে মানসম্পন্ন বই নির্বাচনের কি সুযোগ আছে তাই নিয়ে প্রশ্ন সবার। টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি