ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৩৪:৪০

শিশু কিশোরদের পদচারণায় মুখর বই মেলা

শিশু কিশোরদের পদচারণায় মুখর বই মেলা

তারুণ্যের পদচারণায় মুখর ছিল অমর একুশে গ্রন্থ মেলার দশম দিন। বাবা-মার হাত ধরে এসেছে শিশুরাও। আর বরাবরের মতো লেখক-প্রকাশকদের ভিড়তো ছিলই। মেলায় আজ মোড়ক উন্মোচন হয়েছে আড়াই‘শটি বইয়ের।
বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত মাসব্যাপী নাট্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলী লাকী রচিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান, বিশিষ্ট নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ, নাট্যজন লাকী ইনাম, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ, সহসম্পাদক চন্দন রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক তপন হফিজ এবং গ্রন্থের সংকলন সহযোগী সৌম্য সালেক। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে নাটক মঞ্চায়নের সূচনা ঘটে। সে সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংস্কৃতিবান মানুষের অংশগ্রহণ ও অর্থানুকূল্যে মঞ্চ নির্মাণ শুরু হয়। দেশের অনেক নাট্যমঞ্চ গৌরবময় শতবর্ষ অতিক্রম করেছে। নাট্যচর্চার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে এসব মঞ্চ বিরাট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একটি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে ‘বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ’ শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। দেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চগুলোর ইতিহাস –ঐতিহ্য এবং অবদানকে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে। এই গ্রন্থের মধ্যে দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং শতবর্ষ অতিক্রান্ত ৩৩টি মঞ্চের ইতিহাস বস্তনিষ্ঠতা বজায় রেখে তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বইটি রচনা করেছেন একাডেমির মহাপরিচালক ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকী। সংকলন সহযোগী ছিলেন সৌম্য সালেক ও মারুফা মঞ্জুরী খান। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। বইটি মেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অবস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টলে (নং:৪-৫) পাওয়া যাচ্ছে। বইটিতে অন্তর্ভূক্ত শতবর্ষী নাট্যমঞ্চগুলো হল: কুমিল্লা টাউন হল, কুষ্টিয়া পরিমল থিয়েটার, খুলনা নাট্য নিকেতন, গাইবান্ধা নাট্যসংস্থা, গাজীপুর ভাওয়াল রাবজাড়ি নাট্যমন্ডপ, ঝিনাইদহ করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব, টাঙ্গাইল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব, ঠাকুরগাঁও এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হল, ঢাকার শতবর্ষী ও প্রায় শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ, দিনাজপুর নাট্য সমিতি, নীলফামারী ডোমার নাট্য সমিতি মঞ্চ, নওগাঁ করোনেশন হল, পাবনা বনমালী ইনস্টিটিউট, বাগেরহাট টাউন হল , ফরিদপুর টাউন থিয়েটার, বগুড়া এডওয়ার্ড ড্রামাটিক মঞ্চ, অশ্বিনী কুমার টাউন হল, বরিশাল, ময়মনসিংহ আমরাবতী নাট্যমন্দির, ময়মনসিংহ টাউন হল, এল.পি মিশ্র ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ, দূর্গাবাড়ি নাটমন্দির, ময়মনসিংহ, মাগুড়া টাউন হল, যশোর বি. সরকার মেমোরিয়াল হল, রংপুর টাউন হল, রাজবাড়ি সফিউর রহমান মিলনায়তন, ললিত মোহন মিত্র নাট্যমঞ্চ, রাজশাহী, রাজা প্রমদানাথ টাউন হল, রাজশাহী, লালমনিরহাট এম.টি. হোসেন ইনস্টিটিউট, সিলেট ক্ষীরোদ মেমোরিয়াল স্টেজ, নাটমন্দির, ব্রহ্ম মন্দির, বন্দরবাজার, সিলেট, মণিপুরী রাজবাড়ী নাটমন্দির, সিলেট, মালনীছড়া চা বাগান নাটমন্দির, সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ পৌর ভাসানী মিলনায়তন। আরকে//

ছুটির দিনে বই মেলায় উপচে পড়া ভিড়

ছুটির দিন থাকায় শুক্রবার বই মেলায় বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দুপুরের পর সব বয়সী মানুষ দলে দলে বইমেলায় আসতে শুরু করেছে। শুক্রবার মেলার বাংলা একাডেমি ও সোহওরায়ার্দী উদ্যানের শিশু কর্নারের গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। প্রতি শুক্রবার সকালে শিশু প্রহর থাকায় সকাল থেকেই শিশুদের পদচারনায় মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গন। তবে দুপুরে জুম্মা নামাজের পর সব বয়সী পাঠকরা মেলায় আসতে শুরু করে। নিজ নিজ পছন্দের বইগুলি কিনতে প্রকাশনীগুলোতে ভিড় করছেন তারা। বিকাশ কুমার নামে মেলায় আগত দর্শনার্থী বলেন, মেলায় অনেক কবি সাহিত্যিকের দেখা হয়। ভালই লাগে। বই কেনার পাশাপাশি দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দেখতেই মেলায় আসা। মেলায় বন্ধুরা মিলে একটা আড্ডা হলো। মেলায় প্রবেশ পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রত্যেককে তল্লাশি করায় এদিন দুপুরের বাংলা একাডেমী ও সোহরওয়ার্দী উদ্যানের আর্চোয়ে গেটে বইপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে প্রাণের মেলায় ঢুকতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও ক্লান্তি নেই দর্শনার্থীদের। রহমান মিঠু নামের এক দর্শনার্থী বলেন, এতো নিরাপত্তা সব আমাদের জন্যেই। তাই ক্লান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমরা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করলেই বরং নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবো। আর যেখানে লোক সমাগম বেশি সেখানে একটু নিরাপত্তা তো দিতেই হবে। এটা ঝামেলার না, আমাদের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে। আরকে//

বেহুলাবাংলা প্রকাশনে গল্পগ্রন্থ এলিয়েনের সঙ্গে আড্ডা

অমর একু‌শে গ্রন্থ‌মেলায় প্রকাশ পেয়েছে র‌নি রেজার প্রথম গল্পগ্রন্থ এলিয়ে‌নের স‌ঙ্গে আড্ডা। বেহুলাবাংলা প্রকাশন থে‌কে প্রকা‌শিত বইটি সাজা‌নো হ‌য়ে‌ছে ১০টি গল্প দি‌য়ে। প্র‌তি‌টি গল্পই বি‌ভিন্ন সম‌য়ে দে‌শের শীর্ষ প‌ত্রিকাগু‌লোর সা‌হিত্যপাতায় প্রকাশ হ‌য়ে‌ছে। অ্যাবাট‌র চল‌চ্চি‌ত্রের এক‌টি চ‌রিত্র অবলম্ব‌নে বইটির প্রচ্ছদ এঁ‌কে‌ছেন স্ব‌দেশ। বইটি সম্প‌র্কে র‌নি রেজা ব‌লেন, দীর্ঘ‌দিন ধ‌রে জাতীয় প‌ত্রিকায় লেখা‌লে‌খি কর‌লেও বই প্রকাশ হ‌চ্ছে এটিই প্রথম। প্রথ‌মের প্র‌তি সবারই আলাদা মায়া থা‌কে। সেই মায়া থে‌কেই স‌র্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা ক‌রে‌ছি। বাস্ত‌বিক জীব‌নের এমন কিছু ঘটনা থাকে যা কল্পনা‌কেও হার মানায়। আবার কল্প‌লো‌কেরও অনেক বিষয় আমা‌দের দৈন‌ন্দিন জীব‌নে লে‌প্টে থা‌কে; আমরা হয়‌তো বুঝ‌তেই পা‌রি না। এসব বিষয় নি‌য়েই একটু ভিন্নভা‌বে গল্পগু‌লো উপস্থাপন করা হ‌য়ে‌ছে। আশা কর‌ছি পাঠক বইটি থে‌কে লাভবান হ‌বেন।

বই মেলায় বিক্রয়ের শীর্ষে উপন্যাস [ভিডিও]

শুরুর সপ্তম দিনে জমে উঠেছে অমর একুশে গ্রন্থ মেলা। সপ্তাহের শেষ দিনে শিশু কিশোরসহ সব বয়সি মানুষের পদাচারণায় জমে উঠেছে প্রাণের বই মেলা। শিশু কিশোরদের বিভিন্ন বই, কবিতা, উপন্যাসই  বেশী বেচা কেনা বলে জানান বিক্রেতারা। বৃহস্পতিবার সব চেয়ে বেশী বই মেলায় এসেছে। এদিনে মোড়ক উন্মোচন হয়েছে ১৬১টি। সপ্তাহের শেষ দিন সন্ধ্যার আগেই বাবা-মার হাত ধরে নতুন বই তথা জ্ঞানের সাথে পরিচিত হতে এসেছে আগামী প্রজন্ম। অনেক নতুন বইয়ের সমারোহ আর প্রাণের টানে জ্ঞান অন্বেষণে ছুটে আসছেন বই প্রেমিরা। বাবা মায়ের হাত ধরে হাটি হাটি পা পা করে নতুন প্রজন্ম দেখছে তার পছন্দের বইটি। পছন্দ হলেই কিনে নিচ্ছেন সোনামনিরা। বিশেষ করে ভূতের বই, কৌতুকের বই, সায়েন্স ফিকশনসহ অনেক বই কিনছেন শিশু কিশোররা। প্রিয় বইয়ের খোজে মেলাজুড়ে পাঠকদের ভীড়। পছন্দসই বই পেলেই কিনে ফেলছেন অনেকে, অনেকে ব্যস্ত এখনও বই বাছাইয়ে। অনেক নতুন নতুন বই এনেছেন প্রকাশকরা। তারা বলছেন, কবিতার বই বেশী হলেও উপন্যাসই বেশী বিক্রি হচ্ছে।  গেলো সাত দিনের তুলনায় আজ সব চেয়ে বেশী বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। আজকে নতুন বইয়ের সংখ্যা ১৬১টি। সব মিলিয়ে মেলার সপ্তম দিনে বই বের হয়েছে ৮৩২টি। ভিডিও: https://youtu.be/7_wEWSV48Xk

মেলার ৬ষ্ঠ দিনে নতুন বই ১৫২টি [ভিডিও]

লেখক পাঠকের সমাবেশে দিনে দিনে জমে উঠঠে অমর একুশে গ্রন্থ মেলা। মেলার ৬ষ্ঠ দিনে বেচাকেনা খুব বেশি না হলেও প্রকাশকরা আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে বিক্রি বাড়বে। বুধবার মেলায় এসেছে নতুন ১৫২টি বই। মানসম্মত বই বের করা ও পড়ার দিকে নজর বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। দিনে দিনে জমে উঠছে অমর একুশে গ্রন্থ মেলা। অনেক নতুন বইয়ের সমারোহ আর প্রাণের টানে জ্ঞান অন্বেষনে ছুটে আসছেন বই প্রেমিরা। প্রিয় বইয়ের খোজে মেলাজুড়ে পাঠকদের ভীড়। পছন্দসই বই পেলেই কিনে ফেলছেন অনেকে, অনেকে ব্যস্ত এখনও বই বাছাইয়ে। প্রযুক্তির চাপে বই যেন গুরুত্ব না হারায়, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। অনেক নতুন নতুন বই এনেছেন প্রকাশকরা। তারা বলছেন, বেশীর ভাগ বই প্রকাশিত হয়েছে, বাকিগুলোও চলে আসবে। আর বিক্রয়ও উল্লেখযোগ্য। মেলাজুড়ে দেখা গেছে লেখকদের উপস্থিতি। নিজের বইয়ের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছেন তারা। আর পাঠকদের  মানসম্মত বই কেনার পরামর্শ দিয়েছেন সাহিত্যিকরা। কবিতা উপন্যাস, ছড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ের লেখা নিয়ে মেলার ৬ষ্ঠ দিনে নতুন বই এসেছে ১৫২টি। ভিডিও: https://youtu.be/iZAGjkYMN7Q  

আজ শুরু হচ্ছে একুশে গ্রন্থমেলা

বছর ঘুরে আবারও এলো ফেব্রুয়ারি, ভাষার মাস। মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেন রফিক, বরকত, সালাম, জব্বার, শফিকরা। তাদের আত্মদানের বিনিময়ে আমরা ফিরে পাই আমাদের বর্ণমালা অ আ ক খ। সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি ও স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘বিজয়’: ১৯৫২ থেকে ১৯৭১, নবপর্যায়’। আজ শুক্রবার বিকাল তিনটায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী এ গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে তিনি মেলা পরিদর্শন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিদেশি অতিথি থাকবেন ওপার বাংলার কবি শঙ্খ ঘোষ এবং মিসরের লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এবার মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশের পরিসর ৩ লাখ বর্গফুট। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ৪টি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। গতকাল সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বইমেলাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: বইমেলাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, বইমেলায় আগত সবাইকে নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশ পথে আর্চওয়ে, ফুট পেট্রোলিং ব্যবস্থা, পোশাকধারী পুলিশের অবস্থান, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও আইএডি শাখার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল সকালে বইমেলার নিরাপত্তাবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আরকে//

মেলায় বই বিক্রির রেকর্ড

এবারের বই মেলায় রেকর্ড পরিমাণ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রয় হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫ কোটি টাকার বেশি। বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। যা ছিল তার আগের বছরের চেয়ে ২৩ কোটি টাকা বেশি। নতুন বই বই প্রকাশিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৯১ টি। গত মেলায় নতুন বই প্রকাশ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬৬৬টি। বুধবার বাংলা একাডেমির পরিচালক ও অমর একুশে  বইমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। ড. জালাল আহমেদ জানান,  এবারের মেলায় গত মেলার চেয়েও মোট ৯৩৪টি বেশি বই প্রকাশ পেয়েছে। এই সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ, অনেক প্রকাশনা সংস্থা তাদের নতুন বইয়ের তালিকা বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও একাডেমির তথ্য কেন্দ্রে জমা দেয়নি। ফলে একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে যে সব বইয়ের তালিকা জমা পড়েছে সেই তথ্যই আমরা মিডিয়াকে জানিয়ে দিচ্ছি। নতুন বইয়ে রেকর্ড বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা যায়, এবার বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চার হাজার ৫৯১টি। যা গতবারের চেয়ে ৯৪৫টি বেশি। গতবার বই প্রকাশিত হয়েছিল ৩ হাজার ৬৬৬টি। এবার নতুন বইয়ের মধ্যে কবিতার বইয়ের সংখ্যা বেশি ১ হাজার ৪৭২টি। এরপর রয়েছে গল্প ও উপন্যাসের স্থান। এবার গল্পের বই ৭০১টি এবং ৬৪৩টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।   মননশীল বইয়ের মধ্যে প্রবন্ধ ২৫৭টি, গবেষণা ১২২টি, জীবনীগ্রন্থ ১০৭টি, রচনাবলী ১৫টি, নাটক ২৩টি, ভ্রমণ বিষয়ক ৯১টি, ইতিহাসের ১১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে ৯১টি। এছাড়া নতুন বইয়ের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ক ৭৬টি, রাজনীতি-২২টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য- ৩৩টি, রম্য ও ধাঁধাঁ-২১টি, ধর্মীয়- ২৬টি এবং ৪৮টি অনুবাদ গন্থ প্রকাশিত হয়েছে। শিশুতোষ  বই এসেছে ১২৫টি। তরুণ পাঠকের আগ্রহের তুঙ্গে থাকা সায়েন্স ফিকশন ও গোয়েন্দা বিষয়ক বই এসেছে ৬৫টি। এছাড়া অভিধান বিষয়ক বই এসেছে ৭টি,  অন্যান্য বিষয়ে এসেছে ৪২৪টি বই। বই মেলার শেষ দিনে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের আদিবাসী ’ শীর্ষক সেমিনার। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাহমান নাসির উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন রাশিদ আসকারী। আলোচনায় অংশ নেন ফয়জুল লতিফ চৌধুরী ও রণজিত সিংহ। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান। বক্তব্য রাখেন মেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। কেআই/টিকে

ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি রক্ষার দাবি

মায়ের ভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে আন্দোলনে অংশ নিলেও আজও যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি ভাষা সৈনিকদের বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের দাবি। অনেক ভাষা সৈনিক বেঁচে নেই। যারা আছেন তাদেরকেও চেনে না নতুন প্রজন্ম। তাই ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি রক্ষার যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কালো পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্র ছিলেন পঞ্চগড়ের মোহাম্মদ সুলতান। যে ১১ জন ছাত্রনেতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সুলতান তাদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু পঞ্চগড়ের তরুণ প্রজন্ম আজও জানে না ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতানের বীরত্বের ইতিহাস। তার নামে একটি সড়কের নামকরণ হলেও অনেকেরই অজানা। মোহাম্মদ সুলতানের ম্যুরাল তৈরি ও বীরত্বের ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিবছর শহীদ দিবস উপলক্ষে ভাষা সৈনিক সুলতান বই মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। ৫২` সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা ছিলেন টাঙ্গাইলের ভাষা সৈনিক মওলানা ভাসানী, শামসুল হক, সোফিয়া খান, অধ্যাপক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম, সৈয়দ আব্দুল মতিনসহ অনেকে। এদের সংস্পর্শে টাঙ্গাইলের আরও এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন বুলবুল খান মাহবুব। টাঙ্গাইলের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণে যাদুঘর নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। এসএইচ/

বই মেলায় শাহাজাদা বসুনিয়ার ‘অশরীরী আত্মার ক্ষোভ বিক্ষোভ’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে শাহাজাদা বসুনিয়ার ‘অশরীরী আত্মার ক্ষোভ বিক্ষোভ’ কাব্য গ্রন্থ।  চোখ প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করা হয়। আমাদের চারপাশে অসংখ্য অশরীরী ঘুরে বেড়াচ্ছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হানাহানিতে অগনিত মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। আজ সে সকল মানুষই আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আমাদের ভৎসনা করছে। আমাদের প্রতিনিয়ত অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছে। লেখক তার কাব্য কাহিনীর মাধ্যমে এই ধরণের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন।     শাহাজাদা বসুনিয়া তার বই সম্পর্কে বলেন, ঘুমের মধ্যেই স্বপ্ন দেখি কঙ্কাল এসে আমার পাশে বসে আছে। এই কঙ্কালগুলো আমাদের চারপাশে ঘুরছে। এই কঙ্কাল হলো সেই সব মানুষ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আগমন থেকে  আজ পর্যন্ত এ অঞ্চলে অগনিত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আমি বলি তাদের অপমৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব যুদ্ধ, ৪৭ এ সংঘঠিত ঘটনা, ব্রিটিশদের দখল, ৭১ এর যুদ্ধ এবং বর্তমানে রোহিঙ্গা হত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডে সংঘঠিত নিহত মানুষরাই অশরীরী বা ভূত হয়ে আমাদের চারপাশে ঘুরছে। আমাদেরকে তারা ধিক্কার দিচ্ছে আর অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছে। কেন তাদের হত্যা করা হলো। শাহাজাদা বসুনিয়া তার বইটিতে অত্যন্ত চমৎকারভাবে তার ভাবনাকে তুলে ধরেছেন। মানুষের এই অপমৃত্যু পৃথিবীর সৌন্দর্যকে শেষ করে দিচ্ছে। এই হানাহানি মানুষে মানুষে যে মমত্ব, ভালোবাসা সেটিকে একেবারেই শেষ করে দিচ্ছে। বসুনিয়া বলেন, আমরা হানাহানি চাই না। একটি সুন্দর, সুস্থ পৃথিবী চাই। যে পৃথিবীতে থাকবে শুধু ভালোবাসা। ঘটবে না কোনো অপমৃত্যু। কেউ কাউকে হত্যা করবে না। কারো মধ্যে থাকবে না প্রতিশোধের চিন্তা। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মাঝে থাকবে অনাবিল শান্তি।   শাহাজাদা বসুনিয়ার জীবনের শুরুটা হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি বেছে নেন ব্যাকিং পেশা। ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একযুগ চাকরির পর পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। কবিতার প্রতি রয়েছে তার এক ধরণের মোহ। যখনই সুযোগ পান কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি কবিতা লেখেন। তার কবিতায় ব্যবহৃত শব্দগুচ্ছ এবং বাক্য নির্মাণের খেলা খুবই মুগ্ধকর।  ইতিমধ্যে তার লেখা বই ‘আ সিক্রেট অব আ ওয়ার বেবি’, ‘টপ টেন গোস্টস’ লাভ ইন টিয়ারি আইস’ পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এছাড়া, ‘জাগিয়া উঠিল প্রাণ’ ‘দর্পণে তুমি’ ‘জলতরঙ্গের ছোঁয়া’ ও ‘সাতকাহন’ এই বইগুলোও পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হয়।     এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় শাহাজাদা বসুনিয়ার প্রকাশিত ‘অশরীরী আত্মার ক্ষোভ বিক্ষোভ’ বইটি পাওয়া যাচ্ছে পালক এর ৪৩৫ নাম্বার স্টলে।      এসি/  

২৬ দিনে মেলায় নতুন ৪৩৩৬ বই প্রকাশ

অমর একুশের গ্রন্থমেলা শেষ হতে আর মাত্র দুদিন বাকি। এর মধ্যেই নতুন বই প্রকাশ গত বছরের মেলাকে ছাড়িয়ে গেছে। এবারের মেলার মোট ২৬ দিনে নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে মোট ৪ হাজার ৩৩৬টি। গত বছর নতুন বই এসেছিল মেলায় ৪ হাজার ১২শ’টি। গত মেলায় নতুন বই প্রকাশে শীর্ষে ছিল কবিতা। এবারের মেলার সোমবার পর্যন্ত ২৬ দিনে শীর্ষে রয়েছে কবিতার বই ১২৯২টি। এর পরই রয়েয়ে ছোট গল্পের বই ৬১৩টি। তৃর্তীয় অবস্থানে রয়েছে উপন্যাস ৫৭৮টি। প্রবন্ধ রয়েছে ২৪১, বিজ্ঞান ৯১টি, ছড়ার বই ৯৭টি, ইতিহাস ৯৪, শিশুতোষ ২১৩টি এবং অন্যান্য বিষয়ে ৭০১টি নতুন বই এসেছে এবারের মেলায়। সোমবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৭টি। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে জানান, এই মেলায় প্রতিবছর কয়েকশত নতুন লেখকের প্রথম বই প্রকাশ পায়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এই পর্যন্ত সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০জন লেখকের প্রথম বই মেলায় এসেছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, একুশের গ্রন্থমেলা আমাদের প্রতিবছরই অসংখ্য নতুন লেখকের বই উপহার দিচ্ছে। লিখতে লিখতেই লেখকের সৃষ্টি হয়। কার বই কি রকম, তা বই প্রকাশ না পেলে তো বিচার করা যায় না। একাডেমির মেলা হচ্ছে আমাদের সাহিত্যকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম। গবেষক ও লেখক আবুল আহসান চৌধুরী জানান, এ মেলা শুধুই বই প্রকাশ ও বই বিক্রির জন্য নয়। মহান একুশের পথ ধরে মেলার শুরু হয়েছিল। এবং তা আজ বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত। একই সাথে বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতিকে লালন করে আমাদের নানাবিধ বোধ ও বোধনকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যাচ্ছে। যা পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। সাথে যোগ হয়েছে বাংলা একাডেমির আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। বিশ্বের অসংখ্য লেখকরা আসছেন মেলা ও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। সোমবার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে, খালেদ হোসাইনের ‘কবিতা সমগ্র, অনিন্দ প্রকাশনী, কুমার প্রীতীশ বল’এর ‘মুক্তিযুদ্ধের ১০টি নাটক, ন্যাশনাল পাবলিশার্স, আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘অগ্রন্থিত রচনাবলী, অনিন্দ প্রকাশন, আলী ইমামের ‘নানা প্রসঙ্গ’, কাশবন, উস্তাদ বাবু রহমানের ‘কন্ঠশ্রী স্বাস্থ্যশ্রী’, হাওলাদার প্রকাশনী, বেহুলা প্রকাশনীতে এসেছে বিজয় চাকমার ‘বেহুলা বাংলা।’ মেলার মূল মঞ্চে আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিজয় সরকার’ শীর্ষক আলোচনা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন। সভাপতিত্ব করেন গবেষক ও লেখক আবুল আহসান চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক শফি আহমেদ এবং নারীনেত্রী ও লেখক মালেকা বেগম। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লোক সংগীত পরিবেশন করে বিভিন্ন শিল্পীরা। সূত্র: বাসস //আর//  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি