নির্মাণাধীন সেতুর ওপর জ্বিনের আছর!
প্রকাশিত : ২১:৪৩, ২৩ মে ২০২৬
ঠিকাদারের অবহেলায় ঝুলে ছিল সুনামগঞ্জের পাহাড়ি নদী যাদুকাটার ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ। অবশেষে ‘কালবৈশাখি ঝড়ের কবলে পড়ে’ সেতুটির বিশালাকৃতির পাঁচটি গার্ডার নদীগর্ভে বিলিনের কথা বলছে কর্তৃপক্ষ! কথিত সেই ঝড়ে আশপাশের কোনও ক্ষতি না হলেও সেতুর গার্ডার ভেঙে পড়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।
শুক্রবার রাত সাড়ে রাত ১১টার দিকে কালবৈশাখি ঝড় আসে নির্মাণাধীন যাদুকাটা সেতু এলাকায়। ঝড়ের সময় বিকট শব্দ শুনতে পান আশাপাশের লোকজন। সকালে ওঠে দেখতে পান সেতুর ৫টি গার্ডার গায়েব।
স্থানীয়রা বলছেন, এত বিশাল বিশাল গার্ডারগুলো সামান্য ঝড়ে ভেঙে পড়ারা কথা না। জ্বিনে আছর করেছে সেতুটির ওপর। দুই বছর আগেও নৌযানের ধাক্কায় আরও একটি গার্ডার নদীগর্ভে ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে।
তারা বলছেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, নির্মাণ কাজের ত্রুটি ও ঠিকাদারের অবহেলার কারণে বার বার এমনটা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ এমনটা মানতে না চাইলে বলতে হবে, জ্বিনের আছর পড়েছে সেতুটির ওপর!
জানা যায়, ২০১৮ সালে যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দৈর্ঘবিশিষ্ট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৮৫ কোটি টাকা। সেই সময়ের সরকারের আর্শিবাদপুষ্টচ তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আতাউর রহমান মানিক বিগত সরকারের মন্ত্রী মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই এলজিইডি ধাপিয়ে বেড়াতেন। যাদুকাটা সেতুসহ সোমেশ্বরী সেতু ও তাহিরপুরের ডাম্পের বাজার সেতুর কাজও পেয়েছিল তার প্রতিষ্ঠান। সেই কাজগুলোও ঝুলে আছে আট বছর ধরে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আতাউর রহমান মানিক দেশ ছেড়ে কানাডা পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আট বছর পর সম্প্রতি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই কাজ বন্ধ।
চুক্তি বাতিরের পর গার্ডারের নিচে থাকা সাটারিং খুলে নেওয়ার কারণে গার্ডারগুলো নড়বড়ে ছিল। যে কারণে ঝড়ের সময় পানিতে পড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত এই প্রকৌশলী। তবে চূড়ান্ত বিল প্রদানের সময় ঠিকাদারের নিকট থেকে এর ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরের একাংশ এবং মধ্যনগর ও ধর্মাপাশা উপজেলাকে সরাসরি জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সমাপ্ত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এএইচ
আরও পড়ুন










