লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবা আটক, শিশু উদ্ধার
প্রকাশিত : ১৫:০২, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৬:২৬, ৩১ আগস্ট ২০২৬
পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগে মো. মারুফ মুন্সি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়।
এর আগে, এদিন সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মুন্সিকে আটক করে দশমিনা থানা পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন-এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দেড় বছরের শিশু মুসাবে কোলে তুলে ‘বাজারে ঘুরতে যাওয়ার’ কথা বলেছিলেন বাবা, তখন দাদি মাহফুজা বেগমও ভাবেননি—সেটিই হতে পারে নাতির সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা।
শিশুটিকে নিয়ে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বাবা মারুফ মুন্সির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের মধ্যে শুরু হয় উৎকণ্ঠা।
পরে স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—নতুন আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের সন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন মারুফ।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়িতে শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল আটটার দিকে তাঁর ছেলে মারুফ বাড়িতে এসে বলেন, ‘মা, তোমার নাতিকে জামা-প্যান্ট পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে একটু বাজারে ঘুরতে যাব।’
ছেলের কথায় কোনো সন্দেহ হয়নি তাঁর। দেড় বছরের নাতি মুসাকে গোসল করিয়ে জামাকাপড় পরিয়ে বাবার হাতে তুলে দেন তিনি। কিন্তু সময় গড়াতে থাকে। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মারুফ ও মুসা কেউই বাড়িতে ফেরেননি।
পরিবারের লোকজন তখন মাহফুজা বেগমকে বাজারে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। তিনি বাজারে গিয়ে ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে ফোন করেন তাঁর ভাই বাহাদুর মিয়াকে। এরপর মারুফের অবস্থান জানতে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মারুফ পরে ঢাকায় চলে যান। সেখানে তাঁর মামা বাহাদুর মিয়ার বাসায় গেলে তাঁকে মুসার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়।
প্রথমে শিশুকে কোথায় রেখেছেন, সে বিষয়ে মারুফ কিছু স্বীকার করেননি বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরে তাঁকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে লিখিতভাবে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, সেই টাকা নিয়ে মারুফ একটি পুরোনো আইফোনের সঙ্গে টাকা যোগ করে নতুন আইফোন কেনেন।
মাহফুজা বেগম জানান, প্রায় চার বছর আগে তাঁর ছেলে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে আনেন। প্রায় তিন বছর পর তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় মুসা। কিন্তু প্রায় এক মাস আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর বৃষ্টি তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান বলে জানান মাহফুজা।
মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর আবার ঢাকায় চলে যান। ঘটনার দুই দিন আগে, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন। পরদিন সকালে ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর বাড়িতে ফেরেননি বলে পরিবারের দাবি।
ইমরানের ভাষ্য, লিখিতভাবে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি শিশুটিকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আসেন। রাত ১০টার দিকে ইমরানের শ্বশুর মাহাবুব গাজী শিশু মুসাকে দশমিনা থানায় নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে দশমিনা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










