শজিমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, ছাত্রদলের ৪ নেতাসহ আটক ৬
প্রকাশিত : ১৩:০৩, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রোগীর ছয় স্বজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে চারজন বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫৫) অ্যাজমার জটিলতা নিয়ে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর চিকিৎসায় ভুল হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে স্বজনেরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুকে ভুল চিকিৎসার ফল দাবি করে স্বজনদের সঙ্গে আসা কয়েকজন বহিরাগত তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ছয়জন চিকিৎসক আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙে গেছে বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের পর আব্দুল মালেকের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি হয়। পরে তাঁদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে হাসপাতালের ভেতরে আটকে রাখা হয় বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা হাসপাতালে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে চারজন অসুস্থ থাকায় শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
আটক ছয়জনের মধ্যে চারজন ছাত্রদলের নেতা। তাঁরা হলেন- বগুড়া মহানগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত, একই ওয়ার্ডের সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুন্না শেখ ওরফে এস এম সিহাব। বাকি দুজন হলেন তানভীর শেখ ও বিপ্লব সরদার।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তিনজন গুরুতর আহত। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে গেলেও জ্যেষ্ঠ ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের দিয়ে হাসপাতালে সেবা চালু রাখা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছয়জনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএইচ
আরও পড়ুন










