অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আটক ৩, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
প্রকাশিত : ২১:১২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তুহিন, আনাস ও ফাহিম।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় তুহিনকে দেখা গেছে। সেখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল।
এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনাসকে এবং এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সাড়ে ৭টার দিকে ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, সন্দেহভাজন তুহিন, আনাস ও ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও যাচাই করা হয় বলে জানান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম। তিনি বলেন, "সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যবেক্ষণের সময় আমরা একটি ভিডিওতে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গেইটে অপ্রতীমকে দেখা যায়।"
ভিসি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে ক্যাপ পরা আরেকজনকেও দেখা গিয়েছিল। ছেলেটি অপ্রতীমের থেকে বয়সে বড় এবং তার হাটাচলাও সন্দেহজনক মনে হয়েছে। সেখান থেকে আমরা পুলিশকে বিষয়টা জানাই।
এই ঘটনায় ভিডিওতে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম। উপাচার্যের দাবি, ক্যাপ পরা ওই ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকারই বাসিন্দা।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের অপ্রতিম। এরপর পরিবারের সদস্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালায়।
নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও লেখক ড. নাহিদা বেগম এবং কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অপ্রতিমের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










