ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪

বিয়ের কথা বলে স্কুলছাত্রীকে কয়েকদফা ধর্ষণ, ৩ যুবক গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৮:৫৭, ৪ নভেম্বর ২০২০ | আপডেট: ১৮:৫৯, ৪ নভেম্বর ২০২০

কুরবান আলী (৩২), জারিফ কায়সার বাপ্পি (১৯) ও গোলাপ (৩০)।

কুরবান আলী (৩২), জারিফ কায়সার বাপ্পি (১৯) ও গোলাপ (৩০)।

ঠাকুরগাঁও শহরে ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকদফা ধর্ষণের পর স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও বিহারীপাড়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে জারিফ কায়সার বাপ্পি (১৯), একই গ্রামের এরশাদ আলী ছেলে কুরবান আলী (৩২) ও শহরের টিকাপাড়া এলাকার মনতাজ আলীর ছেলে গোলাপ (৩০)।

এর আগে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মঙ্গলবার পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতারকৃত তিনজন ছাড়াও ওপর দুই আসামি মামুন (৪১) ও বাবুকে (৩০) এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। তবে সে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম।

ওসি জানান, কিছুদিন আগে সদরের বরুনাগাঁও বিহারীপাড়া গ্রামে ঘুরতে যায় ওই ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। সেখানে প্রতিবেশি জারিফ কায়সার ওরফে বাপ্পীর সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে বাপ্পীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সুযোগে বাপ্পী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তিতে ওই ছাত্রী তার এক বান্ধবীর মুঠোফোন ব্যবহার করে বাপ্পীর সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। 

পরিকল্পনামতো মঙ্গলবার শহরের পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় বাপ্পী তার ভাবী নুপুর আক্তারের বাড়িতে নিয়ে ওই ছাত্রীকে আবারও ধর্ষণ করে। পরবর্তিতে ওই ছাত্রী বিয়ের জন্য বাপ্পীকে চাপ দিলে বাপ্পী বিষয়টি মিমাংসার জন্য প্রতিবেশি কুরবান আলী, গোলাপ, মামুন ও বাবু মিলে ওই ছাত্রীকে আক্চা ইউনিয়নের পল্টন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে জনৈক মকবুলের গ্যারেজে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ওই ছাত্রীকে তারা চাপ প্রয়োগ করে। এতে ছাত্রীটি রাজি না হলে তারা কৌশলে বাপ্পীকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে রাতে কুরবান আলী, গোলাপ, মামুন ও বাবু ওই ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গেলে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। 

এসময় ছাত্রীর অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন কুরবান ও গোলাপকে আটক করে পুলিশের জরুরী নম্বর ৯৯৯ -এ কল দিয়ে বিষয়টি অবহিত করে। এ সময় মামুন ও বাবু পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কুরবান ও গোপালকে আটক করে এবং তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এক নম্বর আসামি জারিফ কায়সার ওরফে বাপ্পীকে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে থেকে গ্রেফতার করে। 

এদিকে আজ বুধবার ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ওই স্কুলছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং গ্রেফারকৃত তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এনএস/


Ekushey Television Ltd.





© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি