ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, || ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭

ক্ষয়িষ্ণু সময়ে আহমদ শরীফের মতো উজ্জীবিত চিন্তার মানুষের দরকার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:২১, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ২৩:২৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পটিয়ায় ড. আহমদ শরীফের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেছেন, শরীফ সাহেব কেবল লেখার মধ্য দিয়ে নয়, জীবনের মধ্য দিয়ে সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় সমালোচিত হয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছেন, লেখনির মধ্য দিয়ে, লেখার মধ্য দিয়ে। তিনি দেশদ্রোহিতার মামলাতেও পড়েছিলেন। যখন জাহানারা ইমাম মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে গণআদালত করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, আহমদ শরীফ বিপ্লবী চেতনার মশালকে বহন করেছেন। এ মশালটি যেন হারিয়ে না যায়।

পটিয়ার কৃতিসন্তান কিংবদন্তী গবেষক, শিক্ষক, লেখক অধ্যাপক ড. আহমদ শরীফের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ড. আহমদ শরীফ জন্মশতবর্ষ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার পটিয়া ক্লাব মিনি হলে ‘জন্মশতবর্ষে স্মরণে-শ্রদ্ধায় আহমদ শরীফ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপর্যুক্ত কথাগুলো বলেন। 

পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে অতিথিরা আহমদ শরীফের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন, ড. আহমদ শরীফের পুত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. নেহাল করিম। 

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, পরিষদের সদস্য সচিব এডভোকেট কবিশেখর নাথ পিন্টু। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, কবি-সাংবাদিক রাশেদ রউফ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম। আহমদ শরীফ স্মরণে কবিতা আবৃত্তি করেন, কবি হাসান ফকরি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, পরিষদের সমন্বয়ক শিবুকান্তি দাশ। 

আবুল মোমেন বলেন, ড. শরীফ নিজের মতো করে আজীবন লিখে গেছেন। তাঁর লেখাগুলোতে প্রচুর ভাবনার উপাদান আছে। তখনকার দিনে হাতে লিখেতে হতো। তাঁকে ৩০ হাজারের উপর পৃষ্ঠা লিখতে হয়েছিলো। এটা বিশাল কায়িক পরিশ্রমের কাজ। এ পরিশ্রম তিনি শিকার করতে পারলেন কেন? তাঁর ভিতর একটা দুর্বার যন্ত্রণা আছে। তাঁর ভিতরে দায়িত্ববোধ আছে। এই যে সমাজের প্রতি অঙ্গীকার, মানুষের প্রতি অঙ্গীকার। সেই দায়িত্ববোধ থেকে তিনি এ কাজ করে যেতে পেরেছেন। তিনি সমাজতন্ত্রের কথা বলেছেন। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি করার কথা কখনো ভাবেন নাই। তিনি সংগঠন যেহেতু করার লোক নন।

সেজন্যে, তিনি ব্যক্তি বিপ্লবী। সমাজে কিন্তু এরকম মানুষের খুব দরকার। তাদের মতো মানুষ সমাজকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা পালন করেন। সমাজে প্রথাগত চিন্তার বাইরে, বহুকাল ধরে সমাজে সনাতন চিন্তার মধ্যে যে মানুষ আছেন, তার বাইরে থেকে কথা বলার মানুষ দরকার। তিনি এগিয়ে গিয়ে সে কথাগুলো বলেছেন। তাতে অনেকে অস্বস্থিবোধ করেছেন, অনেকে বিব্রতবোধ হয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সমাজ প্রগতির জন্য সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখি, সমাজের মনন, সমাজের চেতনা, সমাজের বিবেক এগুলো বিষণভাবে ক্ষয়িষ্ণু আজ। এ ক্ষয়িষ্ণু সময়ে আহমদ শরীফের মতো বর্ধিষ্ণু চিন্তার, উজ্জিবিত চিন্তার মানুষের দরকার। আমরা তাঁকে যেন বারবার স্মরণ করি। এবছরই আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সার্ধশতজন্মবার্ষিকী। কেবল আপনাদের দায় নয়, সেটি পালন করা সারা জাতির দায়িত্ব। 
কেআই//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি