ঢাকা, সোমবার   ২২ জুন ২০২৬

গৃহবধূ শিপ্রা রানী ধর্ষণ-হত্যার রহস্য উন্মোচন, আসামি গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৪:১৪, ২২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৩৪, ২২ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শিপ্রা রানী দাস ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার দীর্ঘ ৪ বছর পর মামলার মূল আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজল (৪২)কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই কর্মকর্তারা।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার তাজুল ইসলাম নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে। সে নোয়াখালীতে পরিচয় গোপন করে লালন নামে বসবাস করে আসছিল। 

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, নরসিংদীর কালু সাহা বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের সবিনয় দাসের স্ত্রী শিপ্রা রানী দাস। সে সুবাদে কালু বাবুর্চির সহযোগী নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর গ্রামের তাজুলের সাথে পরিচয় হয় শিপ্রার। একপর্যায়ে তারা পরকীয়া প্রেম ও অবৈধ সম্পর্কে জড়ায়।

কিন্তু শিপ্রা তাদের গোপন সম্পর্ক ফাঁস করে দেয়ার কথা বলে তাজুলের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে ব্ল্যাকমেইল করে। এতে তাজুল ক্ষিপ্ত হয়। পরে ২০২১ সালের ১ অক্টোবর তাজুল কাজের কথা বলে শিপ্রাকে নবীনগর উপজেলার নবীপুর চরে নিয়ে ধর্ষণ ও গলাটিপে হত্যা করে।

পরে ওই বছরের ৪ অক্টোবর নবীনগর থানার পুলিশ শিপ্রার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শিপ্রার স্বামী নবীনগর থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনাটি ক্লুলেস হওয়ায় পিবিআই মামলার তদন্তভার পায়। পরে ২০২৩ সালে কালু বাবুর্চিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ভিকটিমের জুতা ও ব্যাগ এবং আসামীর জুতা থেকে তারা তদন্ত কাজ শুরু করে।

একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তি সহায়তার ঘাতক তাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাজুল ইতিমধ্যে এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। 

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর শিপ্রা রানী দাস আর ফিরে আসেননি। পরে ৪ অক্টোবর নবীনপুর এলাকার জলার চরে একটি ফসলি জমি থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শিপ্রা রানী দাসের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি শিপ্রা রানী দাসের স্বামী সবিনয় দাস বাদী হয়ে নবীনগর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত কাজল শিপ্রা রানী দাসকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি