শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে আজ হতে পারে সিদ্ধান্ত
প্রকাশিত : ১০:২৩, ২ এপ্রিল ২০২৬
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীর ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর ক্লাস করার একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
এ প্রস্তাব আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরবর্তী দিন সশরীর ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ে সশরীর ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে এবং মন্ত্রিসভাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
দীর্ঘ ৪০ দিনের রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটিয়ে গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে এবং যাতায়াত সীমিত করতে আংশিক অনলাইন পাঠদানকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এ সিদ্ধান্তে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেক শিক্ষক বলছেন, অনলাইন ক্লাস জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর হলেও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী বাসা থেকে ক্লাস করার সুবিধাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে ইন্টারনেট সমস্যা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন।
অভিভাবকরাও শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি কার্যকর করতে হলে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি, না হলে শিক্ষায় বৈষম্য বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত সাময়িক সমাধান হিসেবে দেখা হলেও এর সফল বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
এএইচ
আরও পড়ুন










