ঢাকা, শনিবার   ১৬ মে ২০২৬

‎জাবি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৪ সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের

সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২২:৩৬, ১৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৯, ১৫ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনার পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম।

তিনি জানান, ১৪ মে বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হবে। এ টিমকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ ভাতা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত জানাতে একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশের সময় গেইটে পরিচয়পত্র প্রদর্শন, লগবুকে তথ্য লিপিবদ্ধ এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে চলমান নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দোকানকর্মী ও বিভিন্ন সেবাকর্মীদের তথ্যও নিরাপত্তা শাখার ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সব ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ১০০ জন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য ইউজিসির অনুমোদন চাওয়া হবে বলে জানানো হয়।

ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সীমানা প্রাচীরের ত্রুটি মেরামত এবং অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবেরুনী হলের (টিনশেড) এক্সটেনশন ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দ্রুত ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বুলিং, সাইবার বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৩’ কার্যকর করতে একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান, সহকারী প্রক্টরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি