ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের “সত্যিকারের বিনিয়োগ” দাবি ট্রাম্পের
প্রকাশিত : ১১:৩২, ২ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধে মূল ও কৌশলগত লক্ষ্যগুলো 'পূরণের প্রায় কাছাকাছি' পৌঁছে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধকে আমেরিকার “একটি সত্যিকারের বিনিয়োগ” বলে দাবি করেন তিনি।
দেশটিতে হামলা শুরুর এক মাস পূর্তিতে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন তিনি।
তবে ট্রাম্প তার ভাষণে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলে সৃষ্ট বাধা নিরসন বা বৈশ্বিক তেলের বাজার নিয়ে কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। বরং তার ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই বৈশ্বিক তেলের দাম চার শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে দেওয়া ভাষণটি ট্রাম্প শুরু করেন নাসার চন্দ্র অভিযানের সাথে যুক্ত আর্টিমিসের ক্রুদের শুভেচ্ছা জানিয়ে। এরপরই তিনি ইরান ও ভেনেজুয়েলা নিয়ে বক্তব্য দেন।
ট্রাম্প বলেন, “আজ ইরানের নৌবাহিনী নেই, তাদের বিমানবাহিনী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তাদের নেতাদের অধিকাংশই এখন মৃত।”
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের সক্ষমতা "নাটকীয়ভাবে কমে গেছে" বলেও দাবি করেন তিনি।
"আমেরিকা জিতছে—আর তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বড় আকারে", বলেন ট্রাম্প।
এসময় ২০২০ সালে ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে হত্যার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, সোলেমানি যদি বেঁচে থাকতো “আজ সম্ভবত আমাদের আলাপ অন্যরকম হতো—তবে আমরা কিন্তু তখনও জিততাম, আর জিততামও বিশালভাবে।”
ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি এবং দ্রুততার সাথে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল। তিনি বলেন, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির "একেবারে দোরগোড়ায়" পৌঁছে গিয়েছিল।
এসময় ট্রাম্প, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। “তারা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে এবং আমরা কোনোভাবেই—কোনো অবস্থাতেই—তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে কিংবা ব্যর্থ হতে দেবো না” বলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরান এই দেশগুলোর অনেকগুলোতেই হামলা চালিয়েছে; আর তার মতে, এই বিষয়টিই জোরালোভাবে প্রমাণ করে যে, ইরানের হাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।
এই যুদ্ধকে আমেরিকার শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য “একটি সত্যিকারের বিনিয়োগ” বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সামরিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিরোধ্য।
একইসাথে বিশ ও একুশ শতকের যুদ্ধের সময়কাল উল্লেখ করে বলেন, সেগুলো বছরের পর বছর চলেছে, কিন্তু এই সংঘাত মাত্র ৩২ দিন ধরে চলছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের আগ্রাসন এবং “পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের আতঙ্ক” থেকে এখন আর আমেরিকানরা হুমকির মধ্যে নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় “আরও নিরাপদ, আরও শক্তিশালী, আরও সমৃদ্ধ” হবে।
এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্য শেষ করেন।
মোটাদাগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ১৯ মিনিটের পুরো বক্তৃতাজুড়ে ইরান যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা আর যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের ভাষণে যুদ্ধের বিষয়ে কোনো “স্পষ্ট পরিকল্পনা” ছিল না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি
এএইচ
আরও পড়ুন










