ঢাকা, সোমবার   ১৫ জুন ২০২৬

দুই সন্তানের বেশি হলে মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিত করার বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:১৭, ১৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৮:১৯, ১৫ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দুই সন্তানের অধিক সন্তান থাকলে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত বা অস্বীকার করার বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন।

রিটে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর)-এর এ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো বিশেষ সুবিধা বা সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দেওয়ার উপকরণ নয়; বরং এটি একজন মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, প্রসব-পরবর্তী পুনরুদ্ধার, নবজাতকের পরিচর্যা এবং স্তন্যপান (ব্রেস্টফিডিং) নিশ্চিত করার জন্য একটি অপরিহার্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, একজন নারী প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সন্তান জন্মদান করুন না কেন, প্রসবজনিত শারীরিক ঝুঁকি, চিকিৎসার প্রয়োজন, বিশ্রাম এবং নবজাতকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা একই থাকে। ফলে শুধুমাত্র সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিটে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের বিধান সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত সমতা, বৈষম্যহীনতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। পাশাপাশি এটি মাতৃত্ব ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “মাতৃত্বকালীন ছুটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো উপকরণ নয়। এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। একজন মা তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেও তার স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার প্রয়োজন কমে যায় না।”

রিটে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিইডিএডব্লিউ)-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে মাতৃত্ব সংক্রান্ত বৈষম্য দূর করার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার অধীন।

নারীদের জন্য সন্তানের সংখ্যা নির্বিশেষে বৈষম্যহীন ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি